মাছওয়ালী – পলাশ মজুমদার

ই মাছটা কত করে দিচ্ছিস? ‘
– কোনটা, দেশী না বিলাসপুর?
‘ দেশী ‘
– দেশী একশো আশি, বিলাসপুর কুড়ি, পোনা দেড়শো।
‘ আর কাতলাটা? ‘
– ওটা তুই নিতে পারবি না!
‘ কেন রে, আমাকে কি তুই ভিখিরি পেয়েছিস? ‘
– আরে ভিখারিও তোর মতো সারাক্ষণ শুকিয়ে মরে না!
‘ বাজে কথা রাখ্, পাঁচশো দেশী দে ‘

রাবেয়া মাছ কেটে ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয়। নির্মল ব্যাগটা হাতে নিয়ে পকেট থেকে নব্বই টাকা বের করে। একটা পঞ্চাশ, দুটো কুড়ি। টাকা গুনে নিয়ে রাবেয়া বলে –
শালা, নব্বই দিচ্ছিস কেন্? আগের বাকিটা কে দেবে, তোর শ্বশুর?
‘ শ্বশুর তুলবি না একদম! বলছি তো এখন নেই, পরে দেবো, মেয়েছেলের দেমাক দ্যাখো ‘
– সরকারি চাকরি করিস, ফুটানি তো ষোলআনা আছে, গরীবের বেলায় খালি নেই নেই, শালা!

রাবেয়া খাতুন। মাছওয়ালী। বারোমাস – রোদ, বৃষ্টি, ঝড় এই একই জায়গায় মাছ নিয়ে বসে। সবাই একনামে চেনে। ভীষণ মুখরা এবং লাগামহীন কথাবার্তার জন্য কেউ বেশি ঘাঁটায় না। তবে খুব ভালো মাছ আনে। জ্যান্ত। ন্যায্য দাম নেয়, খদ্দেরকে ঠকায় না। তাই যারা টাটকা খোঁজে, এককথায় রাবেয়ার কাছে আসে।

                              
‘ বিলাসপুর নেবো, একশো করে দিতে হবে ‘
– দরাদরি করবি না, একদাম, নিলে নে, নয়তো ফোট।
‘ না, একশো করেই দে ‘
– বললাম তো দেবো না!
‘ সেই সকালে বসেছিস, তোর তো লাভ উঠে গ্যাছে, এখন একটু কম করে দে না ‘
– শালা শুয়োর, লাভ কি তোর বাপ এসে দিয়ে গ্যাছে, নিজে খাটি, কারো দয়ায় চলি না।
‘ বেশি গালাগাল করবি না, মেয়ে মানুষ , তায় আবার বুড়ি হতে চললি , এত গাল পাড়িস কেন্? ‘
– গাল কি তোরা পুরুষরাই দিবি শুধু? সরকার এসেছে, যা ভাগ।
‘ বেশি বাড়াবাড়ি করলে না, এখানে মাছ নিয়ে বসতে দেবো না ‘
– যা যা বেশি বকিস না, তোর কোন বাপ আছে, নিয়ে আয়, দেখি কত দম, যা ভাগ , রাবেয়ার সাথে লাগতে আসিস না।
‘ ঠিক আছে, ঠিক আছে, তোর দামেই মাছ দে, এত খেপছিস কেন? ‘

আতিকুর এঁটে উঠতে না পেরে এক কিলো মাছ নিয়ে চলে যায়। রাবেয়ার ঘামেভেঁজা শরীরে আগুন। ক্লান্তি পুড়ে ছারখার হয়ে যায় সেই আগুনের উত্তাপে।

ছোট্ট কুসুমপুর স্টেশন। স্টেশন থেকে দু পা হাঁটলেই চৌরাস্তা মোড়। ছোট গ্রাম্য বাজার। একটা রাস্তা গেছে কলেজের দিকে। রাস্তাটা পাকা। বড় রাস্তার সাথে মিলেছে। ভারী যানবাহন ঐ রাস্তা দিয়েই চলে। দুটো রাস্তার দু পাশে ছোট ছোট দোকানঘর। চৌরাস্তার মোড়ে একপাশ ঘেঁষে রাবেয়া মাছ নিয়ে বসে। দশ বছর হবে। আগে ওর স্বামী বাসিত আলী বসতো ওই জায়গায়।

বছর বারো আগে। একদিন বিকেলে, খুব বর্ষা। মেঘ ডাকছে। সাথে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। প্রথম বর্ষায় মেঘ ডাকলে জলাশয়ের কৈ মাছগুলো কূলবেয়ে উপরে ওঠে। পাল বাড়ির বড় পুকুরটা দক্ষিণধারের মাঠে একেবারে মধ্যিখানে। পালবাবুরা মাছ চাষ করে। প্রতিবছর অনেক টাকার মাছ বিক্রিও করে। সেবার শ্যামল, কুমুদ সবার সাথে বাসিতও গিয়েছিলো কৈ ধরতে। গোটা সাতেক কৈ গামছার গিঁটে বেঁধে মাঠের জল ভেঙে ফিরছিলো। পরপর দুটো বাজ পড়ে। একটায় পুকুরপাড়ের বড় তালগাছটা পুড়ে ফেঁড়ে যায়। আরেকটা পড়েছিলো বাসিতের মাথায়। বাসিতেরও তালগাছের গতি হয়েছিলো, বাঁচানো যায়নি।

‘বাবু, অনেকদিন পরে এলেন, শরীর খারাপ ছিলো? ‘
– না, না, ক’দিন ঘুরতে গেছিলাম, তুমি ভালো আছো তো?
‘হা বাবু, ভালো না থেকে উপায় আছে? বাবু কাতলাটা নিন, খুব ভালো হবে মাছটা ‘
– হ্যাঁ দাও, পাঁচশো মতো , তবে ….
‘ টাকা না থাকলে আপনি পরে দেবেন, যতটা লাগে আপনি নিন না, কখনও কি চেয়েছি আপনার কাছে? ‘

যতীন বাবু সাড়ে সাতশোর মতো মাছ নেয় বাকিতে। খুব ভদ্রলোক এই যতীন বাবু। স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলের হেডমাষ্টার। রাবেয়া খুব শ্রদ্ধা করে ওনাকে। সবাই যেখানে তুই, তোকারি গালমন্দ করে রাবেয়াকে অসম্মান করে প্রতিনিয়ত, যতীন বাবু অন্যরকম। রাবেয়ার পরিশ্রম, কষ্টের যোগ্য সম্মান করে। ভালো মন্দের খোঁজ খবর নেন। রাবেয়া ভাবে, এই দুনিয়ায় ক’জনই বা এতটুকু বোঝে।

স্বামীর মৃত্যুর পর রাবেয়া ব্যাবসাটা নিজের হাতে ধরে। এজন্য কম দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। একজন সদ্য বিধবা ব্যবসায় নামবে – চারিদিকে গেলো গেলো রব পড়েছিল। পুরুষে মুখ দেখবে, গায়ে ঘেঁষবে – সমাজে মানতে পারেনি কেউ। রাবেয়া নাছোড়। আর যাই হোক, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে রাজি নয় সে। কাজ করে খেটে খাবো, তাতে লজ্জা কিসের! একজন পুরুষ পারলে আমি কেন পারবো না! সমাজের ভ্রকূটি, তির্যক বাক্যবাণ, একঘরে করার হুমকি – সব ঝড় ঝাপটা সামলে রাবেয়া এখন স্বাধীন। রাবেয়া বুঝেছে, স্বাধীনতা কেউ স্বেচ্ছায় দেয় না, কামড়ে আচড়ে আদায় করে নিতে হয়।

                              
‘রাবেয়া, আর কতক্ষণ থাকবি রে, বারোটা বাজতে চললো ‘ – পাশের দোকান থেকে নীরেন আওয়াজ দেয়।
– এই তো পাঁচশো মতো বিলাসপুর পরে আছে, বিক্রি হলেই গুটাবো।
‘ ঠিক আছে,  ওটা মেপে পলিব্যাগে করে আমাকে দে, কত দিতে হবে, বল্? ‘
– তোর কাছে আর কি চাইবো, শেষ বেলায় … পঞ্চাশ, চল্লিশ যা হোক একটা কিছু দিস।

রাবেয়া মাছ কাটার বটি, প্লাস্টিক মাছের ডোঙার মধ্যে রাখে। অবশিষ্ট মাছ কেটে নীরেনকে দেয়। টাকা নেয়নি। বিনিময়ে নীরেনের দোকান থেকে দুটো ক্যাডবেরি ও দুটো আইসক্রিম কেনে। নীরেন একটা ক্যারি দেয়। ওগুলো ক্যারিতে ঢুকিয়ে শক্ত করে বাঁধে। তারপর টাকার থলের মধ্যে রেখে থলেটা পেটকাপড়ে গুঁজে নেয়। মাছের খালি ডোঙাটা মাথায় নিয়ে ঘামে জবজবে শরীরে রাবেয়া বাড়ির দিকে রওনা দেয়। বাড়ি বাজার থেকে হেঁটে পনেরো মিনিট।

                              
রাবেয়া ভোর তিনটায় ঘুম থেকে ওঠে। দশ বছর ধরে একই রুটিন। চারটেয় ট্রেন। ট্রেনে করে মাছ আনতে যায় পাশকুড়া’র পাইকারি হাটে। বড় ব্যাগ, মাছের ডোঙা নিয়ে ভেন্ডারে ওঠে। পুরুষদের সাথে এক কামরায়। দু চারজন মহিলাও থাকে। তবে তারা কেউ ওর মতো মাছের ব্যাবসা করে না। কেউ ফুল নিয়ে যায়, কেউ টুকিটাকি মরসুমি সবজি। পুরুষদের সাথে চলতে চলতে, প্রতি পদক্ষেপে অধিকার নিয়ে লড়াই করতে করতে কখন যে রাবেয়া পুরুষ হয়ে ওঠে! বহিরাঙ্গে নারীত্বের চিহ্নগুলো শুধু যেন প্রতীকি।

মধ্যবয়সী রাবেয়ার এক ছেলে, তিন মেয়ে। দুই মেয়েকে সম্মন্ধ করে বিয়ে দিয়েছেন। এক মেয়ে পালিয়ে। তবে আশার কথা তিন মেয়েই সুখে আছে। ছেলে শামীম। ভাইবোনদের সবার বড়। বয়স সাতাশ। আগে রিক্সা চালাতো, এখন টোটো। রোজগার মন্দ না। অল্প কিছু জমিও আছে। শামীমই দেখাশোনা করে। ওর এক ছেলে, এক মেয়ে। পিঠাপিঠি। ছেলেটির বয়স পাঁচ, মেয়েটি চার।

রাবেয়া বাজার থেকে ফিরে মাথার ডোঙাটা নামিয়ে রাখে। থলে থেকে ক্যাডবেরি, আইসক্রিম বের করে নাতি নাতনিদের ডেকে হাতে দেয়। ওরা খুশিতে দাদিকে জড়িয়ে ধরে চুমু খায়।
‘ ছাড় তোরা আমায়, গায়ে ঘাম আছে, নোংরা আঁশটে গন্ধ, আগে গোসল করে আসি ….’
টাকার থলেটা নিজের ঘরে রেখে আসে রাবেয়া। স্নান সেরে ওদের দুজনকে নিয়ে খেতে বসে। তারপর ওদেরকে পাশে শুইয়ে গল্প করে। একসময় তিনজনই ঘুমের দেশে পাড়ি জমায়।

এই সময়টা রাবেয়ার একটু শান্তি। গা, হাত, পা ভালো করে সাবান দিয়ে ধুলেও মাছের আঁশটে গন্ধটা যেতে চায় না। তাই ওদেরকে জড়িয়ে ধরে থাকে। মাছের গন্ধ ছাপিয়ে ওদের গায়ের গন্ধে নিজেকে শুদ্ধ করে নেয়।

                              
রাতে শুতে যাবে রাবেয়া। খুব ভোরে উঠতে হয় বলে তাড়াতাড়ি শোয়। শামীম মায়ের ঘরে এলো। ভনিতা না করেই বলতে শুরু করলো –
‘ বলছিলাম কি, মা , এবার তুমি ব্যাবসাটা ছেড়ে দাও, তোমার বয়স হয়েছে, তাছাড়া আমি যা কামাই, চলে যাবে, তুমি বরং বাড়িতে থাকো, বাচ্চাগুলোর সাথে সময় কাটাও ‘
– না না , সে হবে না।  একদিন , দুদিন দেখবি, তারপর লাথ মেরে তাড়িয়ে দিবি, সব খবর জানা আছে আমার, নিজেরটা নিজে বুঝে নেবো, যেদিন একেবারে অচল হবো, তখন তো লাথি ঝাটা খেতেই হবে।
‘ মা! এমন কেনো বলছো! তোমার কষ্ট হয় তাই বললাম ‘
– বলবো না? চারিদিকে যা হচ্ছে! হয়তো তুই অমন করবি না, আরে যতদিন গায়ে জোর আছে, কাজ করি শরীর ভালো থাকবে, চুরি তো আর করছি না। মা মাছ বিক্রি করে, তোর কি লজ্জা লাগে পরিচয় দিতে?
‘ না, মা ,লজ্জা কেন? সবাই বলে, তোমাকে খাটাই আমি’
– যে যা বলুক গে, লোকের আর খেয়ে কাজ কি?

স্বামীর মৃত্যুর পর রাবেয়াই সংসারের হাল ধরেছিলো। ব্যাবসার টাকায় সন্তানদের পড়াশুনা, যতটুকুই হয়েছে। দুই মেয়ের বিয়ে। রাবেয়া যে বেহিসেবি তাও নয়। নাতি নাতনির জন্য টুকিটাকি খরচ, কিছু টাকা ছেলের হাতে দিয়ে বাকিটা ব্যাংকে রাখে। নিজের নামে একটা সেভিংস একাউন্ট আছে। নমিনি শামীম।

                              
একদিন সন্ধ্যায় একটা চায়ের দোকানে বসে আছি। রাবেয়া এলো দোকানে তাগাদা দিতে। টাকা নিয়ে দোকান থেকে বেরোতে যাবে, আমায় দেখতে পেয়ে দাঁড়ালো।
‘মাষ্টার যে, চা খাচ্ছো? ‘
– দিদি, একটু বসুন, চা -বিস্কুট খেয়ে যান।
রাবেয়া আমার পাশে এসে বসলো। আমি মাঝেমাঝে ওর দোকানে মাছ কিনি, সেই সূত্রে আলাপ, মাষ্টার বলে সম্মানও করে। চা শেষ করে উঠতে যাবে, আমি বললাম – ‘ দিদি, অনেকদিন ধরে একটা কথা আপনাকে জিজ্ঞেস করবো ভাবছি, অভয় দিলে বলবো ….’
– বল না মাষ্টার , দিদি ডাকিস, আবার ভয়ও পাস্!
এক লহমায় রাবেয়া যেন সত্যি দিদি হয়ে গেলো –
‘বলছি কি দিদি, সবসময় আপনি রেগে রেগে থাকেন কেনো? গালাগাল দিয়ে কথা বলেন, কাউকে তোয়াক্কা করেন না, জানেন দিদি, সবাই পেছনে আপনাকে খুব খারাপ বলে ‘
রাবেয়া একটু হাসলো, তারপর স্থির দৃষ্টিতে গড়গড় করে বলতে লাগলো – ‘ জানি তো সবাই খারাপ বলে, মেয়েমানুষ তো! গায়ের জোরে পুরুষের সাথে পারি না, তাই তো এ্যাত রেগে থাকি, গালাগাল করি, জোরে কথা বলি। আসলে ভান করি, আমার দূর্বলতা, কমজোরিতা ঢাকার চেষ্টা করি কথার জোরে, আসলে যত মিনমিন করবো, সবাই পেয়ে বসবে, টিকতে দেবে না, ছিঁড়ে খাবে। কামড়ে আচড়ে লড়াই করে এই জায়গাটা পেয়েছি আমি, একটু ঢিলা দিলেই সব হারাবো, তাইতো অভিনয় করি, জানি মরণ  না হলে এ অভিনয় থামবে না’

                              
রাবেয়ারও একটা কোমল মন আছে। তার হদিস কারো কাছে নেই। সেখানে ভালোবাসা সুপ্ত থাকে, জাগে না কখনও। ইচ্ছে করেই জাগায় না। একটু মিষ্টি কথায়, ভালো ব্যবহারে রাবেয়ারাও গলে যায়। ভালোবাসা জেগে উঠলে, কোমলতা ফুটে বেরোলে সবাই কমজোরি ভাবে, দূর্বল ভাবে। তাই কাঠিন্যের বেড়াজালে সারাক্ষণ নিজেকে বন্দী করে রাখে। ওখান থেকে বেরোলেই বিপদ, অস্তিত্ব বিপন্ন।

সেদিন ছিলো রোববার। হাট বসে। কিন্তু চৌরাস্তার মোড়ে রাবেয়া মাছ নিয়ে বসেনি।
আগের দিন নাতির খুব জ্বর। অনেক রাত করে ঘুমিয়েছে রাবেয়া। খুব বেশি হলে ঘন্টা তিনেক ঘুমিয়েছে। ভোর তিনটায় ঘুম থেকে উঠে পুকুরপাড়ে হাতমুখ ধুতে গিয়ে ঘরে ফিরতে পারেনি। মাথা ঘুরে পুকুরে পড়ে যায়। জীবনের পিছল পথ পেরিয়ে পিছলে ঘাঁটে মুখ থুবড়ে পড়ে রাবেয়া। এই প্রথম ভোর চারটে’র ট্রেন মিস করলো।

ভোর পাঁচটা নাগাদ কয়েকজন মিলে রাবেয়াকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে আসে। গ্রামের মধু ডাক্তার রাবেয়ার অচৈতন্য দেহ অনেকক্ষণ পরীক্ষা নিরিক্ষার পরে জানিয়ে গেছে – ‘ওকে শহরে নিয়ে গিয়ে লাভ হবে না, মৃত মানুষকে কেউ বাঁচাতে পারে না ‘

রাবেয়ার মৃত্যুতে একটা দিনও স্মরণসভা বসেনি। একটা দিনও দোকানপাট বন্ধ থাকেনি। যতীন বাবুর মতো কেউ কেউ শুধু আক্ষেপ করছেন -‘ ইস্ রাবেয়াটা নেই – এখন থেকে হাটে ঘুরে ঘুরে টাটকা মাছ খুঁজতে হবে …’

____


FavoriteLoading Add to library
Up next
বেইমান- তমালী চক্রবর্ত্তী... সব্জিভর্তি থলে নিয়ে অনেক কষ্ট করে বাড়ির দরজার তালা খুলল ফাতিমা বেগম। আজকাল আর আগের মতো দৌড়ঝাঁপ পোষায় না। ৬০ তম বসন্ত কিছুদিন আগেই পেরিয়েছে, হাঁপ ধরা স...
সম্পর্কের চিলেকোঠায় – বিদিশা মন্ডল... পরন্ত বিকেলে সূর্য যখন তার লালচে সংসার নিয়ে পশ্চিমদিকে ঢুলুঢুলু চোখে পাড়ি দিয়েছে তখন তানিয়া এককাপ ধোঁয়া ওঠা কপির কাপ হাতে ওর ফ্ল্যাটের বারান্দায় এসে দ...
চটপটি করোলা - রুবি ঘোষ   করোলার নাম শুনলে আট থেকে আশি সকলেরই মুখ বেজার,কিন্তু শরীর সুস্থ রাখতে অনেকক্ষেত্রেই করোলাকে ভাতের পাতে রাখতেই হয় | বড়োরা গুনাগুন...
ভূ-স্বর্গ ঘুরে আসুন... - বিভূতি ভূষন বিশ্বাস               ভ্রমন করতে কে না ভালোবাসে কিন্তু ভ্রমন করাই মানে যেমন আনন্দ করা তেমনই এটাও খেয়াল রাখা উচিত সেটি কোনমতেই যেন নিরান...
সেই পাগলটা – বর্ষা বেরা... সেই পাগলটা তাকে প্রথম দেখেছিলাম গড়িয়ার মোড়ে | অদ্ভুত পোশাক তার,অদ্ভুত সব কার্যকলাপ কখনও নিজের চুল ছিঁড়ছে,কখনও বা ছুটছে লোকের পিছনে, তবু নেই তার আত...
মুখোশ – মৌসুমী খাঁ... এই পৃথিবীতে দেখি অনেকেই মুখোশ পরে আছে, ওই যে এক দম্পত্তি বেশ সুখীসুখী যাচ্ছে অনুষ্ঠান বাড়ি , তারাই আবার বাড়ি ফিরে মুখোশ খুলে করছে চুলোচুলি l আর ...
জন্ম নিলাম বাংলায় – রাজদীপ ভট্টাচার্য্য... সাধ হল জন্ম নেবো জগতের মাটিতে প্রভু তাই পাঠালেন এই বাঙালির বাটীতে | দাদা আছেন,দিদি আছেন,আরেক ছিলেন নেতা, সাহেব তাড়ানোর সাথে সাথে শখ ছিল তাঁর জেতা  ...
তোমাকে দিলাম -সৌম্য ভৌমিক... তোমাকে দিলাম হরফ আর শিলালিপি, আমার হৃদয় নিংড়ানো স্বরলিপি । তোমাকে দিলাম ঝুলন সাজানো বাড়ী, তোমার জন্য কাঙাল হতেই পারি। তোমাকে দিলাম সর্ষে ক্ষেতের হ...
আতঙ্কের সেই কালো রাত – সরোজ কুমার চক্রবর্তী...     আমরা তিন থেকে চারজন সবাই অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী | সবার বয়স প্রায় সত্তরের ঊর্ধ্বে | আমরা যেখানে থাকি জায়গাটা হলো দমদম স্টেশনের কাছাকাছি | এখানে আমাদে...
নেতাজী-একটি আগুন – প্রসেনজিৎ মূখার্জী... ছোটবেলায় ছোট্ট মনে আসতো ভেসে শুধুই স্বাধীনতার￰￰ মানেটা কি? সকলকে কেবলই তা শুধোই একটু বড়ো হলে পরে মায়ের কোলে শুয়ে একটি ছবিই আসতো ভেসে বইয়ের পাতায় চ...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment