অন্য ভালোবাসা

–   তুষার চক্রবর্তী

 

  চিন্ময় প্রায় কুড়ি বছর পর রাত্রে খেয়ে দেয়ে মামাবাড়ির ছাদে বসেছে। গরমকালে রাত্রে খেয়ে দেয়ে এই ছাদে বসার অভ্যাসটা তার বহুকাল ছিল। চিন্ময় ছাদে বসার পাঁচ সাত মিনিটের মধ্যেই ছোট মাসি ইনা চিন্ময়ের পাশে এসে বসতো। চিন্ময় জানে আজকেও ইনা ছাদে আসবে। কিন্তু ছাদে এলেও হয়তো বসবে না। আর যদিও বা বসে, সেই দিন গুলোর মতো কি আর চিন্ময়ের গায়ে গা লাগিয়ে বসবে! চিন্ময়ের কুড়ি বছর আগের সব ঘটনা একে একে চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগলো।

চিন্ময়ের যখন পাঁচ বছর বয়েস, তখন চিন্ময়ের বাবা, মা দুজনেই দার্জিলিং থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় মারা যান। একটা ল্যান্ড রোভারে করে চিন্ময়, চিন্ময়ের বাবা, মা, বোন টিঙ্কু, আরও পাঁচ জন যাত্রী, দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি ফিরছিল। পথে এক্সিডেন্ট হয়। ল্যান্ড রোভার খাদে পড়ে যায়। বোন টিঙ্কুর বয়েস তখন দু বছর। ওই এক্সিডেন্টে মাত্র তিনজন বেঁচে গিয়েছিল। চিন্ময়, টিঙ্কু আর একটা টিঙ্কুর বয়েসি বাচ্চা ছেলে। চিন্ময়ের সেই দিনটার কথা আজও যেন আবছা হলেও মনে আছে। চিন্ময়দের আর্মির লোকেরা এসে উদ্ধার করেছিল। পরদিন দুপুরের পর, চিন্ময় আর টিঙ্কুকে আর্মির বিশেষ বিমানে করে কলকাতা পৌঁছে দিয়েছিল। সঙ্গে ছিল তার বাবা, মায়ের ডেড বডি। দমদম থেকে চিন্ময়ের জ্যাঠা, তাদের নিয়ে গিয়েছিল বেলুড়ের বাড়িতে। ততক্ষণে বেলুড়ের বাড়িতে চিন্ময়ের বড় মামা, ছোট মামা, আর দুই দাদুও পৌঁছে গেছিল।

বাবা, মার শ্রাদ্ধের এক সপ্তাহ পরেই দাদু আর দিদা বেলুড়ের বাড়ি থেকে চিন্ময় আর টিঙ্কুকে নিয়ে মামার বাড়িতে চলে এসেছিল। মামার বাড়িতে তখন বিশাল যৌথ পরিবার। চিন্ময়ের দাদুরা পাঁচ ভাই। তার দাদুর বাবার নাকি দুটো বিয়ে ছিল। চিন্ময়ের দাদুরা তিন ভাই প্রথম পক্ষের, রাঙা দাদু আর ছোড় দাদু দ্বিতীয় পক্ষের। চিন্ময়ের দাদু ছিল ভাইদের মধ্যে সব চেয়ে বড়। দাদুর বাবার কোনো মেয়ে ছিল না। চিন্ময়ের নিজের মামা, মাসীরাই ছিল সাত জন। চার ভাই, মাকে নিয়ে তিন বোন। এছাড়া খুড়তুতো মামা, মাসির সংখ্যা আরো প্রায় নয় জন। চিন্ময় যখন এই বাড়িতে এসেছিল, তখন শুধু বড় মাসি আর মেজ মাসির বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। মামাবাড়িতে তখন পরিবারে লোক সংখ্যা ত্রিশেরও বেশি। এছাড়া একজন সর্বক্ষণের চাকর, রান্নার মাসি আর একজন মালি ছিল। এদেরও পরিবার ছিল। এরা মামাদের সেই প্রকান্ড বড় তিন তলা বাড়ির পেছনের বাগানের এক কোনে কাঁচা ঘরে থাকতো।

চিন্ময় যখন এসেছিল, তখন ছোট মাসি ইনা ছিল তার সমবয়সী। সে মাত্র চিন্ময়ের থেকে ছ মাসের বড় ছিল। ইনা চিন্ময়ের ছোড় দাদুর মেয়ে। ছোড় দাদু ছিল, চিন্ময়ের দাদুর বাবার দ্বিতীয় পক্ষের ছোট ছেলে। ইনার ছোট বেলার পুতুল খেলার সাথী ছিল চিন্ময়। চিন্ময় সেই ছোটবেলা থেকেই তাকে নাম ধরে ডাকতো। মামার বাড়ির কাছেই একটা প্রাইমারী স্কুলে, চিন্ময়ের দাদু, চিন্ময়কে ভর্তি করে দিয়েছিল। সেই স্কুলেই ইনাকেও ভর্তি করেছিল। দুজনে এক সাথে স্কুলে যেত, টিফিনে এক সাথে টিফিন বক্স খুলে দুজনে খেত। ইনা ওই টুকু বয়েস থেকেই যেন চিন্ময়ের গার্জেন ছিল। চিন্ময়কে সব সময় নিজের কাছে কাছেই রাখতো। রবিবার বা ছুটির দিনে, পেছনের বাগানে কখনো কাঁচা আম পেড়ে খেত। কখনো বা জাম, জামরুল গাছে এক সাথে চড়ে বসতো। আর ছিল ঘন্টার পর ঘন্টা বাড়ির পুকুরের শান বাঁধানো ঘাটে স্নান করা। ছোড় দিদা ডাকতে না এলে, ওদের স্নান শেষ হতো না।
দেখতে দেখতে নিজেরদের অজান্তেই কবে যে চিন্ময় আর ইনা বড় হয়ে গেছিল, সে খেয়াল ওদের ছিল না। তখন ওদের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা সামনে। চিন্ময় আর ইনা দুজনেই সায়েন্স নিয়ে পড়তো। তবে ইনার ছিল বায়ো সায়েন্স।

পরদিন ফিজিক্স পরীক্ষা। রাত্রে খাওয়া দাওয়ার পর চিন্ময় আর ইনা পড়ার ঘরে বসে একে অপরকে প্রশ্ন করছে কোয়েশ্চেন ব্যাঙ্ক থেকে। ওটা এক দিকে পড়ার ঘর, আর এক দিকে চিন্ময়ের শোয়ার ঘর। ঘরের একদিকে বেশ বড় একটা টেবিল আর চারটে চেয়ার, অন্য দিকে পুরোনো আমলের একটা কাঠের চৌকির ওপর বিছানা পাতা। ওই বিছানায় চিন্ময়ের রাত্রে শোয়ার ব্যবস্থা। হঠাৎই ইনা বললো,’এবার ছেড়ে দে। সব মোটামুটি হয়ে গেছে।’ এই কথা বলে সে চিন্ময়ের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। তার পর চিন্ময়কে ডেকে বললো,’ আয়, এখানে এসে বোস। একটু গল্প করি।চিন্ময় গিয়ে বিছানায় বসলো। ইনা বললো,’তুই কি শুনেছিস, বড় দাদু আমার জন্য নাকি একটা ছেলে দেখেছে। আমার পরীক্ষা হয়ে গেলেই নাকি ছেলের পক্ষ দেখতে আসবে। শুনছি সামনের বছর আমার বিয়ে দিয়ে দেবে।’ চিন্ময় বললো,’ তাহলে তুই তো আমাকে ছেড়ে চলে যাবি! আমি তো ভীষণ একা হয়ে যাবো!’ চিন্ময়ের কথা শেষ হতে না হতেই, ইনা উঠে বসলো। তারপর চিন্ময়ের গলা জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে বললো,’ আমি তোকে ছেড়ে যাবো না। আমি চিরকাল তোর সাথেই কাটাবো।’

চিন্ময়ের রাত্রে খাওয়া দাওয়ার পর, ছাদে বসে আড্ডার অভ্যেসটা শুরু হয়েছিল সেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকেই। যেদিন প্রথম চিন্ময় একা বসেছিল, সেদিন ইনা এসেছিল প্রায় আধ ঘন্টা পর। এসেই চিন্ময়কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলেছিল,’ তুই এখানে! আর আমি তোকে একতলা থেকে তিনতলা খুঁজে বেড়াচ্ছি। তুইও কি চাস, আমি চলে যাই। আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। রবিবার বিকেলে ওরা আমাকে দেখতে আসবে। তুই জানিস, বড় জ্যাঠা যদি ওদের কথা দিয়ে দেয়, তাহলে আর কিছু করার থাকবে না। তুই তো একটা কিছু কর।’ চিন্ময়েরও চোখে জল এসে গিয়েছিল। তাও সে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,’ ঠেকাবো, এই বিয়ে আমি ঠেকিয়ে দেব। আমি বড় দিদার সাথে কথা বলছি। বড় দাদু, এক মাত্র বড় দিদার কথাই ফেলতে পারে না।’ চিন্ময়ের কথা শুনে ইনা, আরো বেশি চিন্ময়কে জাপটে ধরে কাঁদতে লাগলো।

চিন্ময় ছিল বড় দিদার সব চেয়ে বেশি আদরের নাতি। চিন্ময়ের সব আব্দারেই বড় দিদার সায় থাকতো। হয়তো চিন্ময় বাপ মা হারা নাতি বলেই। চিন্ময় পরদিন দুপুরে বড় দিদার ঘরে গেল। তখন বড় দিদা খেয়ে দেয়ে নিজের ঘরে বিছানায় আরাম করছিল। চিন্ময় জানতো, এই একটা মাত্র সময়, যখন বড় দিদাকে একা পাওয়া যাবে। এটা সন্ধ্যের পর আর সম্ভব নয়। কারণ সন্ধ্যের পর বড় দাদু কারখানা থেকে এসে নিজের ঘরেই সময়টা কাটায়। চিন্ময়ের দাদু তখনও পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করতো। হাওড়াতে ওদের লেদের কারখানা ছিল।

চিন্ময়কে দেখেই, চিন্ময়ের দিদা বিছানায় উঠে বসলো। বললো,’কিরে দাদুভাই, তুই!’ চিন্ময় বললো,’ হ্যাঁ, দিদা! আমি তোমার কাছে এসেছি একটা কথা বলতে। আগে কথা দাও, তুমি আমার কথা রাখবে?’ চিন্ময়ের দিদা বললো,’ দাদুভাই! তোর কোন কথাটা আমি রাখি না? তুই বল।’ চিন্ময় বললো,’ছোট মুখে বড় কথা হবে। তাও তোমাকে বলছি। শুনলাম, রবিবার বিকেলে ছোট মাসীকে পাত্র পক্ষের লোক দেখতে আসবে। ওকে নাকি তোমরা সামনের বছর বিয়ে দিয়ে দেবে। কিন্তু এটা কি ঠিক হচ্ছে? এখনকি আর আগের দিন আছে? ওকে পড়াশোনাটা তো শেষ করতে দাও। বড় মাসি, মা, মেজ মাসীদের সময় তো এখন আর নেই। এখন মেয়েদের বিয়ে হয় লেখা পড়া শেষ হলে। আমি জানি বড় দাদু এক বার ঠিক করে ফেললে, আর পিছবে না। কিন্তু এখনও চারদিন আছে। তুমি বড় দাদুকে বুঝিয়ে বলো একটু। তোমার কথা দাদু ফেলতে পারবে না।’ চিন্ময়ের দিদা হেসে বলেছিল,’ কথাটা তুই মন্দ বলিস নি। ঠিক আছে, দেখি তোর বড় দাদুকে বুঝিয়ে বলে, মানে কিনা!’

এই ভাবে চিন্ময়ের চেষ্টায় বিয়েটা না ভাঙ্গলেও, তিন বছরের জন্য পিছিয়ে গেল। রবিবার বিকেলে, পাত্র পক্ষ আসার পর পাঁকা কথা হলেও, বিয়েটা তিন বছর পিছিয়ে গেল। পাত্র পক্ষও মেনে নিল, মেয়ে গ্রাজুয়েট হলে তবেই বিয়ে হবে। সেদিন ইনা খুব খুশি হয়েছিল। সেদিন রাত্রে চিন্ময় খেয়েদেয়ে ছাদে অন্ধকারে বসে ইনার অপেক্ষা করছিল। হটাৎই ইনা পেছন থেকে এসে চিন্ময়কে জড়িয়ে ধরে চুমুতে ভরিয়ে দিয়েছিল।

এই ভাবেই চিন্ময়ের সাথে তার মাসীর গোপন প্রেম চলতে থাকলো। উচ্চ মাধ্যমিকের পর ওরা দুজনেই অনার্স নিয়ে একই কলেজে ভর্তি হয়েছিল। ইনার ছিল বোটানিতে অনার্স আর চিন্ময়ের কেমিস্ট্রিতে। এই সময়ে ওদের প্রেম অনেক বেশি গাঢ় হয়ে গেল। কলেজের পর ওরা প্রায় দিনই ভিক্টরিয়া, ইডেন, এই সব জায়গায় বসে আড্ডা মারতো। এছাড়া খেয়ে দেয়ে ছাদে আড্ডাটা ছিলই। বড় যৌথ পরিবার। ফলে ওদের এই লুকিয়ে প্রেম কারো নজরে পড়ে নি। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল, চিন্ময়ের নিজের ছোট মামী। তার সাথে চিন্ময়ের বন্ধুর মতো সম্পর্ক ছিল। তার চোখকে ওরা হয়তো ফাঁকি দিতে পারে নি। সে মাঝে মধ্যেই কথায় কথায় চিন্ময়কে বলতো,’ চিনু! যেটা করছো, সেটা ঠিক নয়। এখনো সময় আছে। নিজেকে সামলে নেও। না হলে ভবিষ্যতে খুব কষ্ট পেতে হবে।’ চিন্ময় হেসে এড়িয়ে যেত।

চিন্ময় একদিন একা নিজের ঘরে বসে কয়েকটা চাকরির দরখাস্তের ফর্ম ভরছিলো। হটাৎ ছোট মামী চিন্ময়ের ঘরে এলো। চিন্ময় অবাক হয়ে গিয়েছিল। অবাক হয়েই বলেছিল,’ছোট মামী! তুমি!’ ছোট মামী বললো,’ হ্যাঁ, অনেক দিন ধরেই আমি তোর সাথে একটু একা কথা বলতে চেয়েছি। কিন্তু বলিনি, তোর পরীক্ষার জন্য। তোর পরীক্ষা হয়ে গেছে। তাই ভাবলাম এবার তোকে আমার সব বুঝিয়ে বলা উচিত। চিন্ময় বুঝে গিয়েছিল যে ছোট মামী কি বলতে চায়। তাও না বোঝার ভান করেই বললো,’ হ্যাঁ, বলো না, কি বলবে।’

ছোট মামী বলতে শুরু করলো,’ এ বাড়িতে কেউ হয়তো জানে না বা বোঝে না। কিন্তু আমি তোর আর ইনার ব্যাপারটা জানি। প্রথম দিকে আমিও এটাকে হালকা ভাবেই নিয়েছিলাম। পরে তোদের দুজনের চোখ দেখে আমি শঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমি তোর ছোট মামার সাথেও এই নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি যা ভেবেছিলাম, তোর ছোট মামাও সেই কথাই বললো। তোদের এই সম্পর্কের কোনো পরিণতি নেই। তাদের এই সম্পর্কটাকে কেউ কিন্তু মেনে নেবে না। তোর ছোট মামার কথা অনুযায়ী এই বিয়ে হয়তো আইন সন্মতও নয়। কিন্তু সেটার চেয়েও বড় কথা সমাজের চোখে এই পরিবারের যে বিরাট সুনাম আছে, তাতো ধুলোয় মিশে যাবে। আমার চিন্তার আরও কারণ, সময় আর বেশি নেই। সামনের ফাল্গুনে ইনার বিয়ে দেবেই। তোর বড় দাদুর শরীর আজকাল আর বিশেষ ভালো যাচ্ছে না। তাই হয়তো তিনিও আর দেরি করতে চাইবে। তিনি নিজের হাতে নিজের ছেলে মেয়ে, ভাইদের ছেলে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ইনার বিয়েটাও, তাই তিনি দেখে যেতেই চাইবেন।’ চিন্ময়ের ছোট মামী এতদূর বলে একটু থামলেন।

তারপর আবার বলতে শুরু করলেন,’ তোর ছোট মামা বলছিল যে ওদের গৌহাটি জোনাল ব্রাঞ্চে বেশ কয়েক জন মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ নেবে। তুই চাইলে ছোট মামা কথা বলবে। তুই যত শীঘ্র সম্ভব এখান থেকে বাইরে চলে যা। জানি খুব কষ্ট হবে। কিনা তা না করলে, পরে এর চেয়েও বেশি কষ্ট পাবি। তোদের এই সম্পর্কের কোনো পরিণতি যে নেই! তোর ছোট মামা এও বলেছে, পরে দেখে শুনে, তুই তোর মনের মতো চাকরি খুঁজে নিস।’
পরের সপ্তাহেই চিন্ময় একটা চিঠি লিখে ছোট মামীর হাতে দিয়ে বলেছিল,’কাল এটা ইনার বিছানায় রেখে দিও। আমি আজ রাত্রের ট্রেনে গৌহাটি যাচ্ছি। ছোট মামার সাথে সব কথা বার্তা হয়ে গেছে।’ চিন্ময় সেই যে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল, আর কোনো দিন বাড়ি আসে নি। এমনকি মামা বাড়িতে একে, একে দাদুরা, দিদারা মারা গেছেন, বহু বিয়ে পৈতের অনুষ্ঠান হয়েছে, কিন্তু চিন্ময় আসে নি। শুধু এসেছিল টিঙ্কুর বিয়েতে। কিন্তু তার দিন দশেক আগেই, ইনার শ্বশুর মারা যান। ফলে ইনা টিঙ্কুর বিয়েতে আসতে পারে নি।

প্রথম বছর খানেক গৌহাটিতে ছোট মামার কোম্পানিতে ছিল। তাই ছোট মামার সাথে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু তারপর অন্য কোম্পানিতে জয়েন করার পর থেকে ছোট মামার সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একমাত্র চিঠি মারফত যোগাযোগ ছিল ছোট মামীর সাথে। ছোট মামীর চিঠিতেই সে ইনার বিয়ের খবর পেয়েছিল। সেই ছোট মামীর কথায় কুড়ি বছর পর আজ সকালে মামা বাড়িতে এসেছে। ছোট মামীর এক মাত্র ছেলের বিয়ে কালকে।

সকালে এসেই ইনার সাথে দেখা হয়েছে। দেখতে একই রকম রয়ে গেছে। শুধু চেহারাটা যেন একটু ভারী হয়েছে। কেউই কথা বলে নি। কিন্তু চিন্ময় জানে এক্ষুনি ইনা ছাদে আসবে।

ভাবতে ভাবতেই ইনা ছাদে এলো। চিন্ময়কে অবাক করে দিয়ে চিন্ময়ের গা ঘেষে বসলো। কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ চাপ। নিস্তব্ধতা ভাঙ্গলো ইনাই। বললো,’পনের পাতার কাব্য লিখে চলে গিয়েছিলে। উপায় ছিল না, তাই তোর কথা মতো বড় দাদুর পছন্দের ছেলেকে সঙ্গী করে কুড়িটা বছর কাটিয়ে দিলাম। কিন্তু তুই তো কাউকে এখনো সঙ্গী নিলি না?’ চিন্ময় বললো,’ তুই এখনো আমার সঙ্গী। নাহলে কুড়ি বছর পর তুই ছাদে আসতিস? দ্যাখ! সেই আগের মতোই আমাকে ঠেস দিয়ে বসেছিস। শুধু একটা বাকি।’ ইনা চিন্ময়ের মুখের কাছে মুখটা নিয়ে এসে ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে বললো,’ নে, ওটাও করে দিলাম।

(সমাপ্ত)

 


FavoriteLoading Add to library

Up next

চিকেন কোরমা বানান সহজেই... -  অনামিকা দাস(মিষ্টি তারা)   "আমরা বাঙালী",ব্যাস কথাটি এইটুকু বলেই আমি থেমে যেতে পারতাম কিন্তু শুধু এইটুকু বললে বাঙালীর আসল পরিচয় খানিকটা গোপনই থেকে...
নির্ভুল – শ্বেতা মল্লিক... 'উফফ! সকাল সকাল এতবার ফোন করে ঘুম ভাঙ্গাচ্ছিস কেন সুমি? জানিস তো কাল কত রাতে ফিরেছি।' , ঘুম ও বিরক্তি মেশানো গলায় বলে উঠলো রণিত। ' তাড়াতাড়ি হোয়াট...
আঁধার পেরিয়ে - অদিতি ঘোষ বাতের ব‍্যথায় রীতিমতো কাবু  মিত্তিরগিন্নী কোনরকমে পা টেনে টেনে এসে দাঁড়ালেন মিশ্রভিলার গেটে। কলিংবেলে বার দুয়েক চাপ দিয়েই অধৈর্য্য গলায় ড...
সাড়ে তিনশ গ্রাম কবিতা... সাড়ে তিনশ গ্রাম কবিতা দিতে পারব,তোমায় আমি ছড়াও দেব,বদলে কি আমাকে দু' পেগ রাম দেবে?দুটো গদ্য বা গল্পের বিনিময়েহুয়িস্কি পাব? কিম্বা ব্রাণ্ডি?যা খেয়ে আমি...
মহালয়া – মুভি রিভিউ... মহালয়াপরিচালক - সৌমিক সেন বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হল মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা। ১৯৩১ সাল থেকে শুরু হয...
কি যাদু মা ডাকতে - অদিতি ঘোষ      প্লীজ, স্টপ ইট্। এই ধানাই পানাই ভাল লাগেনা আমার। প্রত‍্যেকদিন সেই একই আলোচনা। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কথাকটা উগলে দিয়ে,পার্শটা...
একটি হাত- শাশ্বতী সেনগুপ্ত...   ক’দিন ধরে অসুস্থ থাকার জন্য মৌ স্কুলে যেতে পারেনি। সে শিক্ষকতা করে একটি প্রাইমারি স্কুলে। তার পাশের পাড়ায় থাকেন তার বৃদ্ধ মা বাবা। ক’দিন ধরে ম...
না ভৌতিক চেয়ার  - প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়        ফ্ল্যাটটা কেনার সময়ই প্রোমোটারকে বলে দিয়েছিলাম, একটা ঘর এক্সট্রা চাই। ঘরটা এমন ভাবে কাটিং করে বার করবেন যা খু...
হারানো সুর – সুস্মিতা দত্তরায়... চোখের জল বাঁধ ভাঙলো ইরার। চোখ ছাপিয়ে দুই গাল বেয়ে নেমে এলো অশ্রুধারা। দুই হাতে তা মুছে আবার ফিরে তাকাল ওই দোতলা বাড়ীটার দিকে। তারপর ধীর পায়ে উঠোনটা পে...
উত্তম ছড়া – অস্থির কবি...   সাড়ে চুয়াত্তর বার দেখুন একই নামের ছবিটা, মন নিয়ে ধন্য হবেন পড়লে এই লাখ টাকা র কবিতা। বসু পরিবার এ জন্মেছিল এক চাটুজ্জে গায়ক, অগ্নি পরীক্...
Admin navoratna

Author: Admin navoratna

Happy to write

Comments

Please Login to comment