মৃতের তালিকায় প্রেমিকা খুঁজি – তুষার চক্রবর্তী

 অলকাকে আমি প্রথম দেখি, কলেজ থেকে ফেরার পথে বাস স্ট্যান্ডে। তখন অবশ্য ওর নাম জানতাম না। হাত ঘড়িতে দেখলাম, বাস আসতে তখনও মিনিট দশেক বাকি আছে। পাশের গুমটি দোকানটা থেকে একটা সিগারেট কিনে ধরালাম। ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তেই আমার চোখ পড়েছিল অলকার ওপর। গায়ের রঙটা ফর্সা না হলেও, খুব উজ্জ্বল। নীল রঙের পিওর সিল্ক শাড়ি, পাড়টা কালো, ব্লাউজটাও কালো। চুলটা হর্সটেল করা। চোখে কাজল, কপালে কালো টিপ, হাতে ঝুলছে একটা ব্যাগ। এক দৃষ্টে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। ভাবলাম, এই মেয়েটা কি আমাদের কলেজে পড়ে। কখনো দেখিনি তো! নবীন বরণের দিন তো প্রায় সব ছাত্র, ছাত্রীর সাথেই আমার পরিচয় হয়েছে। ইউনিয়নের সম্পাদক হিসেবে এটা আমাকে করতেই হয়। হতে পারে, নবীন বরণের দিন কলেজে আসেনি। এমনও হতে পারে, আমাদের কলেজে হয়তো পড়েই না। কোনো কাজে হয়তো আশেপাশে কোথাও এসেছিল, এখন হাওড়া হয়ে ফিরে যাচ্ছে।

এইসব ভাবতে ভাবতেই সিগারেটটা শেষ হয়ে গেছিলো। খেয়ালও ছিল না। এতো মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম, যে সিগারেটটা আর টানাই হয়নি। বেশ লম্বা একটা ছাই মাটিতে ফেলে, শেষ টানটা দিয়ে সিগারেটটা ফেলে দিলাম। আবার মনোযোগ দিয়ে মেয়েটিকে দেখছিলাম। হটাৎ নিজের মনেই ভাবলাম, আমি তো এরকম ভাবে কখনো কোনো মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকি না। কলেজে কত মেয়ে আমার কাছে আসে, তাদের ছোট ছোট সমস্যা নিয়ে। এ আমার কি হলো! খেয়াল পড়লো, বাস এসে গেছে। যাত্রীরা ওঠা নামা শুরু করে দিয়েছে। আমি তাড়াতাড়ি বাসের সামনের দরজার কাছে পৌঁছে গেলাম। যারা নামার তারা নেমে গেছে। এবার লোক উঠছে। ছোট মতো একটা লাইনও তৈরি হয়ে গেছে। আমার সামনে একটা বুড়ো লোক আর তার সামনেই লাইনে দাঁড়িয়ে অলকা। বাসে এই সময় বসার জায়গা পাওয়ার আশা করা যায় না, পেলামও না। একটু ঠেলে ঠুলে এগিয়ে ভেতরে গেলাম। বাসের যেখানটায় সামনের দিকে মুখ করা দুজন দুজন বসার সিট আছে, ওখানে রড ধরে দাঁড়িয়ে পড়লাম। বাসটা ইতিমধ্যে ছেড়ে দিয়েছে।

ভেতরে ঢোকার পর আর ভিড়ের মধ্যে অলকাকে চোখে পড়েনি। জানলার দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরের স্টপেজে এসে যাবে। যারা নামবে, তারা ঠেলা ঠেলি করে দরজার দিকে এগোতে চেষ্টা করছে। হটাৎ মনে হলো আমাকে কেউ ডাকছে। ভালো করে শোনার চেষ্টা করলাম। হ্যাঁ, ঠিক, ভিড়ের মধ্যে থেকে একটা মেয়ের আওয়াজ,’তমালদা! এদিকে চলে আসুন, আপনার জায়গা রেখেছি।’ আওয়াজটাকে লক্ষ্য করে ভেতরে ভিড়ের মধ্যে তাকালাম। দুটো দাঁড়ানো লোকের মধ্যে দিয়ে অলকাকে দেখতে পেলাম। সে ইতিমধ্যেই বসে পড়েছে। চোখাচোখি হতেই হাতের ইশারায় ডাকলো। অলকার পাশে বসা দুজন যাত্রী এবার উঠে দাঁড়িয়ে পেছনের দরজার দিকে এগোতে লাগলো। আমি ওই দাঁড়ানো দুটো লোকের ফাঁক দিয়ে গলে, অলকার সিটের কাছে পৌঁছলাম। অলকা চোখের ইশারায় বসতে বললো। আমি বসেই অলকার দিকে তাকিয়ে বললাম,’তুমি কি আমাকে চেন?’ অলকা হেসে ফেললো আর তারপর বললো,’পরিচয় নেই, তবে আপনাকে কখনো ইউনিয়ন রুমে, কখনো কলেজের বারান্দায় রোজই দেখি। আপনার বক্তৃতাও শুনেছি। আপনার বক্তৃতা শুনতে খুব ভালো লাগে।’

আমি একটু অবাক হলাম। কলেজে আমার চোখে তো এই মেয়েটি একবারও পড়েনি। তারপর জিজ্ঞেস করলাম,’তুমি কি পড়? মানে বি এ, বি কম না বি এস সি?’ অলকা আবার একটু হাসলো। পরে বললো,’ আমার নাম অলকা, অলকা বসু। আমি ফার্স্ট ইয়ার বি এ তে পড়ি। আপনি তো প্রায়ই আমাদের ক্লাসে রঞ্জনের কাছে আসেন। আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিল।’ আমি বললাম,’ বলো।’ অলকা বললো,’ আপনি কলেজের পিকনিকে যাচ্ছেন তো?’ আমি বললাম,’ যাওয়ার ইচ্ছা আছে। কিন্তু যাওয়া হবে কিনা জানি না। ওই দিন আমার লোকাল এরিয়ায় পার্টির বেশ কিছু প্রোগ্রাম আছে সেখানে উপস্থিত থাকাও খুব জরুরি।’ দেখি শেষ পর্যন্ত কি করা যায়।’ এই সব কথাবার্তার মধ্যেই হাওড়া এসে গিয়েছিল। বাস থেকে নেমেই আমি অলকাকে জিজ্ঞেস করলাম,’ তুমি কোনদিকে যাবে? মানে তোমার বাড়ি কোথায়?’ অলকা বললো,’আমি উত্তরপাড়ায় থাকি।’ আমি হেসে বললাম,’ ভালোই হলো, চলো এক সাথে ট্রেনে যাওয়া যাক। আমি তোমাদের আসে পাশেই থাকি, বালিতে।’ আমি আর অলকা ট্রেনে ঠেলাঠেলি করে কোনোক্রমে উঠলাম। ট্রেনে ভিড় আর ঠেলাঠেলিতে কোনো কথা আর হলো না। বালি স্টেশন আসতে, আমি কোনোক্রমে অলকাকে হাত নেড়ে প্ল্যাট ফর্মে নেমে পড়লাম।

পরদিন সকালে কলেজ পৌঁছেই বি এ ফার্স্ট ইয়ার ক্লাসে গেলাম। আমি জানি রঞ্জন আজ আসবে না। তাও ক্লাসে ঢুকেই, এমন একটা ভাব দেখালাম, যেন আমি রঞ্জনকে ক্লাসে খুঁজছি। আমাকে দেখেই অলকা আমার কাছে এগিয়ে এলো। বললো,’রঞ্জন, এখন দু তিনদিন আসবে না। ও মাসতুতো দিদির বিয়েতে গেছে।’ আমি যেন জানিনা, এরকম ভাব দেখিয়েই বললাম,’ও তাই নাকি!’ এই কথা বলে আমি দরজার বাইরে এসে বারান্দায় দাঁড়ালাম। পেছন থেকে অলকা ডেকে উঠলো,’তমালদা! একটু দাঁড়ান। কথা ছিল।’ আমি ঘুরে দাঁড়ালাম। অলকা আমার কাছে এসে বললো,’আপনি কি রোজ কলেজ থেকে ওই পাঁচটা চল্লিশের বাসটাতেই হাওড়া যান?’ আমি এই কথাটাই অলকার কাছ থেকে জানতে চাইছিলাম, কিন্তু লজ্জায় জিজ্ঞেস করতে পারিনি। আমি অলকা কে বললাম,’ আমি কলেজ থেকে সাধারণত অনেক রাত্রে ফিরি। তবে এখন বেশ কিছুদিন ওই বাসটাতেই ফিরবো। আসলে আমার দাদা আউট অফ স্টেশন গেছে অফিসের কাজে। ঘরে মা একা থাকে। তাই কয়েকদিন তাড়াতাড়ি ফিরবো।’ অলকা যেন আরো কিছু বলতে চাইছিল। কিন্তু আমাদের দুজনের চোখ পড়লো পি.কে.সি র দিকে। উনি বারান্দা দিয়ে এগিয়ে আসছেন অলকাদের ক্লাস রুমের দিকে। অলকা একটা মিষ্টি হাসি হেসে তাড়াতাড়ি নিজের ক্লাস রুমে ঢুকে গেল। আমি আর কি করি! আমি ফিরে এলাম ইউনিয়ন রুমে।

পুরো দুপুরটাই কেটে গেছে ইউনিয়ন রুমে বসে। ছাত্র, ছাত্রীরা এসেছে, গেছে, আমার সেদিকে যেন আজ আর কোনো খেয়াল ছিল না। মাথায় শুধু ঘুরেছে অলকা। ইউনিয়নের কয়েকটা কাজ থাকলেও তা আর করা হলো না। একটু যেন তাড়াতাড়িই কলেজ থেকে বেরিয়ে হাঁটা দিলাম বাস স্ট্যান্ডের দিকে। বাস স্ট্যান্ড পৌঁছেই অভ্যেস মতো একটা সিগারেট কিনে ধরালাম। আমি যা আশা করেছিলাম, ঠিক তাই। অলকা, আমার আগেই বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে গেছে। আমাকে দেখেই আমার কাছে এগিয়ে এলো। আমি বললাম,’ আমরা বোধহয় বাস আসার অনেক আগেই এসে পড়েছি।’ অলকা বললো,’হতে পারে! আমি তো ঘড়ি দেখিনি।’ অলকার কথা শেষ হতে না হতেই পাঁচটা পঁচিশের বাসটা এসে দাঁড়ালো স্ট্যান্ডে। আমি অলকাকে ইশারা করতেই অলকা বাসের দরজার দিকে এগিয়ে গেল। আমি অলকার পেছনে। আধ খাওয়া সিগারেটটা ফেলে দিতে হলো। বাসে উঠে দেখি বাসটা বেশ খালি। কয়েকটা লেডিস সিট ও খালি পরে রয়েছে। অলকা নিজে লেডিস সিটে বসে আমাকে ওর পাশের সিটটা দেখিয়ে বললো,’বসে পড়ুন, লেডিস উঠলে দেখা যাবে।’ আমি অলকার পাশে বসলাম। বসে ভাবছিলাম, আমি তো অলকার প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করেছি। কিন্তু ও কি ভাবছে কে জানে! এই কথা ভাবতে ভাবতে অলকার মুখের দিকে তাকালাম। দেখি অলকা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। আমি লজ্জা পেলাম। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম,’ সকালে তুমি কিছু একটা বলতে চাইছিলে? কিন্তু পি.কে.সি এসে পড়ায় বোধহয় বলতে পারোনি।’ অলকা একটু হাসলো। তারপর বললো,’ আপনি কি কলেজের পিকনিকে যাচ্ছেন না পার্টির লোকাল প্রোগ্রাম এটেন্ড করবেন?’

আমি একটু অবাক হলাম। অলকা আমার পিকনিকে যাওয়া নিয়ে কেন এত চিন্তা করছে! তাই জিজ্ঞেস করলাম,’ কেন বলতো?’ অলকা একটু ইতস্তত করে বললো,’ ছুটির দিনটা ঘরের বাইরে একটু ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু কলেজের আগের পিকনিকগুলো সম্পর্কে যা শুনলাম, তাতে আর যেতে ইচ্ছে করছে না। খুব হৈ হুল্লোড় আর নোংরামো হয় শুনলাম। তাই ভাবছিলাম, কাউকে সঙ্গে পেলে একটু নিরিবিলিতে ব্যান্ডেল চার্চ ঘুরে আসতাম। আপনার লোকাল প্রোগ্রামগুলো কি শুধু সকালে না বিকেলেও আছে?’ আমি বুঝলাম, অলকা আমাকে নিয়ে ব্যান্ডেল চার্চ ঘুরতে যেতে চাইছে। এটা বুঝতে পারলেও, আমি অলকাকে বললাম,’সকালের দুটো প্রোগ্রাম তো বেলা এগারোটার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বিকেলের প্রোগ্রামটা ছটায়। অবশ্য ওটাতে না গেলেও চলে। তুমি কি আমার সাথে ব্যান্ডেল চার্চ যেতে চাইছো?’ অলকা আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে মাথাটা হেলিয়ে নামিয়ে নিল।লজ্জায় হ্যাঁ বলতে না পারলেও, সে তার ইচ্ছাটা হাসি আর মাথা হেলানোর মধ্যে দিয়েই বুঝিয়ে দিলো। আমি একটু চিন্তা করলাম। শেষে বললাম,’ ওকে, ডান।’ অলকার চোখে যেন আমি খুশির ঝিলিক দেখলাম। সে বলে উঠলো,’ খুব ভালো হলো।’ আমি বললাম,’ এবার তোমার প্ল্যানটা একটু বল?’ অলকা বললো,’প্ল্যান আর কি! আমরা দুজন ব্যান্ডেল চার্চে পিকনিক করতে যাচ্ছি। আপনি উত্তর পাড়া স্টেশনে চলে আসবেন। বারোটা দশের বর্ধমান লোকালটা ধরবো। খেয়ে আসবেন না যেন। আমি ঘর থেকে রান্না করে আনবো।’ অলকা আরো বোধহয় কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু কন্ডাক্টরের কথায় থেমে জানলার দিকে তাকালো। হ্যাঁ, হাওড়া এসে গেছে। বাস থেকে নেমে হাওড়া স্টেশনে এলাম। সেই গতকালকের মতো ঠেলাঠেলি করে ট্রেনে উঠতে হলো। যথারীতি ট্রেনে অলকার সাথে কথা হলো না। বালি স্টেশন আসতেই অলকার দিকে তাকিয়ে, একটু হেসে হাত নেড়ে প্লাটফর্মে নামলাম। অলকাও হেসে হাত নাড়লো ।

বারোটা দশের ট্রেন। দুটো ব্যান্ডেল যাওয়ার টিকিট কেটে প্লাটফর্মে এসে যাত্রীদের বসার জন্য সিমেন্টের বেঞ্চে বসে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি সবে সাড়ে এগারোটা। সকালে পার্টির প্রোগ্রামে যাওয়া তো দূরের কথা, কোনো কাজও করিনি, কোথাও যাইওনি। ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে চা খেয়ে আবার নিজের ঘরে গিয়ে বিছানায় শুয়েছিলাম। একবার মা ঘরে এসে জিজ্ঞেসও করে গেল আমার শরীর খারাপ কিনা। আমি মাকে বললাম,’ আজকে একটু দেরিতে বেরোবো অন্য কাজে। কলেজ তো আজ ছুটি।’ নটা বাজতে, মা রান্নাঘর থেকে ডাকলো জল খাবার খাওয়ার জন্য। তিনটে রুটি আর আলুভাজা খেয়ে খবরের কাগজটায় একটু চোখ বুলিয়েছি। দশটা বাজতে বাথরুমে ঢুকেছিলাম।

কেন যে এরকম হচ্ছে বুঝতে পারছি না। সব সময় মাথায় অলকার কথা ঘুরছে। চোখ বন্ধ করলে, অলকার চোখে কাজল,কপালে কালো টিপ, হাসি মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে। গত তিন দিন ধরে আমি আর অলকা এক সাথে কলেজ থেকে ফিরেছি। অলকা তার বাড়ির কথা শুনিয়েছে। বাড়িতে বাবা, মা ছাড়া এক বোন আছে। সে এবার মাধ্যমিক দেবে। আমিও অলকাকে আমার বাড়ির কথা বলেছি। বলেছি, বাবা গত বছর হটাৎই হার্ট এটাকে মারা যান। হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত দেয়নি। তিন ভাই বোনের মধ্যে বড় দিদি। চার বছর আগেই তার বিয়ে হয়ে গেছে। এখন গৌহাটি থাকে। দাদা বছর দু এক হলো ব্যাঙ্কে চাকরি করছে। গত তিন দিনে বাসে প্রায় সব গল্পই হয়ে গেছে। আমি এই তিন দিনে অনেকবার অলকার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেছি। শুধু বাসে নয়, অফ পিরিয়ডে অলকা এসে ইউনিয়ন রুমে বসে থাকতো। কিছু কথা বলতো না, শুধু শুনতো আমার কথা। ছাত্র, ছাত্রীরা তাদের ছোট ছোট সমস্যা নিয়ে ইউনিয়ন রুমে আমার কাছে আসতো। আমি তাদের কথা শুনে প্রয়োজনীয় উপদেশ দিতে থেকেছি।

অলকা শুধু একদৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো। অলকার চোখে একটা মুগ্ধতা দেখেছি। সেটা ভালোবাসা কিনা, এখনো বুঝিনি। এইসব ভাবতে ভাবতে খেয়াল করিনি যে কখন অলকা এসে আমার সামনে দাঁড়িয়েছে। অলকা তার কাঁধের বড় ব্যাগটা বেঞ্চে রাখতে রাখতে বললো,’নাও, এখন থেকে এটার দায়িত্ব তোমার।’ ব্যাগটা রেখে হাতের কলেজের ছোট ব্যাগটা কোলে নিয়ে আমার পাশে বসলো। আমি অবাক হলেও, খুশিও হলাম, অলকার মুখে তুমি কথাটা শুনে। অলকা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,’তা, তোমার প্রোগ্রাম কেমন হলো?’ অলকাকে হাসতে হাসতে সত্যি কথাই অন্যভাবে বললাম,’না গো, সকাল থেকে কোথাও যায়নি। ওসব প্রোগ্রামে গিয়ে আটকে গেলে, তখন তোমার সাথে ব্যান্ডেল কে যাবে?’ শুনে অলকাও হাসলো। ইতিমধ্যে সামনে দিয়ে একটা হকার যাচ্ছিল। তাকে ডাকলাম। উদ্যেশ্য ছিল একটা বর্তমান কাগজ কিনবো। সকালে আনন্দবাজার পড়া হয়ে গেছে। ছুটির দিনে প্রায় সব কাগজই পড়ার চেষ্টা করি। অলকা আমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে বললো,’পিকনিকে যাচ্ছো, না কাগজ পড়তে যাচ্ছো?’ আমি বললাম,’ কাগজটাও পড়া হতো, পরে ওটা আমাদের বসার কাজেও লাগতো।’ অলকা হকারকে বললো,’তুমি যাও, কাগজ লাগবে না।’

হকার চলে যেতে আমার দিকে তাকিয়ে অলকা বললো,’ ওখানে বসার জন্য আমি শতরঞ্চি এনেছি।’ অলকার কথা শেষ হতে না হতেই দেখলাম প্লাটফর্মে ট্রেন ঢুকছে। আমি উঠে দাঁড়ালাম, বেঞ্চটা থেকে অলকার আনা বড় ব্যাগটা কাঁধে নিলাম। আমাকে দাঁড়াতে দেখে অলকা ও তাকিয়ে দেখলো ট্রেন প্লাটফর্মে ঢুকে গেছে। সেও তার কোলের কলেজের ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ট্রেনটা প্লাটফর্মে দাঁড়াতেই দুজনে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। দু তিন জন প্যাসেঞ্জার নামলো। ওঠার মতো ওই দরজায় আমি আর অলকা। তাই কোনো ধাক্কাধাক্কি ছাড়াই ট্রেনে দুজনে উঠে পড়লাম। ট্রেনের কামরা প্রায় পুরোটাই খালি। ওতো বড় কামরাতে পনের বিশ জন প্যাসেঞ্জার মাত্র। জানলার ধারে দুজনে মুখোমুখি বসলাম। ট্রেনটা ছেড়ে দিলো।

গঙ্গার পাড়ে, অলকা ব্যাগ থেকে শতরঞ্চি বার করে পেতে দিতে, পা ছড়িয়ে তার ওপর যখন বসলাম, তখন ঘড়িতে দেড়টা বাজে। আমি ঘড়ির দিকে তাকাতে অলকা বললো,’ তোমার বোধহয় খিদে পেয়ে গেছে, তাই না?’ আমি হেসে বললাম,’ না, না, খুব একটা খিদে পায়নি।’ অলকা ব্যাগ থেকে খাবার গুলো বার করতে করতে বললো,’ দেড়টা তো বেজেই গেছে। চলো আগে খেয়ে নেওয়া যাক।’ অলকা খাবার ব্যবস্থা করছে আর আমি বসে দেখছি। অলকা সব কিছু ব্যবস্থাই করে এনেছে। বড় ফাইবারের থালা, গ্লাস, চামচ সব একটা একটা করে বার করলো। সব গুছিয়ে নিয়ে আমাকে বললো,’ এবার একটু তুমি ঠিক ভাবে বসো।’ আমি পা গুটিয়ে বসলাম। অলকা দুটো ফাইবারের থালায় একে একে খাবার দিতে দিতে বললো,’সব আমিই বানিয়েছি, কেমন হয়েছে জানি না!’ রুটি, কষা মুরগির মাংস, পেঁপের চাটনি আর খেজুরের গুড় দিয়ে পায়েস। দুজনে গল্প করতে করতে খেলাম। খাওয়া শেষ হতে আমি ওয়াটার বোতলটা হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছি, উদ্দেশ্য হাত, মুখ ধোব। অলকা বললো,’দাঁড়াও, দাঁড়াও!’ বলে সে ব্যাগ থেকে একটা মিষ্টির প্যাকেট বার করে, তার থেকে একটা নলেন গুড়ের সন্দেশ আমার মুখে দিলো। দিয়ে প্যাকেটটা পাশে রেখে বললো,’পরে আরো কয়েকটা খেয়ে নিও।’

আমি হাত, মুখ ধুয়ে আবার গঙ্গার দিকে মুখ করে পা ছড়িয়ে বসলাম। অলকা ব্যাগ থেকে একটা পলিথিনের প্যাকেট বের করে তাতে ফাইবারের থালা, গ্লাসগুলো ভরে পাশে রেখে মুখ ধুয়ে আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। অলকার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি সে চোখ বন্ধ করে আছে। আমি আর কি করি! আঙ্গুল দিয়ে অলকার মাথার চুল গুলোতে বিলি কাটতে লাগলাম। কিছুক্ষণ এইভাবে চলার পর, অলকা চোখ বন্ধ রেখেই বললো,’ কেমন খেলে? রান্না ঠিকঠাক হয়েছে?’ আমি বললাম,’ তোমার মতো সুন্দরীর রান্না কি আর খারাপ হয়? দেখলে তো চেটেপুটে খেলাম।’ অলকা এবার চোখ খুলে বললো,’ আমার রান্নার প্রশংসা এর আগেও অনেকের মুখে শুনেছি। তবে সুন্দরী কথাটা আমি এই প্রথম কারো মুখ থেকে শুনলাম।’ আমি সঙ্গে সঙ্গেই বললাম,’ কেন এখনো বোঝনি সেটা। কলেজে এতো তো মেয়ে আছে! তমাল সান্যাল আজ পর্যন্ত কারো সাথে একা একা পিকনিকে গেছে? আর আজকে তো তোমার হাতের রান্না খেয়ে বুঝলাম যে তুমি শুধু রূপসীই নয়, গুণবতীও বটে।’

এবার অলকা উঠে বসলো। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,’একটা কথা জিজ্ঞেস করবো? সত্যি বলবে কিন্তু!’ আমি বললাম,’ আগে তো শুনি।’ অলকা, কিছু একটা বলতে গিয়ে, না বলে, হেসে আবার আমার কোলে মাথা গুঁজে শুয়ে পড়লো। আমি বললাম,’ কি হলো, বলো? যা তোমার মনে আছে, বলো, আমি কিছু মনে করবো না।’ কিছুক্ষণ কোনো কথা নেই। তারপর আবার অলকা বললো,’ এতো কলেজে ছেলে থাকতে, আমি তোমার সাথে একা ব্যান্ডেল চার্চ যেতে চেয়েছি। তা থেকে তুমি কি বুঝেছিলে? তুমিই বা কেন তোমার সব লোকাল প্রোগ্রাম আর কলেজের পিকনিক ছেড়ে দিয়ে আমার সাথে এলে? এর কি মানে?’ আমি হাসতে হাসতে বললাম,’মানে তো খুব সহজ। তবে হিন্দি ফিল্মের হিরোর মতো আমি সেটা বলতে চাই না। বলার প্রয়োজনও বোধহয় নেই।’ অলকা আমার কথাটা শুনেই উঠে বসলো। আমার কপালে একটা চুমু খেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমার কাঁধের ওপর অলকার মাথা। ও আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো,’একটা কথা দাও। আমাকে ছেড়ে কোনোদিন আর কারো কাছে যাবে না।’ আমি অলকার মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে বললাম,’ কথা দিলাম।’ হটাৎ দূরের একটা নোঙ্গর করা স্টিমার এক বিকট আওয়াজ করে উঠলো। তার বোধহয় ছাড়ার সময় হয়েছিল। স্টিমারের বিকট শব্দে আমরা দুজনেই চমকে উঠলাম। অলকা কতক্ষণ আমার কাঁধে মাথা রেখেছিল, সে খেয়াল ছিল না। খেয়াল হলো অন্ধকার নেমে এসেছে। বুঝলাম, ফেরার সময় হয়ে গেছে। দুজনে উঠে পড়লাম ফিরে যাওয়ার জন্য।

ফেরার পথেও সেই বর্ধমান লোকাল। ছুটির দিনে যা হয়। সন্ধ্যের হাওড়া যাওয়ার ট্রেন একদম ফাঁকা। জানলার ধারে সামনাসামনি নয়। আমি আর অলকা পাশাপাশি বসে আছি। আমি কথা বলছিলাম। অলকা আমার কাঁধে মাথা রেখে, শরীরটা আমার শরীরে হেলিয়ে দিয়ে আমার কথা শুনছিলো। একটা একটা করে স্টেশন এসে আবার চলে যাচ্ছিল। হটাৎ করে এক ভয়ঙ্কর শব্দ হলো আর তার পরেই চারিদিকে অন্ধকার! আমি যেন ছিটকে গিয়ে কোথাও পড়লাম। আমার মাথাটা কিসে যেন ধাক্কা খেলো। চোখে শুধু অন্ধকার!

মাথাটা কেমন ভারী হয়ে আছে। চোখের সামনে কালো কালো এগুলো কি! ধীরে ধীরে যেন একটু পরিষ্কার হলো। এগুলো মানুষের মাথা। কিন্তু মুখ গুলো কেন দেখতে পাচ্ছি না!ঝাপসা দেখছি কেন! আমি চিৎকার করে উঠলাম,’আমি কোথায়?’ আমি চিৎকার করলেও, গলা দিয়ে একটা ক্ষীণ আওয়াজ বেরোলো। শুনলাম কে যেন বলছে,’সিস্টার! ডাক্তারকে ডাকো। পেশেন্টের জ্ঞান এসেছে।’ আমার মুখের সামনে একটা কালো মাথা এগিয়ে এলো। সে বললো,’তমালদা! তুমি হসপিটালে। আমি রঞ্জন।’ এই কথাটা শুনে আমার ধীরে ধীরে সব মনে পড়তে লাগলো। ব্যান্ডেল থেকে ট্রেনে ফিরছিলাম আমি আর অলকা। এক বিকট শব্দে ট্রেনটা কেঁপে উঠেছিল। চারিদিকে অন্ধকার। আমার শরীরটা কোথায় যেন ছিটকে পড়েছিল। মাথায় খুব জোরে কি একটা লেগেছিল। তারপর আর কিছু মনে নেই। মুখ দিয়ে নিজের অজান্তেই আওয়াজ করলাম,’অলকা!’ গলার আওয়াজ এতই ক্ষীণ যে তা আর কেউ শুনতে পেল না। ইতিমধ্যে একজন আমার সামনে ঝুঁকে আমায় দেখছিলো। গলায় স্টেথোটা দেখে বুঝলাম যে ইনি ডাক্তার।

এখন আমি মুখগুলো যেন আগের থেকে অনেক স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আমি যে কোনো হসপিটালের বেডে শুয়ে আছি, তা বুঝলাম। আমার বেডের চারদিক ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে রঞ্জন, দাদা, পাশের বাড়ির অনিলদা আর বৌদি, পার্টির জেলা সম্পাদক ব্রতীনদা। আরো দু তিন জন লোক, তাদের চিনতে পারছি না। হটাৎ ডাক্তার আমার চোখের সামনে দুটো আঙ্গুল ধরে জিজ্ঞেস করলেন,’ বলোতো, কটা আঙ্গুল?’ আমি বললাম, ‘দুটো।’ ডাক্তার আবার আমার চোখের সামনে চারটে আঙ্গুল ধরলো। ডাক্তার জিজ্ঞেস করার আগেই আমি বললাম,’চারটে।’ এবার ডাক্তার আমার মাথায় হাত দিয়ে কি দেখলো। তারপর চাদরটা সরিয়ে বা হাত টা দেখলো। আমি বুঝলাম যে মাথাটা ভারী হওয়ার কারণ মাথায় কোনো বড় আঘাত লেগেছে। বেশ বড় একটা ব্যান্ডেজ বাঁধা। হাতেও ব্যান্ডেজ। ডাক্তার বললো,’যাক আর কোনো চিন্তার কারণ নেই। তবে দিন পনের লাগবে, সব কিছু ঠিক হতে। সিস্টার! যা ওষুধ আর ইনজেকশন চলছে, তাই আজকের দিনটা চলুক। কাল একবার নতুন করে সব টেস্ট করে দেখতে হবে।’ এই কথা বলে ডাক্তার চলে গেলো। পেছনে পেছনে সিস্টার। রঞ্জনের কথা শুনতে পেলাম। সে বলছে,’ গত পরশু রাত থেকে আপনার সবাই এখানেই আছেন। এবার আপনারা সবাই বাড়ি থেকে ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি আছি। আপনাদের মধ্যে কেউ একজন এলে, তবে আমি বাড়ি যাবো। আমাকেও একটু ফ্রেশ হতে হবে।’ দাদা রঞ্জনকে বললো,’ রঞ্জন! তুমি বরং আগে ফ্রেশ হয়ে এসো, তারপর আমি যাবো।’

রঞ্জন দাদার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললো,’ না আপনার আগে বাড়ি যাওয়া দরকার। কাকিমা ঘরে একা চিন্তায় আছে।’ রঞ্জনের এই কথা শোনার পর সবাই একে একে আমার মুখের দিকে একটু তাকিয়ে চলে গেল। রঞ্জন সবাই চলে যেতে একটা স্টুল নিয়ে আমার বেডের কাছে এসে বসলো। কোনো কথা বলছিলো না প্রথমে। পরে বলতে শুরু করলো,’ তুমি পিকনিকে যাওনি, লোকাল প্রোগ্রামও এটেন্ড করোনি। তুমি গিয়েছিলে কোথায়?’ আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম। রঞ্জন বললো,’থাক, থাক, পরে শুনবো। তোমার পকেটের পার্সে কলেজের আই কার্ড ছিল। তাই পুলিশ খুব সহজেই কলেজের প্রিন্সিপালের সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছিল। প্রিন্সিপাল ব্রতীনদাকে খবর দেয়। ব্রতীনদা আমাদের খবর দেয়। তোমার দাদাকে আমি ফোন করে জানিয়েছিলাম। রাত বারোটা নাগাদ আমরা সবাই বি আর সিং হসপিটালে পৌঁছেছিলাম। পরে ব্রতীনদা এসে, ডাক্তারের সাথে কথা বলে এই প্রাইভেট হসপিটালে নিয়ে আসে।’

পনের দিন নয়, আজ কুড়ি দিন হলো আমি এই হসপিটালের বেডে পরে আছি। আজ বেলা বারোটা নাগাদ আমি ছুটি পাবো। একটু আগেই রঞ্জন বাড়ি গেছে। ও আবার বারোটা নাগাদ আসবে আমাকে নিতে। এখন আমি বলতে গেলে ঠিক হয়ে গেছি। তবে বা হাতের প্লাস্টারটা আরো একমাস রাখতে হবে। ইতিমধ্যে আমি রঞ্জনকে সব কথাই খুলে বলেছি। রঞ্জন প্রথমে অলকার খবর কলেজ থেকে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কলেজের কেউই অলকার খবর দিতে পারেনি। শেষে কলেজের এডমিশন রেজিস্টার থেকে রঞ্জন, অলকার বাড়ির ঠিকানা নিয়ে উত্তর পাড়ায় গিয়েছিল। গিয়ে দেখে বাড়ি বাইরে থেকে তালা বন্ধ। পাশের বাড়িতে জিজ্ঞেস করে। তারা শুধু এটুকুই বলতে পারে যে, যেদিন এক্সিডেন্টের খবর টি ভি তে শোনা যায়, তারপর থেকে ওদের কারোকে বাড়িতে দেখা যায়নি। পাশের বাড়ির ভদ্র মহিলা এও বলেছেন যে ওই একসিডেন্ট হওয়া ট্রেনে যে অলকা ছিল, তাও তারা জানে না। এরপর রঞ্জন একে একে আশেপাশের বেশ কয়েকটা বাড়িতে খোঁজ করেছিল, কিন্তু কেউই অলকাদের কোনো খবর বলতে পারেনি। শেষে রঞ্জন, একের পর এক সরকারি, বেসরকারি হসপিটাল গুলো তিন দিন ধরে চষে বেরিয়েছে। কিন্তু অলকার কোনো হদিস পায়নি। শেষে রঞ্জন হাল ছেড়ে বলেছে,’ তমালদা! ভগবানের ওপর বিশ্বাস রাখো। অলকাও তোমার মতো ঠিক হয়তো বেঁচে গেছে। কোনো প্রাইভেট হসপিটালে হয়তো ভর্তি আছে। তাছাড়া বিভিন্ন হসপিটালে যে মৃতের তালিকা টাঙিয়ে রেখেছে, তাও তো আমি চেক করে এসেছি। দেখো! অলকা ঠিক ফিরে আসবে সুস্থ হয়ে।’ মনে মনে তাই ভগবানের কাছে কামনা করেছি আমিও।

ট্যাক্সিতে আমাকে নিয়ে রঞ্জন ফিরছে বালিতে আমাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। টাক্সিটা স্টার্ট করার পরই আমি ড্রাইভারকে বললাম,’ গাড়িটা হাওড়া স্টেশন হয়ে যাবে।’ রঞ্জন আমার দিকে তাকিয়ে বললো,’ তুমি আবার হাওড়া স্টেশনে গিয়ে কি করবে?’ আমি রঞ্জনকে বললাম,’ আমি একটু ডেথ আর ইনজুরি লিস্টটা নিজে চেক করতে চাই।’ শুনে রঞ্জন আর কিছু বললো না।
আমি মৃত মানুষের লিস্টের দিকে তাকিয়ে একটার পর একটা নাম পড়ছি। প্রায় দুশো নাম আছে। রঞ্জনও আমার পাশে দাঁড়িয়ে লিস্ট দেখছে। হটাৎ আমার কাঁধে হাত রেখে একটা মেয়েলি গলায় কে যেন বললো,’আমি বেঁচে আছি। ওখানে আমাকে খুঁজো না।’ পেছন ফিরে দেখি অলকা আর ওর বোন আমার পেছনে দাঁড়িয়ে। অলকার মাথায় এখনো ব্যান্ডেজ।

…..শেষ……


FavoriteLoading Add to library

Up next

গল্পকার ভোলা- প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়...   কি মুশকিল, ভোলা পড়েছে সমস্যায়। জীবনে কোনওদিন তার মা-বাবা তাকে পায়ে বেড়ি দিতে পারেনি। যখন যেখানে মন চেয়েছে সে চলে গেছে। ভবঘুরে মানুষ ভোলা। সংসা...
জ্ঞান ও কর্ম – সমর্পণ মজুমদার... জ্ঞান আর কর্ম --এই দুই হলো মানবশক্তির রূপ। মানুষের শক্তির যাবতীয় বিকাশ ও প্রকাশ এই দুভাবেই হয়। আসলে কিন্তু শক্তির এই দুই রূপ অভিন্ন ! জ্ঞানের উদ্দ...
মন মিলান্তি(পর্ব-৪~শেষ পর্ব)... #মন_মিলান্তি_পর্ব_৪ #মুক্তধারা_মুখার্জী #চরিত্র_ঘটনা_কাল্পনিক,#মিল_খুঁজে_পেলে_লেখিকা_দায়ী_নন😊 বমিটা হওয়ার পর থেকেই শরীরটা কেমন করছিল যেন শ্রেয়সীর। ত...
বিরল বিবাহ -বিভূতি ভূষন বিশ্বাস... হিন্দু সমাজে আট রকম বিবাহের কথা বলা আছে তার মধ্যে চার রকমই দেখা যায় তবে বিখ্যাত হলো দুই রকম ১) দেখা শুনা করে বিয়ে । ২) প্রেম করে বিয়ে । আচ্ছা সব বুঝল...
মুখোশ – মৌসুমী খাঁ... এই পৃথিবীতে দেখি অনেকেই মুখোশ পরে আছে, ওই যে এক দম্পত্তি বেশ সুখীসুখী যাচ্ছে অনুষ্ঠান বাড়ি , তারাই আবার বাড়ি ফিরে মুখোশ খুলে করছে চুলোচুলি l আর ...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment