পুজোর একদিনের পরকীয়া প্রেম (সাথে সুজয় দা আর পুচকী) – রুমা কোলে

আমি সোহিনী , আর ওই যে দালানে হলুদ পাঞ্জাবী পরা ভদ্রলোকটি আমার দাদা আর তার ঠিক পাশেই বেগুনী পাঞ্জাবী , দাদার বন্ধু সুজয় দা ।

আজ অষ্টমীর সকাল আর আমাদের বাড়ির পুজো এবছর বাহান্ন-তম বছর এ পদার্পণ করল । প্রত্যেক বছর এই দিনটা আমার কাছে খুবই স্পেশাল । কেন ?
বলছি –

আজ থেকে দু – বছর আগে হ্যাঁ যে বছর বাড়ির পুজো পঞ্চাশ বছরে পা দিল সেই বছরেই আজকের দিনে এর থেকেও লোকজন – আত্মীয়দের ভীড়ে ঠাকুর দালানটা গমগম করছিল । তবুও এত্ত এত্ত লোকজনের ভীড়েও আমার নজরটা একজনের ওপরই ফোকাস ছিল – দাদার বন্ধু সুজয় দা । আসলে দাদার সবকটা বন্ধুর মধ্যে ওই একজনই ছিল সবচেয়ে হ্যান্ডসাম আর আমার মনের সবটা জায়গা জুড়ে । তাই তো সুজয় দার একটা ডাকে ” কী রে পুচকী?” আমি নিজেকে সামলাতে পারতাম না , ছুট্টে চলে যেতাম । হ্যাঁ কলেজে পড়ি তবুও আমাকে পুচকী বলে ডাকে ,, হুমমমমমম

তবে সে – বছর যে কী হল । অষ্টমীর সকাল + অঞ্জলী + সুজয় দা + নীল পাঞ্জাবী ।আমি তো যাস্ট চোখ ই ফেরাতে পারিনি । লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতে গিয়েই হয়তো ধরা পরে গেছিলাম কোনো এক সময় নিজের অজান্তেই । ইয়েস হি নোটিশ মি ।

সকালটা কোনোরকম যেতে না যেতেই আমার হুজুক উঠল ঠাকুর দেখতে যাব । দাদা বাড়ির পুজো নিয়ে এতটাই ব্যস্ত, সময় কোথায়? তাই হুকুম গেল বন্ধুর কাছে ” সুজয় একটু বোনকে সামনের ঠাকুরগুলো দেখিয়ে নিয়ে আসবি ?

সুজয় দা : কিন্তু ভাই , মানে , ইয়ে আর কি,,,,,,,,,,,

দাদা : ও আচ্ছা ওই ব্যাপার টা !! আমি
সামলে নেব , বোনকেই তো নিয়ে যাবি ।

সুজয় দা : ঠিক আছে তাহলে আর একটু রাত
হোক বাইকটা নিয়েই বেরোচ্ছি ।

আমার তো শুনেই হৃৎপিণ্ড দ্বিগুণ গতিতে আর কি ।
তখন রাত দশটা – এগারোটা হবে , সুজয় দার বাইকের পিছনে বসে , বাইকটা এসে থামল একটা গঙ্গার ঘাটে । কিছুটা অবাক হলাম , কৌতুহল বশত জিজ্ঞাস করলাম ” এখানে কেন ?” । সুজয় দা বলল ” কারণ পুজোর সময় গঙ্গার ঘাটটা কিছুটা ফাঁকা থাকে ” আমি ভীত দৃষ্টিতে কেবল চেয়েছিলাম ।

কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে ছিলাম দুজনেই । কি বলব না বলব কিছু বুঝতে পারছিলাম না । হঠাৎ সে বলে উঠল ” তুই কিছু বলতে চাস সোহিনী? ” সুজয় দার মুখে প্রথম বার সোহিনী নামটা শুনে কিছুটা অবাকই হয়েছিলাম । আমি তোতলাতে তোতলাতে বললাম ” মানে আমি !! না তো !! কী আর বলব ?

সুজয় দা : আমি জানি তুই কিছু বলতে চাস
আমাকে । তোর চোখ বলে দিচ্ছে ।

আমি : কী সব যে বলো না তুমি । চলো বাড়ি
যাই । বৌদি অপেক্ষা করছে তোমার
জন্য ।

হ্যাঁ সুজয় দা বিবাহিত । তাই আমার একতরফা ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ কোনোদিনও হয়ে ওঠেনি । কিন্তু সেদিন –

সুজয় দা : ওসব বৌদিকে ছাড় এখন । তুই তোর
কথা বল আর কিছুক্ষণের জন্যে মনে
কর আমি অবিবাহিত ।

আমি : ধুর না না এসব হয় নাকি ?

সুজয় দা : সব হয় । আচ্ছা বল তো তুই আমাকে
ভালোবাসিস ? আবার না বলিস না ।
কারণ মিথ্যেটা তুই একদমই বলতে
পারিস না ।

আমি। : সবই যখন বোঝ । জিজ্ঞেস করছ কেন ?
হুমম বাসি ।

সুজয় দার চোখের দিকে তাকিয়ে মিথ্যে বলতে পারিনি সেদিন ।
কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ থাকার পর –
সুজয় দা বলল ” আচ্ছা তুই পরকীয়া শুনেছিস ?” আমি বললাম ” হ্যাঁ শুনেছি তো “।

সুজয় দা : আচ্ছা, বেশ , তাহলে শোন , কাউকে
ভালোবাসাটা তো অপরাধ নয় ! পরকীয়া
প্রেমটাও ঠিক সেরকমই । তুই আমাকে
ভালোবাসিস সেটাতো তোর অপরাধ
নয়! মনকে কেউ আটকে রাখতে পারে না
। আমি এখন বিবাহিত । তো তুই যেটা
চাস সেটা সম্ভব নয় কখনই কিন্তু
শারীরিক সম্পর্কটাই তো ভালোবাসা নয়
। তোর ভালোবাসা, অনুভূতিগুলোকেও
আমি সম্মান করি ।

আমি : কিন্তু, তুমি এসব কেন বলছ ? আমি তো
আমার ভালোবাসার দাবি নিয়ে চাই নি
তোমার কাছে ?

সুজয় দা : হ্যাঁ আমি জানি । চাসনি । কিন্তু এই যে
আজকের দিনটা তোকে দিলাম এই
দিনটা আমাদের দুজনের কাছেই স্মরণীয়
হয়ে থাকবে । আর আজকের পর তুই
অনেকটা সহজ হয়ে যাবি । আবেগের
বশে কিছু ভুল করবি না । নতুন করে শুরু
করতে পারবি , মনের ভারগুলো কমে
যাবে ।

আমি : ধন্যবাদ সুজয় দা । এই একদিনের প্রেমটা
সত্যিই আমার স্মৃতির খাতায় রয়ে যাবে
আর একটা কথা বলব ? ইটস যাস্ট অ্য
রিকোয়েস্ট।

সুজয় দা : হ্যাঁ হ্যাঁ বল বল । আজকে তোর সব
রিকোয়েস্ট রাখবো ।

আমি। : একবার জড়িয়ে ধরব তোমাকে !! খুব
ইচ্ছে করছে ।

গঙ্গা আর খোলা আকাশকে সাক্ষী রেখে সুজয় দার জড়িয়ে ধরা আর কপালে চুমুর দাগ আজও লেগে আছে । উফফফফ দিনটা আমি মরে গেলেও ভুলতে পারব না । একদিনের পরকীয়া পুজোর প্রেমটা যে এতটা সম্মানিও হতে পারে সুজয় দা না থাকলে অনুভবই করতে পারতাম না । আজকে পরকীয়াকে আমি অপরাধের চোখে দেখিনা । আসলে পরকীয়ার নামে কাউকে ঠকানো কিংবা তার ভুল ব্যবহার করাটাই হল অপরাধ ।

____


FavoriteLoading Add to library

Up next

লাভ স্টোরি – শ্বেতা আইচ... 'ও দাদা একটু গাড্ডা গুলো বাঁচিয়ে চলুন না, কখন থেকে তো বলছি। কানে যায় না?' 'চুপ কর না প্লিজ টুকি, পাশে সবাই তাকাচ্ছে তো।' 'তুই তো মোটে কথা বলবি ন...
সবই উল্টো - সৌম্যদীপ সৎপতি   (এক) ধড়মড় করে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। চারদিক অন্ধকার, মাথার উপরে ফ্যানটাও বন্ধ, লোডশেডিং।বুঝতে পারলাম ঘামে সারা শরীর ভিজে...
সুদূরের পিয়াসী – বৈশাখী চক্রবর্তী... কথা হচ্ছিলো সেদিন বিকেলে তোমার সাথে, মুঠো ফোন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে, শত সহস্র মাইলের ব্যবধান,  তোমার ওই মাটি আর আমার এই প্রাঙ্গনে।।    দেশ ভ...
মায়া – সরোজ কুমার চক্রবর্তী... ছোট সে এক ছেলে সারাদিন টোটো করে বেড়াই সে খেলে | আমাদেরই বাড়ির নীচে একটা বস্তি আছে সেখানেই তার বাস | হঠাৎ সেদিন ঘুমের মাঝে কার ডাকে ঘুম গেলো ভেঙে...
বৃষ্টিভেজার গান   - সৌম্যদীপ সৎপতি, চায়ের কাপের কুণ্ডলি ধোঁয়া, আকাশ ঝরায় অভিমান কাকভেজা মন আত্মমগন, পাগলা হাওয়ায় অভিযান মেঘেদের ভীড়ে নস্টালজিয়া, বজ্রে আকাশও দেয় ...
অন্যরকম জামাইষষ্ঠী... - মুক্তধারা মুখার্জী ---এই দিন দেখাও বাকি ছিল। ছি ছি কি লজ্জার ব্যাপার বল তো। ---সত্যি রে! আমি তো ভাবতেই পারছি না। তাও কিনা আজকের দিনে? কোথায় আজ জ...
আদমিভ – সৌম্য ভৌমিক... ওই যে গাছের কোটরখানি উলঙ্গ হয়েছে আজ, জীর্ণ পুরুষ শীর্ণ পিতা ছেড়েছে রাজার সাজ। হে পুরুষ তুমিও তো আয়েসি হতে পারতে, শীতের রাতে আগুনশিখা বুকের থেকে কাড়...
রূপকথার বালিকার কল্পনায় – সৌমিক মান্না... একদিন আমি খেলার ছলে হারিয়ে গেলাম মেঘের দলে, হঠাৎ এক মেঘের ছায়া পড়লো আমার চোখের জলে তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রশ্ন করলাম কৌতূহলে "বলো তো মেঘবালক,সোনার ...
ভৌতিক সন্ধ্যা – প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়... কত কি না ঘটে। যার ব্যাখ্যা আমরা পাই না। যতই তর্ক বিতর্কে জড়াইয়া না কেন, কেন ঘটে বা ঘটল তার হদিস কে দেবে? এই ঘটনাটাই পড়ুন। আশ্চর্য হবারই কথা। আমিও হয়...
জন্ম শতবর্ষে সত্য চৌধুরী – শ্রদ্ধাঞ্জলি R... "তখনো ভাঙেনি তখনো ভাঙেনি প্রেমেরও স্বপনখানি। আমারও এ বুকে ছিল প্রিয়া, ছিল রাণী। আজ যত দূরে চায় আসে শুধু এক ক্ষুধিত জনতা প্রেম নাই, প্রিয়া নাই...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment