উড়ো খই

-সৌম্য ভৌমিক
  “বলো হরি হরি বোল,বলো হরি হরি বোল” ডাকটা শুনেআজকাল আর তেমন রিঅ্যাকশন হয় না শুভেন্দুর। শ্মশানের ধারে বাড়ি ভাড়া করার এই একটা মস্ত বিপদ।দিন দুপুরে রাত বিরেতে সব সময় বল হরি হরিবোল।
  চট করে মোবাইলের ডাটা কানেকশনটা অন করল শুভেন্দু।দেখতে পেলে ফেসবুকের নোটিফিকেশন বার এবং চার বছর আগের মেমোরিজ শো করেছে।ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে সন্দীপার সঙ্গে তোলা স্টুডিওর ছবিটা। সব ঘটনা জলছবির মতো মনে পড়ে গেল শুভেন্দুর। সন্দীপার বলা সেই কথাগুলো, “তোর অপেক্ষায় থাকলে তো আমাকে সারা জীবন কুমারী থাকতে হবে। করিস তো তিনটে টিউশনি; তার পর আবার আমাকে বিয়ে করার শখ!”
  আজ থেকে হ্যাঁ, আজ থেকে আমাদের মিট করা বন্ধ।আমার ভাল বিয়ে ঠিক হয়েছে ডাক্তার সীমান্ত সান্যালের সঙ্গে। নাম শুনেছিস তো? শুভেন্দু বলে, “কিন্তু সীমান্ত সান্যাল তো তোর থেকে অনেক বড় হবে বয়সে!” সন্দীপা হেসে উত্তর দেয়, “ সো হোয়াট! আমার ২৪ ওনার ৪০। ষোলো বছরের তফাত। আরে টাকা বুঝলি টাকা; টাকার জন্য মেয়েরা সব কিছু করতে পারে। তোর তো কোনও মুরোদ নেই এক পয়সা রোজগার করার। তোকে বিয়ের কার্ড পাঠাব, পারলে আসিস”।
 হ্যাঁ, গিয়েছিল শুভেন্দু নির্লজ্জের মতো সন্দীপার বিয়েতে। তার পর সাড়ে তিন বছর কেটে গেছে। শুভেন্দু চাকরি নিয়ে চলে এসেছে এই মফস্বল শহরে। তার পর বাড়িভাড়া করেছে শ্মশানের পাশে।
 বলহরি ধ্বনি যেন শেষই হচ্ছে না। এত লোক কোথা থেকে এল! ওরে বাবা কে মারা গেছে! একটু কৌতূহলী হল শুভেন্দু। চট করে জামাটা গায়ে গলিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়াল শুভেন্দু। দেখল পিল পিল করে লোক চলেছে শ্মশানের দিকে। তাঁদেরই একজনকে ডেকে শুভেন্দু জিজ্ঞেস করল, “কে মারা গেছে দাদা? এতলোক! লোকটা বলল”; আরে আমাদের ডাক্তার বাবু, ডাক্তার সীমান্ত সান্যালের নাম শোনেননি?
  শুভেন্দু কেমন যেন চমকে উঠল! আবার লোকটাকে জিজ্ঞেস করল কী হয়েছিল ওনার? মানে স্ট্রোক ঠ্রোক! লোকটা বলল, না মার্ডার; ডাক্তারবাবুর বউ ডাক্তারবাবুকে খুন করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। শুভেন্দু আর নড়তে পারে নি, বসে পড়ে রাস্তাতেই। মনে জেগে উঠে এক গাদা প্রশ্ন।” তবে কি…???”
(সমাপ্ত)


Admin navoratna

Author: Admin navoratna

Happy to write

Comments

Please Login to comment