কল্পবৃক্ষ – সুস্মিতা দত্ত রায়

নদীর পাড়ে ঝাঁকড়া অশ্বত্থ গাছটায় হেলান দিয়ে বসেছিল কালু। এই অশ্বত্থ গাছটা থেকে পশ্চিমে কিছুটা গেলেই জঙ্গলের সীমানা শুরু। জঙ্গল আস্তে আস্তে গভীর থেকে গভীরতর হয়ে বিস্তৃত হয়েছে বহুদূর। জঙ্গলের ওপারে কি আছে জানেনা কালু। জীবনে সে গ্রামের বাইরে যায়নি। জঙ্গলের ভিতরে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠেনা। কারণ জঙ্গলকে ভীষণ ভয় পায় সে। একটু ঝোপঝাড় বা গাছ-গাছালির ভিতর দিয়ে হাঁটলেই ওর ভয় করে, মনে হয় গাছগুলো যেন চারদিক দিয়ে আষ্টেপৃষ্টে ঘীরে ধরে পিষে মেরে ফেলবে তাকে। তাড়াতাড়ি পালিয়ে আসে সে। কালুর ভালোলাগে ফাঁকা বিস্তীর্ণ মাঠ, নদীর ধার, ভেলভেটের মতো ঘাসে ঢাকা জমি। আর সবচেয়ে ভালোলাগে মায়ের কোল আর মায়ের গায়ের গন্ধ। দুপুরে বা রাতে মায়ের পাশে শুয়ে মায়ের আঁচলের গন্ধটা যখন নাকে ঢোকে, কালুর ইচ্ছে করে সারাজীবনের জন্য মায়ের বুকের মধ্যে হারিয়ে যেতে । প্রানভরে ঘ্রাণ নেয় সে। তারপর সেই গন্ধটাই, মায়ের বলা গল্পগুলোর সাথে মিশে আস্তে আস্তে তাকে নিয়ে চলে যায় ঘুমের দেশে, ঘুমিয়ে পড়ে কালু।

আজকের দিনটা কালুর জন্য একটু অন্যরকম। আজ বাবা-মা তাকে রেখে দিয়ে শহরে গেছে কবিরাজ শ্রী ভোলানন্দ চক্রবর্তীর কাছে ওষুধ আনতে। অনেক দূরের পথ, আসতে আসতে সন্ধ্যা হবে। পাশেই থাকে ভালোজেঠী, তার কাছেই আজ দুপুরে খাবে সে। ভালো জেঠীর হাতের পোস্ত বড়া আর মৌরোলার চাটনী খুব ভালো লাগে কালুর। ওকে খুব ভালোবাসে ভালোজেঠী, নিশ্চয়ই ওই দুটো পদ থাকবেই আজ দুপুরে। প্রায় ছয়মাস মাছ খায়নি কালু, কবিরাজ মশাই বারণ করে ছিলেন। সবে গত সপ্তাহ থেকে একটু করে মাছ আর টক খাওয়ার অনুমতি পেয়েছে সে। কিন্তু ওষুধ চলবে এখনো মাস তিনেক। কবিরাজ মশাই বলেছেন রোগটাকে গোড়া থেকে বিনাশ না করা পর্যন্ত শান্তি নেই।

খাবারের নাম গুলো মনে আসতেই আনন্দ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মনটা ভালো নেই কালুর। গত দু-তিন দিন ধরে শরীরে কিরকম একটা অদ্ভুত অস্বস্তি হচ্ছে। কাউকে বলে বোঝানো যাবে না, কিন্তু অস্বস্তি টা ক্রমবর্ধমান। তার উপর আজ বাবা- মা বেরিয়ে যাবার পর মুখ ধুয়ে আয়নায় দ্যাখে মুখে দুয়েকটা ছোট্ট সবুজ তিল হয়েছে। এখন নদীর ধারে বসে খেয়াল করলো ঐরকম সবুজ তিল হাতে আর পায়েও কয়েকটা গজিয়েছে। শরীরের অস্বস্তির সাথে সাথে একটা ঘুম ঘুম ভাব। ভালো লাগছে না কালুর। খালি মনে হচ্ছে মা কখন আসবে, আর কখন ও মায়ের পাশে শুয়ে সারাদিনের গল্প শুনবে।
কালু ছোটো থেকেই মা ন্যাওটা, মাকে ছেড়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারেনা। তার কারণ অনেকটাই অবশ্য তার অসুস্থতা। ছোটো থেকেই রক্তাল্পতার কারণে রুগ্ন সে, শরীরে রক্ত কম তৈরী হওয়ায় আগাগোড়াই দুর্বল। অন্য বাচ্চাদের মত চঞ্চলতা তার নেই, একটুতেই হাঁপিয়ে যায়। তার সমবয়সী বাচ্চাদের সাথে মাঠে-ঘাটে খেলতে পারেনা, ফলে বিশেষ বন্ধু-বান্ধবও নেই কালুর। অগত্যা মা-ই তার সব। সারাদিনের খেলা, খুনসুটি, গল্প, একটু-আধটু পড়াশোনা,– সবই তার মায়ের সাথে। গ্রামের ডাক্তারবাবু অনেক ওষুধ দিয়েছেন, কোনো লাভ হয়নি। তাই কিছুটা বাধ্য হয়েই কালুর অসুস্থতাকে অদৃষ্টের লিখন বলে মেনে নিয়ে সুখে-দুঃখে দিন কাটছিলো ওর বাবা-মায়ের।

কিন্তু হঠাৎ করে বছরদুয়েক আগে কালুর অসুস্থতার ভয়ঙ্কর রকমের বাড়াবাড়ি হলো। প্রথমে জ্বর এলো, তারপর শুরু হলো রক্তবমি। শেষে কান- নাক দিয়ে রক্তপাত হতে শুরু হলো। শীর্ণ,দুর্বল কালু এবারে একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়লো। ওকে নিয়ে বাবা-মা ছুটলেন গ্রামীন হাসপাতালে। সেখানের ডাক্তারবাবু ওষুধ দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করলেন, কিন্তু বললেন এখুনি রক্ত না দিলে কালুকে বাঁচানো যাবে না। অগত্যা কালুর বাবা শহরে গেলেন ওর গ্রূপের রক্ত আনতে। প্রায় তিন প্যাকেট রক্ত শরীরে প্রবেশের পর সজীব হলো কালু। শেষে দুদিন হাসপাতালে কাটিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরলো সে। কিন্তু তার পর থেকেই দু-তিন মাস অন্তর অন্তরই রক্ত নিতে হতো কালুকে। না হলেই শুরু হতো রক্তপাত, আর ক্রমশঃ নিস্তেজ হয়ে পড়তো সে।
শেষে বছরখানেক আগে গ্রামেরই একজনের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে কবিরাজ মশাইয়ের খোঁজ পেয়েছিলেন কালুর মা। তিনি নাকি অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি সারিয়ে দেন। তাঁর ওষুধ নিয়মিত খেয়েই কালু এখন ভালো আছে। ওষুধ শুরু করার পর থেকে আর রক্তপাত হয়নি, রক্ত নিতেও হয়নি কালুকে। ক্রমশঃ বেশ সবল হয়ে উঠছিল কালু, কিন্তু দুদিন ধরে ওই শারীরিক অস্থিরতা আর আজকে আবিষ্কার করা সারা শরীরে ওই সবুজ তিল কিছুতেই স্বস্তি দিচ্ছিলো না কালুকে।

সন্ধ্যেবেলা মা বাড়ী ফিরতেই মাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মুখ গুঁজলো কালু। পরে, রাতে শুয়ে বললো শরীরের অস্বস্তি আর সবুজ তিলের কথা। সব শুনে মা ভাবলেন, হয়তো ওষুধের কোনো প্রতিক্রিয়া হবে। এরমধ্যে না সারলে পরের বার গিয়ে বলবেন কবিরাজ মশাই কে। ছেলের মাথায় সস্নেহে হাত বুলাতে লাগলেন তিনি। মায়ের হাতের যাদু ছোঁয়া পেতেই আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়লো কালু।
দিন তিনেক পর হঠাৎ করে কালুর বাবা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ঠান্ডা লেগে প্রচন্ড কাশি, সাথে ধুম জ্বর। কালুর মা স্বামী কে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন। কালুও বাবার পাশে বসে বাবার মাথায় জলপট্টি দেয়, ঘেমে গেলে পাখার বাতাস করে, সময়মতো ওষুধ দেয়। এদিকে কালুর শরীরের অস্বস্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। খিদে কমে গেছে, সাথে জলতেষ্টা প্রচণ্ড। গায়ের সবুজ তিলগুলো সংখ্যায় এবং আকারে বেড়েই চলেছে। এখন শরীরের অনেক জায়গাতেই সেগুলো সবুজ ছোপের আকার নিয়েছে। কালুর মায়ের অসহায় অবস্থা। একদিকে স্বামী জ্বরে কাহিল, অন্যদিকে ছেলের এই অবস্থা। শেষে কালুর বাবা একটু সুস্থ হতেই একদিন ছেলেকে নিয়ে ছুটলেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার কিছুই বুঝতে পারলেন না। শুধু খিদে বাড়াবার একটা টনিক দিলেন আর বললেন শহরে গিয়ে রক্তটা একবার পরীক্ষা করাতে। মলিন মুখে বাড়ী ফিরে এলেন কালুর মা। ঠিক করলেন, যত শীঘ্র সম্ভব কালুকে নিয়ে শহরে যাবেন।

সেদিন জন্মাষ্টমী, সাথে কালুর জন্মদিনও। ঠিক দশ বছর আগে এইদিনেই মায়ের কোল আলো করে পৃথিবীতে এসেছিলো কালু। ঠাকুমা আদর করে নাম রেখেছিলেন “কৃষ্ণ”। মা ডাকতেন “কালোমানিক” বলে, তার থেকে কালু। আজ নদীর ধারে সবুজ ঘাসের উপর বসে ঠাকুমার কথা খুব মনে পড়ছে কালুর। ঠাকুমা তাকে কোলে নিয়ে বলতেন,―”এ হলো আমার সোনার কেষ্টঠাকুর, আমার গোরাচাঁদ।” তারপর কালুর মা কে বলতেন,–”দোহাই বুদ্ধি বাপু তোমাদের। এমন সোনার বরণ ছেলের নাম রেখেছো কালু।” মা হেসে বলতেন “আপনিও তো নাম রেখেছেন কৃষ্ণ, তার বেলা?” ঠাকুমা দুই হাত জুড়ে কপালে ঠেকিয়ে বলতেন,–”সে তো ভগবানের নাম গো, জন্মাষ্টমীতে জন্মেছে বলে। তা বলে ওই অখাদ্দি নাম কেউ রাখে! এতো দেখি পদ্মলোচন ছেলের নাম কানা।” উত্তরে মা বলতেন,–”ভালোই তো, ছেলের আমার নজর লাগবে না।” নিজের শরীরের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ খুব কান্না পেলো কালুর। ঠাকুমার সেই গোরা চাঁদের সারা শরীর আজ সবুজে ভরে গেছে। চোখের দৃষ্টিও ঝাপসা।

হঠাৎ খুব জলতেষ্টা পাওয়াতে ধীরপায়ে নদীর দিকে এগিয়ে গেলো কালু। দুই হাতের আঁজলা ভরে অনেকটা জল খেলো। গত পরশু প্রথম শহরে গিয়েছিলো সে, রক্ত পরীক্ষা করাতে। রাস্তায় কত লোকজন, বড় বড় বাড়ি, কালু অবাক নয়নে দেখছিলো। রাস্তার লোকজনও তার সবুজ শরীরটার দিকে হাঁ করে তাকিয়েছিল। এমনকি, যে ডাক্তারবাবু রক্ত নিচ্ছিলেন, তিনিও ঘাবড়ে গিয়ে ছিলেন সিরিঞ্জে উঠে আসা লালচে সবুজ তরলটা দেখে। আজ সেই রিপোর্ট আনতেই শহরে গেছেন কালুর বাবা-মা। ভালো জেঠী তার জন্য আজ আবার পোস্তবড়া বানিয়েছেন, কিন্তু কালুর খাওয়ার ইচ্ছে নেই। আজকাল তার একদমই ক্ষিদে পায়না, শুধু প্রচুর জলতেষ্টা পায়।

নদীর ধার থেকে পাড়ে উঠতেই তুলোর মতো মেঘের আড়ালে থেকে উঁকি দিলো সূর্য। ভাদ্র মাসের নির্মল আকাশ রোদে ঝলমল করে উঠলো। রোদের ছোঁয়া পেয়ে হঠাৎ খুব আরাম লাগলো কালুর। দুই হাত মেলে সে দাঁড়িয়ে রইলো অনেকক্ষণ। প্রাণ ভরে রোদের আদর খেয়ে তার সবুজ শরীর আরো সবুজ হয়ে উঠলো, শিরায় শিরায় জেগে উঠলো মাটির টান। তার আশৈশবের ভীতি জাগানো সেই জঙ্গল দূর থেকে যেন তীব্র আকর্ষণ করতে লাগলো তাকে। পায়ে পায়ে কালু এগিয়ে চললো জঙ্গলের দিকে।

চোখে মুখে একরাশ ভীতি আর দুশ্চিন্তা নিয়ে কালুর বাবা-মা বসে আছেন ডাক্তারখানায়। কিছুক্ষনের মধ্যেই ডাক্তার মুখার্জি ঘরে ঢুকলেন, চেহারায় অদ্ভুত বিষ্ময়! বললেন,– “এ কি করে হলো জানিনা। আমাদের ডাক্তারী বিজ্ঞানে এরকম অভূতপূর্ব ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা নেই।” কান্না ভেজা গলায় কালুর মা জিজ্ঞাসা করলেন,–” আমার ছেলের কি হয়েছে ডাক্তারবাবু?”

ডাক্তার মুখার্জি বললেন,–”দেখুন, আপনারা জানেন কি না জানিনা যে, আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিন নামে যে রঞ্জক পদার্থ থাকে, তার জন্যই রক্তের রঙ লাল হয়। আপনাদের ছেলে কৃষ্ণের শরীরে এই হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি আছে, যা ওর আগের শারীরিক সমস্যা গুলির কারণ ছিলো। কিন্তু আচমকাই ওর শরীরের অস্থিমজ্জা হিমোগ্লোবিনের বদলে অন্য আরেকটি রঞ্জক পদার্থ খুব দ্রুতগতিতে তৈরি করতে শুরু করেছে। এই সবুজ রঞ্জক টি হলো ক্লোরোফিল। এই ক্লোরোফিলের জন্যই গাছ সবুজ হয়, গাছের খাবার তৈরিই এর প্রধান কাজ। আপনাদের বোঝাতে পারছি কিনা জানিনা, তবে যতটা সম্ভব সহজ ভাষায় সবটা বলার চেষ্টা করছি। সেই ক্লোরোফিল আর হিমোগ্লোবিনের গঠনগত মিল খুব বেশি। শুধু একটি মৌলিক উপাদানের পার্থক্য ছাড়া এই দুটির মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। হঠাৎ করে কোনো জিনগত পরিবর্তনের ফলে কৃষ্ণের শরীরে এই পরিবর্তন। হয়তো ও যে কবিরাজি ওষুধ খেতো, সেই ভেষজ ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় এরকম বিরল ঘটনা ঘটেছে। ওকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখানে নিয়ে আসুন। দেখি কিছু করতে পারি কি না।”

বাড়ী ফিরে কালুর বাবা-মা দ্যাখে ছেলে ঘরে নেই। সবাই মিলে সারা গ্রাম খুঁজেও কালুর কোনো হদিস পাওয়া গেলো না। পুলিশে রিপোর্ট করা হলো, তাতেও কিছু লাভ হলো না। ছেলের জন্য কেঁদে কেঁদে কালুর মায়ের অবস্থা শোচনীয়। শেষে একদিন জঙ্গলের ভিতর থেকে উদ্ধার হলো কালুর পরনের গেঞ্জি আর হাফপ্যান্ট। খবর পেয়ে কালুর মা-বাবা ছুটলেন জঙ্গলে। কিন্তু সারা জঙ্গল তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোথাও পাওয়া গেলোনা কালুকে। মা ন্যাওটা, রুগ্ন ছেলেটা নিজের জন্মদিনেই কোথায় যেন হারিয়ে গেলো।
অনেকটা দূরে, প্রায় বিলুপ্ত দৃষ্টি দিয়ে কালু দেখতে পেলো তার মা কে। মা খুব কাঁদছে, ওর নাম ধরে ডাকছে, আর সমানে বলছে ফিরে যেতে। কিন্তু কি করে ফিরবে কালু? চারিদিকে বিশাল বিশাল গাছের মাঝে এখন দাঁড়িয়ে সে। দুই পাশে মেলে ধরা তার সবুজ হাত দুটো কচি কচি পাতায় ভরে উঠেছে। পায়ের তলার শেকড় মাটি ভেদ করে বিস্তৃত হয়েছে বহুদূর। রোদের তাপে এখন দিব্যি নিজের খাবার বানাতে পারে সে।
মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে কালু। আস্তে আস্তে চোখের সামনে থেকে মিলিয়ে যায় মা, অন্ধকার নেমে আসে। মায়ের আঁচলের গন্ধ চারিদিকের বুনো গন্ধের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আর কোনোদিন কালু ফিরবে না মায়ের কাছে। রোদের আদরে সে এখন সারাদিন মায়ের ছোঁয়া পায়। তারপর সূর্য ডুবলে যখন রাত নেমে আসে, তখন বনের নীরবতায় চুপ করে কান পাতে সে। শুনতে পায় বাতাসের সুরে সুরে ভাসতে থাকা মায়ের বলা গল্পগুলো।

 

_____


FavoriteLoading Add to library
Up next
পরিশোধ স্পৃহা -তুষার চক্রবর্তী...    সুমনা সোফায় বসে ফোনের অপেক্ষা করছে। বেশ অধৈর্য্য লাগছে। সময় যেন কাটছে না। চিন্তাও হচ্ছে। পল্লবের ছেলেরা কি ঠিকঠাক কাজটা করে উঠতে পারলো না! এতো দেরি...
বিতত বিতংস – গার্গী লাহিড়ী... কখনো তোর হাসি সুর তুলেছিল হৃদয় বীনার তারে ; কখনো তোর কাজলরেখা বিদ্যুৎ হেনেছিল আমার ঘরে। স্পর্শ সুখের হাতছানিতে বুকের মাঝে ছিলি , নরম ঠোঁটের ছোঁয়া...
ভূত-ভবিষ্যৎ -প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়     সহেলি পাশ ফিরে শুলো। আজ তেমন গরম নেই। কারণ ক’দিনের বৃষ্টিতে বেশ চমৎকার আবহাওয়া হয়ে গেছে। ঘরের দুটো বড় জানালা খুলে...
জীবনের বিধান-ডঃ বিধান চন্দ্র রায়... - সমর্পণ মজুমদার   দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, নিষ্ঠাবান, কর্মদক্ষ, সচেতন মানুষের জীবন অতি সুশৃঙ্খল হয়। একজন সুশৃঙ্খল মানুষই এরকম হতে পারেন। তিনি হন প্র...
উল্টো ছন্দ - গার্গী লাহিড়ী   (৩) রাজপথ জনশূন্য হয়ে পড়ে ধীরে ধীরে কমে আসে যান চলাচল ঝমঝম বৃষ্টি নামে শহরে নিথর দেহ পড়ে থাকে রাস্তায় মাথায় হাত রাখার...
আডোম শুমারী – সৌম্য ভৌমিক... কত বডি আসে দিনের অবকাশে জ্বালা করে ওঠে চোখটা , আদম শুমারী ঘরেতে কুমারী বিড়ি ধরিয়েছে লোকটা | একদিন রাতে প্রেমিকের হাতে খুন হলো যে যুবতী , লোকট...
ময়ূরকণ্ঠি জেলি-কিছু আলোচনা... প্রসঙ্গ সত্যজিৎ পর্ব - ২সত্যজিৎ রায় সাহিত্যের দিক থেকে মূলত কিশোর সাহিত্যিক হিসেবেই পরিচিত। তবে গুটিকতক গল্প তিনি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও লিখেছেন, এইর...
আদমিভ – সৌম্য ভৌমিক... ওই যে গাছের কোটরখানি উলঙ্গ হয়েছে আজ, জীর্ণ পুরুষ শীর্ণ পিতা ছেড়েছে রাজার সাজ। হে পুরুষ তুমিও তো আয়েসি হতে পারতে, শীতের রাতে আগুনশিখা বুকের থেকে কাড়...
বোকা বউ ও একটা গয়নার বাক্স – পুলিশমানুষ শিবন... এই শেষ দশ দিন কল্যাণী কখনো ভুলবে না। কি থেকে কি হয়। ভাবলেও গা হাতপা ঠান্ডা হয়ে আসে। অরিন্দম আজ নার্সিংহোম থেকে ছাড়া পাবে। গত দশদিন যমে মানুষে টানাটান...
ধর্ম - কৌশিক চক্রবর্ত্তী   মান ও হুঁশ যুক্ত প্রাণীকে যে মানুষ বলে বিবেচনা করা হয় এব্যাপারে সকলেই একমত বলে আমার ধারণা। কিন্তু আমার লেখার বিষয় এট...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment