শৈশবের উত্তমকুমারকে ফিরে দেখা

– অস্থির কবি (কল্লোল চক্রবর্তী)

 উত্তম পর্ব- ১

ছোট বেলা। সবে জ্ঞান হয়েছে। একটা চিত্র প্রদর্শনীতে গেছি। হাসিমুখের এক ব্যাক্তির ছবিতে চোখ আটকে গেল। বললাম – এটা কার ছবি ? কেউ একজন উত্তর দিল এটা উত্তমকুমার। উনি কি করতেন এই প্রশ্নটা করিনি কারণ উত্তমকুমার এই নামটা শোনা ছিল এবং উনি যে অভিনয় করেন সেটা জানতাম কারন ছোটবেলা থেকেই সিনেমা হলে গিয়ে সবাই মিলে সিনেমা দেখার চল আমাদের বাড়িতে ছিল এবং মাঝে মাঝেই আমার মফস্বল টাউনে উত্তম রেট্রোস্পেকটিভ হত যার পোস্টারে উত্তমকুমারের নামটা আমি দেখেছিলাম। ইনিই তাহলে সেই উত্তমকুমার ?

তার কিছুদিন পর। বাড়িতে একটা ক্যাসেট বাজছে। “মহানায়কের কন্ঠে আমি”। গাইছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। প্রথম গান – “বসে আছি পথ চেয়ে”। ক্যাসেটটার মালিক পাড়ার এক কাকু। বাজছে আমার জেঠুর টেপরেকর্ডারে। আরো অনেক গান  ছিল তাতে সেখানে একটি জায়গা ছিল যেখানে হেমন্ত বাবু বলছেন -একটা সময় উত্তম কুমার মানেই আমি এবং আমি মানেই উত্তম কুমার। সেই ক্যাসেটের সাথে আরেকটি ক্যাসেট ও শুনেছিলাম যেটিতে ধন্যি মেয়ে ছবির “এ ব্যথা কি যে ব্যথা বোঝে কি আনজনে” এই গানটি ছিল এবং তার সাথে মন নিয়ে ছবির “ওগো কাজল নয়না হরিণী” এই গানটি ও ছিল কি অপূর্ব গান। কথা যেমন তেমনই দারুন তার সুর। পরে, অনেক পরে দেখেছি তাতে উত্তমকুমারের অসাধারণ লিপিং।

তার কিছু দিন পর সিনেমা হলে নিয়ে গেল মা আর জেঠিমা। উত্তম রেট্রোস্পেকটিভ চলছে। ছবির নাম – “শাপমোচন”। বয়স অতি অল্প হওয়ায় তেমন বুঝিনি। ঝাপসা ঝাপসা স্মৃতিটা মনে আছে। সিনেমার বিষয় টা মনে ছিল আর মনে ছিল দুটি গান – “শোন বন্ধু শোন” আর “ঝড় উঠেছে”। বড় হয়ে সে ছবি অবশ্য আমার হৃদয়ের কাছাকাছি থাকা একটি সিনেমা। মনে ছিল সুচিত্রা সেনের সেই সংলাপ- “কোটটা আপনি কাকে দান করে এলেন ? এটা কি আপনার কোট যে আপনি দান করে এলেন ?”  ছবিতে একটি দৃশ্য ছিল যেখানে অন্ধ পাহাড়ী সান্যাল ঝড়ের মধ্যে হাতড়ে হাতড়ে বাড়ি ফিরলেন এবং তাঁর তানপুরা টি নিয়ে রেওয়াজ শুরু করলেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হল। সেই দৃশ্যটি আমার শিশু কোমল মনে গভীর রেখাপাত করেছিলো।

তার কিছুদিন পর কাকা কাকির সাথে দেখলাম – মন নিয়ে। সেটা আমার মফস্বল টাউনের আর একটি সিনেমা হলে। বেশী কিছু মনে নেই – শিশু শিল্পী রমি চৌধুরীর গলায় দাদামনি দাদামনি ডাক, দাদা বৌদির বিবাহিত জীবনকে ডিস্টার্ব করা আর হুইল চেয়ার ছাড়া কিসসু প্রায় মনে নেই। মনে আছে ছবি দেখে বেরোনোর পর একজনকে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম  এই ছবিটির নাম কি  দাদামনি ?  তিনি উত্তর দিয়েছিলেন – না না  দাদামনি তো সুখেন দাসের সিনেমা।এই ছবিটির নাম “মন নিয়ে”। যাও পোস্টারে দেখো তার কথা শুনে আমি পোস্টার দেখলাম কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না, আসলে তখনকার দিনে পোস্টারগুলো এত উচ্চমানের হত যে সেগুলো পড়ে তার মর্মোদ্ধার করা, আমার বয়সী একটি ছোট্ট শিশুর পক্ষে খুব দুষ্কর ব্যাপার ছিল। পরে এক কি দু বার টিভিতে দেখে মনে হয়েছে মনস্তত্ব নিয়ে রুপোলী পর্দায় এই ছবির জুড়ি মেলা ভার।

দূরদর্শনে ছবি দেখছি। নায়কের নাম উত্তম কুমার। ছবির নাম খুব সম্ভবত – “তাসের ঘর”। তত দিনে বুদ্ধি হয়ে গেছে। দারুণ লাগল।স্বপ্নের মত ছবি যার রেশ সহজে কাটেনি। ছবিতে উত্তমকুমারের  দ্বৈত ভূমিকা ছিল । দ্বৈত চরিত্রের ছবি সম্ভবত সেই প্রথম আমি দেখলাম এমনটা যে হয় তা দেখে আমার খুব তাজ্জব লেগেছিল সেই সময় খুব সমসাময়িক আমি আরেকটি ছবি দেখেছিলাম তার নাম “ভ্রান্তিবিলাস” সেখানেও উত্তমকুমারের দ্বৈত ভূমিকা ছিল এবং সেই ছবিটি আমি ভীষন ভীষণ উপভোগ করেছিলাম।

এরপর দেখলাম একটি ছবি – তার নাম “রাজা সাজা”। এমন ও হয়। ইম্যাজিনেশন গুলোকে নিয়ে যেন খেলা চলছে। দেখি আর ভাবি যদি আমার সাথে এমনটা হত। দুম করে একজন রাজা হয়ে গেল এবং তার জীবনটা হঠাৎ করে একদম পরিবর্তন হয়ে গেল সেই ছোট্ট বয়সে আমি ভাবতাম আমার জীবনে ও যদি এমন হতো যদি এমন কোন বিকাশ রায় আমার জীবনে আসতেন এবং আমাকে বলতেন – রাজাবাবু, আপনি অমুক জায়গার অধিপতি। চলুন আপনার রাজ্য সামলাবেন চলুন। সেই সময়েই আমি উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত “সূর্য তোরণ” ছবিটি দেখেছিলাম। ছবিটিতে  গরিব  বস্তিবাসীদের জন্য  বড় অট্টালিকা তৈরির  যে  ভাবনা সেটা  অসাধারণ হয়েছিল।  তাছাড়া  উত্তম-সুচিত্রা হালকা ডুয়েল,  সেটাও  বেশ উপভোগ  করেছিলাম।

একটা কথা বলে রাখি, প্রেমের দৃশ্য গুলো সেই ছোট্ট বেলায় উঠতে কিন্তু আমার একটুও অসুবিধা হতো না। এবং সেই ছোটবেলাতেই মেয়েদের ভালোলাগা এবং ভালোবাসার কিছু কিছু  অনুভূতি আমার ব্যাক্তিগত ( শৈশবগত বলাই ভাল) জীবনে তৈরি হতে কোন অসুবিধাই হয়নি। সেটা কিন্তু জলবৎ তরলং অনায়াসেই ঘটেছে। বইয়ের পড়া বুঝি না বুঝি উত্তমকুমারের মত মেয়েদের চাউনির ভাষা ঠিকই বুঝতে পারতাম সেই কোমল বয়সেই।

তার পর “হারানো সুর”। তত দিনে অনেকটাই বড় হয়ে গেছি। দারুণ লেগেছিল উত্তমকুমারের ইনোসেণ্ট পাগলামি। ততদিনে সিনেমা কিছুটা বুঝতে শিখেছি ।হারানো সুরে কিছু দৃশ্য আছে যেগুলো কখনোই ভোলা যায় না। যেমন এক জায়গায় উত্তমকুমার বলছেন – “কৌতুহল থাকা ভালো  কিন্তু তার একটা সীমারেখা থাকা উচিত”। আরেক জায়গায় উনি বলছেন, “আমার জীবন থেকে কতগুলো বছর হারিয়ে গেছে”। ব্যবসায়ী মানুষ তো, সেই হিসাবটা মেলাবার চেষ্টা করি। অজয় করের ছবি ছিল এই হারানো সুর। অসাধারন একটি ছবি হলিউডের “র‍্যানডম হারভেস্ট” অবলম্বনে ছবিটি তৈরি হয়েছিল যার প্রযোজক ছিলেন স্বয়ং উত্তম কুমার। তার আলোছায়া প্রডাকশন্সের ব্যানারে এই ছবিটির একটি বড় অংশ শুটিং হয়েছিল “তোপচাঁচি” তে যেটা উত্তমকুমারের ভীষন  প্রিয় একটি জায়গা বড় হয়ে এসব জেনে ছবিটির প্রতি এক অমোঘ আকর্ষণ অনুভব করি।

কিছু দিন বাদে “সপ্তপদী”। উত্তম সুচিত্রার ঠোকাঠুকি খুব এনজয় করেছিলাম। বিশেষত  সেই বিখ্যাত  ফুটবল খেলাটা।  এছাড়া  “এবার কালী  তোমায় খাব”  বলে  উত্তমকুমারের  নারকেল ছাড়ানো,  সেটা  যে কি অপূর্ব দৃশ্য  তা  ছোটবেলায় বুঝতে পেরেছিলাম। যদিও সপ্তপদীর ট্রাজিক পার্টটা আমার খুব একটা ভালো লাগেনা। যদিও নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারি যে ওথেলোর দৃশ্যটা যেটা অনেকের কাছে ভীষণ প্রিয়, আমার কিন্তু সেটা দূরের বলাকা বলে মনে হয়েছে। তার বদলে যদি কোন বাংলা নাটক সেখানে অভিনীত হত যেখানে উত্তমকুমার নিজেই তার ডাবিং টি করতেন তাহলে কিন্তু নাটকে উনি ঠিক কিভাবে অভিনয় করেন তার সম্বন্ধে আমরা একটা পরিষ্কার ধারনা লাভ করতাম। যদিও এখানে সুচিত্রা সেন ক্রিশ্চান ছিলেন বলে ওথেলোই পারফেক্ট ছিল কিন্তু উত্তমকুমারের নিজের গলা না পাওয়াটা আমার কাছে ভাল লাগেনি।

“অভয়ের বিয়ে” এরম একটি ছবি। এটা খুব মন ছুঁয়েছিল কারন যখন বড় হচ্ছি তখন মেয়েদের সাথে মিশতে ওরকমই সঙ্কোচ লাগত যেটা অভয়ের লেগেছিল। একটা কথা বলি উত্তমকুমারের সময়ের ছবি গুলিতে একটা স্বপ্ন ছিল একটা রুপকথা ছিল যা ইদানিংকার বাস্তবতা ঘেষা ছবিগুলিতে খুবই মিস করি। যা বাস্তবে হয় না, তা কে সম্ভব করার জন্যই তো সিনেমার কল্পরাজ্যে বিচরন যা সম্ভব করেছিল উত্তমকুমারের সিনেমাগুলি। যেমন অসাধারন সুন্দর নায়ক, তেমন তার বাচন, তেমন সেই ছবির কাহিনী, সেই ছবির সহ অভিনেতারা, সেই ছবির গান। সবমিলিয়ে যেন এক সব পেয়েছির দেশ।

দারুন লেগেছিল “শুধু একটি বছর”। সবার “বেনুদি” মানে সুপ্রিয়া চৌধুরী তো রূপে আর তেজে উত্তমকুমারকে গিলে খেলেন সারা ছবি জুড়ে। তার পাশে মহানায়কের ওরকম কুল অ্যাকটিং ইন্ডিয়ান সিনেমায় অন্তত কেউ করেছে বলে মনে করতে পারছি না। ছবিটার শুটিং অনেকটাই রাজস্থানের পুষ্কর হ্রদের মাঝের হোটেলটিতে হয়েছিল। সেটি আজও বহু বাঙালীর গন্তব্যস্থল যারা রাজস্থানে বেড়াতে যান। এক অসম্ভব জেদি, একগুঁয়ে দেমাকি মেয়েকেও যে নিজের কুল অ্যাকটিং দিয়ে বশে আনা যায় তা বাঙালী যেন এই ছবি থেকে শিখল। সত্যি উত্তমকুমার কত ভাবে যে বাঙালী পুরুষকে প্রেম করতে শেখালেন তার ইয়ত্তা নেই। সব ধরনের পুরুষ মানুষকেই তার মত করে রোমান্টিসিজমের কোর্স করিয়েছেন উনি।

“অমানুষ”। এই সিনেমাটার কথা না বললে আমার লেখাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মনে আছে তখন পাড়ায় মাঝে মাঝেই ভি সি আর ভাড়া করে সিনেমা দেখানো হত। পাড়ার সব দাদা রা চাঁদা দিয়েই ক্যাসেট , কালার টিভি ভাড়া করে সবাই কোন ফাঁকা জায়গায়  ত্রিপল পেতে বসে সিনেমা দেখা হত। কি সব আনন্দের দিন ছিল সেই সময় গুলো যা এখন খুব মিস করি । এখন একা একা বসে সিনেমা ক্রিকেট ফুটবল সব দেখতে হয়। দূরদর্শনের কাছে আমরা ঋনী। একটা সময় তারা কিন্তু টানা উত্তমকুমারের ছবি দেখিয়ে গিয়েছে। সেই ছবি দেখে আর মা জেঠিমাদের কথা শুনেই উত্তমকুমারের সম্বন্ধে ক্রেজ তৈরি হয়েছিল। যদিও আমার আক্ষেপ যারা উত্তমকুমার চেনালো তারা আজ সিরিয়াল দেখে। অবশ্য টিভিতে না দিলে সে বেচারীরা করবেই বা কি ? সবাই তো আর ইউটিউব চালাতে পারে না। তবে “কেবল” আসার পর প্রথম প্রথম খুব দিত। আমি আর বাবা দেখতাম। সেটা যৌবনের উত্তম। তার গল্প হবে পরে। যাহোক “অমানুষ” এর মত একটা সিনেমা যে এই বাংলায় হয়েছিল, ছোট বয়সে ই তার গল্পটার সাথে কেন জানিনা একাত্ম হয়ে গেছিলাম।সবাইকে সিনেমাটায় মনে হয় জীবন্ত। অভিনয় করছেন বলে মনেই হয় না। আর উত্তমকুমার তো লা জবাব। একের পর এক দৃশ্যে ম্যাজিশিয়ানের মত যাদুকাঠি নেড়ে গিয়েছেন তিনি।

বেশ কিছু ছবির মর্ম ছোট বেলায় বুঝিনি। যেমন – নায়ক, নিশিপদ্ম, অগ্নীশ্বর, সব্যসাচী, সন্ন্যাসী রাজা, বাঘবন্দী খেলা, বনপলাশীর পদাবলী,নায়ক ইত্যাদি। বড় হয়ে বুদ্ধির চোখ দিয়ে তার বিচার করতে শিখেছি। আর বুঝেছি এই অভিনয়ের বিকল্প এ বাংলা কেন, সারা ভারত এমনকি সারা ধরাধামে আর কোথাও ই খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই তো আজ মৃত্যুর আটত্রিশ বছর বাদেও সোশ্যাল মিডিয়ায় রোজই এক না এক  নতুন অবতারে হাজির হন তিনি আর তাতে অনেক উত্তম কালেক্টরের মত এই লেখকের ও ন্যুনতম কিছু ভূমিকা রয়েছে সেটা ভাবলে মন টা খুশিতে ভরে ওঠে। সত্যিই তো, যিনি শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকর্তা তাকে নিয়ে দিনরাত লেগে থাকা ও সাথে কিছু সৃষ্টি করার সু্যোগ দেবার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই বলা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।

অনেক ছবিতে তার অভিনয় নিয়ে আজও সেলফ রিসার্চ করা বাকি। যেমন – ব্রজবুলি, চিড়িয়াখানা, কাল তুমি আলেয়া ইত্যাদি। তেমনি শৈশবের ও সবটা সঠিক ভাবে বিশ্লেষন করা হল না। কারন শৈশবকে একজন মাঝবয়েসী মানুষের চোখ দিয়ে দেখতে গেলে তা বিড়াল ভেবে বাঘকে আদর করতে যাওয়ার মত ব্যাপার হবে। উত্তমকুমার এমন একটা সাবজেক্ট যাকে নিয়ে অনার্স হয়তো কমপ্লিট করা যায়, কিন্তু মাস্টার ডিগ্রি করা ভীষন কঠিন। আর তাকে নিয়ে পি এইচ ডি করার ক্ষমতা বোধ হয় কারুরই নেই। তবু তাকে ভালবেসে লেগে আছি। কি করছি কেন করছি কি লাভ কি ক্ষতি এসব ভাববার অবকাশ নেই। আদৌ কাজের কাজ কিছু করছি তো ভাবি মাঝে মাঝে, ভাবি এবার একটু পাগলামি টা কমাব কিন্তু ভাবাই সার, গুরু কোন না কোন দিক দিয়ে যে আবার আমাকে দিয়ে কিছু একটা অবিশ্বাস্য কাজ করিয়ে নেন। সত্যি বলছি কখনো কখনো আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই। কোন ঐশ্বরিক শক্তির প্রভাব ছাড়া আমি, আমরা,  যারা এটা পড়ছেন তাদের এই পাগলামি সম্ভব নয় এটা আমার মাঝে মাঝে মনে হয়। সবাই সেই দেবতার পায়েই অঞ্জলি দিচ্ছেন । ধরনটা শুধু আলাদা।

কিন্তু এটুকু বলতেই পারি যে ছোট বেলায় উত্তমকুমারকে পেয়েছি একভাবে। প্রথম যৌবনে আরেকভাবে। (সেটা নিয়ে কোন দিন আলোচনা হবে যদি আপনারা আগ্রহী হন।) এখন পুরোটা অন্যভাবে। নিজে তাঁকে নিয়ে কাজ করছি একথা ভাবলেই গর্ববোধ যতটা হয়, নিজেকে সৌভাগ্যের অধিকারী ততটাই মনে হয়। কিছু অকৃত্রিম বন্ধু পেয়েছি তাঁকে নিয়ে চর্চা করতে গিয়ে এটা ভাবলেই আবেগ আর কৃতজ্ঞতায় কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে। যাঁদের পেয়েছি তাঁদের মধ্যে আছেন ডাক্তার, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সরকারী বেসরকারী অফিসার, পুলিশ অফিসার, এমনকি স্বর্ণযুগে কাজ করা এক দু জন মানুষ, উত্তমকুমারের সান্নিধ্যে আসা দু এক জন মানুষ, উত্তমকুমারের ছবির ভাল কালেকটর ইত্যাদি নানা জগতের লোক যাঁরা আমার পোস্ট,ছবি, লেখা ইত্যাদী ভালবাসেন। অনেকেই আমাকে ব্যাক্তিগত ভাবে ভালবাসেন এ আমার গুরুর অবদান,  এ আমার বাবামায়ের আশীর্বাদ, এ আমার জীবনের এক বড় অনুপ্রেরনা।

তবে সব মিলিয়ে শৈশবের সেদিনের উত্তমকুমার আমার মনে যে জায়গা নিয়েছেন তা হয়ত সেরার সেরা। কথায় বলে “ফার্স্ট ইমপ্রেশন ইজ দ্য ফাইনাল”। সেই ভাল লাগার রেশ নিয়ে চলছি চলব উপরওয়ালা যদ্দিন নিচে রাখবেন ততদিন পর্যন্ত। মাঝে মাঝেই মনে হয় সব কাজ হয়ত শেষ করে যেতে পারব না। অনেকেই মাঝে মাঝে বলেন, “ইউ আর এ জিনিয়াস”। আমি বলি, আসল জিনিয়াস আমাদের গুরু। তিনি যা দিয়ে গেছেন তা ভাঙিয়েই চলছি। তিনি নিজে প্রচুর কাজ করে গেছেন।  রিয়াল হিরোর মত। আমাদের সাধ্যি কি আমরা তার মত হব, আমরা শুধু পুষ্পাঞ্জলি দিচ্ছি। মন্ত্রের মানে না বুঝেই যেভাবে ঠাকুরের অঞ্জলি দিই। তবু সে ভক্তিতে হয়ত কিছুটা হলেও খাদ মেশানো থাকে। কিন্তু এ ভক্তি নিখাদ। এ ভক্তিতে কোন ফাঁকি নেই। ভাবতাম আমরাই শেষ। কিন্তু বহু নতুন জেনারেশনের ছেলেমেয়েও তার ভক্ত দেখে তাজ্জব বনে গেছি। উত্তমকুমারকে বাঙালীর মননে এ ভাবেই তার নিত্য নতুন ভক্তকুল চিরদিনের আপনার জন করে রেখে দেবেন এই ব্যাপারে আশাবাদী হয়েই এই লেখা শেষ করছি। কেমন লাগল পারলে আপনারা ব্যাক্তিগত ভাবে জানাবেন।

—–

(চলবে)


FavoriteLoading Add to library
Up next
মাস্টারপিস – শ্বেতা মল্লিক... অ্যালার্ম টা বাজতেই বাস্তবের মাটিতে ফিরে এলাম। একবার কলম ধরলে আর ছাড়া যায় না,এমন কথাটাই প্রযোজ্য লেখক দের জন্য। আরও যদি পছন্দসই লেখার মাধ্যমে পাঠকদ...
প্রেমের গল্প -"একি বাবা তুমি খালি হাতে বসে রইলে যে?মিষ্টি গুলো তো তোমাদের জন্যেই আনা..দিদি বলুন না ছেলেকে,নিজেরই ঘর ভাবো বাবা...খাও খাও..মেয়ে তৈরী হচ্ছে,এক্ষুনি আস...
সমাপতন - সৌম্য ভৌমিক   কলম যখন যায় শুকিয়ে একলা ঘরে মুখ লুকিয়ে কাঁদি সঙ্গোপনে , ভাবনা যখন কাছে আসে না স্বপ্ন চোখে আর ভাসে না থাকি ঘরের কোণে । শ...
ভাবি আনমনে -সৌম্য ভৌমিক শিশির ধোয়া জানালার কাচে জেগে থাকে মুখোশের সারি ছোট টবে বনসাই বাঁচে বিবর্ণ হওয়া ফ্ল্যাট বাড়ী । ঘামে ভেজা শরীরের ভীড়ে খুঁজে পাওয়া...
দৃষ্টি চকিত চোখের মধ্যে চোখ রেখে দেখি পাপড়ি মেলছে রোদের কুসুম ; যেখানে বর্গ ইঞ্চিতে সাঁতার কাটে চোরা ঘূর্ণী , মায়ার চন্দন লেপে দেয় নবমীর ললাটে , বুকের ভিতর দগ...
মিথ আর প্রশ্ন - মৌমিতা মারিক (রাই)   আমি কোনোদিন ফরসা হতে চাইনি ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর অ্যাড মেখে ঘুরতে চাইনি যতবার আমায় কালো বলেছো জিজ্ঞেস করেছি " বিদেশী...
স্মৃতি – স্বরূপ রায়...   ছিন্নভিন্ন দেহটা পড়ে ছিল বহুতলটার নিচে। চারিদিকে অসংখ্য মানুষের ভিড়। মাথাটার পাশে একরাশ রক্ত জমে আছে। জমে থাকা মানুষের ভিতর থেকে নানান মন্তব্য কানে ...
সাঁকো – নিলয় গোস্বামী... গাছের শিরায় চুপিচুপি রঙ জমা রাখো সারাটা ভাবনা জুড়েই কাঠুরে  আবেশ যেখানে জীবন অবিশ্বাসে নীল রাঙা সাঁকো সঞ্চয় শেষে একা পথ হাঁটে যে দরবেশ। ছায়াদে...
ফুল – অরূপ ওঝা          দৃশ্যানুভূতি বিতরণের তরে           কেন পাঁপড়ি মেলে আছো তোমার ও তো জীবন আছে            সেটা নিয়েই বাঁচো। কখনো তুমি ঝরে পড়ো           ...
স্বাধীনতার ৭০- গার্গী লাহিড়ী...     উফ আজ বড্ড দেরী হয়ে গেল অদিতির । আবার বৃষ্টিটাও খুব জোরে এল। কেন যে মরতে স্যারের কথায় এখানে এলো ? কাল ১৫ ই অগাস্ট পতাকা উত্তোলন হবে খুব ধুমধ...
Admin navoratna

Author: Admin navoratna

Happy to write

Comments

Please Login to comment