তুই ভালো থাক – পদ্মাবতী মন্ডল

জ পাত্রপক্ষ আসবে পিয়া কে দেখতে ।মায়ের কাছে চোটপাট করছে পিয়া…

আমি তো ক্লাস টেনের পরীক্ষা টা শেষ করি মা? আমি এখন বিয়ে করতে চাইছি না তো।তোমরা কেন বুঝতে চাইছনা বলোতো?

“চুপ কর ”

কেন মা কেন ?আমি তো …

পাশের ঘর থেকে বাবা এসে বললো “কী হল “?

তুমি রেডি তো সৌরভ রা এসে গেছে ।

বাবা বিয়ে টা কী করতেই হবে?

হুম ।সৌরভ ভালো ছেলে মা ।নিজের ব্যবসা,তাছাড়া কোলকাতায় ফ্ল্যাট ও কিনেছে ।খুব সুখে থাকবি মা ।মাঝে মধ্যে গাড়ী করে আমার কাছে আসবি ।খুব সুখী হবি দেখিস

কিন্ত বাবা আমি তো নিজের ক্যারিয়ার টা গড়তে চাই ।আমি নিজের একটা পরিচয় চাই বাবা ।
মেয়ে দের আবার নিজেদের পরিচয় কি? তোর মাকে দেখ পনেরো বছরের মেয়েটা আজ পাক্কা গিন্নি ।কি গো…. বলো?

“হুম “মায়ের আর কোনো কথা ফুটলো না ।

বাবা ঘর থেকে বেরিয়ে যাবার আগে বলে গেল “আমি বাইরে আছি তাড়াতাড়ি এ ঘরে এসো ”

“আমি ওকে নিয়ে ওঘরে যাচ্ছি তুমি চলো ”

সৌরভরা চলে যাবার আগে বলে গেল মেয়ে আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে ।আগামি মাসেই আমরা শুভ কাজ সারতে চাই ।
বাবা ব্যাঙ্ক থেকে লাখ খানেক লোন নিয়েছে ।এটা পিয়া জানতে পারলো বাবার চশমা খোঁজার ছুতোই ।কিছুদিন থেকেই ও এটা লক্ষ্য করেছে বাবা খুব ভেঙে পরেছে ভিতর থেকে।

“আমার সুখ চাইনা বাবা ।তোমাকে চাই ।
আমি সুখি হতে গিয়ে তোমায় হারাতে চাই না বাবা ।কিছুতেই না ।বাবা কাল আমার ফাইনাল পরীক্ষার প্রথম দিন ।আমি পরীক্ষা টা দেবো?

দেখ মা আর দশ দিন পর তোর বিয়ে।ঐ দিন কোনও পরীক্ষার দিন পরেনি তো?

“বিয়ে টা যেন কবে? ”

আগামী ঊনিশ তারিখ ।

কপালে চোখ উঠলো পিয়ার ঐদিন তো শেষ পরীক্ষা টা পরেছে ।বিয়ে করার জন্য প্রস্তুত নয় পিয়া তাই বিয়ের ডেট টাও জানতো না সে ।কোনো বন্ধু বান্ধবীর দের ও জানাই নি ।ওরা জানতে পারলে সবাই হাসবে ।বলবে “ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল ও বিয়ে করে? “তাও আবার এত তাড়াতাড়ি? তাই হাড়ি কাঠে বলি হওয়ার জন্য চুপচাপ বসে ছিল ।

সব কটা পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে ।অঙ্ক টা তো আরো অনেক ভালো হয়েছে ।কিন্তু কী লাভ আর তাতে? শেষ পরীক্ষায় তো দিতে পাবেনা সে ।মনে মনে ভাবলো জন্মাবার পরেই মরে গেলে আর এভাবে দ্বিতীয়বার মরতে হতো না তাকে ।

আজ পিয়ার ভৌত বিঞ্জান পরীক্ষা কিন্তু অন্য দের কাছে ওর বিয়ের ও দিন “শুনলাম পিয়ার শ্বশুর বাড়ির লোক খুব ভালো “একটাকা পণ নেইনি । এমন কী আর সবার ভাগ্যে জোটে? খুব ভাল ।এক প্রতিবেশিনী খেতে এসে বলে গেল ।

“ঘড়িতে সকাল ন’টা ”
এখন বাড়ী থেকে বেরোলে সেন্টারে পৌঁছনোর পরেও পরীক্ষা শুরু হতে পনেরো মিনিট থাকবে ।

“লুকিয়ে পালিয়ে যাবে “মনে মনে ভাবলো ।কিন্ত এতোটাও সাহস নেই ওর ।

আজ ও হলুদ রঙের একটা শারী পরে আছে ।কিন্তু ওর স্কুলের ইউনিফর্ম টা তো সাদা ।
সেটা কোথায়? বাবা কী সরিয়ে ফেলেছে? যাতে আমি দেখতে না পাই ।কিন্তু আমি তো পরীক্ষাটা দিতে চাই বাবা ।আমার স্কুল ইউনিফর্ম টা কেন সরালে?

তন্ন তন্ন করে খুঁজেও যখন পেলোনা ধপ করে চেয়ার টাই বসে পোরলো ।

“বর এসেছে বর এসেছে ” বাইরে খুব চিৎকার করছে ।কিন্তু এখন তো বর আসার কথা নয় ।বরেরা তো আসে রাতের বেলায় ।

“এখোনো রেডি হওনি? “সৌরভ ঘরে ঢুকেই শুধালো

গায়ে হলুদের জন্য প্রস্তুত আমি

আজ তোমার শেষ পরীক্ষা না ?তোমায় একটা জায়গায় নিয়ে যাবো যাবে?

আমি বাধ্য ।বলেই বাচ্চাদের মত কেঁদে উঠলো মেয়েটা ।(মত কেন বলছি ও তো বাচ্ছায়! )

বিয়ের দিনে কেউ কাঁদে নাকি পাগলি ?

ঘড়ি তে তখন পৌনে দশটা ।সব শেষ ।আর কোনো বাস তো নেই সেন্টার এ যাবার ।(আমি ও মায়ের মত গৃহবধূ হতে চলেছি ।মায়ের মতই বন্দি ।বাবার হ্যাঁ এ হ্যাঁ মেলানোর মা এর মত আমাকেও তাই করতে হবে)

সৌরভ মুচকি হেসে চোখ দুটো বেঁধে দিল পিয়ার আর তাকে টু হুইলারে বসিয়ে নিয়ে গেল ।ওর বুকের ভেতর টা টেনশনে ঢিপ ঢিপ করছে ।কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ওকে ।

চোখ খুলেই ভ্যাঁ করে কেঁদেই ফেললো ।সেই চেনা চেনা মুখ ।সেই চেনা সিকিউরিটি ।ক্লাস রুম ।পরীক্ষা ।স্বপ্ন নাকি? না স্বপ্ন নয় ।এটাই সত্যি ।

আমি পরীক্ষা দেব?

কেন দেবেনা? সৌরভ বলে উঠলো ।তুমি পরীক্ষা দেবে বলেই তো এসেছো ।যাও দেরি হয়ে যাচ্ছে ।আমি এখানেই আছি ।পরীক্ষার শেষে তোমায় নিয়ে ফিরবো।

আর শোনো আমার ঘরে একটা বউ লাগবে ।শুধু তার ঘর পরিবর্তন হবে লাইফ স্টাইল নয় ।প্লিজ এর পরের পরীক্ষা গুলো আমার বাড়ী থেকেই দিও ।তোমার বাবার বয়স তো হচ্ছে নাকি? এবার তো ওনাকে একটু ছুটি দাও ।আমি তোমার সমস্ত দায়িত্ব নিতে চাই ।তোমার যেভাবে খুশি সেভাবে থাকবে ।প্লিজ শুধু মন থেকে আমার হও ।

“হবেনা?”

কোনো কথা বললো না পিয়া ।শুধু হাসলো ।

এভাবে ভাবলে আর কোনো বাবা মা হয়ত অল্প বয়সে বিয়ে দিতে ভয় পাবেনা ।চোখের জল মুছে সব বাবাই বলবে “তুই ভালো থাক ।তুই ভালো থাক ।”

_____


FavoriteLoading Add to library
Up next
ঝিলের ধারে বাড়ি – গার্গী লাহিড়ী... আমার ঝিলের ধারে বাড়ি কোনো এক অতীতে ছাদের কোন ঘেঁষে রঙিন সুতোর দড়িতে আলতো একটু হেসে হওয়ার সাথে সই পাতাতো তোমার জংলা ডুরে শাড়ী এখন সময় শুধুই বয়ে ...
নষ্ট মেয়ে -গার্গী লাহিড়ী... নষ্ট মেয়ে আমি অবাক হচ্ছো ? নির্লজ্জ্ব কথাটা কেমন অনায়াসে বললাম? আমি লাজ বিক্রি করি , দেহের বেসাতি আমার পথের ধুলায় পড়ে থাকে লাল ফুল ছাপ বিছানায় ...
বেগুনের বিরিয়ানী - অনামিকা দাস   আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে আপনার "ক্রাশ" এর নামগুলি উল্ল্যেখ করতে,নিঃসন্দেহেই আপনি সেই তালিকার মধ্যে বিরিয়ানীর নামটাই সর্বপ্...
ধন্য জীবন – সরোজ কুমার চক্রবর্তী...   জীবন আমার ধন্য মাগো এমন দেশে এসে , গর্বে বলি ভারতবাসী আমি ভালোবেসে | বড় হলাম এই বাংলায় সুখে কাটাই দিন , ছোট বড় নেই ভেদাভেদ সবাই স্বাধীন...
রিভিউ – এক যে ছিল রাজা – অন্বয় গুপ্ত... ২০১১ সালে সুভাষ ঘাইয়ের প্রযোজনায় ঋতুপর্ণ ঘোষ ' নৌকাডুবি ' সিনেমাটা বানিয়েছিলেন। আমরা তখন স্কুলে পড়ি। তদ্দিনে সৃজিত মার্কেটে চলে এসেছেন। সেই সিনেমায় ট...
সঙ্গী – অনিন্দিতা পাল (অর্না)... ভূমির মনটা খারাপ। সারাদিন মোবাইল ঘাটায় ওর মা ওকে বকেছে। কিচ্ছু ভাল লাগছে না ওর। বন্ধু অর্নাকেও অনেকবার ফোন করল সেও ফোনটা ধরছে না। কলেজে কিছু কাজ আছ...
মনে আছে – সুস্মিতা দত্তরায়... বয়স এগিয়ে গেছে- ঝাপসা স্মৃতির অন্তরালে প্রেমটা রয়ে গেছে । সেই যে তখন ছুটির দিনে কাপড় মেলা ছাদে লজ্জা খুশির লুকোচুরি সোহাগ মাখানো রোদে । ...
শাসন - সরোজ কুমার চক্রবর্ত্তী   ড্যাডি বলে প্রফেসার মম্  বলে ডাক্তার দাদু , দিদা বলে ভাই হতে হবে অফিসার l বই আর খাতা নিয়ে কাটে সারাক্ষণ, ভাল...
উপত্যকা – প্রজ্জ্বল পোড়েল... দুই মেরু জুড়ে একাকিত্বের অবস্থান, পথ হারিয়েছে বহু নাবিক তীব্র চুম্বকীয় শক্তিতে কম্পাস স্তব্ধ। ধূসর, সাদা মৃত্যুর উপত্যকা - এখানে সারা বছর বরফ ...
সিগারেট – ঋতব্রত মজুমদার... ছাতের সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে উঠল পটল। বারোটা ধাপ। মুখস্ত তার। দুটো করে ধাপ টপকে টপকে সিঁড়ির শেষে একচিলতে ল‍্যান্ডিং। বাঁদিকে ঠাকুরঘরের দরজা, ছিটকিনিতে ছোট্...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment