বিলম্বিত মানিক প্রাপ্তি – অস্থির কবি

নবরত্ন পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকেই চলচ্চিত্র সংক্রান্ত লেখা এই পত্রিকাটিতে আমি লিখে আসছি। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের আগ্রহ এবং তাদের শ্রদ্ধা সম্মানে ভীষণই অভিভূত হয়েছি। পাঠকেরাও ভীষণ  ভাল সাড়া আমার লেখাগুলোতে দিয়েছেন এটার জন্য তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। প্রত্যেকের লেখার ই কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে আমার ও আছে। আমার লেখাগুলো সম্পূর্নই নিজস্ব অভিজ্ঞতা লব্ধ। না না, কাজের অভিজ্ঞতা নয়, দেখার অভিজ্ঞতা, আর সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে এসব বিষয়ে যারা আগ্রহী তাদের সামনে তুলে ধরা। লেখাগুলো কারো ভাল না লাগলে সেটা তার অধিকার আর এতে কেউ আমিত্বের গন্ধ পেলে আমি দু:খিত। কিন্তু চর্মচক্ষে, মনে মননে যা অনুভব করিনি তাকে তুলে ধরা আমার পক্ষে অসাধ্য কাজ। আর যা অনুভব করেছি সেটা না বলা অপরাধ বলে মনে করি। সহজ সরল যে ভাষায় কথা বলি সেই ভাষাতেই আমি লিখি। লিখি অনুভব থেকে, বিশ্বাস থেকে সততার সঙ্গে স্বীকারোক্তির সঙ্গে। এতে আমার মত আনকোরা মানুষের লেখা হয়ত অপরিণত মনে হতে পারে অনেক চলচ্চিত্র বিদগ্ধ মানুষের কাছে কিন্তু লেখাগুলো যে মৌলিক সেটা আপনারা পড়লেই বুঝতে পারবেন। আশা রাখব আমার নবরত্নে লেখা পুরানো আর্টিকেলগুলো যারা পড়েন নি তারা পড়বেন।

বিষয়ে আসি, মানিকদা বলে ফিল্ম ওয়ার্ল্ডে যাঁকে সবাই চেনেন, সেই সুকুমার পুত্র, উপেন্দ্র সারদারঞ্জন দের যোগ্য উত্তরাধিকারী সত্যজিৎ রায়ের সাথে আমার প্রথম পরিচয় ছেলেবেলায় আনন্দমেলা পত্রিকার একজন পাঠক হিসাবে। ওনার লেখা ছাপত ওখানে যদিও সেগুলো আমার ছোটবেলায় সেভাবে পড়া হয় নি। সত্যজিৎ বাবুর জীবদ্দশায় তাঁকে সেভাবে চিনিনি। তিনি মারা যাবার কিছুদিন আগে অস্কার পাবার পর জানলাম যে তিনি এতগুলো ছবি ডিরেক্ট করেছেন। তার প্রয়াণের অব্যবহিত পরেই দূরদর্শনের রেটোস্পেকটিভে তাঁর চলচ্চিত্রগুলির সাথে পরিচিত হই। দেখি পর পর একের পর এক ছবি – পথের পাঁচালী, অপরাজিত, অপুর সংসার, জলসাঘর, সোনার কেল্লা, তিনকন্যা, অভিযান, দেবী, জয় বাবা ফেলুনাথ, নায়ক, গুপিগাইন বাঘাবাইন, শাখা প্রশাখা, গনশত্রু ইত্যাদি। তার মধ্যে সব চেয়ে ভাল লেগেছিল – গুগাবাবা, জলসাঘর, তিনকণ্যা আর গণশত্রু। “গণশত্রু” ছোট হলেও আমার খুব ভাল লেগেছিল। তার কারণ  কাহিনীর গতি এবং বিষয়বস্তু। কিভাবে প্রতিটা সেনসিটিভ ব্যাপারে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটে তা এই সিনেমাটা দেখলেই বোঝা যায়। ছোট ছিলাম বলে “গুপী বাঘা” ভাল লেগেছিল। পরে “জয় বাবা ফেলুনাথ” এবং “সোনার কেল্লা” ও ভাল লাগে।

সেটা কৈশোর কাল। কিন্তু যৌবনের প্রারম্ভে আমি অনুরক্ত হয়ে পড়ি ওনার লেখার। ফেলুদা সিরিজ এবং ওনার লেখা ছোটগল্পের সম্ভার আমায় মুগ্ধ করে তোলে। খুব ভাল লাগে প্রফেসর শঙ্কু ও। আমার বন্ধুরা এবং কয়েকজন সিনিয়র মানুষ তখন আমায় একটু কটাক্ষের সুরেই বলেছিলেন – সত্যজিৎ বাবু বাচ্চাদের জন্য ভাল লেখেন। কিন্তু সদ্য টিনেজ পার করা আমার সেই লেখাগুলো খুব ভাল লেগেছিল পড়তে। সব গল্পের শেষে একটা করে চমক। এটা আমার দারুন লাগত। কখনো মনে হয়নি এগুলো পড়া শুধু বাচ্চাদের একচেটিয়া অধিকার। বরং আমার মনে হয় বড়রা এই গল্পগুলো না পড়লে অনেক ভাল জিনিস মিস করবে। আর যারা নিছকই একে বাচ্চাদের গল্পই ভাববেন, তারা না হয় কিছুক্ষণের জন্য ফিরে গেলেন ই বাল্যকালে। হার্টের ব্যামো, প্রেসার সুগার থাকলে তাতে কিছুটা কমে গেলেও যেতে পারে। আসলে ছোটবেলায় আমি অন্যদের লেখা যেভাবে পড়েছি, সত্যজিৎ বাবুকে সেভাবে পাইনি। সেটা আমার দূর্ভাগ্যই বটে কারণ তখন এমন ইন্টারনেটের যুগ ছিল না। তা ছাড়া আমার দশ বছরের জন্মদিনে আমার এক দিদি আমাকে হত্যাপুরী গিফট করলেও সেটা আমি তখন পড়িনি, পড়লেও কিছুই বুঝিনি। অনেক পরে সেটা পড়েছিলাম।

সত্যজিৎ বাবু যে একজন বহুমুখী প্রতিভা সেটা একটু বড় হয়ে জেনেছি। এবং এটাও বুঝেছি যে বাংলায় আজ অবধি যত বড় বড় প্রতিভা এসেছেন, মানিক বাবু ওরফে সত্যজিৎ রায় তাদের প্রথম সারিতেই থাকবেন। আমার বলা না বলাতে কিছু যায় আসে না, কোন হরিদাস পাল আমি, উনি নিজগুনেই আছেন থাকবেন। এরকম প্রতিটা ক্ষেত্রেই এত দক্ষতা খুব কম লোকেরই দেখা গেছে। আঁকার কথাই ভাবা যাক। কি সব ইলাস্ট্রেশন ! উনি শৈল চক্রবর্তীর ফ্যান ছিলেন এবং সেই ধারাকে নকল না করে সম্পূর্ন নিজস্ব স্টাইলে ইউনিক প্রেজেন্টেশান করেন। ওনার গল্প গুলোর সমস্ত আঁকা, প্রচ্ছদ ওনার করা। বেশ কিছু সিনেমার পোস্টার নিজের করা। সেগুলো সবই কালজয়ী সৃষ্টি সে বিষয়ে আজ আর কারোই কোন সন্দেহ নেই। যেটুকু করেছেন, অসম্ভব যত্ন সহকারে ভাবনা সহকারে করেছেন। ফলে ব্যাক্তিত্বটি যা ছুঁয়েছেন, তা ই সোনা হয়ে ফলেছে।

এবার একটু সেই দিকে যাই যার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। অর্থাৎ ফিল্মমেকার সত্যজিৎ। প্রথমেই বলি একটা বিষয় আমার খুব দু:খ লাগে যে এই লেভেলের একটা মানুষকেও প্রাথমিকভাবে প্রডিউসার পেতে কত কষ্টই না করতে হয়েছে। উনি যদি বড় বড় প্রডিউসার পেতেন যা অন্যান্য কমার্শিয়াল ছবির পরিচালকেরা পেয়েছেন তাহলে আরো অনেক অসাধ্যসাধন করতে পারতেন। কারন তার ছবির কমার্শিয়াল ভ্যালু কোন অংশে কম ছিল না। সেটা পরবর্তীকালে বুঝে যান আর ডি বনসল এবং টানা তার বেশ কিছু ছবি প্রডিউস করেন যা ওনার মত ফিল্মমেকার কে প্রচুর অক্সিজেন দিয়েছিল, সন্দেহ নেই।

সত্যজিৎ বাবুর কোন কোন ছবি আমার ভাল লেগেছিল বলার আগে কোন ছবিগুলো ভাল লাগে নি তা আমি বলে নিই। আমার ভাল লাগে নি – অপু ট্রিলজির প্রথম দুটো সিনেমা, জন অরণ্য, সীমাবদ্ধ ও প্রতিদ্বন্দ্বী। তার সহজ কারণ প্রথম দুটো ছবি খুব দু:খের। আর পরের তিনটে ভাল বুঝি নি। আমি মূলত মধ্যধারার সিনেমার দর্শক। এই ছবি কয়টি একটু বেশী রসকসহীন বলেও ঠেকেছে আমার কাছে। হয়ত আরেকটু বয়স ও অভিজ্ঞতা বাড়লে ভাল লাগলেও লাগতে পারে। ছবিগুলোর আর্টিস্টিক ভ্যালু নিয়ে কিছু বলব না কারণ তা করার যোগ্যতা বা ধৃষ্টতা আমার নেই। সিনেমা গুলো খুব বেশী মন দিয়ে আমি দেখিও নি সেটা আমার ফিল্ম ভিউয়ার হিসাবে দূর্বলতা বা দীনতা ও ভেবে নিতে পারেন। একটা চাল টিপেই গোটা ভাত বুঝে নেয়া যায়। সিনেমাখোরেদের কাছে এটাই সিনেমা দেখার স্টাইল। আর আমাদের একটা পুরো ব্যাচ এমন সিনেপাগলা ছিলাম যে সিনেমা দেখার জন্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সের পরীক্ষার লাস্ট পেপার কোনরকমে লিখে আর্লি জমা দিয়ে পালিয়েছিলাম। অবশ্য এই লেখা যারা পড়ছেন তারা কমবেশী সবাই প্রায় এরকমই। গল্প পড়ার সময় নেই গল্প শোনার অবসর নেই কিন্তু গল্প দেখার স্পেস আমরা ঠিকই বের করে নিই নিজেদের মত করে। বিভুতিভূষনের মন ভাল করা উপন্যাস পথের পাঁচালীকে আপাদমস্তক একটা দু:খের ছবি বানিয়ে দেন সত্যজিৎ রায়। এ নিয়ে অনেকে সমালোচনাও করেন। যদিও সিনেমা হয় সুপার ডুপার হিট। দেশে বিদেশে পায় প্রচুর সন্মান। ছবির সেট ও ক্যামেরার কাজ ছিল দেখার মত। তবে এই ছবির অপু চরিত্রকার সুবীর ব্যানার্জীর জীবন অবলম্বনে নির্মিত কৌশিক গাঙ্গুলির অপুর পাঁচালী কিন্তু আমার অসাধারন লেগেছিল। ভাল লাগা – তা কি কোন হিসেব মানে !

তাই এবার আসি ভাললাগার ছবিগুলোর কথায়। বাকি সব ছবিই ভাল লেগেছে কমবেশী। অসাধারন লেগেছে কি কি সেটা বলাই শ্রেয়। প্রথমেই বলি উত্তমকুমারের ছবিদুটোর কথা। নায়ক ও চিড়িয়াখানা। যেকোন উত্তম ভক্তের কাছেই ছবি দুটো অ্যাসেট। বিশেষ করে নায়ক তো অনন্যসাধারন একটা সিনেমা। জানি অনেকে দাঁত কিড়মিড়াচ্ছে। ব্যাটাচ্ছেলে সত্যজিতের সিনেমার ভালোমন্দ বাছছে। তাদের বলি পছন্দ অপছন্দ একটা ব্যাক্তিগত অনুভবের ব্যাপার, সেখানে কোন জোর খাটে না। সত্যজিৎ বাবুর গুগাবাবা সিরিজ এর দুটি ছবি ভীষণ পছন্দের আমার। তিন নম্বরটা ওনার ছেলে সন্দীপবাবুর ডিরেকশান তাই তাকে আপাতত আলোচনার বাইরে রাখছি। প্রথম ছবিটার সরলতা আর দ্বিতীয় ছবিটার জটিলতা দুর্দান্ত লেগেছিল। আমার তো মনে হয় হীরক রাজার দেশে বিশ্ব চলচ্চিত্রের সব থেকে বেস্ট সিনেমা গুলোর একটা। আগের টায় যেমন গল্পসূত্র উনি পেয়েছিলেন ওনার ঠাকুরদার কাছ থেকে। কিন্তু পরের টা তো সম্পূর্ন মৌলিক। আর ছন্দমিল! তা তো আজো বিভিন্ন চ্যানেল নকল করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বানায়। কিন্তু এভাবে যে কথা বলে পুরো একটা সিনেমা হয়ে যায় তা মানিক বাবুই প্রথম করে দেখান। সিনেমা খুব ভাল লেগেছিল অরণ্যের দিনরাত্রি। সত্যি দারুন লেগেছিল। ছোটবেলায় বাড়ির লোকেরা দেখতে দেয় নি। একটু বড় হয়ে দেখেছি। সব থেকে ভাল লেগেছিল রবি ঘোষ ও কাবেরী বসু কে। বাকিরাও যথাযথ। কি একেকটা সিন সব ! আর কোন ভারতীয় সিনেমায় এরকম বিষয় নিয়ে ছবি কখনো দেখিনি। সেই স্নানের সিন, মেমোরি গেম, কাবেরী বোসের সেই গয়না পরা গায়ে শুভেন্দুর কাছে আসা। অভাবনীয়। লেখক সুনীল গাঙ্গুলীর খুব বেশী ভরসা ছিল না এ কাহিনীর চলচ্চিত্রায়ন নিয়ে। কিন্তু তার ধারনাকে ভুল প্রমাণ করে ছবি হয় বিশ্ববিখ্যাত। সাথে লেখক ও।

অবশ্য যে সিনেমাটার নাম সবার আগে করা উচিত ছিল তার নাম – পরশ পাথর। আসলে আমি অনেক বড় হয়ে পরশপাথর দেখি। আর কি দেখিলাম, আহা, জন্মজন্মান্তরেও ভুলিব না। তুলসী চক্রবর্তীর অসাধারন অভিনয়। যেমন বিষয়, তেমন কাহিনী, তেমনই চিত্রনাট্য। এ ছবিকে আমি সো কল্ড আর্ট ফিল্ম ভাবতে পারি না। যদিও এটা অতি উচ্চস্তরের আর্ট। কমেডিকে আমরা চিরকালই হেয় করে গেলাম। আঁতেল ফিল্মমেকার রা তো করেছেনই। কিন্তু মানিকবাবু ও পথ মাড়ান নি।চারুলতা আর জলসাঘরের প্রতিটি ডিটেলিং দেখার মত। একই কথা খাটে হিন্দি ছবি শতরঞ্জ কি খিলাড়ির ক্ষেত্রে। কি সুন্দর সেই সিনেমাটা ! খুব খুব প্রিয় আমার। এটাও কিন্তু খুব বেশীদিন আগে দেখা নয়। অশনি সংকেত সিনেমাটার সিনেমাটগ্রাফি আমার দারুন লেগেছিল। সেখানে প্রতিটি শিল্পীকে তিনি যেভাবে ব্যবহার করেছেন, অসীম দক্ষতা ছাড়া সে জিনিস অসম্ভব। অশনিও আমি ছোটবেলায় মিস করে যাই। পরে কেবল টিভি আসার পর সেটা দেখা। ঈশ্বরদত্ত প্রতিভা আর অসম্ভব উচ্চমানের শিক্ষায় নিজেকে শিক্ষিত না করলে একজন মানুষ নানান দিকে এমন অদ্ভুত সৃষ্টি করতে পারেন না। আর তার ইনভলভমেন্ট ভাবুন ! সিনেমার চিত্রনাট্য, সামগ্রিক পরকল্পনার পাশাপাশি যে সঙ্গীত দিয়েছেন তা চলচ্চিত্র জগতে অনন্য হয়ে আছে। অপু ট্রিলজির তিন নম্বর ছবি অপুর সংসার খুব খুব ভাল লেগেছিল আমার। কলকাতা গ্রামবাংলা আর আমাদের বাস্তবিক জীবনের যে অপূর্ব মেলবন্ধনের সৃষ্টি সেখানে হয়েছিল তা সত্যি বড় হৃদয়গ্রাহী। অভিযানের স্টান্টগুলো ছোটবেলায় ভাল লেগেছিল। ভাল লেগেছিল দেবীর চলচ্চিত্রায়ন। আর তিন কণ্যা ! এই তিনটে আলাদা গল্পের কনসেপ্ট নিয়ে ছবি এটা ওনার আরেক অভিনবত্ব। পরে অনেকেই সেটাকে ফলো করেছেন, আগে কেউ করেছেন কিনা আমার জানা নেই। কি অসাধারন ট্রিবিউট দিয়েছেন তিনি রবিঠাকুরকে ভাবা যায় !  সমাপ্তির অপর্না ত তার আবিষ্কার আর মনিহারা তে কনিকা মজুমদার আর কালীবাবুর অভিব্যক্তি কখনো ভোলার নয়।

সব শেষে একটা কথা বলি, সত্যজিৎ রায় তার জীবনে যা করেছেন যতটুকু করেছেন, কোয়ালিটি কাজ করেছেন। এই জিনিসটা আমার ভীষণ ভাল লাগে। আমরা সবাই যদি আমাদের জীবনে এতটা মনোযোগী ও নিখুঁত হতে চেষ্টা করতাম তা হলে হয়ত আমাদের জীবনটা আরো সুন্দর হতে পারত। আর যারা নানারকম আর্ট ওয়ার্কের সাথে যুক্ত তাদের ক্ষেত্রে এ কথাটা যে কতটা খাটে তা আর্টিস্ট মাত্রেই জানেন। যাহোক, একটি লেখায় সত্যজিৎ বাবু সম্বন্ধে আমার যে শ্রদ্ধা তা প্রকাশ করতে পারলাম না। সম্ভব হলে আবার একটি লেখায় তার সম্বন্ধে আরেকটু বিশদে লিখব এবং তার ছবিগুলো নিয়ে একত্রে বা আলাদা আলাদা ভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করব। যদি এই লেখায় কোনরূপ কিছু বেঠিক লিখে থাকি আপনারা নিজগুনে আমাকে মার্জনা করবেন।


FavoriteLoading Add to library
Up next
একটা রাত – মুক্তধারা মুখার্জী...  উফফ! আজকে একটু বেশীই রাত হয়ে গেলো। এখন তো কোনো ট্যাক্সিও পাবো না। আর মেইন রাস্তার মোড় অব্দি না গেলে ওলাগুলোও আজকাল ঠিকঠাক পাওয়া যায় না। নাঃ! হাঁটতেই ...
একটা খুন – বৈশাখী চক্কোত্তি... কি ভেবেছিলে, তুমিই করবে ঠিক আমার মনের খুন? ধারালো বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাবে বহুক্ষণ?? ভুলে গেছো, যন্ত্রনা পাবার নতুন করে আর নেই...
অন্য ভালোবাসা -   তুষার চক্রবর্তী     চিন্ময় প্রায় কুড়ি বছর পর রাত্রে খেয়ে দেয়ে মামাবাড়ির ছাদে বসেছে। গরমকালে রাত্রে খেয়ে দেয়ে এই ছাদে বসার অভ্যাসটা তার...
লাইটহাউস – সৈকত মন্ডল... আরও একটা বছর, আরও কয়েকটা মাইলস্টোন, তাতে লেখা স্বপ্নপূরনের দ্বুরত্ব, আরও কিছুটা রাস্তা, অন্ধকার, তবে কেন জানিনা ঠিক নিসঙ্গ নয়, অচেনা, অজানা কেও...
দৃষ্টি চকিত চোখের মধ্যে চোখ রেখে দেখি পাপড়ি মেলছে রোদের কুসুম ; যেখানে বর্গ ইঞ্চিতে সাঁতার কাটে চোরা ঘূর্ণী , মায়ার চন্দন লেপে দেয় নবমীর ললাটে , বুকের ভিতর দগ...
মুখোশ – মৌসুমী খাঁ... এই পৃথিবীতে দেখি অনেকেই মুখোশ পরে আছে, ওই যে এক দম্পত্তি বেশ সুখীসুখী যাচ্ছে অনুষ্ঠান বাড়ি , তারাই আবার বাড়ি ফিরে মুখোশ খুলে করছে চুলোচুলি l আর ...
মন মিলান্তি(পর্ব-৪~শেষ পর্ব)... #মন_মিলান্তি_পর্ব_৪ #মুক্তধারা_মুখার্জী #চরিত্র_ঘটনা_কাল্পনিক,#মিল_খুঁজে_পেলে_লেখিকা_দায়ী_নন😊 বমিটা হওয়ার পর থেকেই শরীরটা কেমন করছিল যেন শ্রেয়সীর। ত...
বর্তমান – সমর্পণ মজুমদার...         মানুষ স্বপ্ন দেখতে খুব ভালোবাসে। অতীতের স্মৃতিরোমন্থন করে সুখ লাভ করে। ভবিষ্যতের ইচ্ছেগুলো কল্পনা করেও রোমাঞ্চিত হয়। আমরা বেশিরভাগই চিন্তা ...
আত্মোপলব্ধি -দীপ্তি মৈত্র... সাহিত্যের রূপ দুটি,তথ্য ও সত্য। তথ্যের মধ্যে জ্ঞান থাকে, সত্যের মধ্যে বোধ। সাহিত্যের সত্য আর অন্তরের সত্য মিলে সৃষ্টি হয় নতুন সত্ত্বা- তার নাম আ...
ফ্যাশন শো – অন্বয় গুপ্ত... ফ্যাশন শো। এরই নাম গভীর রাত ! শাটার টেনে দোকানি ছুটে গেল র‍্যাম্পের শেষ মাথায়-স্টেশন নাম ! ঘামের মেকআপ তোলা বাকি। ভ্যানওলা,লুঙি গেঞ্জির কস্টিউমে ...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment