জীবনের সূর্যোদয় – দেবস্মিতা মন্ডল

শোকবাবুর রোজ প্রাতঃভ্রমণ যাওয়াটা   বড্ড বাজে অভ‍্যাস। নাহ্ প্রাতঃভ্রমণ টা কোনো বদ অভ‍্যাস নয় তবে ঝড় বৃষ্টি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করাটা বোধহয় সবসময় ঠিক নয়।
ছেলের ট্রান্সফার হওয়ার জন্যে পুরোনো জায়গাটা ছেড়ে আসতে হয়েছে। কালই নতুন জায়গায় আসার জন্যে সবাই বহুবার বারণ করল আজকেই প্রাতঃভ্রমণ এ না বেরাতে। কিন্তু তিনি শোনবার মানুষ ই নন।
যাই হোক, সকাল সকাল প্রাতঃভ্রমণ এর উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। ফেরার সময় ঐ পথেই  একটা চায়ের দোকান পড়ে। নিজের মনেই বলে উঠলেন ‘সোনায় সোহাগা’ বলে সোজা চায়ের দোকানে।
প্রাতঃভ্রমণ এ বেরিয়ে চা খাওয়াটা প্রায় অভ‍্যাসে পরিণত হল। চায়ের দোকানে ছোট্টু অশোকবাবুর বন্ধু হয়ে উঠেছে ইতিমধ্যে। সমবয়সী তো দূর ছোট্টুর বয়স ঐ এগারো কি বারো হবে।তবুও তারা বন্ধু ছিল এই কারণে, অশোকবাবু দোকানে এসে রোজই তাকে তার পুরোনো জায়গার গল্প শোনাতেন। ছোট্টুর বেশ ভালোও লাগত। আর অশোকবাবু ও বেশ স্বচ্ছন্দ‍্য বোধ করতেন।
সেই সকাল থেকেই বৃষ্টি। চায়ের দোকান টাও ফাঁকা। ছোট্টু ওর পুরোনো ট্রাঙ্ক থেকে অ আ বইটা বের করে পড়ার চেষ্টায় মগ্ন। এমন সময় অশোকবাবুর আগমন। ছোট্টু সঙ্গে সঙ্গে বই রেখে চা আনতে গেল।
– তুই পড়তে পারিস?? অশোকবাবু জানতে চাইলেন।
-হ‍্যাঁ, অ আ সবটা। দাঁড়াও তোমায় শোনাই, খুব উৎসাহ নিয়ে বলতে শুরু করল, অ আ ই ঈ……..এ ঐ ও ঔ
-বাঃ, একদম ঠিক। মাথায় হাত দিয়ে বললেন। আচ্ছা, তোর পড়াশোনা করতে বুঝি খুব ভালো লাগে??
-লাগে তো
– তবে স্কুল কেনো যাসনা??
– স্কুল গেলে তো কাজে আসতে পারবনা তবে খাব কী, মাথা নীচু করে বলল একরত্তি ঐ বাচ্চাটা।
– কিন্তু স্কুলে তো রোজ খাবার দেয়, স্কুলে গেলে তো খাবার পাবি..
– সে তো আমি পাবো, বাড়িতে যে পঙ্গু বাবা আছে, কাজ না করলে যে….
– তোর বাড়িতে আর কে কে আছে??
– আমি বাবা আর বোন
– বোন কী করে??
-ঐ যে ঐ দোকানটা দেখেছ যেটায় ভাত পাওয়া যায়? ঐ দোকানে থালা মাজে।
অশোকবাবুর চোখ ভিজে এল, নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, তুই পড়বি আমার কাছে?? আমি তোকে পড়াব…
– কিন্তু…
– কোনো কিন্তু নয় , রোজ সন্ধ্যা বেলায় আমার কাছে পড়তে যাবি।
-আমার কাছে তো বই খাতা কিছুই নেই।
-কাল আয়, আমি দেব বই খাতা।
-বোনকে নিয়ে যাব??
-হ‍্যাঁ, হাসতে হাসতে বললেন অশোকবাবু।
ছোট্টুর মুখটা আনন্দে চিকচিক করে উঠল। যেন জীবনের কালো মেঘের আড়াল থেকেই নতুন সূর্যোদয়।।
____


FavoriteLoading Add to library
Up next
ফুল – অরূপ ওঝা          দৃশ্যানুভূতি বিতরণের তরে           কেন পাঁপড়ি মেলে আছো তোমার ও তো জীবন আছে            সেটা নিয়েই বাঁচো। কখনো তুমি ঝরে পড়ো           ...
অপদেবতা – শাশ্বতী সেনগুপ্ত... ঘটনাটা কয়েক বছর আগে ঘটেছিল এক মফস্বলে। সেখানে আমার পিসির বাড়ি। পরীক্ষার পর ছুটিতে আমরা যেতাম। অন্যান্য পিসিদের ছেলেমেয়েরাও আসত। দেদার জমে যেত মজা। জায়...
কনফেশন – তমালী চক্রবর্ত্তী...  থানায় ঝড়ের বেগে ঢুকল এক অল্প বয়সী ছেলে। অফিসার কে বলল স্যার আমি কিছু বলতে চাই। অফিসার তার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে জলের গ্লাস টা এগিয়ে দিল। একবারে জল শেষ...
স্বপ্ন রাত্রে বিছানায় একরাশ হতাশানিয়ে যখন চোখ বুজলাম,স্বপ্ন দেখলাম একটা স্বপ্ন দেখার।স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্ন জাগানোর !সেই স্বপ্নটা ছিল একরাশ স্বপ্ন নিয়ে,স্বপ্ন...
শূন্য বসন্ত বাতাসে যখন আগুন, ফাগুন তার বায় বসন্তের আগমনবার্তা প্রজাপতি বলে যায় । আমিতো দেখেছি পলাশ শিমুল কৃষ্ণচূড়ার লাল ও পাড়ার ঐ সুনন্দা, কেন অশ্রুসিক্ত ওর গা...
সবুুুজ মন – গার্গী লাহিড়ী... শ্যামলা মেয়ের হৃদয় জুড়ে সবুজ অরণ্য বসত করে শ্যামলা মেয়ের ঠোঁটের তিলে শত অভিমান গুমরে মরে শ্যামলা মেয়ের কাজল চোখে ভালোবাসা বৃষ্টি হয়ে ঝর...
সাড়ে তিনশ গ্রাম কবিতা... সাড়ে তিনশ গ্রাম কবিতা দিতে পারব,তোমায় আমি ছড়াও দেব,বদলে কি আমাকে দু' পেগ রাম দেবে?দুটো গদ্য বা গল্পের বিনিময়েহুয়িস্কি পাব? কিম্বা ব্রাণ্ডি?যা খেয়ে আমি...
অপরাহ্নের আলো - অদিতি ঘোষ   আজ সকাল সকাল স্নান সেরে ঠাকুরঘরে ঢুকেছেন যূথী।কৈশোর থেকেই দোল-পূর্ণিমার এই দিনটায় মধুর এক আবেশে ভরে থাকে যূথীর মন।ঠাকুরদার প্...
কোথা পাই পাইকে – দিব্যেন্দু গাঙ্গুলী... (দ্বিতীয় অংশ) এতদিনে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন পাই দিবসের তাৎপর্য কী। হ্যাঁ, ১৪ই মার্চকে ৩/১৪ এই ভাবে লিখলে তা পাইয়ের প্রথম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সংখ্যা...
সুরসাধক ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য্যকে শ্রদ্ধার্ঘ্য -দিব্য... "একটি নাম নামেই গান সে গান শুধু ধনঞ্জয়। একটি মান দেদীপ্যমান। সে মান মানি ধনঞ্জয়। একটি প্রাণ আকাশ প্রাণ। সে প্রাণ জানি ধনঞ্জয়।" শ্রদ্ধাঞ্জলি........
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment