গল্পকার ভোলা- প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়

 

কি মুশকিল, ভোলা পড়েছে সমস্যায়। জীবনে কোনওদিন তার মা-বাবা তাকে পায়ে বেড়ি দিতে পারেনি। যখন যেখানে মন চেয়েছে সে চলে গেছে। ভবঘুরে মানুষ ভোলা। সংসার তাকে বাঁধতে পারে না। অনেক বলে-কয়ে ছেলের বিয়ে দিয়েছিল তার মা-বাবা। কিন্তু যে কে সেই। এখন ভোলার মধ্য বয়স। জীবনে তার অভিজ্ঞতা কম নয়। এখানে সেখানে ঘুরে, বিচিত্র কাজকর্ম করে তার ঝুলি অভিজ্ঞতায় পূর্ণ। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, ছেলেটা এই মাস কয়েক হল একটা চাকরিও পেয়ে গেছে। আর ভোলার মা-বাবা সারা জীবন ছেলের জন্য চিন্তা করে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। ভোলা মাঝখানে একটু সংসারে আটকে পড়েছিল বটে। তবে সে সব কিছু নয়, আবার এখান সেখান ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনওদিন ফেরে আবার না ফেরে। আবার হয়ত দিন পনের বাদে ফিরে এল। সংসারে তার বউ অনেক ঝামেলা করে হাল ছেড়ে দিয়েছে। আর যাই হোক সংসারে অভাব ভোলা রাখেনি।

এ হেন ভোলা সেদিন হঠাৎ বিকাল বিকাল কাঁধে ঝুলিটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। তার বউ বলল, কোথায় চলেছ? ভোলা খিক খিক করে হেসে বলল, যাই, ক’দিন একটু ঘোরাঘুরি করে আসি। মনটা হাঁফিয়ে উঠেছে যে। বাধা দিয়ে লাভ হবে না জানে তার বউ রানী। তাই বলল, সাবধানে যেও আর ঠিক সময়ে ফিরে এসো। ঘরে ছেলেটা আছে, আমি আছি মনে রেখো। ভোলা অমায়িক হেসে বলল, তোমরাই তো আমার সব গো। বলেই গটগট করে বেরিয়ে গেল।

বাইরের মুক্ত আকাশ আর বাতাসের পাল্লায় পড়লে ভোলার আর কিছু মনে থাকে না। সে সোজা স্টেশনে এসে দাঁড়াল। ট্রেন আসতেই চেপে বসল। কোথায় যাবে নিজেও জানে না। তবে যেখানটা ভালোলাগবে সেখানেই নেমে পড়বে। এই তার অভ্যাস। তখন বিকাল আলো ছেড়ে যাচ্ছে অর্থাৎ অন্ধকার নামছে।
ট্রেনের দুলুনিতে একটু ঝিমুনি লেগেছিল ভোলার। হঠাৎ ট্রেনটা কষে ব্রেক মেরে দাঁড়াতেই দেখতে পেল একটা স্টেশনে সিগন্যাল না পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে ট্রেনটা। একটু মাথা নিচু করে দেখতেই সাইনবোর্ডটা দেখতে পেল ভোলা। বাঃ, চমৎকার নাম তো জায়গাটার —গোলকধাঁধাঁপুর। ভোলার আর তস্য হল না। ঝপাং করে স্টেশনে নেমে পড়ল। ঠিক সেই সময় ট্রেনটা হর্ণ দিয়ে ছেড়ে দিল। ভোলা উঠার চেষ্টাও করল না। জায়গাটার নামটাই তাকে পাগল করে দিয়েছে। না জানি মানুষগুলো কেমন হবে!
ট্রেন চলে যেতে স্টেশন একেবারে ফাঁকা লাগল তার। একটা প্যাসেঞ্জারকেও দেখতে পেল না। এমন সময় নজর পড়ল, ওই তো কয়েকজন লোক ওইদিকটায় দাঁড়িয়ে আছে। তারপরই মনে পড়ল। লোক নামবে কি করে, ট্রেনটার তো এখানে স্টপেজ ছিল না। তাই লোক উঠেনি।

ভোলা গুটিগুটি পায়ে ওই লোকগুলোর দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, দাদারা নমস্কার। এই জায়গাটা খুব ভালো, নামটাও চমৎকার। লোকগুলো বোধহয় নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল। তারা বলল, আরে আপনাকে তো আগে দেখিনি! নতুন নাকি?
ভোলা বলল, হ্যাঁ, একেবারেই নতুন আমি। গোলকধাঁধাঁপুর নামটা দেখেই আমার জায়গাটা পছন্দ হয়ে যেতে ট্রেন থেকে নেমে পড়েছি। কি সুন্দর আপনাদের এই গ্রামটা। কি সুন্দর ঘন অন্ধকার, কি সুন্দর বিশাল আকাশ আর তার গায়ে ফুটে ওঠা লক্ষ লক্ষ তারা। কি সুন্দর গাছপালা। লোকগুলো মুখ চাওয়াচায়ি করে বলল, বাঃ, খুব প্রশংসা করলেন তো আমাদের গ্রামের! চলুন চলুন, আপনি হলেন গিয়ে আমাদের অতিথি। ভোলা ওদের সঙ্গে পায়ে পায়ে গাঁয়ের ভিতর দিকে এগোতে লাগল।

ভোলা গাঁয়ের ভিতর ঢুকে ওদের সঙ্গে হাঁটতে লাগল আর চারিদিকে তাকাতে লাগল। কি অন্ধকার রে বাবা! তবে চমৎকার। ঘন অন্ধকারে জোনাকীরা জ্বলছে -নিভছে। কোথায় যেন ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে। মাথার ওপর আকাশটা সত্যি দেখার মতো। এত তারা সে জীবনে দেখেনি। ভোলার মনে গান আসছিল, তবে মুখ বুজে রইল। বেসুরো গলায় গেয়ে উঠলে যদি সঙ্গীরা রেগে যান! গাঁয়ের পথটিও বেশ, কেমন মাটির চওড়া রাস্তা। সেই রাস্তার দু’পাশে কত রকমের গাছ। এত অন্ধকারেও সে সব দেখতে পাচ্ছে। ওই তো কয়েকটা বাড়ি। হঠাৎ ভোলা দেখল, বাড়িতে আলো নেই। সঙ্গীরা আগে আগে হাঁটছেন। ভোলা চিৎকার করে বলল, হ্যা গো, তোমাদের গাঁয়ে আলো নেই? সঙ্গীরা দাঁড়িয়ে পড়ে দূর থেকে বললেন, আলো নিয়ে কি হবে? অন্ধকারই তো জগতের আলো গো। হা হা করে হেসে ভোলা বলল, বাঃ, চমৎকার বলেছ তো। এমন সময় তার পাশে দিয়ে হাওয়ার গতিতে কে যেন হেঁটে চলে গেল। ভোলা ঘন অন্ধকারে কিছুই ঠাওর করতে পারল না। তবে কেউ একজন গেল, একথা বুঝতে পেরেছে। গায়ে কেমন ধরনের একটা হাওয়া লাগল। সেই হাওয়ার গন্ধটা যেন কেমন কেমন। ঠিক কেমন ভোলা বুঝতে পারল না।

সঙ্গীরা বললেন, ও ভোলা তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে এসো হে। ভোলা ফিক করে হেসে বলল, এই যে যাই গো। ভোলা ওদের ধরার জন্য খুব জোরে হাঁটা লাগল। একটা মাটির ঘরে ওরা ভোলাকে বসিয়ে বললেন, বিশ্রাম নাও। কিছু খাবে? ভোলা বিগলিত হাসি হেসে বলল, তা হলে মন্দ হত না গো। কেমন যেন খিদে খিদে পাচ্ছে। একটা লোক যার ঝাঁকড়া চুল, সে হাত বাড়াতেই এককাড়ি খাবার এসে গেল। ভোলার তাই দেখে খিদেটা যেন বেজায় বেড়ে গেল। কপ কপ করে ভোলা নিমেষে সব শেষ করে দিয়ে বলল, কি স্বাদ গো খাবারের। এগুলো কি খাবার গো? লুচি নয়, পরোটা নয়, ভাত নয়, ফল নয় অথচ কি স্বাদ গো। লোকগুলো একসঙ্গে হেসে উঠে বলল, এ খাবের নাম নেই। পেট ভরে এই যা। ভোলা খানিকটা ভেবেও খাবারের নাম ঠিক করতে পারল না। তখনই তার মনে হল, কি করে ওরা হাত বাড়াতেই খাবার এল! বুকটা যেন তার চমকে গেল। এমন সময় দেখল, ঠিক তার মত একজন তার উলটো দিকে বসে আছে। ঘরে কেন, কোথাও কোনও আলো নেই তবু সব কিছু দিনের আলোর মতো দেখতে পাচ্ছে ভোলা। আবার তার বুকটা চমকে উঠল। সামলে নিয়ে ভোলা বলল, হ্যাগো, তোমার নাম কি গো? ঠিক আমার মতো তোমায় যে দেখতে! লোকটা ফিক করে হেসে বলল, আমার নামও ভোলা গো। ধ্যাৎ তা হয় নাকি? লোকটা আবার ফিক করে হেসে বলল, কেন হয় না! এখানে সব হয় গো।

এবার যেন ভোলার ভয় ভয় করল। একদম আলো নেই অথচ সব দেখতে পাচ্ছে, সব জানতে পারছে। এমন সময় ভোলার সিগারেট খাবার কথা মনে পড়তেই পকেট থেকে সিগারেট বার করে লাইটার বার করে যেই ধরাতে গেল, ওমনি মনে হল কে যেন ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিল। ভোলা চারিদিকে তাকাল। আরে ঘরটায় তো কেউ নেই! তাহলে কে ফুঁ দিল! আবার ধরাতে গেল কিন্তু একই ব্যাপার ঘটল। এবার ভোলা খুব ঘাবড়ে গিয়ে ভাবল, হঠাৎ করে এমন একটা অজানা জায়গায় তার নামা উচিত হয়নি। এখন ফিরবে কি করে! হঠাৎ কারা যেন হি হি করে হেসে উঠলো। ভোলার পিলে গেল চমকে। সে ধড়ফড় করে উঠে পড়ে ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে এল। ওরে বাবারে, হঠাৎ এত অন্ধকার এল কোথা থেকে। তার গায়ে আচমকা কাঁটা দিয়ে উঠলো। একটা অজানা ভয় তাকে ঘিরে ফেললো। সে বুঝতে পারল, যাদের পাল্লায় পড়েছে তারা সাধারণ মানুষ নয়, হয়ত মানুষই নয়।

ভোলা কোনদিকে যাবে বুঝতে না পেরে দৌড় লাগাবার চেষ্টা করতেই তার চারদিকটা জুড়ে শুধু নিঃশ্বাসের আওয়াজ উঠলো। তারপরই কারা যেন তাকে ঘিরে ধরল। ভোলার শরীর অবশ হয়ে আসছে। ঠাকুরকে যে ডাকবে তারও শক্তি পাচ্ছে না। এমন সময় চারিদিক থেকে হি হি হাসির তীব্র আওয়াজ ভেসে উঠলো। তারা ভোলাকে ঘিরে ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে দিতে এল। ভোলা ছটফট করছে মাটিতে পড়ে। অন্ধকার আর কাদের শত শত হাত তাকে মেরে ফেলতে চাইছে। ভোলা চিৎকার করতে গিয়ে দেখলো, গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না।

হঠাৎ একটা গম্ভীর কন্ঠ শুনতে পেল সে। সেই কন্ঠ বলল, এই তোরা কি করছিস, ওকে ছেড়ে দে। মারবি না। ফ্যাসফ্যাসে কন্ঠটা কি মানুষের, না ভূতের? ভোলা বুঝতে পারল না। শুধু অনুভব করল, তাকে কে যেন অদৃশ্য হাত দিয়ে মাটি থেকে তুলে সটান দাঁড় করিয়ে দিল। কারা যেন বলে উঠলো, কেন, ছাড়ব কেন? আমাদের দলে তো একজন বাড়বে।
সেই কন্ঠ বলল, ওকে ছেড়ে দে, আমাদের কথা কেউ জানে না, আমাদের গোলকধাঁধাপুরের কথাও কেউ জানে না। ও বলুক সবাইকে। এই গ্রামটার প্রচার দরকার। অনেক কন্ঠ হি হি করে হেসে বলল, ‌ঠিক কথা, ঠিক কথা। ভোলা যেন শরীরে শক্তি ফিরে পেল। সেই কন্ঠ বলল, যা ওকে তোরা আবার ট্রেনে তুলে দিয়ে আয়। ভোলা অদৃশ্য মানুষটার উদ্দেশ্যে হাত জোর করে বলল, পেন্নাম হই গো বাবুমশাই। শুধু ‘হুম’ একটা শব্দ শুনতে পেল ভোলা।

স্টেশনে ভোলা দাঁড়িয়ে আছে। মাঝরাত, কেউ কোথাও নেই। ট্রেন কখন আসবে তাও জানে না। এমন সময় দেখতে পেল, দূরে একটা হেড লাইটের আলো দ্রুত এগিয়ে আসছে। এই মরেছে, এ তো থামবে না বলে মনে হচ্ছে। এমন সময় কারা জানে বলে উঠলো, আমরা ট্রেনটাকে কয়েক সেকেণ্ড থামাবো। তুই ঝট করে উঠে পড়বি। নইলে মহা মুশকিলে পড়ে যাবি, দাদাঠাকুর কিন্তু এখানে নেই। কারো কথা শুনব না আর। ভোলার বুকে ধুকপুকানি শুরু হল। ট্রেনটা দুরন্ত গতি নিয়ে স্টেশনে ঢুকছে। হঠাৎ একেবারে শ্লো হয়ে গেল। দরজা বন্ধ কিন্তু খুলে গেল। ভোলা লাফিয়ে ট্রেনে উঠে বলল, পেন্নাম হই গো তোমাদের সকলকে। শুধু হাসির হো হো আওয়াজ উঠলো।

গল্পটা শুনে ভোলার বউ রানী বলল, দারুণ লিখেছো। ওর ছেলে আড়মোড়া ভেঙে বলল, এটাই তাহলে ‘ভৌতিক আষাঢ় সংখ্যার’ গল্প? ভোলা বলল, আমি যেতে পারব না। কাল তুই অফিস থেকে ফেরার পথে ‘ভৌতিক’ পত্রিকার সম্পাদককে দিয়ে আসবি আমার নাম করে। তোকে তো চেনে, আমার সঙ্গে গত ১লা বৈশাখে তো গেছলি? ছেলে বলল, ঠিক আছে বাবা, দিয়ে আসব।

_____


FavoriteLoading Add to library
Up next
শূন্য বসন্ত বাতাসে যখন আগুন, ফাগুন তার বায় বসন্তের আগমনবার্তা প্রজাপতি বলে যায় । আমিতো দেখেছি পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়ার লাল ও পাড়ার ঐ সুনন্দা, কেন অশ্রুসিক্ত ওর গা...
মনে আছে – সুস্মিতা দত্তরায়... বয়স এগিয়ে গেছে- ঝাপসা স্মৃতির অন্তরালে প্রেমটা রয়ে গেছে । সেই যে তখন ছুটির দিনে কাপড় মেলা ছাদে লজ্জা খুশির লুকোচুরি সোহাগ মাখানো রোদে । ...
অনুপ কুমার-আমার দৃষ্টিকোণে – অস্থির কবি(কল্... আজ একজন দিকপাল অভিনেতাকে নিয়ে আলোচনা করব তাঁর  নাম হল অনুপ কুমার দাস,যিনি সকলের কাছে অনুপ কুমার নামেই বেশী পরিচিত । অল্প বয়সে তিনি কিন্তু সিনেমা জগত...
সমাপতন - সৌম্য ভৌমিক   কলম যখন যায় শুকিয়ে একলা ঘরে মুখ লুকিয়ে কাঁদি সঙ্গোপনে , ভাবনা যখন কাছে আসে না স্বপ্ন চোখে আর ভাসে না থাকি ঘরের কোণে । শ...
উত্তম ছড়া – অস্থির কবি...   সাড়ে চুয়াত্তর বার দেখুন একই নামের ছবিটা, মন নিয়ে ধন্য হবেন পড়লে এই লাখ টাকা র কবিতা। বসু পরিবার এ জন্মেছিল এক চাটুজ্জে গায়ক, অগ্নি পরীক্...
শৈশবের উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা... - অস্থির কবি (কল্লোল চক্রবর্তী)  উত্তম পর্ব- ১ ছোট বেলা। সবে জ্ঞান হয়েছে। একটা চিত্র প্রদর্শনীতে গেছি। হাসিমুখের এক ব্যাক্তির ছবিতে চোখ আটকে গেল। বল...
নিজের সঙ্গে দেখা - দেবাশিস ভট্টাচার্য   আজ বিয়ের পঁচিশ বছর সম্পূর্ণ হলো।আমি অনিন্দিতা বসু।  ব্যাংক এর ডেপুটি ম্যানেজার সায়ক বসুর স্ত্রী। নবনীতা বসুর মা। এই এখ...
আত্মোপলব্ধি -দীপ্তি মৈত্র... সাহিত্যের রূপ দুটি,তথ্য ও সত্য। তথ্যের মধ্যে জ্ঞান থাকে, সত্যের মধ্যে বোধ। সাহিত্যের সত্য আর অন্তরের সত্য মিলে সৃষ্টি হয় নতুন সত্ত্বা- তার নাম আ...
শিকার (থ্রিলার) অস্তগামী সূর্যের লালাভ আভা সমূদ্রের নীলাভ জলরাশির মাঝে বিলীন হতে হতে কী অদ্ভুত এক যাদুকরী পরিবেশ তৈরি করে।  সদ্য বিবাহিত তিন্নি তার বর রিফাতের কাঁধে ম...
কাল-পুরুষ ও পৃথিবী – রথীকান্ত সামন্ত... পূর্ণপৃথক দৃষ্টিকোণ, আর দেহ ছাড়ার তাড়ায় চোখের আয়নায় মুখ দেখতে ভুলে গেছি আমি যেটুকু আঁধার জোনাকি-আলোয় হারায় কাঁটা জেনেও সে পথেরই হই অনুগামী। বিরহ আ...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment