শেষ ঠিকানা -স্নিগ্ধা রায়

স্তমিত সূর্যের গোধূলী আলোয় ম্লান হয়ে আসা দিনের শেষে
ক্লান্ত বিধ্বস্ত পায়ে তখন শুধুই ঘরে ফেরার তাগিদ,
শ্মশানের অশ্বত্থ গাছের ডালে চলছে কাক চিলের মিটিং
চারদিকের সমস্ত বাঁধানো গাছগুলোকে বিদ্রূপ করে –
দূরে বুড়ো বটগাছটা দাঁড়িয়ে একা,
সারা শরীর জুড়ে তার হাজারো মানদের চিহ্ন।
গঙ্গার জলে ভাঁটার টানে ভেসে চলেছে কচুরীপানার ভেলা –
কোনো এক অজানা মোহনার দিকে।
শ্মশান ঘাটের বাঁধানো ওই পাঁচিলটায় গা এলিয়ে
হাসিঠাট্টায় মত্ত একদল যুবক যুবতী।
পৃথিবীর সমস্ত সুখ যেন তারা জয় করেছে –
হতাশাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে,
বন্দি করেছে তাদের হাতের মুঠোয়।
গঙ্গার ঘাটটার শেষ সিঁড়িতে বসে এক তরুনী – একা।
ছোট্ট ছোট্ট ঢেউগুলো নীরবে ছুঁয়ে যাচ্ছে তার পায়ের পাতা –
একটা শূন্য দৃষ্টি তার দুচোখ জুড়ে।
শুকিয়ে যাওয়া চোখের জলের সমান্তরাল রেখা
তখনও স্পষ্ট দু’গাল জুড়ে।
কাক চিলের চিৎকার আর ওই যুবক যুবতীদের অট্টহাসিতে
চাপা পড়ে গেল –
সদ্য হারানো প্রিয়জনের বিচ্ছেদের বুক ফাটা কান্না।
চিতার আগুন জ্বলছে তখনো –
পুড়ছে অতীত – সেও একা।

-সমাপ্ত-


FavoriteLoading Add to library
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment