বাঙালীর দূর্গাপুজো – দীপ্তি মৈত্র

দুগ্গা পূজা ভারী মজা পড়াশুনা নাই

ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখা দিন-রাত্তির ভাই।

সংগে চলে “খানা-পিনা” বাহারে বাহার,

মাতিয়ে রাখে কটা দিন কি মজাদার।

   ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের নানা রংয়ের নানা ধরনের পোশাক-পরিচ্ছদ কেনা,নব বিবাহিত দম্পতির ম্যাচিং শাড়ি-পাঞ্জাবি কেনা,তরুণদের পোশাকের সাথে বাহারি জুতো তরুণীদের পোশাকের অনুরূপ মাথার ক্লিপ থেকে শুরু করে পায়ের জুতা কেনা,অর্থাৎ শারোদৎসবের একমাস পূর্ব থেকে বাঙালীর এলাকা হয়ে ওঠে সাজসজ্জার রণক্ষেত্র।ব্যবসায়ীরা সম্বৎসরের লাভের পরিমাণ থেকে আরও কিছু অতিরিক্ত লাভের দিকে দিয়ে থাকেন সজাগ দৃষ্টি। কোনো কোনো বাড়িতে বা হয়ে থাকে ঘটা করে দুর্গোৎসব।বাড়ির কর্তা-গৃহিণী,বয়োজ্যেষ্ঠরা ও বালক বালিকারা প্রাণে এক অফুরন্ত আনন্দ নিয়ে করে থাকেন পুজোর আয়োজন। কুমোরটুলিতে ঠাকুর তৈরির ব্যস্ততা, পাড়ায় পাড়ায় মণ্ডপ সজ্জার তৎপরতা,ক্লাবের তরুণ সদস্যদের চাঁদা তোলার উদ্যোগ শুনিয়ে দেয় মায়ের আগমনী বার্তা।আকাশের নীল মেঘ,মাঠে মৃদু বাতাসে দোদুল্যমান কাশফুল সবকিছুর মধ্যে দিয়ে বাঙালী-হৃদয় নব আনন্দে হয়ে ওঠে মুখরিত। পুজোয় কোন কোন দিন বা কোন দিনটায় প্রেমিক প্রেমিকাযুগল একে অপরকে দেখবে নতুন সাজে তা নিয়েও লেগে থাকে মিষ্টি মধুর তর্ক -বিতর্ক।কোনো প্রবাসী বাঙালীর প্রিয়তমা স্ত্রী বা স্নেহের দুলালী অপেক্ষা করে থাকে প্রাণ নাথের ঘরে ফেরার। ওই দিকে ঢাকি ভাইদের অন্তরের অন্তঃকরণে পূজার বাস দেয় স্নিগ্ধ ছোঁয়া।শিউলি ফুলের অলংকার হয় প্রকৃতির অঙ্গাভরণ।ক্রমে ক্রমে ক্রমে আগমনীর সুরে মাতাল হয় বাঙালী চিত্ত,পূজারীদের উদাত্ত কণ্ঠে মন্ত্রোচ্চারণের মূর্চ্ছনা বাঙালী প্রাণে জাগায় শিহরণ। মণ্ডপে মণ্ডপে আলোকসজ্জার প্রতিযোগিতা, দীর্ঘ লম্বা লাইনে ধৈর্যের পরীক্ষা,সমস্ত কিছুর মধ্যে দিয়ে খুব তাড়াতাড়ি কেটে যায় নবমীর দিন-“পুজো আসি আসি

        খুশি রাশি রাশি

        এলো অনাগত দিন,

        হলো আনন্দ ক্ষীণ।”

এত আনন্দ-বানের মধ্যে প্লাবিত হয়ে যায় ফুটপাথবাসী অশরণা বাঙালীদের দুঃখ,ঐ মা-মস্ত অফিসার সন্তান যাকে ভাত দেয়না,তার রক্তাক্ত হৃদয় যন্ত্রণা,ঐ পরিবার-যাদের বীর সেনা সন্তান পুজোর আগে গুছিয়ে নিয়ে আসতো বাড়ির প্রতিমাদের সাজ-সরঞ্জাম-আজ আর আসেনা। কিংবা বিভাস,আসিফাদের মতো শিশুরা যারা মানুষের লালসা-হিংসার অনলে  অকালে পুড়ে গেলো, তাদের বাবা-মায়ের বিদীর্ণ হৃদয় যন্ত্রণা, এবং  অনাহারী শিশুর দল-পূর্ণেন্দু যাদের  কাছে গরম ধোঁয়া ওঠা রুটি তাদের ক্লেদাক্ত জীবন বাঙালীর মনের মনিকোঠায় স্থান পায়না। কোনো বাঙালী হয়তো দুর্গতিনাশিনীর কাছে করজোড়ে বলেনা-“মা ওদের ভালো রেখো।”

____


FavoriteLoading Add to library

Up next

একটি হাত- শাশ্বতী সেনগুপ্ত...   ক’দিন ধরে অসুস্থ থাকার জন্য মৌ স্কুলে যেতে পারেনি। সে শিক্ষকতা করে একটি প্রাইমারি স্কুলে। তার পাশের পাড়ায় থাকেন তার বৃদ্ধ মা বাবা। ক’দিন ধরে ম...
পাখি পাঁচালী – সৌম্য ভৌমিক... পাতি কাকটা তক্কে আছে কখন বেরোবে চড়াই, দোয়েল রানী শিস দিয়ে যায় না করে বড়াই। টেলিগ্রাফের তারে বসে ফিঙেটা লেজ নাড়ে, শুনতে পেলাম ঝগড়া করে তিনটে ছ...
অবশেষে খুঁজে পেলাম তোমাকে... -অর্পিতা সরকার    আর যাই করিস ওই মেয়ের দিকে ভুলেও তাকাস না সৌম্য, একবার যদি তোর লাইফে ঢোকে তাহলে তোর কেরিয়ার ফিউজ হয়ে যাবে গুরু। শত হস্ত দূরে থাক ওই...
আতঙ্কের সেই কালো রাত – সরোজ কুমার চক্রবর্তী...     আমরা তিন থেকে চারজন সবাই অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী | সবার বয়স প্রায় সত্তরের ঊর্ধ্বে | আমরা যেখানে থাকি জায়গাটা হলো দমদম স্টেশনের কাছাকাছি | এখানে আমাদে...
মনে আছে – সুস্মিতা দত্তরায়... বয়স এগিয়ে গেছে- ঝাপসা স্মৃতির অন্তরালে প্রেমটা রয়ে গেছে । সেই যে তখন ছুটির দিনে কাপড় মেলা ছাদে লজ্জা খুশির লুকোচুরি সোহাগ মাখানো রোদে । ...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment