ষাটেও স্থিরযৌবনা মহুয়া – শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

হুয়া আজ ষাট। হীরক জয়ন্তীতে সোনালী রায় ওরফে শিপ্রা ওরফে মহুয়া।
ভাবা যায় মহুয়াও এখন এক নাতনীর ঠাকুমা।মহুয়ার গোলা ওরফে তমাল-এর মেয়ে।যার মুখ অনেকটাই মহুয়া বসানো।মহুয়া
কিন্তু যৌবন সরসী রূপ নিয়েই চলে গেছেন,যারা যৌবনেই প্রয়াত হন তাঁদের তো সেই যৌবনটাই আমাদের চোখে ধরা থাকে। তাঁদের বয়স বাড়েনা।তাঁদের আমরা স্বপ্নে দেখলেও সেই সময়কার দেখি তাঁদের জরা স্পর্শ করেনা।আজও স্থিরযৌবনা মহুয়া।

চলে আসি সেই অভিশপ্ত দিনে।
প্রযোজক রথীন মজুমদার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে এসে পড়লেন পরিচালক বীরেশ চ্যাটার্জ্জীর বাড়ির সোফায়। বললেন “আমার সব শেষ হয়ে গেল”।
বীরেশ বললেন “কেন? কি হল?”
রথীন মজুমদার বললেন

“মহুয়া আর নেই। আমার প্রোডাকশানের ‘আর্শীবাদ’ ছবির সব টাকা লোকসান হয়ে গেল এখনও তো মহুয়ার নাচের সিন বাকি।”
বীরেশও ভেবে পেলেন না এর বিকল্প কি।ছুটলেন দেবী বির্সজনের শেষ দর্শনে।
ওদিকে অঞ্জন বাবুর ‘সন্ধ্যা প্রদীপ’ র শ্যুটিং চলছে। অঞ্জন চৌধুরীর বেহালার বাড়ি গিয়ে আলপনা গোস্বামী, রঞ্জিত মল্লিকরা দেখছেন সব থমথমে। যে পরিবেশ আগে কোনদিনও কেউ দেখেনি। মহুয়া আর নেই।

বেহালায় অঞ্জন চৌধুরীর বাড়ির পার্টি থেকে ফিরে ঘোর বর্ষামুখর রাতেই ভয়ঙ্কর ভাবে অগ্নিদ্গ্ধা হয়ে এগারোটা দিন মৃত্যুর সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধ শেষ করে অগুনতি মানুষকে চোখের জলের শ্রাবণ ভাসিয়ে বিদায় নিয়েছিল মহুয়া তাঁর বেহালার ভাড়া বাড়ি থেকে।
শেষবারের জন্য সোনার প্রতিমা দেখাতে চাইনি তাঁর অগ্নিদগ্ধা রূপ। সবথেকে হিট ছবি যার সঙ্গে সেই তখনকার নায়ক তাপস পাল কেও ফিরে যেতে হয় ক্যালকাটা হসপিটাল থেকে। সেই হসপিটালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাণপ্রতিমা। শুধু শিশু ছেলে গোলার জন্য ছিল তাঁর বুক ভরা হাহাকার।

মহুয়ার মৃত্যুর তিরিশ বছর পার করেও তাকে নিয়ে অনেক রসালো রহস্যের গল্প হয়েছে। স্ক্যান্ডেল চর্চিত হয়েছে কিন্তু মহুয়ার কাজ গুলো নিয়ে কোন চর্চা নেই।

ফিরে যাই মহুয়ার শেষ শ্যুট করা ছবি ‘আর্শীবাদ’ র গল্পে। মহুয়ার শেষকৃত্যের পর তাঁর শেষ না করা কাজ কি করে শেষ হবে। এরকম অসংখ্য ছবির চুক্তি সই করা বক্সঅফিস হিট নায়িকা সবাইকে ভাসিয়ে চলে যান। সব ছবির পরিচালক প্রযোজক রা দিশেহারা।

‘আর্শীবাদ’ এ তখনও মহুয়ার নাচের সিন আরো কিছু সিন বাকি। বীরেশ চ্যাটার্জ্জীকে মহুয়া বলেছিলেন “বীরুদা নাচের সিনটা জমিয়ে করব। অনেক খেটে করব।’
কিন্তু স্বয়ং প্রাণপ্রতিমার তো ভাসান হয়ে গেছে।
তাহলে কি বন্ধ হয়ে যাবে ছবি। প্রযোজক ভেবে পেলেন না।
আইডিয়া বার করলেন বীরেশ। মহুয়ার সেই নাচের সিনে মহুয়ার আগের নৃত্যরত ফটোশ্যুট টেস্টের ছবি জুড়ে জুড়ে তৈরী হল নাচের দৃশ্য। একটি গানেরও দৃশ্য। সব স্টিল ছবিতে ভেসে এলেন মহুয়া।

‘কিন কিনি রিনি ঝিনি বাজে নূপুরেরও ছন্দ
দুলেদুলে এই খুলে খুলে যায় সুরভরা বাজুবন্ধ’

অরুন্ধতী হোম চৌধুরীর গানে তৈরী হল মহুয়ার স্টিল ফটোয় মহুয়ার নাচ গানের দৃশ্য। সেটা অবশ্যই নাচের কস্টিউমে ছবি ভাগ্যিস ছিল তাই। মহুয়ার সাধের নাচের সিন এভাবেই করলেন পরিচালক।
মহুয়ার কন্ঠ ডাবড করলেন অনামিকা সাহা।
অনামিকা তখন বাংলা ছবির ভ্যাম্প। তবু আকাশবানীতেও কাজ করছে টুকটাক।সেই সূত্রে মহুয়ার অনেক শেষ না হওয়া ছবির গলা ডাবড করেছেন অনামিকা সাহা। যেমন ‘আর্শীবাদ’,’অনুরাগের ছোঁয়া’।

এভাবেই তৈরী হল ‘আর্শীবাদ’। তাপস-মহুয়া জুটির ছবি।হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরারোপে অসাধারন গানে গানে সদ্যপ্রয়াত মহুয়াকে দেখতে ছবি হিট।প্রযোজক হাফ ছেড়ে বাঁচলেন।মহুয়াকে অসম্ভব সুন্দর দেখতে লেগেছিল ‘আর্শীবাদ’ এ।
‘সন্ধ্যাপ্রদীপ’,’অনুরাগের ছোঁওয়া’ রিলিজ হল।অনেক পরে ১৯৯০ এ রিলিজ হয় ওম পুরীর সঙ্গে মহুয়ার বাংলা ছবি ‘সংক্রান্তি’। অপর্ণা সেন প্রসেনজিৎ ও ছিলেন। মৃত্যুর পরেও মহুয়া হিট।

উত্তম কুমার,সৌমিত্র,অনিল চ্যাটার্জ্জী র সঙ্গে স্ক্রীন শেয়ার করেছেন মহুয়া। রঞ্জিত, তাপস, চিরঞ্জিত ,সন্তু মুখার্জ্জী, জয়,মিঠুন,প্রসেনজিৎ যার নায়ক।
শুধু নায়ক-নায়িকা জুটি নয়। মহুয়া-দেবশ্রী দুই নায়িকার জুটিও ছিল সেসময় বক্স অফিস হিট।বাঙালী মুখ নায়িকা মহুয়া, আলপনা,দেবশ্রী দের পর আর এল কেউ।
সেই ‘দাদার কীর্তি’ দিয়ে দুই বোন মহুয়া-চুমকি র জুটি। তারপর ‘সুবর্ন গোলক’ ‘পারাবত প্রিয়া’। মহুয়া থাকলে এ জুটি আরও ভালো ছবি উপহার দিত।

নায়িকা বিখ্যাত হলেই তাঁকে নিয়ে রসালো গল্প হয়।মহুয়ার চরিত্র নিয়েও হয়েছে।তাঁর প্রিয় বান্ধবী বলেছে সে কথা যাকে মহুয়া বিশ্বাস করত।এসব সত্যিমিথ্যের চেয়েও বড় কথা মহুয়ার আরো অনেক গুণ ছিল। সেগুলো হয়তো দেখা হয়না।
স্টুডিওর কুকুর গুলো ছিল মহুয়ার ভালোবাসার সবার জন্য বিস্কুট নিয়ে যেত।
‘দাদু নাতি হাতি’ বলে মনোজ মিত্র সন্তুর সঙ্গে একটা ছবি করছিল সেখানে অবশ্যই ছিল একটি হাতি।যতদিন হাতি নিয়ে শ্যুট হয়েছে মহুয়া হাতির জন্য একছড়া কলা নিয়ে গেছে।
প্রসেনজিৎ তখনও পায়ের তলার মাটি পায়নি।বিশ্বজিৎ জায়া রত্না চ্যাটার্জ্জীর করতেন শাড়ীর ব্যবসা। মহুয়া একদিনে রত্না দেবীর থেকে সব শাড়ি কিনে নেন।দিলীপ রায় পরিচালিত অপর্ণা সেন অভিনীত ‘নীলকন্ঠ’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ প্রসেনজিৎ কে করে দেন মহুয়াই।
জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে টেকনিশিয়ানস সবার সঙ্গে ছিল ঘরোয়া সম্পর্ক। কত ছোটো অভিনেতাকেও ভাই দাদা পাতিয়েছিল।
রাখীপূর্ণিমা কি ভ্রাতৃদ্বিতীয়া শ্যুট থাকলেও মধ্যরাতে তাঁদের বাড়ি গিয়ে মহুয়া রাখী পরিয়ে ফোঁটা দিয়ে এসছে।
সুচিত্রা সেনের সামনে নাচ দেখিয়ে জলসা মাতিয়েছিল ছোটো সোনালী রায় ওরফে মহুয়া।
সুচিত্রার পার্সোনাল মেকআপ ম্যান হাসান জামানের সহায়তায় সুযোগ পান তরুন মজুমদারের ছবিতে প্রথম ব্রেক পাবার। আবার সাবিত্রী মাধবীর খুব কাছের ছিল মহুয়া।
দমদম থাকতেন তখন মহুয়া ওতদূর থেকে রোজ টালিগঞ্জে আসা ফেরা মুশকিল। তাই থেকে যেতেন মাধবী মুখার্জ্জীর বাড়ি। আর্ন্তজাতিক চারুলতা তখন মাধু মা। মেয়ের জন্য ভাত রেঁধে দিতেন। সেই খেয়ে মেয়ে শ্যুটিং এ গেলে মায়ের শান্তি। মহুয়ার অকাল প্রয়াণ আজও মানতে পারেননা মাধবী দেবী।
আর সন্ধ্যা রায়।তিনি তো মাটির তাল শিপ্রা সোনালীকে মহুয়া রায়চৌধুরী তৈরী করলেন।
এক এক দিকপাল নায়িকার বরপুত্রী যেন এই প্রানপ্রতিমা মহুয়া।

বিয়ে করেছিলেন তিলক চক্রবর্তীকে।যিনি ছিলেন শিশু অভিনেতা প্রথমে। যেমন তিলক সুচিত্রা সেনের ছোটো ভাই হয়ে সপ্রতিভ অভিনয় করেন ‘হসপিটাল’ ছবিতে। নবজন্ম,রাজা রামমোহন,নিশিপদ্ম,খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন,মায়ার সংসার প্রচুর ছবিতে শিশু অভিনেতা ছিলেন তিলক। বড় হয়ে কিশোর কন্ঠী হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি মহুয়ার সঙ্গে ছিলেন প্রতিশোধ ছবিতে। ইমন কল্যান আর আনন্দমেলায় প্লেব্যাক করেন তিলক। কিন্তু মহুয়া তখন বিশাল স্টার। মতের অমিল,ঝগড়াই কি কাল হল। আজ এত বছর পর এসব থাক … ভালোবাসা মন্দবাসা প্রেম অপ্রেম পয়সার এপিঠ ওপিঠ। ওঁদের সন্তান গোলা তাঁর স্ত্রী নাতনী রা ভালো থাক।

তবু ……..

“আজি বসন্তে পিককুল গায়
দখিন বাতাসে বাজিছে বাঁশী
এত ছন্দ-গন্ধ-আনন্দমাঝে
শুধু, সখী’র অধরে নাই যে হাসি… “

আজ ১৯৫৮ জাতিকা মহুয়া রায়চৌধুরীর ষাট বছরের জন্মদিন। তবু আজ মহুয়া কে নিয়ে কোন অনুষ্ঠান নেই। নাহ মিডিয়া নাহ টলি পাড়া।মানুষ মরে গেলেই কি ফুরিয়ে যায়?
এই মাহেন্দ্রক্ষণ মনে রাখলনা টলিউড।
না কোন ফ্যানক্লাব।

অথচ উত্তমোত্তর যুগে বক্সঅফিস হিট নায়িকা একমাত্র মহুয়া।যার নামে হল হাউসফুল হত। যার প্রতিমা মুখ আজও ভোলেনি বাঙালী। আজ কোন অনুষ্ঠান না হলেও কিছু মহুয়া গুণগ্রাহী ভক্ত নীরবে তাঁদের কাজ করে যাচ্ছেন।

যেমন বোলপুরের মনোজ উপাধ্যায়।
গড়ে তুলেছেন মহুয়া রায়চৌধুরী ফাউণ্ডেশন।যার সংকল্প নেওয়া হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ২২শে জুলাই..মহুয়ার অনন্তলোক যাত্রার দিন। অফিসিয়ালি ব্যবস্থাপনা শুরু হয় দশদিন পর ১লা অগাস্ট..কাগজে কলমে কাজ শুরু হয় ১৯৮৫ সালেরই আজকের দিনে অর্থাৎ ২৪ শে সেপ্টেম্বর… আজ অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে এই ফাউণ্ডেশনের গোড়ার কথা থেকে শুরু করে আগামী দিনে আকাশ জোড়া তার বিস্তৃতির স্বপ্ন দেখার যে পাণ্ডুলিপি সেখানে ব্যক্তি মহুয়া রায়চৌধুরী অনুপস্থিত।কিন্তু ছিলেন আছেন ও থাকবেন শুধুমাত্র অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী আর তাঁর কাজ।সঙ্গে পেয়েছেন মহুয়ার ছেলে বৌমা দের। কাজ চলছে মহুয়া রায়চৌধুরী ফাউণ্ডেশনের একাডেমী ও আর্কাইভের। ছোটো ছোটো শিশুদের নিয়ে তৈরী এই প্রতিষ্ঠান মহুয়ার নাম উজ্জ্বল করছে।

হীরক জয়ন্তীতে হীরের মতোই জ্বলজ্বল করুক বাঙালীর হৃদয়ে বাংলা ছবির সোনার প্রতিমা।

____


FavoriteLoading Add to library
Up next
দত্তক - গার্গী লাহিড়ী মধ্যরাতে বারান্দার কোনটিতে একলা বসে লেখিকা অনুসূয়া আজ সে বড় ক্লান্ত পোষমানা স্মৃতির পাতাগুলো বিতর্কের ঝড়ে এলোমেলো অবাধ্য এত ক্ষো...
হারানো সুর – সুস্মিতা দত্তরায়... চোখের জল বাঁধ ভাঙলো ইরার। চোখ ছাপিয়ে দুই গাল বেয়ে নেমে এলো অশ্রুধারা। দুই হাতে তা মুছে আবার ফিরে তাকাল ওই দোতলা বাড়ীটার দিকে। তারপর ধীর পায়ে উঠোনটা পে...
নিয়মিত জীবন-যাপন - সমর্পণ মজুমদার   জীবনে অনেক কিছুই করতে ইচ্ছে হয় আমাদের। যা দেখেই আমরা অনুপ্রাণিত হই, সেটাই করতে ইচ্ছে করে। সেটা যে কোনো নির্দিষ্ট একটা বিষ...
দৃষ্টিভেদ – শুভেন্দু সামন্ত... হিমের ভোর-জানালার রোদ শিখার মতো তোমার মায়াভরা দৃষ্টি , বুক ভেদ করে যায় চোলে । এ-প্রান্ত থেকে ও- প্রান্ত ।এ বড় মধুর দহন , যেন স্বপ্নের দেশে স্ব...
সাধ - তমালী চক্রবর্ত্তী     সকাল থেকেই আজ বেশ হিমশিম খাচ্ছে সুজাতা। মৌ এর সাধ। সময়মতো মৌ এর জন্য রান্না শেষ না করতে পারলে...কথার অন্ত থাকবে না।...
সেদিনের রাতটুকু - মুক্তধারা মুখার্জী   খাটে শুয়ে সেই কখন থেকে এপাশ ওপাশ করছে মিতিন। কিছুতেই ঘুম আসছে না। ওদিকে দেওয়াল ঘড়ির টিকটিক শব্দটা যেন কানে তালা ধরিয়ে ...
রূপকথার বালিকার কল্পনায় – সৌমিক মান্না... একদিন আমি খেলার ছলে হারিয়ে গেলাম মেঘের দলে, হঠাৎ এক মেঘের ছায়া পড়লো আমার চোখের জলে তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রশ্ন করলাম কৌতূহলে "বলো তো মেঘবালক,সোনার ...
কিপটে ভূতের গল্প – শাশ্বতী সেনগুপ্ত...       নাদেশ্বর বাঁড়ুজ্যে মরে গেলেন। ভূত হয়ে ভূত জগতে পর্দাপণ মাত্রই শুনতে পেলেন তাকে নিয়ে ফিসফিসানি আরম্ভ হয়েছে। তিনি হাওয়ায় কান পাততেই কথা স্পষ্ট হল,...
সেই পাগলটা – বর্ষা বেরা... সেই পাগলটা তাকে প্রথম দেখেছিলাম গড়িয়ার মোড়ে | অদ্ভুত পোশাক তার,অদ্ভুত সব কার্যকলাপ কখনও নিজের চুল ছিঁড়ছে,কখনও বা ছুটছে লোকের পিছনে, তবু নেই তার আত...
প্রথম মিস্টার পারফেকশানিস্ট-  অস্থির কবি ( কল্লোল ...   উত্তম পর্ব -তিন   ইদানিং বলিউডের আমির খানকে মিস্টার পারফেকশনিস্ট বলা হয়। যেমন এক কালে রাহুল দ্রাবিড়কে ওয়াল বলা হত। ক্রিকেট দেখা ছেড়ে দি...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment