নায়কোত্তম অরিন্দম – অস্থির কবি

“নায়ক” এমন একটা সিনেমা যা সত্যজিৎ বাবু ও উত্তমকুমারের জীবনে একটা মাইলস্টোন। অনেকে ভাবেন সত্যজিৎ রায়ের জীবনে কম, উত্তমের জীবনে বেশী। এটা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ  সত্যজিৎ তাকে ভেবেই এই নায়ক ছবির চিত্রনাট্য তৈরি করেন। কাঞ্চনজঙ্ঘার পরে এটা সত্যজিৎ বাবুর একটি মৌলিক গল্প ও চিত্রনাট্য। সত্যজিৎ বাবু বাংলা ছবির জিনিয়াস ডিরেক্টর নির্মল দে পরিচালিত “চাপা ডাঙার বউ” ছবি থেকেই উত্তমকুমারকে শিল্পী হিসাবে খুব পছন্দ করতেন। কিন্তু তারপর ইচ্ছা থাকলেও সাবজেক্টের জন্য বা বাজেটের জন্য তার সাথে কাজের ভাবনাটা মাথায় আনতে পারেননি। আনলেও উত্তমকুমার ব্যস্ততার জন্য সময় দিতে পারেননি। কিন্তু গুটি বসন্তে আক্রান্ত উত্তমকুমারকে নিয়ে যখন ফিল্ম জগতে জল্পনা চলছে যে উত্তমকুমার কামব্যাক করতে পারবেন কিনা এবং ফিরে এলেও তার আগের সেই গ্ল্যামার অক্ষত থাকবে কিনা তখনই “নায়ক” এর জন্য তিনি সত্যজিৎ বাবুকে টানা ডেটস দেন এবং তিনি রোগমুক্ত হতেই এই ছবির শুটিং শুরু হয়ে যায়।  এবার পাঠকেরা একটু ভেবে দেখবেন যে, এক জনার সাথে কাজ করার আকুতি কতখানি থাকলে একজন পরিচালক একজন নায়ককে ভেবে গোটা একখানা চিত্রনাট্য বানিয়ে ফেলতে পারেন। উত্তমকুমার সেই সময় কলকাতার এত বড় স্টার এটা সত্যজিৎ রায়ের কাছে একটা বড় ফ্যাক্টর তো ছিল বটেই কারন ক্যারেকটার টাই একজন ম্যাটিনি আইডলের পাশাপাশি মানিকবাবুর কাছে উপরি পাওনা এটাই ছিল যে, “নায়ক” যখন হয়, কলকাতা শহরে উত্তমকুমারের মত সাবলীল, শিক্ষিত পর্দা অভিনেতা কেউ ছিল না বললেই চলে। ভাল পরিচালকেরাও চায় যে ভাল অভিনেতার সাথে সে কাজ করে কারন আমের বদলে আমড়া দিয়ে কখনো আমসত্ব হয় না। আর কতটা সন্মান তিনি উত্তমকুমারকে করতেন তার প্রমাণ, উত্তমকুমারের প্রয়াণ সভায় সত্যজিৎ রায়ের সেই অমর উক্তি – উত্তমের মত কেউ ছিল না। উত্তমের মত কেউ হবে না। আর যার সমকক্ষ কোন কালেই কেউ নেই, তার সাথে কে না কাজ করতে চাইবে !

যাইহোক আসল কথায় ফিরি, শুধু ভারতের ইতিহাসেই শুধু নয়, উত্তমকুমার বা সত্যজিৎ বাবুর ফিল্ম কেরিয়ারেও শুধু নয়, সারা পৃথিবীর চলচ্চিত্র ইতিহাসে নায়ক কিন্তু একটা অভিনব ছবি। এ ধরনের সিনেমা বিশ্বে ও বিরল। একজন পর্দার নায়কের ব্যক্তিগত জীবনের ওঠাপড়া ঘাত প্রতিঘাত ইমোশন, নারী জীবন ইত্যাদি ইত্যাদি যেভাবে এখানে চিত্রায়িত হয়েছে, আর কোথাও সেভাবে নয়। অরিন্দম মুখার্জী এখানে হিরোর নাম। এবার আমি উত্তমকুমারের নয়, ওই নায়ক চরিত্র অর্থাৎ অরিন্দম বাবুর চরিত্র বিশ্লেষণে যাব। তার চরিত্রের কতগুলো শেডস আমরা দেখতে পাচ্ছি হিসাব করি –
১) উদ্ধত অরিন্দম
২) ব্যক্তিত্ববান অরিন্দম
৩) ভদ্র অরিন্দম
৪) মিশুকে অরিন্দম
৫) স্বপ্নালু অরিন্দম
৬)  মাতাল অরিন্দম
৭) ইমোশনাল অরিন্দম।

হয়ত আরো আছে কিন্তু আপাতত এই সাতটি শেডস নিয়েই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। যারা ছবিটি দেখেছেন তারা জানেন যে অরিন্দমের চরিত্রে আরো কিছু শেডস ও কিন্তু আছে। তা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অনায়াসেই একটা বই লিখে ফেলা যায়। এটা ছবিটার একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য যে রিল থেকে চরিত্রটি রিয়ালে চলে আসে। চরিত্রটির পরত ধীরে ধীরে খুলবে। এবং তা কিন্তু তাক লাগাবার মতই। অনেকে বলেন নায়ক উত্তমকুমারের জীবনের সেরা ছবি কিন্তু সত্যজিতের নয়।  কিন্তু তারা ভুলে যায় এই ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য সত্যজিতের। অন্য ক্ষেত্রে স্টোরিলাইন পেয়েছেন এখানে কিন্তু প্রায় পুরোটাই তাকে ভাবতে হয়েছে। প্রায় বললাম একারণেই যে অভিনয়ের সময় কিছু জায়গা উত্তমকুমার ও ভেবেছেন এবং কি ব্রিলিয়ান্টলি ভেবেছেন সেটা বিভিন্ন সময়ে তার রিয়্যাকশানে ধরা পড়েছে যেটা হয়ত কেবল তার মত সেরিব্রাল অ্যাক্টরের পক্ষেই সম্ভব।

১) উদ্ধত অরিন্দম – সত্যজিতের এই ছবি শুরুর সময় দেখা যাচ্ছে উত্তমকুমার চুল আঁচড়াচ্ছেন। তারপর ড্রেস আপ করছেন। সেখানে বেশ উদ্ধত তিনি। বন্ধু কাম সেক্রেটারি জ্যোতি ব্যানার্জীর সাথে কথা বলছেন মেজাজে । যদিও ঠিকরে বেরোচ্ছে আত্মবিশ্বাস। দেখুন একটা কথা বলি, সত্যজিৎ এ ছবিতে উত্তমের যে শেড দেখিয়েছেন, সেটা কিন্তু একবারই দেখিয়েছেন। সারা ছবিতে আর কোথাও তাকে ফিরিয়ে আনেননি। উদ্ধত অরিন্দমের জায়গাটা ছোট। কিন্ত শুরুতেই তাকে সত্যজিৎ ডাউন টু আর্থ দেখালেন না। তাহলে স্টারডম ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। কত বুদ্ধি করে রায় মশাই কাহিনীর বিস্তার ঘটিয়েছেন। অরিন্দমের চুল আঁচড়ানো হল। পিছনে ইউ কাট। উত্তমকুমারের নিজস্ব স্টাইল। সেটা দেখে এক সময় সারা কলকাতা তার দিওয়ানা হয়েছিল। সত্যজিৎ শুরুটা করেছেন সেখান থেকে। যখন “নায়ক” দেখছেন দর্শক তখন উত্তমকুমার লব্ধ প্রতিষ্ঠিত নায়ক এবং তার চুলের কাট ও ততটাই পপুলার। এটা দিয়ে যেই শুরুটা হল, দর্শক নায়ক ছবির নায়ক হিসাবে মহানায়ককে অ্যাক্সেপ্ট করে নিল। কারণ নিজের বাড়িতে উত্তমবাবু কিভাবে তার সুন্দর কেশরাশি আঁচড়ান দর্শক তা তখন চোখের সামনে গিলছে। তৎকালীন বাংলার মানুষ চায়, সে উত্তমকুমারের মত তাকাবে, তার মত করে কথা বলবে, তার মত করে চা খাবে, সিগারেট ধরাবে। যা কোথাও নেই সত্যজিৎ বাবু সেটাই করলেন। এরপর বাঙালী উত্তমকুমারের মত করে চুলটাও আঁচড়াবে। নায়ক নিয়ে এখানে আরেকটা কথা বলে রাখি। পরে ভুলে যাব। সেটা হল সত্যজিৎ রায়ের বাকি সিনেমা গুলিকে কিন্তু লোকে বলেছে সত্যজিৎ রায়ের ছবি। সেটাতে যত বড় স্টারই কাজ করে থাকুন না কেন। নায়ক আর চিড়িয়াখানাকে কিন্তু লোকে বলেছে উত্তমকুমারের ছবি। এটাই উত্তমকুমারের ক্যারিশমা। স্বয়ং সত্যজিৎ রায় ও তাকে তার মত করে ছবি দুটিতে কাজ করবার সু্যোগ করে দিয়েছিলেন। অরিন্দমের উদ্ধত আচরনের সব থেকে বড় উদাহরণ যখন সে বলছে – আমি তো আছি, সালা পাবলিক সালাদের স্টিমরোলার চালিয়ে….ইত্যাদি ইত্যাদি।

২) ব্যক্তিত্ববান অরিন্দম – এবার সত্যজিৎ তার মধ্যে আনছেন ব্যক্তিত্বের ছোঁয়া। গোটা ছবিতে যার সাথেই কথা বলেছে অরিন্দম নিজের ওজন বজায় রেখে কথা বলেছে। বড়দের দিয়েছে প্রাপ্য মর্যাদা, ছোটদের স্নেহ আর সমবয়সীদের সাথে করেছে সুমানবসুলভ ইন্টারাকশন। সবই তার অরিন্দমসুলভ। উত্তমকুমার সুলভ ও হয়ত বলা যায়। ব্যক্তিত্ব আছে বলেই অরিন্দম হাতের লক্ষী পায়ে ঠেলছে। প্রোডিউসার হীরালাল এর কাছ থেকে ফিল্মের অফার পেয়েও কনট্রাক্ট সাইন করছে না। পরক্ষণেই দেখছি একটা ফোন এল। উলটো দিকে নারীকন্ঠ। অরিন্দম কোন কারণে তার উপর চটা। অথচ একটাও বাজে কথা না বলে কাউকে কিভাবে আউট করতে হয় সেটা যেন দেখিয়ে দিলেন বাংলার সবাইকেই। উল্টোদিকে বামাকন্ঠ কে যখন তিনি বলেন – বোধহয় না/প্রয়োজন হবে না – বাজিমাত অলরেডি হয়ে গেছে পর্দায়।

৩) ভদ্র অরিন্দম – এর পরের দৃশ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি অরিন্দম ট্রেনে উঠেছেন এবং একজন সিনিয়র ব্যক্তি মি: চ্যাটার্জীর সাথে তার কথোপকথন। একজন বয়ষ্ক মানুষ কে যেভাবে সম্মান দিয়ে কথা বলা উচিত অরিন্দম ঠিক সেভাবেই কথা বলছে। তারপরেই দেখতে পাচ্ছি নায়িকা শর্মিলা ঠাকুর তার সাথে কথা বলতে এলেন এবং অটোগ্রাফ চাইলেন অরিন্দম ভদ্রভাবে তাকে বসতে বলল এবং বাংলা ছবি সম্বন্ধে সমালোচনা খুব সহজভাবে নিল। কামরার সহযাত্রী মহিলা ভারতী দেবীর সাথে নিজের ওজন বজায় রেখে সে কথা বলছে বা তার প্রশ্নের উত্তর ইচ্ছে আবার তার স্বামীরত্নটি যখন এলেন তখন কাজ রেখে, তার সাথে ফুল লুক, ফেস টু ফেস ভদ্রভাবে তার কথার উত্তর দিচ্ছে এমনকি তার কথার শ্লেষ ও হজম করছে অক্লেশে।  তার একটা সংলাপে “ম্যানার্স” শব্দ টাও আমরা পাই কাজেই অরিন্দমের ভদ্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আর কোন জায়গা নেই।

৪) মিশুকে অরিন্দম – এর পরবর্তী দৃশ্যগুলোতে আমরা দেখতে পাচ্ছি অরিন্দম প্রথম প্রথম একটু পাত্তা কম দিলেও বা স্টারসুলভ অহমিকা দেখালেও পরে নায়িকা শর্মিলার সাথে সহজে মিশছে এবং তাকে কাজের কথা ছাড়াও ব্যক্তিগত অনেক কথা বলে ফেলছে অর্থাৎ পেশাদার খোলসের আড়ালে তার একটা মিশুকে মন আছে এটা আমরা বুঝতে পারছি যদিও ছবিটিতে অরিন্দম কে সবার সাথে এতটা সহজ ভাবে মিশতে দেখা যায়নি কিন্তু আর একটি বাচ্চা মেয়ে সেই ছবিটিতে অভিনয় করেছিল তার সাথে কথা বলার সময় অরিন্দমের বয় নেক্সট ডোর ইমেজ টি ধরা পড়েছে। অরিন্দম কিন্তু বেশ আলাপী মানুষ। তবে সে আলাপ করে লোক বুঝে। “আলাপটা করে গেলাম”- এক সিনিয়র ভদ্রলোককে সে বলছে। তার পর শর্মিলা আলাপ করতে এলে তাকেও সে বসতে বলছে প্রথম আলাপেই বাংলা ছবি নিয়ে কিছু মন্তব্য করছে। স্টারসুলভ। যদিও সামনের লোকটা এত অ্যাটিচুড নেয়ায় কিন্তু কিছুটা বিরক্ত ও হচ্ছে শর্মিলা। যদিও সেই লোকটা একটা সময় সেই অচেনা মহিলাটির কাছে নিজেকে এক্সপোজ করে দিচ্ছে। কিন্তু মহিলা টিও বুঝেছেন যতই যা করুন, ভেতরের মানুষটা ভীষণ ভাল এবং সেই মানুষটাকে এত কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা টাই জীবনের বিরাট বড় পুঁজি হয়ে রইল, তাকে নিয়ে আর্টিকেল লিখলে বা তার ইন্টারভিউ ছাপলে সেই ব্যাক্তিগত অনুভূতিগুলো জোলো হয়ে যাবে।

৫) স্বপ্নালু অরিন্দম – সিনেমার অনেকটা জুড়েই আছে স্বপ্ন দৃশ্য। টাকার পাহাড় হোক বা নায়িকার খোঁজ করা, শঙ্করদার প্রেতাত্মা হোক বা প্রমীলার স্বামী সব ঘুরে ফিরে এসেছে স্বপ্নে। স্বপ্নে কখনো তিনি হাসছেন, কখনো ভয় পাচ্ছেন। সে ভয় ফেইলিওরের, সে ভয় ইনসিকিউরিটির। আছে কিছু ফ্ল্যাশব্যাকের দৃশ্য। তা ও কিন্তু বকলমে স্বপ্নই। আছে স্ট্রাগলার অরিন্দমের বড় হওয়ার স্বপ্ন। ছোটবেলায় কেউ একজন বলেছিল, সত্যজিতের নায়কেরা বড্ড একা। আর তা যদি সত্যিই হয়, তবে একাকীত্বের সেরা সাথী হল স্বপ্ন। সে স্ট্রাগলিং পেরিওডে একাধিকবার টেবিল চাপড়ে বলছে – আই উইল গো টু দ্য টপ। একজন স্বপ্নসাহসী মানুষই কেবলমাত্র এটা বলতে পারে।

৬) মাতাল অরিন্দম – শুরুতেই অরিন্দম অবাঙালী প্রোডিউসারকে একটা গল্প বলে। তারপর একটা ভ্যাট সিক্সটি নাইন এর বোতল সে ব্যাগে পোরে। ট্রেনে একসময় সেটা খায় এবং তারপর রেলের কামরার ইনচার্জ এবং শর্মিলার সাথে সে মাতলামি করে কথা বলে কিন্তু কোথাও তার অভদ্রতা প্রকাশ পায় না কেমন যেন একটা বেপরোয়া ভাব আর তার পরেই বিষণ্ণতা । কামরার সহযাত্রীদের কাছে সে ক্ষমাও চেয়ে নেয়। তারাও কতটা সহজ ভাবে ব্যাপারটাকে মেনে নেন কারণ তারাও হয়ত বুঝেছেন এটা তাদের ভাগ্য যে এত বড় মানুষটা তাদের সাথে এক বগিতে যাচ্ছেন এবং তার ব্যক্তিগত স্পেসে তাদের ঢোকা উচিত নয়। অথচ মুকুন্দ লাহিড়ী যখন তার বাড়িতে আসেন, তাকে হুইস্কি খাওয়ালেও নিজে খেতে চায় না। কারন সে বলে কাল তার শুটিং আছে। প্রমিলা রূপী সুমিতা সান্যাল তার বাড়ি এলেও তখনো দেখা যায় সে ড্রিংক করেনি অর্থাৎ যতই মদ খাক, কাজের ব্যাপারে অরিন্দম সিরিয়াস এবং খুব প্রফেশনাল। আবার বন্ধু জ্যোতির সাথে সে কিন্তু ফ্ল্যশব্যাক সিনে সে মদ খাচ্ছে এবং সেখানে সে তার পেশা নিয়েই আলোচনা করছে, কোন আজে বাজে প্রসঙ্গ নিয়ে নয় এবং করছে তার সেই অমর উক্তি – আই উইল গো টু দ্য টপ আর সেই মানুষটাই যখন ইন্ডাস্ট্রির ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসাডার হয়ে যাচ্ছে তখন এটা স্পষ্ট সেই উক্তিটা আর যারই হয়ে থাকুক, একটা মাতালের কখনোই নয় অর্থাৎ মদ্যপেরা জাতে মাতাল হলেও তালে ঠিক থাকে এই প্রবাদটি কিন্তু অরিন্দমের ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে ফলে যাচ্ছে। শুধু বেয়াড়া মাতলামি সে একজনার সাথেই করেছে সেটা মি: অঘোর চ্যাটার্জী, সেই বুড়ো বয়ষ্ক ভদ্রলোকটি।

৭) ইমোশনাল অরিন্দম – অরিন্দমের আবেগটা কিন্তু চাপা কিন্তু যখন সেটা বেরিয়ে আসে সেটা তীব্র ভাবে বেরিয়ে আসে। এটা ঘটনা যে ইমোশনাল মানুষেরাই জীবনে সফল হয় কিন্তু তাদের বড় গুন নিজেদের আবেগকে তারা হজম করতে পারে। তা করতে গিয়ে তাদের নিজের সাথে যে কি প্রবল যুদ্ধ করতে হয় তা কিন্তু এই অরিন্দম ক্যারেকটার টাকে দেখলেই আমরা বুঝতে পারি। সেই যুদ্ধে কখনো কখনো সে হেরেও যায়। সে হয়ত ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভোগে না কিন্তু একটা যন্ত্রণা যে তার রয়েছে তা তার ট্রেনের দরজা খুলে বের করা মুখটাই বলে দেয়। শেষ দৃশ্যে ট্রেনের দুই যাত্রী যখন আলাদা হয়ে যাচ্ছে, বেজায় জটিল নারীচরিত্রটি, কিছুই বুঝতে না দিয়ে যতটা সহজে বিষয়টিকে মেনে নিল, অরিন্দম ততটা সহজে পারল কি ? হ্যাঁ, ততটা সহজে না হলেও পারল। মানুষের উচ্ছ্বাস, ভালবাসা, সন্মান স্টারেরা যা পায় আর কি সেসব তাকে সেই মহিলা টিকে ভুলিয়ে দেবে। আবার কোন মহিলা তার জীবনে আসবে যাদের কেউ মনের মত হলে তাদের কাছে মানুষটা ধরা পরবে। আসলে গল্পে নায়ক অরিন্দম কলকাতা ছেড়ে দিল্লি পালাতে চায়নি, স্টার অরিন্দমের থেকে মানুষ অরিন্দম ক্ষণিকের জন্য হলেও মুক্তি চেয়েছিল।

____


FavoriteLoading Add to library
Up next
ওই লোকটা – গার্গী লাহিড়ী... আবার এসেছে ওই লোকটা দু হাত মুষ্টিবদ্ধ , কাঁধে বিশাল এক ঝোলা মুঠোর মাঝে কি আছে বোঝা যায় না দুর্বোধ্য ভাষায় হেঁকে যায় গলি থেকে গলি লোকটা কি ফেরি ক...
উইন্ডোজ কম্পিউটারের ইতিকথা- অভিষেক চৌধুরী...   কম্পিউটারের সঙ্গে ব্যবহারকারীর মেলবন্ধন ঘটাতে প্রয়োজন OS - এর | এই OS - বানানোর উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ শুরু করেন বিল গেটস | ফলস্বরূপ ১৯৮১ তে আবির্...
মাস্টারপিস – শ্বেতা মল্লিক... অ্যালার্ম টা বাজতেই বাস্তবের মাটিতে ফিরে এলাম। একবার কলম ধরলে আর ছাড়া যায় না,এমন কথাটাই প্রযোজ্য লেখক দের জন্য। আরও যদি পছন্দসই লেখার মাধ্যমে পাঠকদ...
লাইটহাউস – সৈকত মন্ডল... আরও একটা বছর, আরও কয়েকটা মাইলস্টোন, তাতে লেখা স্বপ্নপূরনের দ্বুরত্ব, আরও কিছুটা রাস্তা, অন্ধকার, তবে কেন জানিনা ঠিক নিসঙ্গ নয়, অচেনা, অজানা কেও...
FAULTS IN OUR STARS – মধুর্পণা বৃষ্টি ঘোষ... এক মরা জীবকে ভালবেসেছ এক পক্ষকাল; হৃদযন্ত্রকে হৃদয় করেছে স্নেহের ওম। পাথরগুঁড়ো জড়ো করে নরম কাদায় আলতো দু'টো আঙুলে নতুন আকার; মাঝ ব্রিজের মা...
সম্পর্ক – বিভূতি ভূষন বিশ্বাস... আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি ।  ১৯৮০ সালের এক ঘন বর্ষার দিন প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রিমঝিম করে অনবরত বৃষ্টি পড়েই চলেছে থামার কোন নাম গন্ধ নেই । গ্রামের রাস্তা...
মহাকাশে কিং খান - রাজদীপ ভট্টাচার্য্য       এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে বড়ো পর্দায় শাহরুখ খান কে দেখতে পাওয়া যাবে, সম্প্রতি অর্ল্যান্ডো তে ফিল্ম জিরো র শুটিং শ...
মুক্তির গন্ধ – প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়...  কত রকম না আশ্চর্যের ঘটনা ঘটে। কোনও কোনও সময় মনে হয়, এগুলো কি সত্যি নাকি নিছক মনের ভুল সব। কে জানে। কিন্তু ঘটনাটা অস্বীকারও করা যায় না। সময়টা বসন্তকাল...
দীঘা হয়ে মন্দারমনি – বিভূতি ভূষন বিশ্বাস... "এই শহর থেকে আরও অনেক দূরে চলো কোথাও চলে যাই ঐ আকাশটা কে শুধু চোখে রেখে মনটাকে কোথাও হারাই ll" ঘুরতে কে না ভালোবাসে । হাতে সময় যদি বেশী না থাকে ...
আম বাগানে কে? – শ্রাবণী সরকার... আমার মামারবাড়ি ওদলাবাড়ি। ডুয়ার্সের এক ছোট্ট চা বাগান ঘেরা মফস্বল টাউন। এখনও ভারী শান্ত। আমার মায়ের ছোটবেলায় সেটি ছিল আরো জনবিরল চুপচাপ একটি গ্রাম। মায়...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment