অভাবে নাকি ভালোবাসা পালায় – রুমা কোলে

কথায় আছে –

” অভাব যখন দরজায় কড়া নাড়ে প্রেম নামক ভালোবাসাটা নাকি জানালা দিয়ে পালায় “

না বক্তব্যটির বা বচনটির সত্যতা যাচাই বা বিরুদ্ধাচারণ কোনোটাই আমার উদ্দেশ্য নয় ।

আমি তো কেবল একটা জীবনযাপনের গল্প বলব –

রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে ট্রেনে – বাসে কলেজ যেতে হয় তো এত্ত ভালোবাসা, প্রেম নিয়ে ভাবার আগেই অনুভূতিগুলো মরে যায় কেমন ।

                 সে যাই হোক বাস থেকে নেমে দু মিনিট মতো হাঁটা পথ আর সেই পথেই পরে কলকাতার ফুটপাথ যেখানে মাথা গোঁজার আশ্রয় কিছু অভাবী মানুষের । তো যথারীতি তাদের মারিয়েই আমাদের যেতে হয় । আর চলতি পথে চোখ চলে যায় ওদের দিকে , দেখি – অনুভব করি কিন্তু অন্যদের মতো বলতে পারি না ” চল রোড দিয়ে যাই ফুটপাথটা বড্ড নোংরা ।

              তবে আমার বেশ ভালোই লাগে ওদের ছোট্ট মতো সংসারখানা দেখতে । হতে পারে ওদের টাকা পয়সার অভাব , হতে পারে ওদের মাথার ওপর ছাদটুকু নেই ,তবুও অদ্ভুত একটা ভালোবাসা আছে সেটা অনুভব করি প্রতি মুহূর্তে,  হ্যাঁ ওই নোংরা ফুটপাথেই প্লাস্টিকে ঘেরা ছাদ আর গায়ে ছেঁড়া কম্বলে । হতে পারে ওদের চার দেয়ালের ঘেরা সংসার নেই , তাতে কী ? গরীব বলে কী সংসার গড়ার সাধ হতে পারে না?  ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন হয়তো ওদের স্বপ্নের অতীত , তবে হ্যাঁ ওদের মধ্যেও আছে সদ্য মা হওয়ার অনুভূতি , কিংবা বৃদ্ধা শাশুড়ির গঞ্জনা,  ভাই – বোনের গঞ্জনা ইত্যাদি ইত্যাদি ।

              আর এত্ত অভাবেও সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়টা হল – সদ্য প্রেমে পরা উনিশ বছরের মেয়েটা আর ছেলেটা । প্রথম প্রথম যখন কলেজ যেতাম ওদের প্রেমে পরাটা বুঝতে পারতাম । আজ ওরা বিবাহিত । তবে হ্যাঁ ওদের না আছে শাঁখা – পলার – সিঁদুরের ঘনঘটা, না আছে জাতি – ধর্মের রীতিনীতি,  না আছে ফুলশয্যা , না আছে ব্যক্তিগত জীবন যাকে আমরা সভ্য ব্যক্তিরা বলি ” প্রাইভেসি ” , ওদের রোজ রোজ ” আই লাভ ইউ ” ও বলতে লাগে না , ওরা ব্রেক আপ , বিবাহবিচ্ছেদ এসবের নিয়মকানুনও জানে না । কেবল ভালোবাসতে জানে আর তাতেই খোলা আকাশের নীচে একটা কম্বলে দুজন মিলে কাটিয়ে দেয় রাতের পর রাত ।

             তবে আমাদের মতো সভ্য সমাজের চোখে দৃশ্যটা একটু দৃষ্টিকটু প্রতীয়মান হতেও পারে । তাতে আর কি করা যাবে গরীব বলে , ঘর বাড়ি নেই বলে কি বিয়ে করবে না ? ভালোবাসবে না ? নাকি প্রেমে পরবে না ?

আমাদের মতো চার দেয়ালের বন্দি সংসারে হয়তো অভাব দরজায় কড়া নাড়লে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায় ।

আর ওদের ???? হা হা হা হা ,,,,,

যাদের চারটে দেওয়ালই নেই তাদের আবার দরজা !!! তাদের আবার জানালা !!! যাদের অভাব থেকেই ভালোবাসা জন্মায় তাদের আর যাই হোক অভাবের ঠকঠকানিতে ভালোবাসা পালায় না । সেই সুযোগটাই যে নেই ।

 খোলা আকাশের নীচেও ঘর বাঁধা যায়,

সাদা – কালো অভাবের জীবনেও প্রেম আসে ,

ফুটপাথে ছেঁড়া কম্বলের নীচেও ঘনিষ্ঠ হওয়া যায়,

কেবল ভালোবাসাটুকু থাকলে ।

কোনো প্রেম নিবেদনের ঘনঘটা, ভ্যালেন্টাইনস ডে, চকলেট, কার্ড , বিবাহবার্ষিকীর ইত্যাদি সেখানে তুচ্ছ ।

যেখানে ‘ ভালোবাসা ‘ টাই স্পষ্ট ।

তাই কথাটার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আছে –

” সচ্ছল সংসারে সভ্য মানুষের সংসারে হঠাৎ অভাব দরজায় কড়া নাড়লে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায় ।”

_____


FavoriteLoading Add to library

Up next

ভৌতিক সন্ধ্যা – প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়... কত কি না ঘটে। যার ব্যাখ্যা আমরা পাই না। যতই তর্ক বিতর্কে জড়াইয়া না কেন, কেন ঘটে বা ঘটল তার হদিস কে দেবে? এই ঘটনাটাই পড়ুন। আশ্চর্য হবারই কথা। আমিও হয়...
বসন্তমেদুর এমনও বসন্ত দিনেখোঁজ করো আলাদিনেখুনসুটি জমে আছে কতএমনও বসন্ত রাতেআজও ছুটি ন্যাড়া ছাতেক্ষয়ে যাওয়া প্রেম অবিরতএমনও বসন্ত দিনেসোফাসেটে নীল সিনেকোল্ড ড্রিং...
একটা খুন – বৈশাখী চক্কোত্তি... কি ভেবেছিলে, তুমিই করবে ঠিক আমার মনের খুন? ধারালো বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাবে বহুক্ষণ?? ভুলে গেছো, যন্ত্রনা পাবার নতুন করে আর নেই...
ঝিলের ধারে বাড়ি – গার্গী লাহিড়ী... আমার ঝিলের ধারে বাড়ি কোনো এক অতীতে ছাদের কোন ঘেঁষে রঙিন সুতোর দড়িতে আলতো একটু হেসে হওয়ার সাথে সই পাতাতো তোমার জংলা ডুরে শাড়ী এখন সময় শুধুই বয়ে ...
জঠর – পদ্মাবতী মন্ডল... কী গো! তোমার সকাল হল? বড় লোকের বেটি তিন পো বেলা কেটে গেল পেলাম না তো চা'টি । ঠাকুর দ্যেবতা ডর নেই মা এমন অলক্ষুণে , পাঁচ বছরেও ,জ্বলল নাকো বংশ ...
সম্পর্কের চিলেকোঠায় – বিদিশা মন্ডল... পরন্ত বিকেলে সূর্য যখন তার লালচে সংসার নিয়ে পশ্চিমদিকে ঢুলুঢুলু চোখে পাড়ি দিয়েছে তখন তানিয়া এককাপ ধোঁয়া ওঠা কপির কাপ হাতে ওর ফ্ল্যাটের বারান্দায় এসে দ...
সেরা দুই শিক্ষিকা – রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী... 'মা ফেসবুক খুলেছিলে?' 'না রে খোলা হয়নি।' 'আরে একবার খুলেই দেখনা?' 'আমার কি তোর মত অখন্ড সময় নাকি,সকাল থেকে রাজ‍্যের কাজ। সব সারি আগে, তারপর খুলবো...
চল দাওকি – দেবাশিস_ভট্টাচার্য... মন খারাপ করা এক বিকেলে রুশা দাঁড়িয়ে ছিল দাওকি ফরেস্ট বাংলোর সামনের লনে। অস্তগামী সূর্যের লাল আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যাচ্ছে দূরের পাহাড়গুলোর অন্দ...
গল্প- পদ্য, আমিই কাব্য!!... আমি সৃষ্টির ওপর চেয়ার লাগিয়েপা দুলিয়ে চুরুটে টান দিয়ে দেখিধ্বংসের নৃত্য !!আমি গল্প- পদ্য, আমিই কাব্য !!আমার বিনাশ নেই.আমার নেই সমাপ্তিআমি ধূমায়নে অস্থ...
অন্ত্যমিল – মধুপর্ণা ঘোষ... অধিকাংশ সময় ছন্দহীন বাক্যগুলো ভীষণরকম ছন্নছাড়া; অন্ত্যমিলের খোঁজ যেটুকু বা ছিল সেটুকুও আজ আতিশয্য! তবুও হঠাৎই মিলে যায় শেষ শব্দগুলো - যেমন হঠা...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment