অপ্রত্যাশিত প্রত্যাখ্যান – তুষার চক্রবর্তী

 রাত একটা বাজে। আজ রাজীব কিছুতেই ঘুমোতে পারছে না। ঘুরে ফিরে তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে ঋতুপর্ণা বসুর মুখটা আর কানে বাজছে তার কথা গুলো। রাজীব বুঝতে পারছে না, আজ তার এরকম কেন হচ্ছে? এরকম তো হওয়ার কথা নয়। গত ছ বছরে সে কুড়ি থেকে পঁয়তাল্লিশ বছরের অন্তত পক্ষে সত্তর থেকে আশি জন মেয়ে বা মহিলার সঙ্গে এক বিছানায় শুয়েছে, তাদের শরীরের খিদে মিটিয়েছে। অন্তত পনের জন মহিলার বাড়িতে সে নিয়ম করে মাসে দু তিনবার যায় তাদের রাতের শয্যাসঙ্গিনী হতে। কই তারা তো কেউ এভাবে তার চোখের ঘুম কেড়ে নিতে পারেনি। কাউকে নিয়েই সে ভেবে সময় নষ্ট করেনি। অনেক আকর্ষণীয় নারী তাকে জীবন সঙ্গী হিসেবে চাইলেও, সে তাতে কর্ণপাত করেনি। কিন্তু এই ঋতুপর্ণা বসু মেয়েটা, তার এ কি হাল করলো? ঋতুপর্ণা বসুর কথা ভাবতে ভাবতে কখন যেন রাজীব তার নিজের জীবনের ফেলে আসা সেই পুরোনো দিনের সব কানাগলি গুলোতে হাঁটতে শুরু করল।

মা মারা যেতে রাজীবকে যখন তার দাদা অভিজ্ঞান, এই বাড়িতে নিয়ে এসেছিল, তখন রাজীবের বয়েস সবে ছয়। এই বাড়িতে পা রেখেই সেদিন রাজীব বুঝতে পেরেছিল তার দুটো মা। নিজের মা মারা গেলেও আর একটা মা আছে। তার বাবা যখন মারা যায় তখন রাজীবের বয়েস চার। বাবা মারা যাওয়ার ঠিক দু বছর পর মাও মারা গিয়েছিল। রাজীব এ বাড়িতে এসেই ধীরে ধীরে সব বুঝতে পেরেছিল। তার বাবা, দাপুটে রাজনীতিক তীর্থঙ্কর মিত্রের দুটো বিয়ে ছিল। একটা সবাই জানতো আর দ্বিতীয়টা সবার চোখের আড়ালে। রাজীবের মা ছিলেন সেই দ্বিতীয় স্ত্রী, যার স্বীকৃতি সমাজে ছিল না। ওইটুকু বয়েসে রাজীব যেগুলো বুঝতে পারেনি, সেগুলো রাজীব বয়েস বাড়ার সাথে সাথে বুঝতে পেরেছিল। অনেক বড় হয়ে তার মার লেখা ডাইরি, যেটা সে স্বযত্নে রেখে দিয়েছিল, তা পড়েছিল।

তীর্থঙ্কর মিত্র সমাজে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক হলেও তিনি চারিত্রিক দিক দিয়েছিলেন লম্পট। যৌবনকালে তার অনেক নারীর সাথেই শারীরিক সম্পর্ক ছিল। রাজীবের মা শিল্পী সায়গলও ছিলেন সেরকমই এক নারী যিনি ছিলেন এয়ার হোস্টেশ, থাকতেন দিল্লীতে। তবে বোধ হয় তীর্থঙ্কর মিত্রের জীবনে জড়িয়ে থাকা অন্য নারীদের থেকে শিল্পী সায়গল একটু অন্যরকমের ছিলেন। আর সেই কারণেই হয়তো তিনি শিল্পী সায়গলকে বিয়ে করেছিলেন। অবশ্য আইনসিদ্ধ বিয়ে ছিল না। দিল্লীরই কোনো এক মন্দিরে তারা দুজনে মালা বদল করে ছিলেন। তীর্থঙ্কর মিত্রর দিল্লীর ফ্ল্যাটে শিল্পী সায়গল থাকতেন।

বিয়ের পর পরই শিল্পী সায়গল এয়ার হোস্টেসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে তীর্থঙ্কর মিত্রের এক্সপোর্ট হাউসের দিল্লী শাখার দায়িত্ব নেন।
রাজীবের জন্মের বছর খানেকের মাথায় তীর্থঙ্কর মিত্র এইডসের শিকার হলেন। হয়তো তার বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সহবাসের ফলেই তাকে ওই রোগের শিকার হতে হয়। রোগ ধরা পড়ার তিন বছরের মধ্যেই তিনি মারা যান। তার মারা যাওয়ার আগেই শিল্পী সায়গলের শরীরেও এইডসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তিনিও মারা যান ঠিক তার দু বছর পর। মা যখন মারা যায়, তখন রাজীব দিল্লীর একটা বোর্ডিং স্কুলে ফার্স্ট স্ট্যান্ডার্ডের ছাত্র।
শিল্পী সায়গল যখন বুঝতে পারেন যে তিনি আর বেশিদিন নেই এই দুনিয়াতে, সেই সময় তিনি সব কিছু জানিয়ে একটি চিঠি লেখেন অভিজ্ঞানকে। অভিজ্ঞান ততদিনে কলেজের পড়াশোনা ছেড়ে তীর্থঙ্কর মিত্রের এক্সপোর্ট হাউসের দায়িত্ব নিয়ে ফেলেছে। সেই সূত্রে তার দিল্লীর অফিসে যাতায়াত ছিল, পরিচয় ছিল শিল্পী সায়গলের সাথে। কিন্তু শিল্পী সায়গলের আসল পরিচয় সে জানতো না। কিন্তু চিঠি পেয়ে অভিজ্ঞান দিল্লী চলে আসে। যেদিন দিল্লী পৌঁছয়, তারপর দিনই শিল্পী সায়গলের মৃত্যু হয়। অভিজ্ঞান, রাজীবকে বোর্ডিং স্কুল থেকে নিয়ে এসে, শিল্পী সায়গলের অন্তেষ্টির কাজকর্ম মিটিয়ে, রাজীবকে নিয়ে কলকাতা চলে আসে। রাজীবকে ভর্তি করে দেয় কলকাতার ভালো স্কুলে। অভিজ্ঞান, রাজীবকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতোই স্নেহ করতো। রাজীবের সব আবদার পূরণ করার চেষ্টা করতো।

রাজীব পড়াশোনা আর খেলাধুলা নিয়েই মেতে থাকতো। খুব ভালো টেবিল টেনিস খেলতো। রাজীব যখন ক্লাস টেনে পড়ে, তখন অভিজ্ঞান বিয়ে করল তার ছোট বেলার খেলার সাথী, কিশোর বয়েসের প্রেমিকা অবাঙালি নেহা আগরওয়ালকে। অসামান্য সুন্দরী নেহা আগরওয়ালও তার দেওর রাজীবকে খুব স্নেহ করতো। তার খুব যত্ন করতো। সেই বছরই দাদা, অভিজ্ঞানের বিয়ের পর রাজীবের বড় মা মানে অভিজ্ঞানের মাও মারা যান।
কিন্তু রাজীবের জীবনটা হটাৎ একদিন পাল্টে গেল। রাজীব তখন বিকম ফাইনাল দেবে। কলেজ নেই, ঘরে বসে দুপুর বেলা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন প্রায় দুপুর আড়াইটা বাজে। রাজীব নিজের ঘরে বসে পড়ছিল। হঠাৎই ঘরে ঢুকলো তার বৌদি নেহা। এর আগেও তার বউদি তার ঘরে প্রায়ই এসেছে। রাজীবের গায়ে হাত দিয়ে প্রায়ই নেহা কথা বলতো। কখনো বা জড়িয়ে ধরে রাজীবের গালে চুমুও খেত। রাজীব তার মধ্যে দোষের কিছু দেখতো না। মনে মনে সে ভাবতো এগুলো তার বউদির স্নেহের অত্যাচার। কিন্তু সেই দিন যেন সব কিছু অন্যরকম হয়ে গেল। তাকে জড়িয়ে ধরে তার বউদি যা শুরু করলেন, তাতে রাজীব স্নেহের স্পর্শ খুঁজে পেল না। তার ভেতরের পুরুষটাও জেগে উঠেছিল। ফলে যা হওয়ার তাই হলো। ঘি আর আগুনের খেলায় সেদিন রাজীব আর তার বউদি নেহা মেতে উঠল। উঠতি বয়সের ছেলের এক্ষেত্রে যা হয়, রাজীবের ঠিক তাই হয়েছিল। সে তার চেয়ে বয়সে অনেক বড়, বউদি নেহার আকর্ষণে পাগল হয়ে গেল। নেহার কাছে রাজীব ছিল একটা খেলার পুতুল মাত্র।

মাস ছয়েকের মধ্যেই রাজীবের জীবনে এলো আর একটা বাঁক। নেহার ঘরে সেদিন কিটি পার্টি। বিকেল পাঁচটা বাজে। একে একে নেহার বান্ধবীরা আসতে শুরু করলো। অধিকাংশই অবাঙালি সমাজের উঁচু তলার ঘরের গৃহিণী তারা। রাজীব রান্না ঘরে তার বউদির নির্দেশ মতো রান্নার লোক, জিতুদার সাহায্যে ব্যস্ত। হঠাৎই সেই রান্না ঘরে এলো নেহার বান্ধবী মুক্তি নাহার। সে রান্নাঘরে ঢুকে রাজীবকে দেখে যেন চমকে উঠলো। প্রথমে একদৃষ্টে রাজীবের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজে থেকেই রাজীবের সাথে আলাপ করলো। রাজীবের সেল নম্বর নিল। তারপর বলল,’ তোমাকে আমার খুব দরকার। আমি তোমাকে একবার আমার বাড়িতে কাল হয়তো ডাকবো।’ রাজীব তখন বুঝতে পারেনি তাকে ওই মুক্তি নাহারের কি দরকার পড়তে পারে!
পরদিন বিকেলে মুক্তি নাহারের এগার তলার চার-পাঁচ বেডরুমের ফ্ল্যাটে গিয়ে জানতে পারল দরকারটা। মুক্তি নাহার তার ফ্ল্যাটের ড্রইং রুমে বসে রাজীবের সাথে কথা বলছিলেন। ভেতরের একটা বেড রুম থেকে বেশ কয়েকজন মহিলার হাসি-ঠাট্টার শব্দ কানে আসছিল। তাদের কেউ কেউ আবার এক বার করে ড্রইং রুমে এসে রাজীবের দিকে তাকিয়ে তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত জরিপ করে আবার ভেতরে চলে যাচ্ছিলেন। মুক্তি নাহারের প্রথম কথাটাই ছিল,’ আমাদের ব্যবসায় তোমার মত একজন স্বাস্থ্যবান, সুন্দর যুবকের প্রয়োজন। কালকে তোমায় দেখেই আমার মনে হয়েছে, তোমাকে দিয়ে আমাদের কাজটা হতে পারে।’ রাজীব মুক্তি নাহার ঠিক কি ধরণের ব্যবসার কথা বলছেন তা বুঝতে না পেরে, তারদিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। ঠিক সেই সময় ভেতরের ঘর থেকে এক মহিলার কণ্ঠস্বর রাজীব শুনলো,’ এ তো দেখছি মুক্তি ফ্যান্টাস্টিক জিগোলো এপয়েন্ট করছে।’ জিগোলো শব্দটা রাজীবের তখন জানা হয়ে গেছে। সে মুহূর্তে বুঝতে পারলো যে মুক্তি নাহারের ব্যবসাটা ঠিক কি। সেদিন রাজীব কোনো ভাবনা চিন্তার সুযোগ পেলে না। হটাৎ করেই সেই ভেতরের ঘর থেকে দুজন মহিলা বের হয়ে রাজীবের হাত দুটো ধরে টানতে টানতে আর একটা ঘরে নিয়ে গেল। রাজীবের ইচ্ছা, অনিচ্ছার কথা বলার সুযোগটুকুও তারা দিলো না। রাজীব সেদিন হয়ে গেল এক অনিচ্ছুক জিগোলো।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাজীব হয়ে গেল এক পেশাদার জিগোলো। তার অর্থের চাহিদা ছিল না। সে ভালো করেই জানতো অভিজ্ঞানের ব্যবসায়ে তার অংশ আছে আর সেটা অভিজ্ঞান নিজের থেকেই করে রেখে দিয়েছে। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল আরও বছর খানেক পর। অভিজ্ঞান তার বিয়ের জন্য এক সুন্দরী পাত্রী দেখল। কিন্তু রাজীবের বউদি নেহা সেই বিয়ে ভেঙ্গে দিলো। ভেঙ্গে দেওয়ার কারণটাও নেহা একদিন দুপুরে রাজীবকে নিজের ঘরে ডেকে বলল। নেহা তখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে পরিষ্কার করেই রাজীবকে বলল,’ আমি তোমাকে অন্য কারো হতে দিতে পারব না। তাছাড়া তুমি আমার সন্তানের বাবা হতে চলেছ।’

রাজীব তার বউদির কোনো কথার জবাব দেয়নি। তবে সে সেই দিন থেকেই সে বুঝে গিয়েছিল যে তার নিজের জীবনের ওপর নিজের কোনো অধিকার তার আর নেই। ঘরে সে তার বউদির আর বাইরে মুক্তি নাহারের পছন্দ করা নারীদের ভোগের বস্তু। আর রাজীব তার এই জীবনটাকেই স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করেছিল। সে যেন তার যৌবনকে ভরপুর উপভোগ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও তখন ভাবতো না। ইতিমধ্যে তার গ্রাজুয়েশন হয়ে গিয়েছিল। সে তাদের পৈতৃক ব্যবসার এক্সপোর্ট হাউসে বসতে শুরু করেছিল। মুক্তি নাহারের মাধ্যমে অনেক পয়সা আসতো। সেগুলো নিয়ে সে কি করবে ভেবে পেত না। টাকা গুলো ব্যাঙ্কেও রাখা সম্ভব ছিল না। ফলে সেই টাকা গুলো প্রায়ই সে অনাথ আশ্রমে গিয়ে দান করে আসতো। তার যেন মনে হতো তার দাদা অভিজ্ঞান যদি তাকে দিল্লী থেকে কলকাতায় নিজেদের বাড়িতে না নিয়ে আসত, তাহলে তার ঠাঁই হয়তো কোন অনাথ আশ্রমেই হতো। এমনকি সে তো পথের ভিখারি হতেও পারতো। সেই ভাবনা থেকেই সে তার উপার্জনের টাকা অনাথ আশ্রমে বিলিয়ে দিত।

দেখতে দেখতে আজ ছ বছর হয়ে গেল সে এক পেশাদার পুরুষ বেশ্যা যাকে মুক্তি নাহার আর তার ব্যবসার অংশীদারদের কথা অনুযায়ী জিগোলোতে পরিণত হয়েছে। যদিও সে কথা তার বউদি নেহার অজানা। এর মাঝে কোনোদিন সে আর আলাদা করে ঘর বাঁধার তাগিদ অনুভব করেনি। কিন্তু আজ সন্ধ্যের পর ঋতুপর্ণা বসুকে দেখার পর থেকে, তার যেন মনে ঘর বাঁধার ইচ্ছে হচ্ছে।
ঋতুপর্ণা বসুর ফ্ল্যাটে রাজীব পৌঁছেছিল কথামত ঠিক সাড়ে সাতটায়। সুন্দর সাজানো গোছানো একটা ফ্ল্যাট। ড্রইং রুম, দুটো বেড রুম। কলিং বেল বাজাতেই দরজা খুলে দরজার নীচে দাঁড়িয়ে নিজের হাতটা এগিয়ে দিয়ে বলল,’ ঋতুপর্ণা বসু। তুমি রাজীব মিত্র তাইতো? আমি কিন্তু তুমি বলেই ডাকছি।’ বয়েস আন্দাজ করা মুশকিল। তবে এরকম সুন্দরী নারী রাজীব কোনোদিন দেখেনি। তাই সে ফ্যাল ফ্যাল করে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে রাজীব হ্যান্ডসেকের জন্য হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,’ হ্যাঁ, ঠিক আছে। আমাকে মিসেস মুক্তি নাহার পাঠিয়েছেন।’ ঋতুপর্ণা বসু হেসে বলল,’ হ্যাঁ, ভেতরে এসো।’ এই কথা বলে সে দরজা থেকে একটু সরে দাঁড়িয়ে রাজীবকে ভেতরে ঢোকার জায়গা করে দিল। রাজীব ভেতরে ঢুকতেই, সে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাজীবের সামনে এসে সোফার দিকে ইশারা করে বলল,’ তুমি বসো। চা, খাবে না কফি? না হার্ড ড্রিঙ্কস নেবে?’ রাজীব বলল,’ কিছু না হলেও চলবে। তবে আপনি যদি খেতে চান, আমি আপনাকে কোম্পানি দিতে পারি।’ ঋতুপর্ণা বসু আবার মিষ্টি হেসে বলল,’ তাহলে একটু চা বানাচ্ছি। আর আপনি না, তুমি।’ এই কথা বলে সে রান্না ঘরের দিকে এগোল। রাজীব দেখলো ঋতুপর্ণা বসু যেন একটু বা পাটা টেনে টেনে চলছে। সে বুঝলো, তার বা পায়ে কোনো ডিফেক্ট আছে।

দুজনে মিলে চা খাওয়ার পর, ঋতুপর্ণা বসু রাজীবকে ভেতরের বেড রুমে নিয়ে এলো। বেড রুমে তখন একটা হালকা নীল লাইট জ্বলছিল। রাজীব সবে তার বিছানায় বসেছে। ঋতুপর্ণা বসু ততক্ষণে বিছানার পাশে রাখা স্টুলের ওপর বসে কিছু একটা করছিল। রাজীব চমকে উঠল। ঋতুপর্ণা বসুর বা পাটা হাঁটুর নিচ থেকে নেই। সে ততক্ষণে জয়পুরী লেগটা খুলে বিছানার ওপর উঠে এসেছে।
রাজীব মনে মনে ভাবছিল ঋতুপর্ণা বসুর কথা। বিছানায় তার পাশে এসে বসার কয়েক মুহূর্ত পরেই সে যেন এক অন্যরূপ নিল। রাজীবের যেন মনে হচ্ছিল সে একটা হরিণের ছানা আর তাকে চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে এক বুভুক্ষু চিতা।

রাজীব ঋতুপর্ণা বসুর ফ্ল্যাট থেকে যখন বেরোলো, তখন বাজে সাড়ে দশটা। দরজায় দাঁড়িয়ে বিদায় দেওয়ার সময় ঋতুপর্ণা বসু হঠাৎই বলল,’হ্যাভ ইউ স্যাটিসফায়েড?’ রাজীব তার দিকে তাকিয়ে বলেছিল,’ এ প্রশ্নটা তো আমার করার কথা ছিল। এনি ওয়ে, ইউ আর দ মোস্ট চার্মিং এন্ড এট্রাক্টিভ গার্ল বোথ ইন বেড এন্ড আউটসাইড বেড।’ এই কথা বলে রাজীব বেরিয়ে এসেছিল।
সে যেন একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। নিজে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি এসেছে। দাদা অভিজ্ঞানের পাশে বসে ডিনার সেরে নিজের ঘরে এসেছে। তাও যেন রাজীবের ঘোর কাটেনি। রাজীব কিছুতেই তার মনটাকে ব্যাখ্যা করতে পারছে না। কেন সে ঋতুপর্ণা বসুর প্রতি একটা আকর্ষণ অনুভব করছে? সে শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে কি তার মনে কোনো দয়া দেখা দিচ্ছে? নাকি বিছানায় তার ওইরকম আকর্ষণীয় তৃপ্তিদায়ক সঙ্গম তার মনকে উদাস করে দিচ্ছে? নাকি সে অপরূপ সুন্দরী, তাই সে তার প্রেমে পড়ে গেছে? রাজীব এটাও ভেবে পেলো না, হটাৎ রাজীব স্যাটিসফায়েড হয়েছে কিনা, কেন সে জানতে চাইল? রাজীব কিছুতেই বুঝতে পারে না। ভাবতে ভাবতে রাজীব কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিল।

রাজীবের ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। দেখলো বিছানায় মাথার পাশে রাখা মোবাইল ফোনটা বাজছে। ধড়মড় করে উঠে দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল সকাল আটটা। মনে মনে ভাবল অনেক দেরি হয়ে গেছে। মোবাইল ফোনটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আরও চমকে উঠল। ঋতুপর্ণা বসু। খুব অবাক হলো, সাথে মনে খুশির ঢেউ লাগলো যেন রাজীবের মনে। কানে দিয়ে বলল,’ হ্যাঁ, বলো?’ কথাটা বলে রাজীব যেন নিজেই চমকে উঠলো। সে বলুন না বলে, বলেছে বলো। গতকাল অনুমতি পেয়েও সে তুমি বলতে পারেনি। আর আজ এক রাত্রি পর, সে তুমিতে নেমে এসেছে। ওপাশ থেকে ভেসে এলো ঋতুপর্ণা বসুর গলা,’গুড মর্নিং!’ রাজীবও প্রত্যুত্তরে বলল,’ গুড মর্নিং!’ ঋতুপর্ণা বসু বলল,’ কাল আপনি আপনার ফিসটা না নিয়ে চলে গেছেন। যাওয়ার সময় আপনি এত তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেলেন, যে আমিও দিতে ভুলে গেছি। আজ একবার সন্ধ্যের পর আসবেন। চায়ের নিমন্ত্রণ রইল। সঙ্গে কালকের ফিস।’ রাজীব হ্যাঁ, আসবো বলতেই, ওপাশ থেকে ফোনটা কেটে গেল। রাজীবের চোখের সামনে আবার ভেসে উঠলো ঋতুপর্ণা বসুর মুখটা। রাজীব মনে মনে ভাবল, সে ইচ্ছে করেই ফিস চায়নি। তার যেন মনে হচ্ছিল, তারই ফিস দেওয়া উচিত ঋতুপর্ণা বসুকে। এই সব ভাবতে ভাবতে রাজীব বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল।

সন্ধ্যে সাতটা। ঋতুপর্ণা বসুর ডাইনিং হল।মুখোমুখি বসে রাজীব আর ঋতুপর্ণা বসু চা খাচ্ছে একে অপরের দিকে তাকিয়ে। রাজীবের চোখের দিকে দেখে বোধহয় ঋতুপর্ণা বসু কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছিল। তাই সে রাজীবের দিকে তাকিয়েই বলল,’তুমি যেন কিছু বলতে চাইছো?’ রাজীব মনে মনে খুশি হলো। সে তাই তার মনের কথা যেটা এক কথায় প্রস্তাব, সেটাই দিয়ে ফেলল,’ কাল তোমাকে আমি ফিরে যাওয়ার আগে যে কথাটা বলেছিলাম, আজ আমি সেখান থেকেই শুরু করছি। কাল যেটা বলতে পারিনি, আজ সেটা আমি অকপটে বলছি। তুমি আমার মন, সত্তা সব কিছু চুরি করে নিয়েছো। আমি তোমার সাথে ঘর বাঁধতে চাই। তুমি বোধহয় একমাত্র নারী যে আমার এই জীবনটার গতিমুখটাকে বদলে দিতে পারবে?’ ঋতুপর্ণা ম্লান হেসে চায়ে একটা দীর্ঘ চুমুক দিয়ে, কাপটা সেন্টার টেবিলে রেখে, রাজীবের চোখের ওপর চোখ রেখে বলল,’ না, সেটা বোধহয় সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয়, সেটা বুঝতে হলে আমাকে আমার জীবনের সব কথা বলতে হয়।’ এই কথা বলে ঋতুপর্ণা কিছু যেন চিন্তা করল।

তারপর বলতে শুরু করল-
সেই যখন ক্লাস নাইনে পড়তাম, তখন থেকেই আমি অসীমকে ভালোবাসতাম। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজ। কলেজ থেকে ইউনিভার্সিটির পাঠ চুকিয়ে সরকারি অফিসারের চাকরিতে জয়েন করি দুজনেই। ক্লাস নাইনে পড়তে অসীমকে ঠিক যতটা ভালোবাসতাম, ঠিক ততটাই ভালোবাসা ছিল চাকরিতে জয়েন করার পরও। অসীমকে বিয়ে করতে চাইলেও, আমার বাবা, মা, দাদা, বউদি সেই বিয়েতে বাধা দিলেন। কারণটা আর কিছুই নয়, সেকেলে ভাবনা চিন্তা। অসীমের বাবা ছিলেন ধোপা। আমি তাদের কথা মেনে নিতে পারিনি। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসে এই ফ্ল্যাটটা ভাড়া নিয়ে একা থাকতে শুরু করি। কথা ছিল বিয়ের পর আমি অসীমদের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথেই থাকবো। কিন্তু আমার ইচ্ছেটা পূরণ হলো না। বছর পাঁচেক আগে আমার একসিডেন্ট হয়। আমার ওপর দিয়ে ট্রাক চলে গিয়েছিল। আমার পুরো শরীরটা ট্রাকের তলায় চলে গিয়েছিল। ফলে শরীরের অন্য কোথাও আঘাত লাগেনি। কিন্তু বা পাটা বাইরেই ছিল। ট্রাকের পেছনের ডবল চাকা দুটো সেই বা পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। হসপিটালে আমার বা পায়ের হাঁটুর ঠিক নিচ থেকে কেটে বাদ দিতে হয়। প্রায় তিন মাস হসপিটালে থেকে ফিরে আসি এই ফ্ল্যাটে। একটা সর্বক্ষণের কাজের লোক রেখেছিলাম। কিন্তু মা, বাবা, দাদা, বউদি বললেও বাড়িতে আর ফিরে যাইনি।

হসপিটালে এমনকি প্রথম দিকে এই ফ্ল্যাটে অসীম নিয়মিত আসতো। কিন্তু ধীরে ধীরে তার আসা কমে গেল। ইতিমধ্যে জয়পুরী লেগের সাহায্যে আমি হাঁটা চলা শুরু করে দিয়েছিলাম, অফিসও জয়েন করেছিলাম। একদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ অসীম আমার অফিসে এলো। বলল,’আমার ট্রান্সফার হয়ে গেছে হায়দ্রাবাদ। কালই রওনা দিচ্ছি। পৌঁছে ফোন করবো তোমায়। দেখছি কি করে কলকাতায় অন্য কোনো চাকরির ব্যবস্থা করা যায়।’ না, অসীমের ফোন আর আসেনি। পরে জেনেছি, অসীম নিজে থেকেই ট্রান্সফার নিয়ে চলে গেছে। তবে হায়দ্রাবাদ নয়, পাটনা। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম অসীমের সেই মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে। কিন্তু মেনে নেওয়া ছাড়া আর কিছু উপায় ছিল না। মনে হয়েছিল সে হয়তো কোনোদিনই সে ভাবে আমাকে ভালোবাসেনি। তাই সে আমার থেকে দূরে চলে গেছে। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধীকে কেই বা বিয়ে করতে চায়।

বেশ চলছিল। নিজেকে সামলে নিয়েছিলাম। কাজের লোক ছাড়িয়ে দিয়েছিলাম। নিজেই রান্না বান্না করা, অফিস করা সবই করছিলাম। এই ফ্ল্যাটটা ফ্ল্যাটের মালিকের থেকে কিনলাম আর একটা গাড়ি কিনলাম। নিজেই ড্রাইভ করে অফিস, বাজার হাট করতাম। শাড়ি আমার ছোট বেলা থেকেই পছন্দ। তাই শাড়ি ছাড়া অন্য কিছু পড়িনা। শাড়ি পড়ে আমার চলা ফেরা দেখে লোকে খুব একটা বুঝতে পারে না যে আমার একটা পা হাঁটুর নিচ থেকে কাঠের। বা পাটা একটু টেনে আমাকে হাঁটতে হয়। হয়তো লোকের খুব বেশি সেটা চোখে লাগে না। ফলে বহু লোক আমার আশেপাশে ঘুরতে থাকে। তাদের অনেকেই শেষে আমাকে প্রেম নিবেদন বা কেউ কেউ বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া শুরু করে। সেই লোকেরা সোজা একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে যেত যখন শুনতো আমার একটা পা কাঠের। আমার বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু খুব আঘাত পেতাম এই ভেবে যে একটা পা কাঠের বলে তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করছে। আমি বুঝতে পারতাম না, আমার একটা পা কাঠের, তাতে আমার যখন কোনো অসুবিধা নেই, তাহলে তাদের অসুবিধা কোথায়? যদিও তোমায় আমি আবার বলছি অসীম ওভাবে আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আমি আর কাউকে বিয়ের কথা ভাবিনি এমনকি এখনও ভাবি না।

তবে আমি চমকে উঠলাম গত সপ্তাহে আমার এক বান্ধবীর কথায়। গত পুজোর সময় নাকি অসীম কলকাতা এসেছিল সপরিবারে অর্থাৎ দু বছরের ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে। হ্যাঁ, অসীম আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরের বছরই জামশেদপুরের একটি মেয়েকে বিয়ে করেছিল। সে খবরও আমি পেয়েছিলাম। অসীমের সাথে দেখা হয়েছিল আমার বান্ধবীর স্বামীর সাথে। কথায় কথায় আমার বান্ধবীর স্বামী, অসীমকে আমার কথা বলেছিল। সে বলেছিল,’ তুই তো বিয়ে করলি, কিন্তু ঋতুপর্ণা তো আর বিয়েই করলো না।’ শুনে নাকি অসীম বলেছে,’ ওকে আর কে বিয়ে করবে? ওকে বিয়ে করলে সারাটা জীবন তো ওকে বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে। তাছাড়া আমাদের পুরুষদের সেক্স ব্যাপারটাও তো আছে। ওকে বিয়ে করলে তো হয়তো সেটাও ঠিক ভাবে উপভোগ করা যাবে না।’

আমার বান্ধবীর মুখ থেকে এই কথাটা শোনার পর থেকে আমি বিষয়টা নিয়ে নতুন করে ভাবতে থাকি। শেষে নিজেকে প্রমাণ করার রাস্তা খুঁজে পেলাম। মুক্তি নাহারের সাথে যোগাযোগ হলো। সেই সূত্রে গত কাল তুমি এলে। তুমি আমার ঘরে ঢোকা থেকে বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত, সমস্ত ব্যাপারটা ক্যামেরা বন্দি করেছি। হ্যাঁ, গত পরশু আমার ড্রইং রুম, বেড রুমে সি সি টিভির ক্যামেরা লাগিয়েছিলাম। আজ আমি অফিস যাইনি। সি সি টিভির পুরো ফুটেজটাকে সিডিতে কনভার্ট করে কুরিয়ার করে অসীমকে পাঠিয়েছি।’

রাজীব এতক্ষণ চুপ করে মাথা নিচু করে ঋতুপর্ণা বসুর কথা শুনছিল। সে চোখ তুলে দেখে ঋতুপর্ণা বসু মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। রাজীব উঠে ঋতুপর্ণাকে তুলে ধরে বলল,’ আমায় মাফ করো। না বুঝে তোমায় আমি আঘাত দিয়েছি।’ ঋতুপর্ণা নিজেকে সামলে নিয়ে, শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছে বলল,’ না, না, তোমার কোনো দোষ নেই। তুমি সব মানুষের থেকে আলাদা। তাই তো তুমি প্রতিবন্ধী জেনেও আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছো? কিন্তু বলতে পারো, কাল রাত্রের ঘটনা যদি না ঘটতো, শুধু আমাকে দেখে, আমার সাথে কথা বলে, কি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে? রাজীব বলল,’ তা জানি না। আমি এখনও নিজেও বুঝতে পারছি না। শুধু জানি তুমি আর সবার থেকে আলাদা। কোনোদিন ঘর বাঁধার কথা ভাবিনি। কিন্তু তোমাকে দেখার পর থেকে আমি ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি।’ ঋতুপর্ণা রাজীবকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে বলল,’ না, তা আর সম্ভব নয়। আমি যে ক্লাস নাইন থেকেই অসীমের হয়ে গিয়েছি। আমি এ জীবনে আর কারও হতে চাই না। শুধু শুধু তোমায় ঠকাতে পারবো না। আমায় মাফ করো।’

(সমাপ্ত)


FavoriteLoading Add to library

Up next

দাতা – অরূপ ওঝা কাল তো সে এসেছিল, নিয়ম করেই আসে রোজ। যখন দীপন অফিসে কাজের ফাঁকে দুপুর দেড়টার সময় টিফিন করতে বসে, ঠিক তখনই সে হানা দেয় “জয় মাতাজী, জয় মাতাজী” স্লোগান দ...
বলিউডের দুই দেশি বয়েজের টক্কর- রাজদীপ ভট্টাচার্য্...      ১৫ই আগস্ট গোটা বলিউড দেখবে দুই দেশি বয়েসের টক্কর কারণ অক্ষয় কুমারের গোল্ড এবং জন আব্রাহামের সত্যমেব জয়তে স্বাধীনতা দিবসের দিন একই সাথে মু...
দত্তক – সায়ন্তনী ধর চক্রবর্তী... ।।১।। এতদিনের প্রচেষ্টায় আজ ফাইনালি C.F.O. হতে পারলো সুদিপ্ত, এই পোস্টটা পাওয়ার জন্য প্রচুর খেটেছিল ও। খবরটা পেয়েই অফিস থেকে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়ল দী...
বিশেষ ধরণের অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার – বর্তমা... ভারতবর্ষে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শক্তির চাহিদা ক্রমশ বেড়ে চলেছে | আর এই শক্তির বেশিরভাগই আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে | যা পরিবেশ বান্ধব নয় | বর্তমানে কিছ...
মাসতুতো -  সৌম্যদীপ সৎপতি (১)    অন্ধকার গলির ভেতরের নীল রং এর বাড়িটা থেকে বেরিয়ে এল রমেশ।তার মনের মাঝে আজ এক অদ্ভূত অনুভূতি, আর সেই অনুভূতিটা সুখ এবং অস্ব...
আমার ঠাকুর - চন্দ্রাবলী ব্যানার্জী   দিদির ওয়ার্ক এডুকেশন খাতায় প্রথম দেখলাম সাদা দাড়ি ওয়ালা একটা লোকের ছবি, এক পাশে ছবি সাঁটা, অন্য দিকে এত্তসব লেখা ...
ফিরে আসা – অয়ন কর হয়তো কখনোও, হয়তো কোনোদিন, আবার আসবো নিজেকে চিনতে,বয়স হয়ে আসবে ক্ষীণ। ভাঙবো ক্রমশই, সব শেষ হয়ে যাবে প্রতিবাদ হারিয়েছে। শান্তি পাইনি কখনো কোন...
আমার বন্ধু অমলকৃষ্ণ... - দেবাশিস ভট্টাচার্য    কলেজে পড়ার সময় বেশ কয়েক বছর আমাকে কলুটোলার একটি মেসে থাকতে হয়েছিল। আমার বাড়ি মেদিনীপুরে। রোজ কলকাতা  যাতায়াত এর অসুবি...
সবই উল্টো - সৌম্যদীপ সৎপতি   (এক) ধড়মড় করে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। চারদিক অন্ধকার, মাথার উপরে ফ্যানটাও বন্ধ, লোডশেডিং।বুঝতে পারলাম ঘামে সারা শরীর ভিজে...
কিপটে ভূতের গল্প – শাশ্বতী সেনগুপ্ত...       নাদেশ্বর বাঁড়ুজ্যে মরে গেলেন। ভূত হয়ে ভূত জগতে পর্দাপণ মাত্রই শুনতে পেলেন তাকে নিয়ে ফিসফিসানি আরম্ভ হয়েছে। তিনি হাওয়ায় কান পাততেই কথা স্পষ্ট হল,...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment