স্ফুলিঙ্গ –  কৌশিক প্রামাণিক

 

জ যেন সব হারিয়ে যেতে চাইছে
ক্ষণিকের মিথ্যাগুলোর জন্যে,
তবু তো আমি আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলাম
সেই পুরোনো তোমাকে |
এই সেদিনকারই তো কথা যেদিন আমায় স্বপ্ন দেখাতে,
বলতে ঘর বাঁধবে আমার সনে,
কই আমি তো তখন কোন আপত্তি করিনি
নিজের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলাম
তোমার কামনার মহাযজ্ঞে |
তবে আজ কেনো এমন মিথ্যা কপটতা,
প্রেম মানে কী শুধুই শরীর,
দুটি বিপরীতধর্মী লিঙ্গের মিলন,
নাকি একে অপরের সুখদুখগুলো ভাগ করে
অসীমের কাছে নিজেকে হারিয়ে ফেলা |
জানি আজ এসব নাটক মনে হবে তোমার,
আমার অঞ্জলীর ফুলও বাসি তোমার কাছে,
কিন্তু তুমি কী অস্বীকার করতে পারবে
যে হোমানলের পবিত্র আগুন স্পর্শ করে
তুমি আজ শুদ্ধ হয়েছ,
সেই হোমানলের শিখাকে জাগ্রত করতে
আহুতিস্বরূপ আমাকে তার মধ্যে নিক্ষেপ করোনি ?
এ দগ্ধতা যে তোমার কাছ হতেই পাওয়া,
আজ শরীরের মর্মে মর্মে যে শুধু তুমিই লেগে আছো |
আর কিছুকাল পরে এ শরীর থেকে যে প্রাণের সঞ্চার হবে
তাও যে তোমারই প্রদত্ত চিন্হ নিয়ে,
বলো তখনও কী এমন মুখ ফিরিয়ে থাকবে
সেটিকে ‘মিথ্যা কলঙ্ক’ সম্বোধন করে |
তবে তুমি পুরুষই নয়,
পুরুষের কোন সত্ত্বাই তোমার মধ্যে নিহিত নেই ,
তুমি পাষাণের ন্যায় নির্জীব
যার কাজ সকলের নিকট হইতে পূজা সংগ্রহ করা |
যুগ যুগ ধরে মিথ্যাফলের স্বপ্ন দেখিয়ে
নিজের আখেরটাকে ভালো করে গুছিয়ে নেওয়াই
তোমাদের ধর্মের মধ্যে পরে,
অনাদিকাল থেকে এই পাঠই শিখিয়ে এসেছ
দিকভ্রান্ত পুরুষত্বের জং ধরানো বলে |
তবু তোমরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ জাত বলে
পৃথিবীবাসীর নিকট জাহির করো,
এই তোমাদের পুরুষদের ধর্ম,দায়িত্ব নেবার ভান করে
কৌশলে সবকিছু এড়িয়ে চলা |
তবে থাকো তোমরা তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে,
অধিকারটা নাহয় আমরা ছিনিয়েই নেবো
সমাজের বক্ষ ভেদ করে,
তখন তোমাদের কামনার বহ্নিতে দগ্ধ হওয়া এ নিস্তেজ শরীর আবার জ্বলে উঠবে
সকল বন্ধনের মায়াজাল ছিন্ন করে |
ওই যে কালের ঘন্টা শুনতে পাচ্ছো,তার প্রলয়রুপী শব্দ,
উল্লাস থামিয়ে শোনো একটিবার,
সকল কালের আমাদের লাঞ্ছনাগুলো
সম্মিলিত হয়ে তপস্যার তপফলরুপে
আজ হাজির হতে চলেছে সমগ্র বিশ্বজুড়ে |
সেইদিন আর বেশী দেরী নেই
যেদিন আমরা নারীরা অস্ত্রহাতে নিধন করবো
তোমাদের মতো শ্রেষ্ঠত্বের মুখোশরুপী শয়তানগুলোকে,
সেদিন তৈরী থেকো মৃত্যুমাল্যের আস্বাদ পেতে,
পাপমুক্ত পৃথিবীর যোগ্য শিরোপার যথাযথ দাবীদার
তখনই হতে পারবো আমরা ll

 

_____


FavoriteLoading Add to library
Up next
সিঁদুর কৌটো-  তুষার চক্রবর্তী...     দাদু আমার নাম রেখেছিল হিরন্ময়। স্কুলের স্যাররা এই নামেই আমাকে ডাকতো। এখন আর এই নামে আমাকে কেউ ডাকে না। মা, আমাকে হিরু বলে ডাকে। বাকি সবার কা...
অন্ধকারের চোরাবালি... অনৈচ্ছিক সঙ্গমে প্রতিপক্ষের উল্লাস থামাতেঅস্ফুটে বেড়িয়ে আসা শিৎকারকেযখন গলা টিপে খুন করেছিলাম তলপেটের নিচে,তখন অসহায় লিঙ্গ নাভিপদ্মের যন্ত্রণা বাড়...
স্বাধীনতা - কৌশিক চক্রবর্ত্তী   আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অসংখ্য কাঙ্খিত নৈমিত্তিক চাহিদার মধ্যে স্বাধীনতা অগ্রগণ্য বলেই আমার ধারণা। কিন্তু স্বাধীনতার সংজ্ঞাটি মনে...
এক মৃত গাছ – বৈশাখী চক্কোত্তি... না, আমি যাব না। দেব না সাড়া ---- আজ তোমার আহ্বানে আর। নদীতেও নয়, ভরা জলের সরোবরেও নয়, আজ থেকে এক নতুন অঙ্গীকার । তোমার কাছে যা বাঁচার লড়াই, প্রে...
প্রথম মিস্টার পারফেকশানিস্ট-  অস্থির কবি ( কল্লোল ...   উত্তম পর্ব -তিন   ইদানিং বলিউডের আমির খানকে মিস্টার পারফেকশনিস্ট বলা হয়। যেমন এক কালে রাহুল দ্রাবিড়কে ওয়াল বলা হত। ক্রিকেট দেখা ছেড়ে দি...
মুখোশ মুখোশআর কত দেখব তোমার ভন্ডামি যত দেখি ততই অবাক হই আমি !সবার সামনে 'আপনি' করে বল তুমি আড়াল হলে 'সখী', 'প্রিয়া' সম্বোধনে রাঙি।তোমার ইমেজ নিয়ে তুমি ভীষণ ...
মুক্তি  ‘আমায় তুমি মেরে ফেলবে মা? আমি মেয়ে সেটা কি আমার দোষ মা? আমায় তুমি বাঁচাবে না?'এক ঝটকায় চোখ দুটো খুলে ফেলল পাপড়ি। দরদর করে ঘামছে, গলা শুকিয়ে কাঠ...
বাজারে বিপত্তি -গার্গী লাহিড়ী রবিবারের সকাল বেলা চায়ের কাপ নিয়ে সবেমাত্র আয়েশ করে বসেছি । ভাবছি মুখপুস্তিকায় চোখ রাখবো নাকি খবরের কাগজে ? এমন সময় বিনা মেঘে বজ্রপা...
একটি বিয়ের গপ্প – অভিনব বসু... নায়িকার গল্প দিয়ে শুরু করি। কোলকাতারই মেয়ে, এলাহাবাদের এক ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে, ছেলে না বলে লোক বলাই ভালো; বছর ৩৭-৩৮ বয়স, তায় দোজবর। যদিও মেয়ের স...
মুখের মুখোশ -দেবাশিস ভট্টাচার্য... চারপাশটা একবার ভালো করে দেখে নিলো দিয়া।আশেপাশে কেউ নেই।নিশ্চিন্ত হয়ে পুরোনো আমলের দরজাটার চাবি খুলে ঘরের মধ্যে ঢুকলো।একটা ভ্যাপসা গন্ধ তার সাথে নিকষ ক...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment