ভুলেও থাকবেন না স্যার – শাশ্বতী সেনগুপ্ত

বাসটা গিয়ে যখন গুমটিতে থামলো, তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে। শীতের সন্ধ্যে তাই লোকজন ও তেমন নেই,  বিমল বাস থেকে নেমে বুঝতে পারছে না কোন দিকে যাবে। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল কিন্তু সেও সঠিকভাবে কিছু বলতে পারল না। অনির বিয়ে, তাই বিমলকে আসতে হয়েছে। অনি যা জোরজার করল না এলে অনি খুব দুঃখ পেত। কিন্তু অনির তো এখানে আসার কথা, এল না কেন বুঝতে পারছে না বিমল।
যাই হোক বাস গুমটি থেকে বেরিয়ে মোবাইলটা দেখলো, হ্যাঁ যা ভেবেছি তাই, টাওয়ার নেই… মনে মনে বলল বিমল। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা, যে কোন সময় বৃষ্টি নামবে, বেশ অসহায় বোধ করছে সে, তবুও মন শক্ত করে এগিয়ে যেতে লাগলো। আশ্চর্য হচ্ছে এটা ভেবে যে একটা লোক নেই আর কোনো দোকান পাটও খোলা নেই।

অন্ধকার রাস্তা ঘাট। হেঁটে চলেছে বিমল যদি কোন টেলিফোন বুথ পায়, তাহলে ফোন করবে অনিকে। কিছু দূর যাওয়ার পর হঠাৎ ওর চোখে পড়ল একজন যেন চাদর গায়ে বসে, নড়াচড়া করছে বলে বোঝা যাচ্ছে মানুষ। বিমল এগিয়ে গেল কাছে যেতেই কেমন একটা ভটকা গন্ধ নাকে এল। …..
ও দাদা শুনছেন… এখানে কোথাও টেলিফোন বুথ আছে? ও দাদা
লোকটা চাদরের ভিতর থেকে মুখটা বের করে বিমলকে দেখলো, তারপর ধীর স্বরে বলল, একটা ছিল কিন্তু সে তো বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু কেন সব বন্ধ? আচ্ছা দাদা বেগমপুর এখান থেকে কতদূর? গাড়ি টারি কিছু পাব?
আজ কিছু পাবেন না। আজ এখানেই থেকে যেতে হবে।
কেন এই দুরবস্থা?
লোকটা বলল, মার্ডার হয়েছে, তাই সব বন্ধ। কোন গাড়ি আসতে যেতে দিচ্ছে না। আপনি বোধহয় সরকারি বাসে এসেছেন? যত্ত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে চলে যান নইলে বিপদে পড়বেন, রাস্তায় এভাবে ঘুরলে।
কে মার্ডার হয়েছে?
একটি নিরীহ মানুষ। আপনি একটা কাজ করুন, একটু এগিয়ে ডান দিকে তাকালে দেখবেন থানা ওখানে যান, ওরা হয়তো আপনাকে কোনভাবে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু স্যার এখানে থাকবেন না।

লোকটার কথাবার্তা অদ্ভুত, এগিয়ে যায় বিমল, লোকটা আবার বলে ওঠে “ভুলেও থাকবেন না স্যার। মনে রাখবেন আমার কথাটা”…… একটু এগোতেই কাদের যেন কথার আওয়াজ ভেসে আসছে, মনে একটু বল পেল বিমল।
সত্যি সত্যি থানাটা কাছেই,থানার সামনে কয়েকটা গাড়ি দাঁড়িয়ে, ভিতরে লোকজনও আছে। বিমল তাড়াতাড়ি গিয়ে থানায় ঢুকলো, ওকে দেখে একজন পুলিশ অফিসার এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার?
আসলে স্যার আমি কলকাতা থেকে আসছি, যাবার কথা বেগমপুর। এখানে এসে কোনো ট্রান্সপোর্ট ই পাচ্ছি না যাওয়ার, তাই বাধ্য হয়ে আপনাদের শরণাপন্ন হলাম।
কি কারণে এসেছেন?
বিমল গোটা বিষয়টা বলল অফিসারকে। উনি সব শুনে বললেন, দেখুন এখানে একটা মার্ডার হয়েছে, পলিটিক্যাল প্রেসারের জন্য আমরা বডিটাকে পোস্টমর্টেমে পাঠাতেও পারছি না, ওই যে বডিটা, আপনি একটু ওয়েট করুন, ওই বেঞ্চটাতে  বসুন, আমি দেখছি কি করা যায়।
বিমল বসলো। একটু দূরেই ডেড বডিটা রয়েছে, বিমল ভাবছে, মহা মুশকিল, তবু ভালো মানুষের মুখ তো দেখা গেছে। হঠাৎ একটি লোক থানায় ঢুকল  , অন্য একজন পুলিশ তাকে বলল, শোন অখিল, বডির মুখটার ছবি তুলবে দেহটা একদম থেঁতলে গেছে। তাই শুধু মুখ চাই।
ওই লোকটি ক্যামেরা বের করে রেডি করে ডেডবডির কাপড়টা সরালো, বিমল স্বাভাবিক প্রবৃত্তি থেকেই একবার তাকাল ওই দিকে,
এ কি, এ কি দেখছি আমি ওই লোকটা,? , কিন্তু ওই লোকটা তো,…… ভাবনা যেন আকস্মিক কোথায় হারিয়ে গেল বিমলের। আজ, এই একবিংশ শতাব্দীতেও এমন  হয়? গায়ে যেন উত্তাপ অনুভব করছে বিমল। কথা বলার শক্তি ও যেন হারিয়েছে সে। ক্রমশ একটা ভয় ওকে চেপে ধরছে।

____


FavoriteLoading Add to library

Up next

দুঃখ দিতে চেয়েছো – বৈশাখী চক্কোত্তি... "তুমি অনেক যত্ন করে আমায় দুঃখ দিতে চেয়েছো", আমার মনোভূমিতে একটি একটি, কাঁটা তারের বেড়া পুঁতেছো ।। যন্ত্রনায় ছটফট করেছি আমি, স্বপ্নের ডানা দুমড়ে মুচড়...
দত্তক - গার্গী লাহিড়ী মধ্যরাতে বারান্দার কোনটিতে একলা বসে লেখিকা অনুসূয়া আজ সে বড় ক্লান্ত পোষমানা স্মৃতির পাতাগুলো বিতর্কের ঝড়ে এলোমেলো অবাধ্য এত ক্ষো...
সঙ্গী – অনিন্দিতা পাল (অর্না)... ভূমির মনটা খারাপ। সারাদিন মোবাইল ঘাটায় ওর মা ওকে বকেছে। কিচ্ছু ভাল লাগছে না ওর। বন্ধু অর্নাকেও অনেকবার ফোন করল সেও ফোনটা ধরছে না। কলেজে কিছু কাজ আছ...
সামলে রাখো জোছনাকে …..... "---সামলে রাখো জোছনাকে" "ও চাঁদ, সামলে রাখো জোছনাকে ", ওই জোছনা তোমার কেন আবার, আমায় পিছন থেকে ডাকে।। জোছনার ফাঁদে পা দিলেই যাবো সর্বনাশের ফাঁকে, ঝ...
ভালোবাসার চিঠি -স্নিগ্ধা রায়... প্রথম ভালোবাসার প্রথম দিনের গল্পটা তিতিরের আর পাঁচটা মেয়ের মতোই ছিল। দুদিকে দুটো বেনী ঝুলিয়ে, অনভ‍্যস্ত লাল পেড়ে সাদা শাড়ি সামলাতে সামলাতে স্কুলে যাওয়...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment