কোথা পাই পাইকে – দিব্যেন্দু গাঙ্গুলী

(দ্বিতীয় অংশ)

এতদিনে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন পাই দিবসের তাৎপর্য কী। হ্যাঁ, ১৪ই মার্চকে ৩/১৪ এই ভাবে লিখলে তা পাইয়ের প্রথম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংখ্যাকে প্রকাশ করে। একই কারণে ২২শে জুলাই (২২/৭) পালন করা হয় Pi Approximation Day, কারণ হিসাবের সুবিধার্থে অনেক ক্ষেত্রেই পাইয়ের মান ২২/৭ ধরা হয়। একই ভাবে ২৮শে জুন (৬/২৮) পালিত হয় টু-পাই ডে (বা টাও ডে)।
২০১৫ সালের পাই দিবসটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ৯:২৬:৫৩ সময়টি, কারণ ওই দিনের ওই সময়ের তারিখ ও সময়কে পাশাপাশি লিখলে তা পাইয়ের আসন্ন মানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি সংখ্যাকে প্রকাশ করে।
ইউরোপে পাইয়ের প্রচলন হয় ১৬০০ খ্রিষ্টীয় শতকে। ১৬৫০ সালে এক ইংরেজ বিজ্ঞানী পাইয়ের মান যথাযথ ভাবে নির্ণয় করতে অসীম সংখ্যক গণনা শুরু করেন। এর থেকেই গণিতবিদ্যা ও সংখ্যাতত্ত্বের জগতের এক অন্য দরজা খুলে যায়-পাইএর যথাযথ আসন্ন মান নির্ণয়ের।

এই মান নির্ণয়ের খেলা এখনও অবিরত। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় ফরাসি প্রকৃতিবিদ ও গনিতজ্ঞ জর্জ লুই লেক্লার্ক কম্‌তে ডি বুঁফোর শলাকা পতনের পরীক্ষা, যা সম্ভাবনা তত্ত্ব (Probability theory) ও পাইয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। পরীক্ষাটি ছিল একটি শলাকাকে সমতলের উপর সমদূরত্বের সমান্তরাল সরলরেখার উপর ফেলে পর্যবেক্ষণ করা যে সেটি কোন সরলরেখাকে স্পর্শ বা অতিক্রম করছে কিনা, যাকে কিনা একটি অনুকূল পরিস্থিতি হিসাবে ধরা হবে। বুঁফো বলেন এই অনুকূল সম্ভাবনা হল 2/pi। যদি শলাকাটি ‘n’ সংখ্যক বার ফেলার পর ‘c’-সংখ্যক অনুকূল পরিস্থিতি পাওয়া যায়, তবে 2n/c পাইয়ের মানের সন্নিকৎবর্তী হবে।
১৯০১ সালে ইতালীয় বিজ্ঞানী মারিও ল্যাজার্নি ৩৮০৮ বার  এই পরীক্ষাটি করে মান বের করেন ৩.১৪১৫৯২৯ যা ষষ্ঠ দশমিক স্থান পর্যন্ত সঠিক। পরবর্তীকালে আরও অনেক গণিতজ্ঞ আবারও এই পরীক্ষাটি করার চেষ্টা করলেও, কেউই এর চেয়ে আরও সঠিক ও যথাযথ মান নির্ণয় করতে সক্ষম হননি। এও বলা হয় মারিওর পরীক্ষাটি নাকি ছিল জাল।
যাই হোক এখনও পর্যন্ত সর্বশেষ নির্ণীত আসন্ন মানে দশমিকের পর ১,৩৫১,১০০,০০০,০০০ সংখ্যক স্থান পর্যন্ত এর মান নির্নয় করা সম্ভব হয়েছে। এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে টোকিও ইউনিভার্সিটির একটি সুপার কম্পিউটার।

পাইয়ের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও জনপ্রিয়তা যে কতখানি তা বোঝাতে আর কিছু বলার সত্যিই প্রয়োজন নেই। তবে এর মান নির্ণয়ের যে খেলা এখনও চলছে, সেখানে আপনিও প্রতিযোগী হবেন নাকি? দেখবেন নাকি চেষ্টা করে একবার জাপানি সুপার কম্পিউটারকে হারিয়ে বাংলার বিজয়মুকুটে আর একটা পালক যোগ করা যায় কিনা।

তথ্যসুত্রঃ
1. The Little Book Of Maths Theorems, Theories & Thing-Surendra Verma
2. ইন্টারনেট(উইকিপিডিয়া)


ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment