যমালয়ে জীবন্ত মানুষ

– অস্থির কবি ( কল্লোল চক্রবর্ত্তী)

 

  বাংলাছবির ইতিহাস মানে শুধু সত্যজিৎ ঋত্বিক নন, বাংলাছবির ইতিহাস মানে শুধুই সৌমিত্র ধৃতিমান নন, বাংলাছবির ইতিহাস মানে শুধু পথের পাঁচালী, যুক্তি তক্কো গপ্পো নয়। বাংলা ছবির ইতিহাস মানে কিন্তু নির্মল দে, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বিভূতী লাহা, অজয় কর, অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় ও। বাংলা ছবির ইতিহাস মানে কিন্তু ছবি বিশ্বাস, পাহাড়ি সান্যাল, তুলসী চক্রবর্ত্তী, উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, ভানু ব্যানার্জী ও। বাংলা ছবির ইতিহাস মানে কিন্তু সাড়ে চুয়াত্তর, ওরা থাকে ওধারে, ভ্রান্তিবিলাস, চৌরঙ্গী, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী ও। আজ তেমনই বাংলাছবির ইতিহাসের এক মাইলস্টোন ছবি নিয়ে আলোচনা করা হবে। তার নাম – “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ”।

এই ছবির নাম বললেই যার স্মৃতি সবার আগে ভেসে ওঠে সেই মহান শিল্পীর নাম – ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি এই ছবির নায়ক, যিনি এই ছবির কমেডিয়ান, যিনি এই ছবির ইউ এস পি। যাকে ছাড়া বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষে এমন কোন আর্টিস্ট নেই যে এই রোল টি করতে পারে। নেই তেমন কোন রোমান্টিক সিন, নেই নায়ক নায়িকার গাছ ধরে কোন যুগল প্রেমের গান, নেই কোন ভিলেনের হল কাঁপানো বদমায়েশী সংলাপ। স্টান্ট ফান্ট এর কথা তো বাদই দিন, প্রশ্নই নেই। তবে এই ফিলিমে আছে টা কি মশায়? প্রশ্নটা উঠতেই পারে। হ্যাঁ এটা কমেডি সিনেমা। রোমান্টিক কমেডি।কমেডি তো রয়েছেই কিন্তু এই সিনেমাটির বিশেষত্ব হল এখানে কমেডির ফাঁকে ফাঁকে যে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন দিক দেবলোকের পটভূমিতে তুলে ধরা হয়েছে তা কিন্তু একটা অনন্য নজির যা সেই সময় আর কোনো ছবিতে হয়েছে বলে আমার অন্তত মনে পড়ছে না যদিও পরবর্তীকালে টলিউডে সুবর্ণ গোলক বা বলিউডে এরকম যমরাজ নিয়ে এক দুটো সিনেমা হয়েছে বা মঞ্চে এ প্রসঙ্গে মনে পড়ে মনোজ মিত্র বাবুর বিখ্যাত একাঙ্ক নাটক চোখে আঙুল দাদা র কথা কিন্তু সেগুলো একটু অন্যরকম আর্ট আর “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” ভিন্ন মাত্রার একটি বাংলা কমার্শিয়াল ছবি। যথেষ্ট মেরিটোরিয়াস কিন্তু খাঁটি দিশি। দিশি স্টাইল, দিশি কথাবার্তা, দিশি সাজপোষাক, দিশি আবেগ, দিশি সংস্কৃতি।

এর আগে সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে ভানু বন্দোপাধ্যায় “মাসিমা মালপো খামু” এই কথাটি বিখ্যাত হয়েছিল কিন্তু এই সিনেমা “ভোলা গুঁতো” এই ডায়লগটি মানুষের খুব ভালো লাগে “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” এর কিছু স্পেশাল এফেক্ট এবং স্বর্গের বিভিন্ন দৃশ্য দেখে মনে হয় যে এটি বড় বাজেটের কোন সিনেমা তা কিন্তু নয় এটা  অল্প বাজেটের একটি ছবি এই ছবির প্রযোজক অনন্ত সিংহ, বিপ্লবী অনন্ত সিংহ। তিনি জানতে পারেন বিকাশ রায় প্রায় একই বিষয় নিয়ে স্বর্গ মর্ত ছবিটি বানাচ্ছেন যেখানে হিরো সেই ভানু বন্দোপাধ্যায় তার সাথে রয়েছেন জীবেন বোস। এই কথা শুনে অনন্ত সিংহ ব্যাড ইনভেস্টমেন্ট ভেবে টাকা লাগাতে রাজি হচ্ছিলেন না কিন্তু ভানু বন্দোপাধ্যায়, ছবি বিশ্বাস, প্রফুল্ল চক্রবর্তী সবাই মিলে তাকে চেপে ধরে এবং ভানু বন্দোপাধ্যায় এর কারিশমা দেখুন স্বর্গের দৃশ্যগুলোতে আগে সম্পূর্ণ অন্যরকম ছিল কিন্তু ভানু ব্যানার্জি সেখানে স্পেশাল ভানু এফেক্ট যোগ করলেন। ভানুর কমিক স্কেচ গুলোতে যেরকম অদ্ভুত অদ্ভুত কিছু বিষয় থাকত, যা মূলত সামাজিক বিষয় মজার ছলে বলা। এমন কিছু কথা তিনি যোগ করে দিলেন যাতে এই সিনেমাটি আলাদা একটি উচ্চতা পেয়ে গেল এবং বলতে গেলে এটাই কিন্তু এই ছবির একটা বিরাট মৌলিক বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠলো যা আম বাঙালি ভীষন পছন্দ করলেন সেইসময় দাঁড়িয়ে। যদিও ছবিটি কিন্তু শুধুমাত্র সেই সময়কার ছবি নয়, এটি সর্বকালীন একটি ছবি আজও আমরা যদি মন দিয়ে “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” দেখি তাহলে আমরা দেখতে পাবো যে সমস্যা গুলির কথা বলা হয়েছে আজও কিন্তু আমাদের সমাজে অল্প বিস্তর রয়েছে অর্থাৎ আমাদের সমাজের খোলনলচে বদলালেও তার কাঠামো কিন্তু প্রায় একই রকম রয়ে গেছে।

এই ছবির আরও কয়েকটি বৈশিষ্ট্য আছে তার মধ্যে একটি হল- হামহাম গুড়িগুড়ি নাচ।  আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে আমি তখন খুব ছোট খুব সম্ভবত ক্লাস ফাইভে পড়ি দূরদর্শনে “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” ছবিটি দিয়েছে এবং আমরা পরের দিন স্কুলে বন্ধুরা একত্রিত হয়েছি ছবিটি নিয়ে আলোচনা হল এবং হামহাম গুড়ি গুড়ি নাচ নিয়ে হাসাহাসি হলো। স্বর্গের অপ্সরা মর্ডান ড্যান্স করছে  এটা বকলমে  সাহেবী নৃত্যশৈলী চিরকালীন ভারতীয় নৃত্য শৈলীর উপর যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে তা অনেকটাই তুলে ধরে। একটা রোমান্টিক সিনে নায়িকা বাসবী নন্দী রোমান্টিক গানের বদলে শ্যামাসঙ্গীত ধরেন। সেটা এক মজার বিষয়। যমরাজের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে ভানুবাবুর ব্যঙ্গ আরেক মজাদার জিনিস। পকেটে একটি ধাতব জিনিস, যা আগেকার দিনে মেলায় পাওয়া যেত, সেটা টিক টিক করে বাজানো এই ছবির একটা স্মরনীয় দিক।

আমরা সবাই জানি “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” একটি ১০০% খাটি বাংলা ছবি এবং মৌলিক চিত্রনাট্য। একদমই তাই কিন্তু প্রথমে এটি চল্লিশ দশকের হলিউডের ছবি “হেয়ার কামস মিস্টার জর্ডন” অবলম্বনে তৈরি করা হচ্ছিল। “স্বর্গমর্ত্য”একই গল্প হওয়ায় পুরো গল্প পাল্টান পরিচালক প্রফুল্ল চক্রবর্ত্তী। গৌর শী এবং প্রফুল্লর সাথে গল্প ও সংলাপ রচনায় মাথা লাগান ভানু ও। ভানু বাবুর কন্ট্রিবিউশন দেখুন যিনি ছবি পরিচালনা করছেন তিনি ভানু বাবুর বন্ধু প্রফুল্ল চক্রবর্তী যিনি ছবি প্রযোজনা করছেন তিনি ভানু বাবুর পরিচিত বিপ্লবী অনন্ত সিংহ ছবির গল্প সেখানেও ভানু বাবুর যোগদান আছে এবার বলি শেষ কথাটি এই ছবি অর্থকরী দিকেও কিন্তু ভানু বাবুর যোগদান ছিল।

গৌর শী ছিলেন এই ছবির কাহিনীকার ও চিত্রনাট্যকার । তার বাড়ি ছিল হাওড়ায় তুলসী বাবুর বাড়িরই আশেপাশে। এই গৌর শীকে নিয়ে একটি  কথা শুনেছিলাম। সত্য মিথ্যা জানি না। গৌর শী অভিনয় ও করতেন ভালো। উত্তম কুমারের সাথে উনি বেশ কটি ছবিতে অভিনয় করেন যেমন – ত্রিযামা, রাজকন্যা, নায়িকা সংবাদ, এখানে পিঞ্জর, নবরাগ, আলো আমার আলো, বিরাজ বউ, ছিন্ন পত্র, রোদনভরা বসন্ত, বাঘবন্দি খেলা, অগ্নিশ্বর, দুই পুরুষ, মেমসাহেব প্রভৃতি। এমনই একটি ছবিতে গৌর শী অভিনয় করছিলেন উত্তমবাবুর সঙ্গে। বারবার টেক হচ্ছিল বারবার উনি ভুল করেছিলেন। উত্তম কুমার তাকে ডাকলেন বললেন- গৌর দা আপনার তো এরকম ভুল হয় না। গৌর শী মহানায়ককে বললেন – উত্তম, আমার মেয়ের বিয়ে আমি তার যৌতুকের ২০০০ টাকা জোগাড় করতে পারিনি। তখনকার দিনে ২০০০ টাকার মূল্য আজকের দিনে প্রায় দু লাখ টাকা। কারণ এটা ৫০/৬০ দশকের ঘটনা। উত্তম কুমার বললেন আপনি চিন্তা করবেন না কালকে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। গৌর শী মনের আনন্দে বাড়ি গেলেন কারন উত্তম কথা দিলে রাখবে এটা তিনি জানেন। পরদিন উত্তম কুমার একটি খাম তার হাতে দিলেন এবং তাকে বললেন আপনি কিন্তু এটা এখানে খুলবেন না। বাড়ি গিয়ে খুলে গৌর শী দেখলেন সেইখানে ৫০০০ টাকা রয়েছে তিনি পরদিন উত্তম কুমারকে বললেন উত্তম তুমি ভুল করে ৫০০০ টাকা দিয়েছো আমি তো ২০০০ টাকা চেয়েছিলাম। মহানায়ক উত্তর দিলেন না দাদা আমি ঠিকই দিয়েছি ২০০০ টাকা আপনার প্রয়োজন আর বাকি তিন হাজার টাকা আমি আমার বোনের বিয়েতে বোনকে উপহার দিলাম। এই ছিল উত্তমকুমার, এই ছিল সেই যুগের শিল্পীদের সম্পর্ক, তখনকার দিনের ফিল্ম জগৎ আর এই ছিল তখনকার পরিবেশ, তখনকার মূল্যবোধ। কি ছিল আর কি হয়েছে !

রাজকুমারী চিত্রমন্দির পরিবেশিত “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” সিনেমাটি ১৯৫৬ সালে রিলিজ করে।  আগেই বলেছি সিনেমার প্রযোজক সেই বিপ্লবী অনন্ত সিংহ যিনি মাস্টারদা সূর্যসেনের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের অন্যতম নায়ক ছিলেন। শোনা যায় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে তার পরিচয় ছিল এবং ভানুবাবুর পরামর্শেই তিনি এই ছবিতে লগ্নি করেন টাকা এবং কয়েকগুণ ফেরত পেয়েছিলেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। বিকাশ রায় অনন্ত সিংহ ও  ভানু ব্যানার্জীর অনুরোধে তার ছবির রিলিজ পিছিয়ে দেন। মন্টু বসু বিনা ও বসুশ্রী তে ফিল্ম রিলিজের ব্যবস্থা করেন। মুরলীধর চাটুজ্জের ধর্মতলার অফিস থেকে এই ছবির ডিস্ট্রিবিউশন হয়। খুব ধুমধামের সাথেই রিলিজ হয়েছিল এই ছবি। এই সিনেমার আর্ট ডিরেক্টর সুনীল সরকারকে দিয়ে একটা স্পুটনিক বানিয়ে বসুশ্রীর উপরে লাগানো হয়েছিল। অনন্ত সিংহের এর আগে বেশীরভাগ সিনেমাই ফ্লপ হয়েছিল। উনি ধরেছিলেন এটারো একই দশা হবে। হল উলটো। ছবি বাম্পার হিট হল। ভানু ব্যানার্জীর জয়জয়কার হল সারা বাংলা জুড়ে।

ছবির গল্পের নায়কের নাম সিদ্ধেশ্বর। সে গ্রামের এক সরল সোজা পরোপকারী ছেলে। ক্লাব থিয়েটার ইত্যাদি নিয়েই থাকে। গ্রামের প্রভাবশালী হরিবাবুর বড়লোক মেয়ে মাধুরীকে তার ভাল লেগে যায়। মাধুরী ও মনে মনে সিদ্ধেশ্বর ওরফে সিধুকেই চায়। কিন্তু তার বাবা হয়ে দাঁড়ায় বাধা। সিধু ও মাধুরী গোপনে বিয়ে করতে যায়। তখন মাধুরীর বাবা এসে সেই বিয়ে ভেঙে দেন। অপমানে এবং মনের দুঃখে জলে ঝাঁপ দেয় মাধুরী।

সিধু বেচারী হতাশায় গ্রাম ছাড়ে। যাবার আগে তার পালিত ষাঁড় ভোলা কে এক পিসির হাতে দিয়ে যায়। পাড়ার ছেলেরা তাকে দলনেতা মানত। তাদের সান্ত্বনা বাক্য দিয়ে সে গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে। পথে ক্লান্তিতে এক জায়গায় ঘুমিয়ে পরে সিধু এবং সেখানে হাজির হয় দুই যমদূত। মরা না পেয়ে জ্যান্ত সিধুকে তারা ধরে নিয়ে যেতে চায়। সিধু দেখে যে যমদূতেরা তাকে যমালয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মাধুরিকে ফিরে পাবার আশা উদয় হয় তার এবং সে যেতে রাজী হয়। স্বয়ং যমরাজের সাথে তার মোলাকাত হয়। যমরাজ কে তার আজ্ঞাবহ ষাঁড় ভোলার সাহায্যে যমলোক থেকে তাড়িয়ে দেয় সিধু এবং হয়ে বসে যমলোকের অধিপতি।

যমরাজকে বলা তার সংলাপ – “একবার ফিরে যাই, খবরের কাগজে যা দোব না”, বিচিত্রগুপ্ত কে বলা তার সংলাপ – “এখনো চাকরি পাকা হয় নি”, “সব জায়গায় একই নিয়ম”, “তুমি আমার প্রধান মুন্সি” “কোটি কোটি বছরের অভ্যেস তা কি আর এক দিনে যায়” নারদকে বলা-“আধুনিক জানা আছে ?”, ” আপনি অত্যন্ত পেট পাতলা লোক” বিষ্ণুকে বলা – ” আপনার অবতারেরা কেউ বলেছে ভোগ কর কেউ বলেছে ত্যাগ কর কেউ বলেছে ভোগ ত্যাগ দুইই কর সব গুলিয়ে গেছে।”  নন্দী ভৃঙ্গীকে বলা – “কৈলেশ কি টলছে ? ” মা দূর্গার সংসারের উচ্ছন্নে  যাওয়ার গল্প শোনা, নন্দী ভৃঙ্গীর চ্যালাদের কান ধরিয়ে উঠবোস করিয়ে লবিবাজি বন্ধ করানো, দেবতাকে দেখিয়ে দেখিয়ে আঙুর খাওয়া ইত্যাদি মানুষ ভীষণ উপভোগ করেন। শেষে দেখা যায় সাবিত্রী সত্যবানকে যেভাবে ফিরিয়েছিল আর বেহুলা লক্ষীন্দরকে, সিধুরুপী ভানুবাবুও বাসবীকে মানে মাধুরিকে ফিরিয়ে আনেন।

“যমালয়ে জীবন্ত মানুষ”-এ এই প্রথম ভানু ব্যানার্জী রোমান্টিক নায়ক হন।  তার আগে তিনি কমেডি সিনেমায় নায়ক হয়েছিলেন কিন্তু রোমান্টিক ছবিতে এই প্রথম। অনন্ত সিংহের বন্ধু ডাক্তার নন্দীর মেয়ে কনা নন্দী এই ছবির নায়িকা হন।  অনন্তবাবু তার নাম পালটে রাখেন বাসবী। ইনি পরে উত্তম কুমারের নায়িকা হয়েছিলেন। বনপলাশীর পদাবলীর জন্য বিএফ জে এ পুরস্কার  পান। থিয়েটার জগতে খুব নাম করেছিলেন। গাইতেন ভাল, ভাল নাচতেন। কিছুদিন আগেই তিনি প্রয়াত হলেন। দারুন অভিনয় করেন হরিবাবুর ভুমিকায় ছবি বিশ্বাস। যমরাজ হন কমল মিত্র নারদমুনির ভূমিকায় ছিলেন পাহাড়ী সান্যাল। বিচিত্র গুপ্ত হন জহর রায়। ইন্দ্র নীতিশ মুখার্জী, নন্দী ভৃঙ্গী হন দুই বিখ্যাত কমেডিয়ান তুলসী চক্রবর্ত্তী এবং নৃপতি চ্যাটার্জি। ছোট একটি রোলে সাড়ে চুয়াত্তর খ্যাত অজিত চট্টোপাধ্যায় ও ছিলেন। ছিলেন সে যুগের ছবির পরিচিত মুখ প্রেমাংশু বসু। হরিধন বাবু ও ছিলেন। ছিলেন শ্যাম লাহা। এমনকি চিত্রনাট্যকার গৌর শী ও চিত্রগুপ্তের ভূমিকায় ছিলেন। সব মিলিয়ে চাঁদের হাট বলা যায়। সেই সোনালী দিন আজ কোথায়।  এখন রিমেক হয় কিন্তু তার বাংলা অ্যাডাপ্টেশন ভাল নয়। আর কিছু ছবি হয় অতি বাস্তবঘেঁষা। “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” এর মত ফ্যান্টাসি সেখানে কই ! এখন বলিউড দেখে আমরা ছবি বানাই কিন্তু একটা সময় আমাদের ছবি দেখে বলিউড কপি করত তাও আমাদের মত পারত না। এখন অনেক ছবি হয় সাউথের টুকলি কিন্তু এই “যমালয়ে জীবন্ত মানুষ” ছবিটি থেকেই দক্ষিন ভারতে রিমেক করে সিকে পুল্লাইয়া নির্দেশিত এবং এন টি রামা রাও অভিনীত “দেবন্তকুডু” নামে তেলেগু ছবিটি নির্মিত হয়েছিল।

____


FavoriteLoading Add to library
Up next
ভুতের মুখে রাজকুমার – রাজদীপ ভট্টাচার্য্য... ৩১শে  আগস্ট রাজকুমার রাও এবং শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত ছবি 'স্ত্রী' মুক্তি পেলো | বহুদিন পর বলিউড তাদের ভক্তদেরকে এক কমেডি হরর ছবি উপহার দিলো | এই ছবি তে র...
পণ্যগ্রাফি -কৌশিক প্রামাণিক বোনটি তো আমার সেদিনই কেঁদেছিল যেদিন ও প্রথম পৃথিবীর আলো দেখেছিল, লোভী চোখের দৃষ্টিগুলোতে চিন্হিত হলো সে মেয়ে তখন জন্মেই তাকে শুনত...
সত্যি ডাকাতির গল্প – প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়... একটা সত্যি ডাকাতির ঘটনা বলছি। তখন আমি মামারবাড়িতে থাকি, বেশ ছোট। মামারবাড়ি বাঘাটী নামে এক গ্রামে। গ্রামটা হুগলি জেলার ডানকুনি ছাড়িয়ে মশাট শিয়াখালার লা...
বেইমান- তমালী চক্রবর্ত্তী... সব্জিভর্তি থলে নিয়ে অনেক কষ্ট করে বাড়ির দরজার তালা খুলল ফাতিমা বেগম। আজকাল আর আগের মতো দৌড়ঝাঁপ পোষায় না। ৬০ তম বসন্ত কিছুদিন আগেই পেরিয়েছে, হাঁপ ধরা স...
বাংলা ছায়াছবির বাদশা... শাহরুখ খানকে বলা হয় বলিউডের বাদশা। কারন তিনি "বাদশা" বলে একটি হিন্দী ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি ফ্লপ করেছিল। কিন্তু তার বহু আগে এই বাংলায় "বাদশা" বলে...
দীঘা হয়ে মন্দারমনি – বিভূতি ভূষন বিশ্বাস... "এই শহর থেকে আরও অনেক দূরে চলো কোথাও চলে যাই ঐ আকাশটা কে শুধু চোখে রেখে মনটাকে কোথাও হারাই ll" ঘুরতে কে না ভালোবাসে । হাতে সময় যদি বেশী না থাকে ...
এবং পার্থ – শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়... (গতবছর প্রয়াত অভিনেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য। যিনি ছিলেন উত্তম-সুচিত্রা ও স্বর্ণযুগের ছবিতে নূতন যৌবনেরই দূত। ) স্বর্গের অমর...
রিভিউ – এক যে ছিল রাজা – অন্বয় গুপ্ত... ২০১১ সালে সুভাষ ঘাইয়ের প্রযোজনায় ঋতুপর্ণ ঘোষ ' নৌকাডুবি ' সিনেমাটা বানিয়েছিলেন। আমরা তখন স্কুলে পড়ি। তদ্দিনে সৃজিত মার্কেটে চলে এসেছেন। সেই সিনেমায় ট...
বিরল বিবাহ -বিভূতি ভূষন বিশ্বাস... হিন্দু সমাজে আট রকম বিবাহের কথা বলা আছে তার মধ্যে চার রকমই দেখা যায় তবে বিখ্যাত হলো দুই রকম ১) দেখা শুনা করে বিয়ে । ২) প্রেম করে বিয়ে । আচ্ছা সব বুঝল...
অপরাধী – সৌভিক মল্লিক... একদিন তোমার চোখের দিকে চেয়ে কেঁপে উঠেছিল আমার হতভম্ব কন্ঠস্বর। ওই কাজলের গায়ে জন্মানো বেদনা চিঠিতে বলেছিলে, আমি তোমার রক্তে অমর। কত সন্ধ্যা ভা...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment