বিরল বিবাহ -বিভূতি ভূষন বিশ্বাস

হিন্দু সমাজে আট রকম বিবাহের কথা বলা আছে তার মধ্যে চার রকমই দেখা যায় তবে বিখ্যাত হলো দুই রকম ১) দেখা শুনা করে বিয়ে । ২) প্রেম করে বিয়ে ।

আচ্ছা সব বুঝলাম আপনি শুধু হাতটা ভালো করে দেখে বলুন বিয়ে আমার কপালে আছে …. নাকি নেই ।

জ্যোতিষী মহাশয় হাতটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বললেন …… বিয়ে আছে তবে বিয়েটা আট রকমের মধ্যে তো নয়ই । বিয়েটা হবে দেখাশুনা আর প্রেম এর মাঝামাঝি যায়গাতে ।

কি বলেরে বাবা আমি প্রেম করে বসে আছি ওকেই বিয়ে করব আর বলে কিনা ………..বদ্ধ পাগলের কাছে এসে পারলাম । ১০১ টাকা দিয়ে তাড়াতাড়ি কেটে পারলাম । মাস ছয়েক পরে এক সন্ধ্যায় আমার পিওনের বাড়িতে অনেক লোকের জটলা । হ্যাঁ  ঠিকই ধরেছেন পিওন মানে আমাদের প্রেমের চিঠি যে দেওয়া নেওয়া করতো । তখন তো আর মোবাইল ছিলনা । একমাত্র ভরসা ছিল চিঠি । আবার ধরা পড়লে আর জীবিত রাখত না । পিওনের বাড়ি গিয়ে দেখি পিওন একটা মেয়েকে মাথায় সিঁদুর ঘষে দিয়ে বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে এসেছে । ভিতরে ঢুকে বৌ দেখে আমি অজ্ঞান । এ যে আমার ও ।  পরে শুনলাম আমার চিঠি ওকে দিতো না । আর ও নিজে লিখে আমাকে ওর চিঠি বলে চালাতো । নিজের ভুল বুঝতে পেরে ওর বাড়ি আর মাড়াতাম না । বাবা মা অনেক মেয়ে দেখে শুনে পছন্দ না হওয়াতে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে বলল তোর আর বিয়ে টিয়ে হবে না । পাঁচ ভাই বোন সকলেই যে যার মতো বিয়ে করে নিল, তুই আর পারলি না । তুই আই বুড়ো থাক ।

           বেশ কয়েক বছর পর বাবা মায়ের সঙ্গে বাবার বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে গেছি । সবাই কি সুন্দর সেজেছে আর হৈ হুল্লোড় করছে । দেখে আমার মনটাও আনন্দে নেচে উঠল । চোখ বুজে নিজের বিয়ের স্বপ্ন দেখছি । কানে বিয়ে বাড়ির সানাইয়ের সুর আর মাঝে মাঝে মেয়েদের অট্টহাসি শুনতে পাচ্ছি । চোখ খুলছি না যদি স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় । হঠাৎ বিয়ে বাড়ি নিস্তব্দ হয়ে গেল । মাইকও আর বাজছে না । চোখ খুলে দেখি সকলে মুখে তালা লাগিয়েছে । দুই একজন ফিসফিস করে কানে কানে কথা বলছে । হঠাৎ মেয়ের বাবা উঠুনে এসে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে নিলো । বাবা দৌড়ে গিয়ে বন্ধুকে বাচাল । বাবা বলল …… ধুর পাগল আমিতো আছি ।

        বাবা আমার হাত ধরে কনের ঘরে নিয়ে বলল বাবা তুমি আমার ছেলে না । এই নববধূ আমার মেয়ে তুমি ওকে বিয়ে করবে বাবা । বাবার এই রূপ আমি কোনদিন দেখিনি । বাবার মুখের উপর কোনদিন কথা বলতে পারিনি । আজও পারলাম না । বরের পোষাক পরে মন্ডপে হাজির হলাম । সবাই খুশি । আবার আনন্দ করতে শুরু করলো সকলে । পরে শুনলাম পণের টাকা জোগাড় না হওয়াতে ছেলের বাবা বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ।

         ফুলশয্যার রাতে যেই আমি ঘরে ঢুকেছি নববধূ বলল আমি তোমাকে ভালো করে চিনি !

আমি বললাম কি করে ?

ও বলল …. তুমি টাইপ কলেজের সামনে হা করে দাঁড়িয়ে থাকতে । আর আমি গার্লস ইস্কুল থেকে মেয়েদের সঙ্গে বেরোবার সময় তোমাকে দেখতাম ।

আমি বললাম …..ও আচ্ছা ।

ও বলল ….. আমাদের ইস্কুলের দিশারী পত্রিকাতে তোমার গল্প ছাপা হয়েছিল আমার খুব ভালো লেগেছিল । তোমার সঙ্গে কথা বলার খুবই ইচ্ছা ছিল কিন্তু ভয়ে কথা বলতে পারিনি । তারপর ওই যে তোমাদের ফুল গাছের ডাল ভেঙ্গে ছিলাম আর তুমি লাঠি নিয়ে মারতে এসে আমাকে দেখে আর মারোনি লাঠিটা পিছনে লুকিয়ে আস্তে আস্তে বাড়ি গিয়ে মা কে মিথ্যা কথা বলেছিলে, না…না… মা কেউ ডাল ভাঙ্গেনি । আমার সব মনে আছে ।

আরো কত কথা যা আমার সম্পর্কে তাই আমি জানি না । হঠাৎ জানালা দিয়ে দেখি পাখিরা ভোরের গান গাইছে । কখন যে ভোর হয়ে গেল বুঝতেই পারলাম না ।

____


ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment