ভালোবাসার শহর – সুশান্ত ভট্টাচার্য

রোজ সকালে পিহু তার এসি গাড়িতে করে তার
স্কুলে যায় আর সেই গাড়িতেই ফিরে আসে ।
এসেই তার খিদে পায়, মায়ের হাতে ভাত খেয়ে
তার নিজের ঘরে খাটে গোলাপী চাদরটা গায়ে দিয়ে
মার কাছে “একদা একসময়” এর একটাই গল্প
শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে যায় ।
স্বপ্নে সে দেখতে পায় মায়ের গল্পের সেই
“একদা একসময়” এর একটা –
ভালোবাসার শহর ।
“সেই শহরে সবাই সুখে -শান্তিতে বসবাস করে ,
যে যা চায় তাই পায়, ভগবান সবার কথা শোনেন,
কেউ কখনো খালিপেটে শোয় না ,
সবাই মিলেমিশে থাকে পরিবারের মত ।”
এই শহরটা পিহু রোজ খুঁজতে থাকে নিজের শহরে ,
তার এসি গাড়িতে করে ফেরার সময়
সেই ব্যস্ত রাজপথটাতে ,
তার পাড়ার সেই চৌরাস্তার মোড়ে ,
সোফায় বাপি আর বাপির বন্ধুদের চা-স্ন্যাক্স
এর সঙ্গে চলা আলোচনায়,
তার জাপানি পুতুল ভর্তি গোলাপী ঘরটাতে ,
আর তার স্বপ্নে –
কিন্তু স্বপ্ন ছাড়া আর কোথাও পায়না পিহু
সেই শহরটাকে !
স্কুল থেকে ফেরার রাস্তায় গাড়ির জানালা দিয়ে
সে দেখে একটা পাগল ভিখারিকে –
কোনোরকমে গায়ে জড়ানো জামাকাপড় ,
হাতে দুটো টাকা, জটা ধরা চুল,
বুক ছাপানো দাড়ি আর আকাশের দিকে তার
একটা সাদা দৃষ্টি –
কি যেন তার সেখানে হারিয়ে গেছে !
ওধারে ব্রীজের নীচে সে দেখতে পায়
কয়েকটা সংসার –
দুটো উলঙ্গ বাচ্চা, তাদের মা, একটা ভাঙা উনুন,
দড়িছেঁড়া খাটিয়া , দুটো ফুটো থালা আর
দড়িতে টাঙানো তিনটে ছেঁড়া শাড়ির কয়েকটা
চিরনেই এর সংসার!
সামনে জুতো পালিশের দোকানের ওরই বয়সি
একটা ছেলেকেও দেখে পিহু –
চিরমলিন গালে কাটা দাগ, প্রায় ন্যাড়া মাথা ,
ছেঁড়া হাফপ্যান্ট, খালি গা , ময়লা হাত পা আর
কর্কশ গলায় “বুট পালিশ, জুতো পালিশ” চেঁচানো
একটা রাস্তার সন্তান!
এসব দেখে পিহু চুপটি করে ভাবে ঐ শহরটা
নিশ্চয়ই মিথ্যে – কোথাও নেই শহরটা ,
তার ঠোঁট ফুলে যায়, চোখ দিয়ে জল পড়ে ।
একদিন সেই রাস্তায় মুষলধারে বৃষ্টি নামে –
পিহু সিগন্যালে আটকে থাকা গাড়িটার জানালা
দিয়ে কৌতুহলে মুখ বাড়ায়, আর দেখে –
সবাই এদিক-ওদিক ছুটছে ভিজে যাওয়ার ভয়ে
কিন্তু সেই উলঙ্গ ছেলেগুলো বাইরে চলে এসেছে ,
বৃষ্টিতে তারা নাচছে- খুব নাচছে একটা সবুজ আনন্দে।
সেই জুতো পালিশের ছেলেটাও চলে এসেছে ,
এবার ঐ পাগলটাও কোথা থেকে চলে আসে –
আর কিসের যেন খুশিতে সবাই নাচতে থাকে ,
আর সেই সংসার গুলোর কর্ত্রীরা ময়লা দাঁত বের করে
ছেঁড়া খাটিয়াগুলোয় বসে, ওদের দেখে হাসতে থাকে ।
পিহু গোলাপী স্কুলব্যাগটা খুলে রেখে গাড়ি থেকে
নেমে যায়,
সেই মুষলধারায় ভিজতে ভিজতেই সে দেখতে পায়
তার সেই মিথ্যে –
ভালোবাসার শহর. . . . . . .
____


FavoriteLoading Add to library

Up next

বলিউডের দুই দেশি বয়েজের টক্কর- রাজদীপ ভট্টাচার্য্...      ১৫ই আগস্ট গোটা বলিউড দেখবে দুই দেশি বয়েসের টক্কর কারণ অক্ষয় কুমারের গোল্ড এবং জন আব্রাহামের সত্যমেব জয়তে স্বাধীনতা দিবসের দিন একই সাথে মু...
ভয়টা কীসের – সৌম্যদীপ সৎপতি... বড়াই শুনে মনে তো হয় উল্টে দেবে সরকারই, শুনতে পেলুম সেই তোমারই ভূতের নাকি ডর ভারি! লজ্জা কিসের? আচ্ছা রোসো, ধৈর্য ধরে খানিক বসো, বাতলে দিচ্ছি ভূত ভ...
স্মৃতি – স্বরূপ রায়...   ছিন্নভিন্ন দেহটা পড়ে ছিল বহুতলটার নিচে। চারিদিকে অসংখ্য মানুষের ভিড়। মাথাটার পাশে একরাশ রক্ত জমে আছে। জমে থাকা মানুষের ভিতর থেকে নানান মন্তব্য কানে ...
তেইশ বছর – গার্গী লাহিড়ী... তোমার পুরোনো চিঠিগুলো জমিয়ে রেখেছি অলস দুপরে চিলেকোঠার ঘরে ভাঙা তোরঙ্গ থেকে অতি সন্তর্পনে সেগুলো বার করি , আঘ্রান নিই পচা মাছের মতো পুরোনো স্মৃ...
অন্ধকারের চোরাবালি... অনৈচ্ছিক সঙ্গমে প্রতিপক্ষের উল্লাস থামাতেঅস্ফুটে বেড়িয়ে আসা শিৎকারকেযখন গলা টিপে খুন করেছিলাম তলপেটের নিচে,তখন অসহায় লিঙ্গ নাভিপদ্মের যন্ত্রণা বাড়...
অভিমান- শ্বেতা আইচ   আজ একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরল অভীক। তাড়াতাড়ি মানে রাত ১০টা আর কি। শ্রীময়ী কে সারপ্রাইজ দেবে। অনেকদিন পর…… বছর খানেক হতে চলল অভীক আর শ্রীময...
বিবেক নাকি অন্য কিছু – অভিজ্ঞান গাঙ্গুলী...       সাগর আজ অনেক বড় বিজ্ঞানী। ভারতের DRDO তে কর্মরত এবং তার রিসার্চ হল মডার্ন weaponary অর্থাৎ নতুন অস্ত্র বানানো হলো তার কাজ। আগের বছর গোরা...
আভাষ – শাশ্বতী সেনগুপ্ত... সব কিছুই যে ব্যাখ্যা করা যায় তা নয়। কিছু ব্যাপার থাকে যা ব্যাখ্যা করা যায় না। তেমনিই একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করব। ঘটনাটা ঘটেছিল সুকৃতির জীবনে। সুকৃতি আম...
ইগো 'আমি তো বলছি আই ডোন্ট ওয়ান্ট এনি কমিটমেন্ট নাও।''তাহলে আর কবে পারবি তুই? কেন বুঝছিস না অনল? বাড়ি থেকে অলরেডি ছেলে দেখা স্টার্ট করে দিয়েছে।''তো আমি ...
ধন্য জীবন – সরোজ কুমার চক্রবর্তী...   জীবন আমার ধন্য মাগো এমন দেশে এসে , গর্বে বলি ভারতবাসী আমি ভালোবেসে | বড় হলাম এই বাংলায় সুখে কাটাই দিন , ছোট বড় নেই ভেদাভেদ সবাই স্বাধীন...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment