কি যাদু মা ডাকতে

– অদিতি ঘোষ 

 

  প্লীজ, স্টপ ইট্। এই ধানাই পানাই ভাল লাগেনা আমার। প্রত‍্যেকদিন সেই একই আলোচনা।
রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে কথাকটা উগলে দিয়ে,পার্শটা হাতে তুলে নিল ঐশিকা।
নিরুপমা ভয়ে ভয়ে বললেন―তুই আসবি বলে,একটু উপমা করেছিলাম। একটু মুখে দিবিনা মা?
সানগ্লাসের কাচটা রুমালে মুছতে মুছতে ভ্রুকুটি করল ঐশিকা―কেন কর এগুলো?জানো তো আমি এই ধরনের খাবার খাইনা।
―বেশি তেল টেল দিইনি।খেয়ে দেখ।

প্রচণ্ড বিরক্তি সহকারে উপমার প্লেটটা হাতে তুলে নিল ঐশিকা। দুবার চামচের ডগায় নামমাত্র উপমা তুলে মুখে ঠেকালো।নিরুপমা তাকিয়ে ছিলেন মেয়ের মুখের দিকে।ওই দৃষ্টিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে এখন মনে করেনা ঐশিকা। প্লেটটা টেবিলে নামিয়ে রেখে ,বেসিনের দিকে এগিয়ে গেল।
নিরুপমা বললেন―তুই কিন্তু আমার উপর শুধুশুধুই রাগ করছিস?
―শুধুশুধু?বয়েসটা তো অনেক হল।এবার একটু বোঝার চেষ্টা কর,অপরের সমস‍্যাটা?
নিরুপমা বললেন―ঠিক আছে, তুই যখন চাসনা,তখন মেয়ে বলে কারো কাছে তোর পরিচয় দেবনা।

একথায় এতটুকু নরম হলনা ঐশিকা।ঝাঁঝালো স্বরে বলল―হ‍্যাঁ দিওনা। ওই দশটা মেয়ে নিয়ে যে গানের স্কুল,তার দিদিমণি আমার মা―কথাটা লোককে জানাতে আমি চাইনা। ইজ্ ইট্ ক্লীয়ার? আমি আসছি এবার।

ঐশিকা বেরিয়ে যাওয়ার এক মিনিট পরই গাড়িটা বেরিয়ে যাওয়ার আওয়াজ কানে এল। স্বামীর ফটোর দিকে তাকিয়ে মনে মনে প্রশ্নটা করলেন নিরুপমা―তবে কি মেয়েটাও আস্তে আস্তে তোমার মতই হয়ে যাচ্ছে? তোমার কাছে যেমন আমার,আমার গানের কোনদিন কোন মূল‍্য ছিলনা তেমনি আজ মেয়ের কাছেও নেই। ঐশিকা আজ খুব নামকরা গাইয়ে। ও ওর মায়ের মত শুধু রবীন্দ্রসংগীত আর নজরুল গীতির মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেনি, আধুনিক বাংলা গান, হিন্দি গান এমনকি পপসঙেও সমান দক্ষ। ভীষণ ব‍্যস্ত একজন গায়িকা সে।সিনেমার প্লেব্যাক তো আছেই, তার ওপর আছে বড় বড় মঞ্চে গান গাওয়ার আমন্ত্রণ। সপ্তাহে প্রায় তিন-চার দিন শো থাকে।স্বামীও ব‍্যস্ত অফিস, ক্লাব, সোসাইটি নিয়ে। ছেলে থাকে গাভারনেশের তত্ত্বাবধানে।

অনেকবার নিজের কাছে নাতিকে এনে রাখতে চেয়েছেন নিরুপমা। কিন্তু রাজি হয়নি ঐশিকা। ওর বক্তব্য―যদি নাতির জন্যে এতটাই ভাবেন,তাহলে যেন নিরূপমা এই বাড়ি আর গানের স্কুলের মায়া ত‍্যাগ করে    পার্মানেন্টলি ওর ফ্ল্যাটে শিফট করে।
সেটা পারেন নি নিরুপমা।সব হারিয়ে নিজের ভাললাগাটুকুকে আগলেই বাঁচতে চান নিরুপমা।সারা জীবন অপরের মনের মতো হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন,কিন্তু পারেন নি। পারেন নি শুধু একটাই কারণে।  নিজের ভাললাগাটুকুকে পুরোপুরি বিসর্জন দিতে নারাজ ছিলেন তিনি।

আপনজনদের মধ্যে শুধু একজনের সঙ্গেই মতের মিল হয়েছে নিরুপমার। সে হচ্ছে –পুত্রবধু দেবলীনা। কোন দিন দাবি করেনি সে,শ্বাশুড়িকে নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে রাখার। বরং উল্টো কথা বলেছে। বলেছে―আমি অনেক ভেবে দেখেছি মামনি তুমি ছেলে,মেয়ে কারো সংসারে গিয়েই বেশিদিন আত্মসম্মান নিয়ে থাকতে পারবে না। তার থেকে এই ভাল আছো।

স্বামীর সংসারে শুধু সন্তানের কথা ভেবে, মানিয়ে নিয়ে আছে মেয়েটা। নিরুপমাকে খুব ভালবাসে মেয়েটা।যেদিনই আসে, কিছু না কিছু খাবার নিজের হাতে তৈরী করে নিয়ে আসে। পরে খাব বললে পরিত্রাণ পাননা নিরুপমা। খেতে হয় ওর সামনে বসে।
শাশুড়ি মনকষ্ট পাবেন ভেবে সহজে নিজের কষ্টের কথা বলতে চায়না দেবলীনা। তবু প্রশ্ন করে করে যতটুকু জানতে পারেন নিরুপমা, তাতেই খারাপ লাগে ত়াঁর।নিজেই পছন্দ করে দেবলীনাকে ছেলের বৌ করে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। ভাবতেই পারেন নি যে অঙ্কুশও ওর বাবার মতই জেদি,অহংকারী,আত্মকেন্দ্রিক একটা মানুষ হয়ে উঠবে।

আশ্চর্য ব‍্যাপার। কি করে এমন হয় কে জানে? মেয়েটা কি যাদু জানে? যেদিনই বেশি মন খারাপ লাগে তার, সেদিনই এসে হাজির হয় দেবলীনা।আজও এসেছে। নিরুপমা নিরামিষ খান। তাও নিজের জন্যে যে বেশি কিছু করেন না,সেটা ভালো করেই জানে দেবলীনা। তাই নারকেল দিয়ে মোচা রান্না করে এনেছে।

শাশুড়ির সঙ্গে খানিকক্ষণ গল্প করে বেরিয়ে পড়েছিল দেবলীনা। নিরুপমা ঘর থেকে একটা প‍্যাকেট এনে, ওর হাতে দিলেন। প্রশ্ন করল দেবলীনা―কি আছে এতে মামনি?
―তোর জন্যে একটা শাড়ি কিনেছি এখানের বুটিকটা থেকে।
―আবার শাড়ি কিনেছো? কেন মামনি? তোমার কত ওষুধপত্র কিনতে হয়।এইভাবে খরচ করতে কতবার বারণ করেছি আমি। তবু তুমি শোন না।
মৃদু হাসলেন নিরুপমা―খাই তো তোর শ্বশুরের দরুন পাওয়া পেনশনের টাকায়। এটা আমার গান শেখানোর দক্ষিনার ‌থেকে কিনেছি। তোর ভালো লাগবে কিনা দ‍্যাখ।
দেবলীনা বলল―এখন দেখবো না,পরের দিন পরে এসে তোমাকে দেখাবো।

দেবলীনা চলে যাওয়ার পর অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেই একই জায়গায় বসে আছেন নিরুপমা। খেতে উঠতে ইচ্ছা করছে না।মাঝে মাঝেই এরকম হয়। দেড়টার বদলে বেলা তিনটের সময় ভাত নিয়ে বসেন। আজও ঘড়ির দিকে তাকিয়ে না খেয়েই শুয়ে পড়লেন। ঐশিকার সেদিনের কথাগুলো তিরের মতো বিঁধেছিল বুকে। দুসপ্তাহ পরও কোনভাবে সরাতে পারছেন না মন থেকে। ঐশিকা একটা প্রোগ্রাম করে ফিরছিল। জ‍্যামে আটকে গিয়েছিল গাড়িটা। কালো কাঁচটা নামিয়ে ঐশিকা বাইরের দিকে তাকাতেই, ঘটেছিল বিপত্তিটা। পাশের ট‍্যাক্সিতে বসে থাকা নিরুপমার এক ছাত্রী উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠেছিল―ওই দেখ বাবা!আমাদের গানের দিদিমণির মেয়ে ঐশিকা বসু।সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি প্রায় সব গাড়ি বা ট‍্যাক্সিতে বসে থাকা মানুষদের কৌতুহলী দৃষ্টি এসে পড়েছিল ঐশিকার দিকে। তৎক্ষণাৎ গাড়ির কাঁচ বন্ধ করে দিলেও, মনে মনে ফুঁসেছিল ঐশিকা। বাড়ি ফিরে রাত বারোটাতেই নিরুপমাকে ফোন করে,বিষোদ্গিরণ করেছিল।

ছাত্রদের আজ একটু আগে আগে আসতে বলেছিলেন নিরূপমা। তবে কারণটা বলেন নি। সন্ধ‍্যে হতেই এক অপ্রতিরোধ্য টানে টিভির সামনে বসে পরেছেন। অপেক্ষার মুহূর্তগুলো পেরিয়ে যাচ্ছিল মন্থর গতিতে। প্রতিটি পল,অনুপল গুনে চলেছেন পলকহীন দৃষ্টিতে টেলিভিশনের পর্দার দিকে তাকিয়ে।
বিশাল মঞ্চ জুড়ে আলোর রামধনু। তিন দিক ঘিরে নানা ধরনের বাদ‍্যযন্ত্র নিয়ে উপস্থিত মিউজিশিয়ানরা। উপস্থাপকের ঘোষনার সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে অবতীর্ণ ঐশিকা বাসু। মঞ্চের মাঝামাঝি জায়গায় দাঁড়িয়ে,দর্শকদের একটা  মিষ্টি হাসি উপহার দিলেন স্বনামধন্যা গায়িকা মিসেস ঐশিকা বাসু―থ‍্যাঙ্কস টু এভরিবডি।                      

ঐশিকা শুধু সুগায়িকাই নয়,সুন্দরীও বটে। মেদহীন সুঠাম শরীর জুড়ে অসাধারন লাবণ্য। ময়ূরকন্ঠী রঙের বিশাল ঘেরওয়ালা গাউনের ওপরের অংশ শরীরের সঙ্গে মিশে গেছে। অনাবৃত শঙ্খধবল হাত দুটোয় তেমন কোন অলংকার নেই। একহাতে বড় ডায়ালের একটা রিস্ট-ওয়াচ,অন‍্যহাতে সুদৃশ্য রিস্ট-লেট্। ডান হাতের অনামিকা জুড়ে একটা বড় আংটি।চুলটা টপ-নট্ বাঁধা।

কর্ডলেস মাইক্রোফোন হাতে, সামান্য হেলে দুলে একটার পর একটা গান গেয়ে চলেছে ঐশিকা বসু।করতালিতে ফেটে পড়ছে মঞ্চ। গর্বে বুক ভরে ওঠছে নিরুপমার।অন্য কেউ নয়,তারই আত্মজা আজ খ‍্যাতির শিখরে।দারুণ গাইছে ঐশিকা। কিন্তু যে মানুষটা সবাইকার চোখের আড়ালে একা এতক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন, তিনি কি আদৌ শুনছেন কোন গান?না,এই মুহূর্তে নিরুপমার শরীরটা ওনার বাড়ির ড্রয়িং-রুমে থাকলেও, মন ডুব দিয়েছে অনেক বছর আগের এক মিষ্টি ভোরে। চারবছরের ঘুমন্ত মেয়ের গায়ে ভাল করে চাপা দিয়ে উঠে এসেছিলেন নিরুপমা। স্বামী নিখিলেশও ঘুমুচ্ছিলেন অঘোরে।পড়ার ঘরের দরজা বন্ধ করে রেওয়াজ শুরু করেছিলেন। কিছুক্ষণ পর বন্ধ দ‍রজা দুহাতে ঠেলে ঘরে ঢুকেছিল  ছোট্ট ঐশিকা। দুচোখে জল নিয়ে ফোঁপাতে ফোঁপাতে মায়ের কোলের ওপর পড়েছিল।হারমোনিয়াম  ফেলে, মেয়েকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন নিরুপমা―কি হয়েছে মা,কাঁদছো কেন?
অভিমানে ঠোঁট ফুলিয়েছিল মেয়ে―তুমি আমাকে রেখে চলে এসেছো কেন?
―তুমি তো ঘুমুচ্ছিলে, তাই আমি একটু রেওয়াজ করছিলাম।
―না,তুমি গান করবে না। আমার কাছে শুয়ে থাকবে।―তাই কি হয়? তার থেকে ভাল হয়,যদি তুমিও আমার সঙ্গে গান কর।
―না আমি গান করতে পারব না।
―পারবে, পারবে আমার সোনা নিশ্চয় পারবে।

সেইদিনই অনেক আদর করে, অনেক বুঝিয়ে মেয়েকে  হারমোনিয়ামের রীড টেপা শিখিয়েছিলেন নিরুপমা। তারপর থেকে রোজ মায়ের সঙ্গে উঠে আসত ঐশিকা। আবার সন্ধ‍্যে বেলায় বসত।
তিনমাস পর একদিন বাড়ি ফিরে মেয়েকে গলা সাধতে দেখে রীতিমতো অশান্তি করেছিলেন নিখিলেশ। হারমোনিয়ামটা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে নিয়ে বলেছিলেন―ছিঃ,এইভাবে মেয়ের সর্বনাশ করছো তুমি। কি ভেবেছো,আমার মেয়ে তোমার মত গানের দিদিমনি হবে? কক্ষনো না। ওকে আমি ডাক্তার করব।
নিরুপমা ভয়ে ভয়ে বলেছিলেন―বেশ তো ডাক্তার হবে। কিন্তু তা বলে গান শিখতে আপত্তি কোথায়?―আপত্তি আছে। তোমার ওই প‍্যানপ‍্যানানি গান অসহ‍্য লাগে আমার।দয়া করে মেয়েটাকে আর দলে টেনো না।

সহ‍্যের সীমা অনেকদিন আগেই ছাড়িয়ে গিয়েছিল।সেদিন আর চুপ করে থাকতে পারেন নি নিরুপমা।বলেছিলেন―এই প‍্যানপ‍্যানানি গান শুনেই কিন্তু   আমার প্রেমে পড়েছিলে তুমি।
চেঁচিয়ে উঠেছিলেন নিখিলেশ―ওটাই ছিল আমার জীবনের মস্তবড় ভুল।নিজের ভুলের মাশুল গুনছি এখন। তোমার মত একটা পাতি মহিলাকে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছি। আমার স্ত্রী হওয়ার কোন যোগ‍্যতাই যে তোমার ছিলনা ,সেটা তুমি নিজেও জানো।
মেয়ের কথা ভেবে, আর কথা বাড়াননি নিরুপমা।কিন্তু সেই ঝগড়ার পর ওই ছোট্ট মেয়েটার মধ্যে একটা অদ্ভূত পরিবর্তন ঘটেছিল।নিজের তাগিদে বাবাকে লুকিয়ে দুবেলা রেওয়াজ করতে শুরু করেছিল।

ঐশিকা যখন ক্লাস ইলেভেনে পড়ে, তখনই পাড়ার একটা ফাংশনে মেয়ের গান শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন নিখিলেশ। প্রচুর প্রশংসা পেয়েছিল সেদিন ঐশিকা শ্রোতাদের কাছ থেকে। বাড়ি ফিরে নিখিলেশ বলেছিলেন― গান যদি শিখতেই হয়, তাহলে কোন বড় ওস্তাদের কাছে শেখ।
কথাটা নিরুপমাকে আঘাত দেওয়ার জন্যে বললেও ,খুব খুশি হয়েছিলেন নিরুপমা নিখিলেশের এই সিদ্ধান্তে। তারপরই শুরু হয়েছিল ঐশিকার নতুন করে পথ চলা।
দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকালেন নিরুপমা। ও বাবা, ন’টা বেজে গেছে। ব্লাড-প্রেসারের ওষুধটা খাওয়া হয়নি সন্ধ‍্যেবেলায়। থাক, একদিন না খেলে কি আর হবে? মাথাটা ধরেছে খুব। বরং, একটু চা খাওয়া যাক।

চায়ের কাপে চুমুক দিতেই, দেবলীনার ফোন এল।আজ দিভাইয়ের প্রোগ্ৰামটা দেখছো মামনি? অপূর্ব লাগছিল দিদিভাইকে। গানগুলোও দারুণ গেয়েছে।আমাদের  কমপ্লেক্সের প্রায় সবাই দেখেছে।
―হ‍্যাঁ, খুব সুন্দর লাগছিল। আসলে ও তো ওর বাবার মতোই হ‍্যান্ডসাম,স্মার্ট ।
―আর তোমার মতো গানের গলা, সেটা বল?
―ধুর পাগলি,কার সঙ্গে কার তুলনা? হ‍্যাঁরে,অঙ্কুশ ফিরেছে?
―না মামনি। ওর আসতে আজও রাত্রি হবে। একটা পার্টি আছে।
―ঠিক আছে, তুই আমার দাদু ভাইকে খাইয়ে দে।

দেবলীনাকে শুভরাত্রি জানিয়ে তবে চায়ে চুমুক দিতে পারলেন নিরুপমা। এত রাতে চা নিয়ে বসেছেন জানতে পারলে, বকাবকি করতো মেয়েটা।খুব সাদামাটা এই মেয়েটা। এম.এ পাশ করেছে ইতিহাস নিয়ে। ঐশিকার  থেকে দুবছরের ছোট।নিজের থেকে ছ’বছরের ছোট, সুশ্রী মেয়েটাকে বিয়ে করতে কোনো আপত্তি জানায়নি অঙ্কুশ। তবে কোনদিন ভালবেসেছিল কিনা, সেটা জানেন না নিরুপমা। বাবার মতই অ্যাম্বিশাস্ হয়েছে ছেলেটা।দামি ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি সবই নিজের চেষ্টায় করে ফেলেছে এই বয়সেই। কিন্তু ঘরমুখো হতে পারেনি কোনদিনই। অবশ্য ছোট থেকেই এরকম। মিশনারি স্কুলে পড়া, আর ছোট থেকে হস্টেলে থাকার জন্যেই এরকম হয়েছে নাকি জানেননা নিরুপমা।

এখন মাসে একবার মাকে ফোন করে অঙ্কুশ। জেনে নেয়, টাকা পয়সার দরকার আছে কিনা।প্রত‍্যেকবারই একই উত্তর দেন নিরুপমা―এখন লাগবেনা, লাগলে বলব। টাকার দরকার সত্যিই নেই নিরুপমার। উনি নিজের ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে চেয়েছিলেন একটু ভালবাসা, একটু সমীহ। পাননি হয়তো নিজের দোষেই। ওদের মনের মতো হয়ে উঠতে পারেন নি। সেটাকে নিজের অক্ষমতাই মনে করেন নিরুপমা। যে মানুষটাকে ভালবেসে এ সংসারে এসেছিলেন, সেই মানুষটাও ন‍্যুনতম মর্যাদা দেননি তাঁকে কোনদিন। না, কোনদিন দেননি বললে ভুল হবে। এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে, শেষ তিনমাস নিরুপমা হয়ে উঠেছিলেন সেই মানুষটার একমাত্র অবলম্বন। অস্বাভাবিক ধুমপানের ফলে লাংস-ক‍্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন নিখিলেশ। অর্জিত অর্থের সবটুকু ব‍্যয় করেও নিরুপমা বাঁচাতে পারেননি তাঁকে। বাহান্ন বছর বয়সেই চলে গিয়েছিল মানুষটা। নিরুপমার তখন পঞ্চাশ। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। পঁচিশ বছরের অঙ্কুশ তখন সি.এ পাশ করে সবেমাত্র চাকরিতে জয়েন করেছে।

দেখতে দেখতে দশটা বছর পেরিয়ে গেছে। একা থাকতে থাকতে নিরুপমা ভালবেসে ফেলেছেন একাকিত্বকেই। একা একা স্মৃতিচারন করতে করতে কখনো আপন মনে হাসেন, কখনো আবার চোখের জলে বুক ভাসান। আজকাল মাঝে মাঝেই নিখিলেশের বলা শেষ সময়কার কথাগুলো মনে পড়ে যায়। নিরুপমা তখন দিনরাত এক করে স্বামীর সেবা করে চলেছেন। নিজের শীর্ণ হাতটা নিরুপমার হাতের ওপর রেখে বলেছিলেন নিখিলেশ― আমাকে ক্ষমা করে দিও নিরু। তুমি ক্ষমা না করলে মরেও শান্তি পাবনা আমি। দুর্দান্ত তেজী, দাম্ভিক মানুষটাকে দুমড়ে মুচড়ে যেতে দেখে কষ্ট হয়েছিল নিরুপমার। অভিমান ভুলে, সান্ত্বনা দিয়েছিলেন মৃত্যুপথযাত্রী স্বামীকে।

ঘুম ভাঙ্গতেই রাত্রের স্বপ্নটার কথা মনে পড়ল নিরুপমার। কাল সারারাত স্বপ্নে দুটো বাচ্ছা ছেলেমেয়ের সাথে খেলেছেন,সমুদ্র তীরে ছোটাছুটি করেছেন। আকাশনীল রঙের ফ্রকটা পরে,মাথায় হেয়ার-ব‍্যান্ড লাগিয়ে যে মেয়েটা প্রজাপতির মত ঘুরছিল–তাকে অনেক আদর করেছেন নিরুপমা।আর ওই যে ছেলেটা বালির তৈরী ঘরটা ঢেউয়ের ধাক্কায় ভেঙ্গে যাওয়ার জন্যে কাঁদছিল, তার ঘরটা খুব সুন্দর করে তৈরী করে দিয়েছেন। ওরা দুজনে অনেক অনেক আদর করেছে নিরুপমাকে। কিন্তু নিরুপমা ওদের কিছুতেই চিনতে পারলেন না। কি মিষ্টি দুটো বাচ্ছা। ওদের ছাড়তে ইচ্ছা করছিল না।তবু ওরা কোথায় চলে গেল। খুব আফশোষ হচ্ছে, স্বপ্নটা ভেঙ্গে যাওয়ার জন্যে। ইস্ ওরা যদি আবার ফিরে আসে স্বপ্নে, কি ভাল হবে তাহলে। হোকনা স্বপ্ন, তবুতো দুজোড়া কচি কচি হাতের ছোঁয়ায় মনটা ভরে থাকবে কিছুক্ষণ।

আজ রবিবার। অন‍্য সকলের ছুটির দিন হলেও, নিরুপমার এই দিনটা কাটে ব‍্যস্ততার মধ্যে। সকাল দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত সাতজন মেয়েকে আর বিকেল পাঁচটা থেকে সাতটা পর্যন্ত চারজন ছেলেকে গান শেখান। তাই পুজোপাঠ ও কিছু কাজ সকাল সকাল মিটিয়ে ফেলতে হয়। রবিবারগুলোয় পদ্মা সকাল সকাল কাজে আসে। ওকে চায়ের কাপটা ধরিয়ে দিয়ে, নিজে চায়ে চুমুক দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নটার কথা মনে পড়ে গেল আবার। চোখ বন্ধ করে মুখদুটো মনে করার অনেক চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই পারলেন না। এমনকি সমুদ্রের ধার, বালির ঘর–সব অস্পষ্ট হয়ে যেতে লাগল ক্রমশ।
পদ্মা ডাকল রান্না ঘর থেকে
―কি তরকারি কাটব বলুন কাকিমা?
নিরুপমা বললেন―আজ কিছু ভালো লাগছে না।ভাতে ভুতে খেয়ে নেব। তুই যা। এই ভাল না লাগার কারণটা, নিজেও খুঁজে পাচ্ছেন না নিরুপমা। কোন কিছুই তো নতুন নয়। গতানুগতিকভাবে পেরিয়ে যায়,একটা একটা করে দিন। বৈচিত্র্যহীন এই জীবনটায় নতুন করে কি চাইছেন তিনি? নিজের বোকামিতে নিজেই হাসলেন। মনেমনে আবৃত্তি করলেন―ধণ‍্য আশা কূহকিনী! তোমার মায়ায়
মুগ্ধ মানবের মন, মুগ্ধ ত্রিভূবন…

স্টাডির দরজা খুলে অভ‍্যাসমতো সতরঞ্জিটা পাতলেন নিরুপমা। ঘরে একটা ধূপ জালিয়ে হারমোনিয়ামটা নামালেন। আজ স্নান, পূজো সবই যেমন তেমন করে সেরে ফেলেছেন। আসলে কিছুতেই তেমন আগ্ৰহ ছিলনা। মন জুরে একটা বিশ্রী রকম ভাল না লাগা।
মাত্র সাড়ে ন’টা বাজছে। ছাত্রীরা আসতে এখনো অনেকটা দেরি। দুনোমনো করে মোবাইলটা হাতে তুলে নিলেন নিরুপমা। ঐশিকার বাড়ির ল‍্যান্ড-নাম্বারে আঙ্গুল  ছোঁয়ালেন। ফোনটা রিসিভ করল গাভারনেশ―ম‍্যাডামের কাল ফিরতে ফিরতে প্রায় একটা বেজে গিয়েছিল। এখনো ওঠেননি। কিছু বলতে হবে?
―না,থাক। এমনই করলাম।
মনটা আজ যতটা অশান্ত, ততটাই অবাধ্য হয়ে উঠেছে। অঙ্কুশের মোবাইল নাম্বারে কল করে বসলেন। কলটা রিসিভ করল অঙ্কুশ নিজেই―হ‍্যাঁ বল, কি বলবে?
গলা কাঁপছিল নিরুপমার। কোনরকমে বললেন―ভালো আছিস বাবা?
―হ‍্যাঁ আছি। বড্ড কাজের চাপ। আমার এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। অন্য সময় কথা বলব। এখন রাখছি।
নিরুপমার উত্তরের অপেক্ষা নি করেই লাইনটা কেটে দিল অঙ্কুশ।

স্থবিরের মত বসে ছিলেন নিরুপমা। ছাত্রীদের কলকলানিতে আত্মস্থ হলেন। সামনে রবীন্দ্র-জয়ন্তী। পাড়ার ফাংশনে গান করার জন‍্যে সবাই নতুন গান তুলতে চায়। গানের মধ্যে ডুবে গেছেন নিরুপমা। এই সময়টুকু সব কষ্ট,সব মলিনতার থেকে অনেক দূরে চলে যান তিনি।
নিরুপমা কোন গান ছাত্র-ছাত্রীদের তোলানোর পরে, নিজে একবার পুরো গানটা গেয়ে নেন। তিনি গাইছেন―
আমার না-বলা বাণীর ঘন যামিনীর মাঝে
তোমার ভাবনা তারার মতন রাজে….

হঠাৎ বাঁদিকে একটা যন্ত্রনা অনুভূত হতে ,গান বন্ধ করলেন উনি। বুকে হাত দিয়ে শুয়ে পড়লেন।ছাত্রীরা বুকের উপরে ঝুঁকে পড়ে ডাকাডাকি করতে লাগল। নিরুপমা কোনরকমে দুটো নাম উচ্চারণ করলেন―দেবলীনা , ডাক্তার শুভময় মিত্র। মেয়েরা ওনার মোবাইল থেকে দুটো নাম্বারে ফোন করে তৎক্ষনাৎ জানিয়ে দিল নিরুপমার অসুস্থতার কথা।
দশ মিনিটের মধ্যে ডাক্তার শুভময় মিত্রের গাড়িটা দরজার সামনে দাঁড়াল। হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন তিনি। নিরুপমাকে পরীক্ষা করে, অ্যাম্বিউল‍্যান্স কল করলেন।
কার্ডিওলজিস্ট শুভময় মিত্রের নার্সিং-হোমের আই. সি .ইউতে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন নিরুপমা।ঘন্টা দেড়েক হয়ে গেছে, তবু অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। ঐশিকা আর অঙ্কুশ এক সঙ্গেই ঢুকেছে নার্সিং-হোমে। দুরুদুরু বুকে আই.সি.ইউ–এর দিকে এগিয়ে গেল ওরা। ঐশিকা কাঁপা গলায় ডাকলো―মা!
প্রায় একই সঙ্গে ডেকে উঠল অঙ্কুশ―মম!

স্পষ্ট দৃষ্টি মেলে তাকালেন নিরুপমা। ডাক্তার সেন ও আরো দুজন ডাক্তার অবাক হয়ে নিরুপমার মুখের দিকে তাকালেন। নিরুপমার ঠোঁটের কোনায় হাসির আভাস। ডাঃ শুভময় মিত্রের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিল, নিরুপমার আয়ু আর বড়জোর আধঘন্টা। কিন্তু নিরুপমার এই দৃষ্টি অবাক করে  দিয়েছে তাঁকে। উনি ওনার জুনিয়র ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে বললেন―এতো রীতিমতো মিরাকল। এযে দেখছি ‛মা’ডাকের যাদু?
দুই সন্তান দাড়িয়ে নিরুপমার চোখের সামনে।দুজনের চোখেই জল টলটল করছে। ডাক্তার মিত্র বেডের কাছে এগিয়ে গেলেন।
কিন্তু না, নিরুপমা আর চোখ মেললেন না একবারও। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর  ভালো করে পরীক্ষা করে, ডাক্তার মিত্র বললেন―সী ইজ্ নো মোর।
পাথরের মুর্তির মত দুধারে দাঁড়িয়ে  রইল নিরুপমার আত্মজ ও আত্মজা।

কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে দেবলীনা।নিরুপমার উণষাট বছর বয়সের এই আকস্মিক মৃত্যুটাকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না ও। নানা কথা বলে বিলাপ করে চলেছে।
ডাক্তার মিত্র ডেথ-সার্টিফিকেট লিখে দিয়েছেন। দুই ভাই-বোনে পরিকল্পনা করছে, কোন মহাশ্মশানে মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যেতে পারে – তাই নিয়ে। ওদের কথার মধ্যে সামনে এসে দাঁড়ালেন ডাঃ শুভময় মিত্র। বললেন―তোমাদের পরিকল্পনা আর কাজে লাগবে না। ছমাস আগেই উনি দেহদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমি তোমাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি তাতে রাজি হননি। আমাকে দিয়ে প্রতিজ্ঞাও করিয়ে নিয়েছিলেন। ওনার ডায়েরিতে সব পাবে।

মহৎ উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত নিরুপমার মরদেহ যাত্রা করেছে নির্দিষ্ট ঠিকানায়। নিরুপমার ছাত্র-ছাত্রীরা নিজদের রেকর্ড করা তাঁরই কণ্ঠের রবীন্দ্রসংগীত বাজাচ্ছে চোখে জল নিয়ে। সেই গান উপস্থিত সমস্ত মানুষের মনে জাগাচ্ছে এক নতুন চেতনা।
―যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে……
আমায় তখন নাই বা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাই বা আমায় ডাকলে….
সেই অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় কেঁপে উঠেছে তাঁর দুই সন্তানের হৃদয়। বাক‍্যহীন হয়ে বসে আছে অঙ্কুশ।ঐশিকার গণ্ড বেয়ে নেমে এসেছে জলের ধারা।বহুদিন পর গলা মিলিয়েছে মায়ের গানের সঙ্গে―তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি?
সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি…..

(সমাপ্ত)


FavoriteLoading Add to library
Up next
শেষ থেকে শুরু -পায়েল সেন    সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। তাই সুজয় চললো তার ঘরের সমস্ত জানলা বন্ধ করতে। ভিজে গিয়েছিল প্রায়। ঘর অন্ধকার করে এসে একমনে বসেছিলো ...
মা - বিভূতি ভূষণ বিশ্বাস বুঝলে বিপিনের মা এবার নিজের চেহারার দিকে একটু খেয়াল দাও দিন দিন যা মোটা হয়ে চলেছ যদি এক বার বিছানায় পড়ো বিপিন তো দূরের কথা দশ জ...
রিভিউ – এক যে ছিল রাজা – অন্বয় গুপ্ত... ২০১১ সালে সুভাষ ঘাইয়ের প্রযোজনায় ঋতুপর্ণ ঘোষ ' নৌকাডুবি ' সিনেমাটা বানিয়েছিলেন। আমরা তখন স্কুলে পড়ি। তদ্দিনে সৃজিত মার্কেটে চলে এসেছেন। সেই সিনেমায় ট...
মৃত্যুহীন ভালোবাসা... - ডঃ মৌসুমি খাঁ ভালোবাসার মৃত্যু নেই সে চিরন্তন বয়ে চলেছে হৃদয় জুড়ে - মনের এক ফল্গু নদীর চোরাস্রোতের মতো, কখনও উদ্দাম উচ্ছল জলধারা ভাসিয়ে নিয়ে য...
ঝিলের ধারে বাড়ি – গার্গী লাহিড়ী... আমার ঝিলের ধারে বাড়ি কোনো এক অতীতে ছাদের কোন ঘেঁষে রঙিন সুতোর দড়িতে আলতো একটু হেসে হওয়ার সাথে সই পাতাতো তোমার জংলা ডুরে শাড়ী এখন সময় শুধুই বয়ে ...
অপ্রত্যাশিত প্রত্যাখ্যান – তুষার চক্রবর্তী...  রাত একটা বাজে। আজ রাজীব কিছুতেই ঘুমোতে পারছে না। ঘুরে ফিরে তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে ঋতুপর্ণা বসুর মুখটা আর কানে বাজছে তার কথা গুলো। রাজীব বুঝতে পারছ...
মৌ এর জন্য এক তোড়া চিঠি... জানো মৌ তোমার জন্য লিখে রেখেছি এক তোড়া চিঠি।যেদিন তুমি আমায় প্রথমবার বলেছিলে 'ভালোবাসি'সেদিনই লিখেছিলাম একটা ভাঙ্গা জিটার দিয়ে চিঠি,বুড়ো রেঞ্জারে ...
আমরা নস্টালজিক শহরে প্রেমে না পরার গল্প – রু... শহরের নস্টালজিয়াকে সাক্ষী রেখে , ট্রামে বাসের প্রেমগুলো থেকে যায় একদিনের স্মৃতির খাতায় বন্দি হয়ে । আর মস্তিষ্কের ডান গোলার্ধে স্মৃতিচারণ ঘটায় প্রাক্...
আমার ঠাকুর - চন্দ্রাবলী ব্যানার্জী   দিদির ওয়ার্ক এডুকেশন খাতায় প্রথম দেখলাম সাদা দাড়ি ওয়ালা একটা লোকের ছবি, এক পাশে ছবি সাঁটা, অন্য দিকে এত্তসব লেখা ...
কৃষ্ণবিবরের ইতিকথা... আমাদের অনেকেরই দিন শুরু হয় ঘুম থেকে ওঠার পর সূর্য প্রণাম করে। আর আমাদের এই বসুন্ধরায় সকল প্রাণের লালন পালনের মূলেই কিন্তু রয়েছে সেই সূর্যের অফুরন্ত শক...
Admin navoratna

Author: Admin navoratna

Happy to write

Comments

Please Login to comment