বিজ্ঞান ও ঈশ্বর

– ইন্দ্রজিৎ ঘোষ

 

বিজ্ঞান শব্দের অর্থ বিশেষ জ্ঞান অর্থাৎ ধারাবাহিক পরীক্ষা,পর্যবেক্ষণ,গণনা ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানই হলো বিজ্ঞান । “Physics” শব্দটি গ্রিক শব্দ “Fusis” শব্দ থেকে উদ্ভূত,যার অর্থ হলো “Nature”,এঁরা সংস্কৃত প্রতিশব্দ হলো “ভৌতিকি” । যার অর্থ হলো “ভৌতজগৎ” । পদার্থবিদ্যায় ভৌতবস্তু ও শক্তি এবং তাদের মধ্যে রূপান্তর আলোচিত হয়,অর্থাৎ পদার্থ শক্তিতে এবং শক্তি পদার্থে রূপান্তরিত হয় । আইনস্টাইনের E = (mc)2 (squre)  সুত্রানুসারে, পদার্থ ও শক্তির মোট পরিমাণ ধ্রুবক থাকে । এখানে আমি আলোচনা করবো পদার্থ ও শক্তির মোট পরিমাণের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে।  প্রশ্নটি হলো এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এই শক্তিকে কে নিয়ন্ত্রণ করে ?

কয়েকজন মানুষ যেমন পরিবার গঠন করে, তেমনই কতগুলি পাড়া বা ওয়ার্ড এর সমষ্টি গ্রাম বা শহর, একই ক্রমানুসারে তৈরী হয় ব্লক – জেলা – রাজ্য – দেশ – মহাদেশ । মহাদেশ ও মহাসাগরের সমন্বয়ে আমাদের পৃথিবী । সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ বল এই পৃথিবীর গতিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ করে তেমনই সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহ, উপগ্রহের গতিও নিয়ন্ত্রণ করে । একইভাবে লক্ষাধিক সৌরজগতের সমষ্টি হলো গ্যালাক্সি এবং লক্ষাধিক গ্যালাক্সির সমন্বয়ে তৈরী এই মহাবিশ্ব(universe) । সৌরজগতের প্রতিটি গ্রহ, উপগ্রহ যেমন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে আপন বেগে অবিরাম গতিতে সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে তেমনই গ্যালাক্সির প্রতিটি সৌরজগৎ আপন বেগে অবিরাম গতিতে সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে চলেছে । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, উক্ত গ্রহ – নক্ষত্র – গ্যালাক্সির নিজেদের মধ্যে কোন সংঘর্ষ  নেই ! তাহলে কী তাদের সুনির্দিষ্ট গতির পিছনে কোন নিয়ন্ত্রক আছে ? অবশ্যই আছে । কী সেই নিয়ন্ত্রক ? উত্তর হলো শক্তি ।

নিউটনের গতিসূত্র থেকে আমরা জানি কোন গতিশীল বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে বাহ্যিক বল । সুতরাং গ্রহ – নক্ষত্র – গ্যালাক্সি বা মহাবিশ্বের গতি নিয়ন্ত্রণ করে বাহ্যিক কোন বল বা বাহ্যিক কোন শক্তি । যে শক্তির প্রভাবে মহাবিশ্বে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে গতিশীল । মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইন উক্ত বাহ্যিক শক্তিকে “GOD” নামে অভিহিত করেছেন ।

বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান কোন বস্তুর উপর যেমন বৃত্তের কেন্দ্রাভিমুখী অভিকেন্দ্র বল ক্রিয়া করে তেমনই ঐ বস্তুর উপর বৃত্তের ব্যাসার্ধবরাবর বহির্মুখী অপকেন্দ্র বল ক্রিয়া করে । এই দুটি বল যখন পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী হয় তখনই বস্তুটি বৃত্তাকার পথে ঘুরতে পারে । অভিকেন্দ্র বল বেশী হলে বস্তুটি বৃত্তপথের কেন্দ্রের দিকে আছড়ে পরে । আবার অপকেন্দ্র বল বেশী হলে বস্তুটি বৃত্তের স্পর্শক বরাবর ছিটকে বেরিয়ে যাবে । সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সময় যেমন সূর্যের মাধ্যাকর্ষণ বল বা অভিকেন্দ্র বল কেন্দ্রাভিমুখী ক্রিয়া করে তেমনই ব্যাসার্ধ বরাবর বহির্মুখী অপকেন্দ্র বল ক্রিয়া করে যা পৃথিবীর সুনির্দিষ্ট বৃত্তীয় গতি সৃষ্টি করে । একইভাবে অন্যান্য গ্রহ – নক্ষত্র বা গ্যালাক্সি এমনকী মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য হয় ।

সুতরাং কোন এক শক্তি যেমন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে কেন্দ্রভিমুখী ধরে রেখেছে অপর এক শক্তি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে বাইরের দিকে যেতে সাহায্য করছে । অর্থাৎ উক্ত শক্তি একে অপরের বিপরীত । অন্যভাবে কোন শক্তি মহাবিশ্বের পক্ষে ধ্বংসাত্মক ভূমিকা নিয়ে চলেছে l প্রথম প্রকার শক্তি ধনাত্মক হলে দ্বিতীয় প্রকার অবশ্যই ঋণাত্মক শক্তি ।

ধনাত্মক শক্তি মহাবিশ্বের গঠনমূলক বৈশিষ্ট্যের জন্যে দায়ী হলে ঋণাত্মক শক্তি মহাবিশ্বের ধ্বংসাত্মক বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী । অথচ কী অপূর্ব এই প্রকৃতির সৃষ্টি – ধনাত্মক শক্তি ও ঋণাত্মক শক্তি পরস্পর সমান ও বিপরীত – যা বিশ্বপ্রকৃতিকে ধারণ করে রেখেছে । সেই ধারক বা নিয়ন্ত্রকই যে ঈশ্বর,তা ভাবলে ক্ষতি কী ?

——-


FavoriteLoading Add to library

Up next

গল্প- পদ্য, আমিই কাব্য!!... আমি সৃষ্টির ওপর চেয়ার লাগিয়েপা দুলিয়ে চুরুটে টান দিয়ে দেখিধ্বংসের নৃত্য !!আমি গল্প- পদ্য, আমিই কাব্য !!আমার বিনাশ নেই.আমার নেই সমাপ্তিআমি ধূমায়নে অস্থ...
অনুপ কুমার-আমার দৃষ্টিকোণে – অস্থির কবি(কল্... আজ একজন দিকপাল অভিনেতাকে নিয়ে আলোচনা করব তাঁর  নাম হল অনুপ কুমার দাস,যিনি সকলের কাছে অনুপ কুমার নামেই বেশী পরিচিত । অল্প বয়সে তিনি কিন্তু সিনেমা জগত...
অন্ধকারের চোরাবালি... অনৈচ্ছিক সঙ্গমে প্রতিপক্ষের উল্লাস থামাতেঅস্ফুটে বেড়িয়ে আসা শিৎকারকেযখন গলা টিপে খুন করেছিলাম তলপেটের নিচে,তখন অসহায় লিঙ্গ নাভিপদ্মের যন্ত্রণা বাড়...
রিইউনিয়ন - প্রদীপ্ত দে  কিছু কিছু ঘটনা সব মানুষের জীবনেই মনে হয় ঘটে যাতে তাঁর স্বাভাবিক ছন্দে চলা জীবনটার তাল কেটে যায় । আমি তখন কর্মসূত্রে মুর্শিদাবাদে থাকি...
একটি হাত- শাশ্বতী সেনগুপ্ত...   ক’দিন ধরে অসুস্থ থাকার জন্য মৌ স্কুলে যেতে পারেনি। সে শিক্ষকতা করে একটি প্রাইমারি স্কুলে। তার পাশের পাড়ায় থাকেন তার বৃদ্ধ মা বাবা। ক’দিন ধরে ম...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment