মঞ্চ – হ য ব র ল

স্কুলে নতুন টিচার এসেছেন সাংস্কৃতিক বিভাগের। প্রতি বছরের মত এবছরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা। তার জন্যই আজ এই মিটিং এর ব‍্যবস্থা। নতুন টিচারের আগমন এই মিটিংয়েই। স্বাভাবিক ভাবেই কারোর সাথে আলাপ নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের থিম্ নিয়ে যখন খুব হট্টগোল তখনই ওনার প্রবেশ।
মুখে রাগী রাগী চেহারার ছাপ দেখে মাছের বাজার মোটামুটি বন্ধ কেবল একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগল। নতুন টিচার নিজের পরিচয় দিয়ে প্রত‍্যেকের মন থেকে প্রশ্ন চিহ্নের মেঘটা সরালেন। সাথে সকলের সাথে পরিচয়টাও সেরে নিয়ে প্রত‍্যেকের মতামত শুনলেন।শেষে তিনি জানালেন নাচ, গান, আবৃত্তি সবই হবে তবে সাথে হবে নাটক এবং এই নাটকে সকল একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীকে অংশ নিতে হবে। অগত্যা সকলের রাজী না হয়ে উপায় নেই, যতই হোক টিচারের কথা।
তাপস ওরফে সকলের পরিচিত তপসে হঠাৎই বলে উঠল নাআআআআটটককক্। আমি তো পারিনা। আমি করতে পারবনা। আমার দ্বারা হবেনা।
– না সকলকেই অংশ নিতে হবে, শেখানোর দায়িত্ব আমার কিন্তু অংশগ্রহণ সকলকেই করতে হবে, টীচার বললেন।
রিহার্সাল এর শুরুর গোটা কয়েক দিন তপসে বেপাত্তা, ভয়ে। কিন্তু নাটকের রিহার্সাল দেখার সুযোগ মিস্ করতে ইচ্ছা  না করায় শেষমেশ নাটকের রিহার্সাল এ উপস্থিত হল। এইকদিন না আসায় তাকে কোনও পাঠ দেওয়াই হলনা। তাতে তপসের অবশ‍্যি কোনো আপশোষ নেই, সে দিব‍্যি প্রম্পটার হয়েছে।
তবে যেদিন স্টেজ রিহার্সাল সেদিন প্রত‍্যেকের সাজ-পোশাক দেখে তপসের ও খুব ইচ্ছা করল যদি সেও অংশ নিতে পারত, কিন্তু এখন আর ভেবে লাভ নেই কোনও।
অবশেষে সমস্ত প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠানের দিন এল।সকাল থেকেই বেশ তোড়জোড়। স্টেজ সাজানো, অতিথি আপ‍্যায়ণ থেকে শুরু করে অঢেল কাজ। সন্ধ্যা বেলায় অনুষ্ঠান শুরুর কিছু আগে যখন সবাই ব‍্যস্ত সাজ পোশাক নিয়ে তখন হঠাৎই তপসের বন্ধু অভি ওরফে প‍্যাংলা দৌড়ে গ্ৰীনরুমে ঢুকতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় আর সামনের এবড়ো খেবড়ো পাথর গুলোয় মাথাটা লেগে রক্ত বেড়িয়ে একটা যাচ্ছে তাই কান্ড।
প‍্যাংলা কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল,   কিন্তু এই অবস্থায় তার পক্ষে নাটক করা প্রায় অসম্ভব।
নতুন টিচারের মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট, যতই ছোট পাঠ হোক সাজিয়ে গুছিয়ে স্টেজে দাঁড়িয়ে ডায়লগ গুলো তো উগড়াতে তো হবে। নিজের মনেই বলে উঠলেন কী যে করি এখন। এখন পাই কোথায় কাউকে যে ডায়লগ টা বলবে।
তপসে ভয়ে ভয়ে মুখটা ফ‍্যাকাশে করে আস্তে আস্তে বলল, ‘আমি বলব?’
টিচারের মুখে কিন্তু ভাবের ছাপ স্পষ্ট হলেও অন্য উপায় না থাকায় রাজি হতে বাধ্য হলেন।
– তোমার ডায়লগ আমি প্রম্পট করে দেব , চিন্তা করার কিছু নেই , বললেন টিচার।
– আমার সব ডায়লগ মুখস্থ, এতদিন প্রম্পট করেছি তো তাই।
-বেশ, এবার নাটকের জন্য তৈরী হয়ে নাও।
যথাসময়ে নাটক মঞ্চস্থ হল, তপসের মিনিট দুয়ের পারফমেন্স সবার মন জয় করে নিল। কারোর বোঝার উপায় ছিল না যে সে কিছুক্ষণ আগেই জেনেছে স্টেজে পারফর্ম করার কথা, তপসের করা অভিনয় জীবন্ত হয়ে উঠেছিল সবার চোখে। এত বাহবা আর প্রশংসায় তপসের চোখে জল, সাথে টিচারের ও।
টিচার তপসের মাথায় হাত রেখে বললেন, নাটকে ছোটপাঠ বড়পাঠ বলে কিছু হয়না। এতে সবার সমান দক্ষতার প্রয়োজন, তবেই পুরো পারফরম্যান্স টা ভালো হয়।
স্টেজের আলো নিভে গেলেও একাদশ শ্রেণীর প্রত‍্যেকের চোখে মুখে তখন আনন্দের কয়েকশো কোটির আলো জ্বলছে।।
____


FavoriteLoading Add to library

Up next

পাতা ঝরার দিনগুলি – গার্গী লাহিড়ী... কোনো এক তুমুল ঝড়ের রাতে পাখির বাসার মতো ভেঙে যাচ্ছ তুমি ঝমঝম একলা রাজপথে আঁচল পেতে দিয়েছিলাম অতি ক্ষিপ্রতায়  , ধুলোয় মেশার আগেই সন্তর্পনে কোঁচড়ে ...
কিপটে ভূতের গল্প – শাশ্বতী সেনগুপ্ত...       নাদেশ্বর বাঁড়ুজ্যে মরে গেলেন। ভূত হয়ে ভূত জগতে পর্দাপণ মাত্রই শুনতে পেলেন তাকে নিয়ে ফিসফিসানি আরম্ভ হয়েছে। তিনি হাওয়ায় কান পাততেই কথা স্পষ্ট হল,...
বাংলা ছায়াছবির বাদশা... শাহরুখ খানকে বলা হয় বলিউডের বাদশা। কারন তিনি "বাদশা" বলে একটি হিন্দী ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি ফ্লপ করেছিল। কিন্তু তার বহু আগে এই বাংলায় "বাদশা" বলে...
ভালোবাসার চিঠি -স্নিগ্ধা রায়... প্রথম ভালোবাসার প্রথম দিনের গল্পটা তিতিরের আর পাঁচটা মেয়ের মতোই ছিল। দুদিকে দুটো বেনী ঝুলিয়ে, অনভ‍্যস্ত লাল পেড়ে সাদা শাড়ি সামলাতে সামলাতে স্কুলে যাওয়...
১৬-১-১৯-১৯-২৩-১৫-১৮-৪ - মনীষা বসু     ।। ১।। এয়ার পকেটে পড়ে প্লেনে জোর ঝাঁকুনি লাগতেই ল্যাপটপ থেকে চোখ ওঠালেন সূর্য। মানুষ যেমন ঘুম থেকে উঠে চারিদিকে তাকিয়ে বুঝতে চায়, সে...
ফিরবেনা জেনেও – পদ্মাবতী মন্ডল... "লেখা,এই লেখা ....আছিস বাড়িতে? " "দেখ না ওর কী হয়েছে সকাল থেকে দরজা বন্ধ করে শুয়ে আছে "  লেখার মা ওর বান্ধবী কে উদ্দেশ্য করে বললো । "ও কী আজ টিউ...
না মিটিতে সাধ এ জীবনে মোর মধুরাতি গেল ফুরায়ে ( বি...      ১৯৪৫ সালের কোনো একদিন, একটি ২০, ২১ বছরের ছেলে অধীর আগ্রহ নিয়ে সায়গল সাহেবের বাড়ি তে এসেছে...নিজের সত্যিকারের পরিচয় দেওয়ার সাহস হয়নি, ক্যামেরা ন...
বিতত বিতংস – গার্গী লাহিড়ী... কখনো তোর হাসি সুর তুলেছিল হৃদয় বীনার তারে ; কখনো তোর কাজলরেখা বিদ্যুৎ হেনেছিল আমার ঘরে। স্পর্শ সুখের হাতছানিতে বুকের মাঝে ছিলি , নরম ঠোঁটের ছোঁয়া...
ননসেন্স রাতবিরেতে হাঁচেন কেনো গঙ্গাধরের মামা,দুপুরবেলায় রাঙা পিসি দিচ্ছে কেনো হামা।মিষ্টিমাসির বুধবারেই জ্বর কেনো আসে,ন' কাকু চাকরী কেনো ছাড়েন মে মাসে।হাবুদের...
মন মিলান্তি(পর্ব-৪~শেষ পর্ব)... #মন_মিলান্তি_পর্ব_৪ #মুক্তধারা_মুখার্জী #চরিত্র_ঘটনা_কাল্পনিক,#মিল_খুঁজে_পেলে_লেখিকা_দায়ী_নন😊 বমিটা হওয়ার পর থেকেই শরীরটা কেমন করছিল যেন শ্রেয়সীর। ত...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment