সম্পর্কের চিলেকোঠায় – বিদিশা মন্ডল

রন্ত বিকেলে সূর্য যখন তার লালচে সংসার নিয়ে পশ্চিমদিকে ঢুলুঢুলু চোখে পাড়ি দিয়েছে তখন তানিয়া এককাপ ধোঁয়া ওঠা কপির কাপ হাতে ওর ফ্ল্যাটের বারান্দায় এসে দাঁড়াল। মনে তখন হাজারো চিন্তার জটলা একসাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। আর কিছুদিন পরই পূজো। পেঁজা তুলোর মতো মেঘগুলো একা স্বাধীন ভাবে মুক্ত পাখির মতো আকাশে খেলে বেড়াচ্ছে। এই সময়টা তানিয়ার একলা অবকাশের। অবশ্য এই বিশাল ফ্ল্যাটে সারাটা দিন জুড়েই শুধুই অবকাশের তবু ও নিজেকে নিজের জগতের মধ্যে সর্বদা আটকা রেখে দেয় নিজের মতো করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অনুব্রত ফিরবে অফিস থেকে। সেই সকালে দুটো খেয়েই বেরিয়ে পরে সে। তারপর ফিরতে ফিরতে কখনো কখনো রাতও হয়ে যায়। তানিয়া না খেয়েই ঘুমিয়ে পরে অপেক্ষা করতে করতে। তারপর হঠাৎ কলিংবেলের আওয়াজে ছুট্টে গিয়ে দরজা খোলে। অনুব্রত ক্লান্ত মুখ নিয়ে বলে-” অফিসে অনেক কাজ ছিল তাই ওখানেই ডিনার সেরে নিয়েছি।”

তানিয়া আর কিছু বলে না। অবশ্য ওদের মধ্যে বলার বিশেষ কিছু নেইও। ওদের বিয়েটা হয়েছিল বাড়িতে দেখাশুনা করেই আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে। তারপর চাকরি সূত্রে দুজনে চলে আসে কলকাতায় অনুব্রতর অফিস থেকে দেওয়া এই লাক্সারি ফ্ল্যাটে। কথা ছিল দুটি অসম্পূর্ণ হৃদয় মিলে মিশে একে ওপরের যোগ্য হয়ে উঠবে কিন্তু সব কথার হিসেব কি মেলে? এটাও মেলেনি। তানিয়া চেয়েছিল একজন নির্ভরযোগ্য সুঠম পুরুষের আশ্রয় যার সবটা জুড়ে সে থাকবে, যাকে ভালবেসে তার সবটুকু অধিকার তার চায়, যার কাছে প্রেম মানে হবে শুধু মুক্তি আর মুক্তি কিন্তু অনুব্রত বড্ড বাস্তববাদী। তাই এই দেড় বছরে অনুব্রত কল্পনাবিলাসী তানিয়ার মনের কাছাকাছি আসতে পারেনি। অনুব্রত বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করেনা ঠান্ডা লেগে যাবে বলে, আকাশে তারা গুনতে ভালবাসে না, বলে-গুলিয়ে যায়। অথচ স্বপ্নবিলাসী তানিয়ার মন জুড়ে শুধু প্রেমের বুদবুদ বাষ্পাকারে জমাট বাঁধে যেখানে কল্পনার নীলচে আভা বুকের মাঝে স্বপ্নের পুরুষের ছবি এঁকে যায়। তবে আজ অব্দি তানিয়া নিজের স্বপ্নের পুরুষের মুখটা দেখতে পায়নি নিজের খেয়ালে, সেখানে কার মুখ বসাবে সেটা আজ অব্দি বুঝে উঠতে পারেনি সে।

ঘরের আবছা আলোয় খাটের ওপর অবহেলায় রাখা তানিয়ার ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠল। অনুব্রত কলিং-

“বেশ তো ছিলি অন্য দেশে মাখলি কেন জল

ডুবছি ভাসছি এই দরিয়ায় চলছি অনর্গল।।

অভিমানে অভিযোগে ফিরিয়ে দেবার ছল

হাসির দমক লাগছে গায়ে আমার চোখেও জল

আমি তোর কুরবেতের আশায় ঘরময় রঙ মাখিয়ে যাই

তর ঘড়ি জুড়ে আমার সময় থাক

হে… কিস্মাতে বানানো তোর রেখায়

আবারও ভুল করে কাটাকুটি খেলায়

তোর কিছু বানানো নাম ধরে

আমিও ভুল করে দেখেছি শেষ বেলায়।”… রিংটনের শব্দে চমক ভাঙে তানিয়ার। ঘরে এসে সে ফোন তোলে। ফোনের ওপাশে শান্ত কন্ঠে অনুব্রত বলে উঠল-” তানিয়া আজ আর বাড়ি ফিরতে পারব না। অফিসে অনেক কাজ পরে গেছে। সারারাত জেগে কাজ করতে হবে। তুমি খেয়ে শুয়ে পরো।”

-” আচ্ছা, বেশ।”- ধীর গলায় কথাটা বলেই তানিয়া ফোন কেটে দেয়। অভিমানের পারদ বুকের সিঁড়ির বেয়ে চোখের কোণে জলের ধারা বয়ে দেয়। রৌদ্রদগ্ধ দুপুরবেলা যার শীতল স্পর্শ চেয়েছিল, বৃষ্টিভেজা বিকেলবেলা যার হাত ধরে একটু হাঁটতে চেয়েছিল সেই মানুষটার কাছে ওর আদেও কোনো গুরুত্ব আছে কি? প্রশ্নের দোলাচলে ঝড় নামে তানিয়ার মন জুড়ে। ঘরে তখন ঝাড়বাতির হাল্কা আলোটা যেন প্রহসন করে উঠছে বারবার। তানিয়া বালিশটা আঁকড়ে ধরতে চাইল অবলম্বন হিসাবে…

টিংটং… ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে তানিয়া। মাথার কাছে খোলা জানলা দিয়ে সূর্য তার তপ্ততার জানান দিচ্ছে। রাতে ভাবনার অবকাশে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিল তানিয়া নিজেও বুঝে উঠতে পারেনি। কলিংবেলের আওয়াজটা শুনে অগোছালো চুলটা হাত দিয়ে খানিক ঠিক করে নিয়ে সে দরজা দেয়। অনুব্রত তানিয়াকে দেখেই বলল-” খুব টায়ার্ড, সারারাত কাজ করতে হয়েছে।”

তানিয়া মুখটা স্বাভাবিক রেখেই বলল-” বেশ তুমি স্নান করে ফ্রেস হয়ে একটু ঘুমিয়ে নাও।”

-” হ্যাঁ গো তাই করব। আজ আর বেশি হেবি কিছু রান্না করো না। লাইট কিছুই করো, সারারাত জেগে ছিলাম তো।”

-” হুম ঠিক আছে।”- আর কথা না বাড়িয়ে তানিয়া রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। চা করে যখন বেডরুমে ঢুকল তখন দেখে অনুব্রত স্নান না করেই খাটের উপর ঘুমিয়ে গেছে। ঘুমন্ত মানুষের মুখটা বড়ো নিষ্পাপ লাগে, অনুব্রতর মুখটাও ঠিক সেরকমই লাগছিল। তানিয়ার আজ জানিনা কেন জানি খুব মায়া হলো ওকে দেখে। জানালার রোদটা সোজার অনুব্রতর মুখে এসে পরছিল। তানিয়া জানালার পর্দাটা সরিয়ে দিলো। আর ডাকে না তাকে। ঘুমোচ্ছে যখন ঘুমোক।অজান্তেই অন্য মানুষের জন্য নেওয়া ছোট ছোট যত্নগুলোই অনেক না বলা গল্পের জন্ম দেয় অচিরেই…

বেশ বেলা করেই ঘুমটা ভাঙল অনুব্রতর। ঘুম জড়ানো চোখ কচলাতে কচলাতে সে তানিয়াকে বলল- ” ইস চোখ লেগে গিয়েছিল, ডাকলে না কেনো আমায়?”

-” ঘুমোচ্ছিলে দেখে আর ডাকলাম না। যাক ভালোই হলো। এবার শরীরটাও ঝরঝরে হয়ে গেলো তোমার। যাও এবার স্নান করে নাও। খাবার রেডি হয়ে গেছে।”

-” সে ঠিকই বলেছ। যাই স্নানটা করেই আসি।”- বলে অনুব্রত তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে চলে গেলো। হঠাৎ বারান্দার কোণ থেকে তানিয়া খেয়াল করল বাইরে বেশ মেঘ করেছে। প্রকৃতি যেন তার সমস্ত মনখারাপ, বিস্বাদগুলোকে এক জায়গায় জড়ো করেছে। তানিয়া ভাবল তার মনের আবহাওয়ার সাথে প্রকৃতি যেন মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। বিয়ে হবার আগে এমন দিনে সে স্বপ্ন বুনোট করত সযত্নে। তার প্রিয়তম পুরুষের রোমশ বুকে নিদ্রালু কিছু কবিতা আঁকবে তার মননের খাতায়, হাইওয়ের ধারে ব্যস্ত চায়ের দোকানে এক পেয়ালাতে ভাগ করে নেবে উষ্ণতা কিংবা স্বপ্নের রাতগুলোকে অবাধ্য কলম রচনা করবে কিছু শব্দহীন গানের। প্রানের মানুষটি সযত্নে হাতটা ধরে বলবে- ” সারাজীবন পাশে আছি।”

-” কিগো? বারান্দায় কি করছ? মেঘ করেছে তো খুব। দরজা জানলা সব আটকে ভেতরে এসো। না হলে জলের ছিটে লেগে পুরো কাকভেজা হয়ে যাবে।”- তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বেরসিক কথাটা বলল অনুব্রত।

চটাক করে মাথাটা গরম হয়ে গেলো তানিয়ার। তাও সে রাগটা সংবরণ করে বলল-” চলনা ছাদে উঠে ভিজি। দারুন মজা হবে।”

অনুব্রত বাঘ দেখার মতো চমকে উঠে বলল-” পাগল নাকি? ভিজলেই জ্বর কনফার্ম। ছোটবেলায় একবার ভিজেছিলাম মা হেব্বি ক্যালিয়েছিলো। হেঁ হেঁ। তারপর থেকে আর ভিজিনা। তুমিও একদম ভিজবে না। বুঝলে।”

তানিয়া রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে সশব্দে জানলা দরজাগুলো বন্ধ করে রান্নাঘরে গট্‌গট্‌ করে হেঁটে চলে গেলো। কথায় কাজ হয়েছে দেখে অনুব্রত আয়েস করে ডাইনিং রুমের সোফাতে গা এলিয়ে দিল। এক বিকট শব্দে চমকে ঘুরে তাকিয়ে দেখল তানিয়া ডাইনিং টেবিলে নিজের সর্বস্ব শক্তি প্রয়োগ করে খাবার থালাটা রাখার জন্যই এমন শব্দের সৃষ্টি হয়েছে। বউয়ের অগ্নিশর্মা মুখটা দেখে বেচারা অনুব্রত আর কিছু বলার সাহস পেলো না।  খাবার সময় একবার অবশ্য বলেছিল রান্নাটা বেশ ভালো হয়েছে কিন্তু বিরোধীপক্ষের নিস্তব্ধতা দেখে আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ খেয়ে বেডরুমে চলে গেলো।

তানিয়া নিজের কপাল ঠুকে মনে মনে বিড়বিড় করতে লাগল-” সবই কপাল আমার। কি চেয়েছিলাম আর পেলাম। নিরস কঠোর মানুষ একটা। না আছে মন না আছে কোনো অনুভূতি। এই লোকের সাথে সংসার করা যায় না। উফ। হাঁফিয়ে উঠেছি আমি।”- বাকি খাবারটা আর গলা দিয়ে নামে না ওর। খানিক নাড়াচাড়া করে উঠে যায়। ততক্ষণে বাইরে বৃষ্টি নেমেছে। তানিয়া কাঁচের জানলার পাশে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখতে থাকে। বৃষ্টির ফোঁটাগুলোর সাথে না ছোঁয়ার খেলায় মেতে ওঠে সে। ঝাপসা কাঁচে মেঘেদের বিলি কেটে দেওয়া গন্ধ মাখতে চায় প্রাণভরে কিন্তু পারে না। পাশের ঘর থেকে তখন ভেসে আসছে অনুব্রতর হেঁড়ে গলায় ক্লাইন্ডের সাথে ভিডিও কলে বলা কথাগুলো। অসহ্য লাগে তানিয়ার। জানালার স্লাইডিং কাঁচটা এক ঝটকায় খুলে দেয় সে…

” একটি মেয়ে এক বিকেলে থাকবে না কোনো ছাতা

  হাতের স্পর্শে পূর্ণ হবে আমরা উপন্যাসের খাতা।

  থাকবে না কোনো গাড়ি ঘোড়া বোবা হবে এই শহর

  কান্না মেখে ঘুমিয়ে যাবে আমার অবিশ্রান্ত নোঙর।

  ভিজবে তুমি, ভিজবে আমি মাটির সোঁদা গন্ধ

   হারিয়ে যদি যাই ওগো, হবে না তো মন্দ।

   চেনা দুপুরগুলোতে চেনা ব্যাথাগুলো মিশবে এবার

    রেডিওর সুরগুলোর সময় হয়না পথ নেবার

    অচেনা লাগে নিজেকে…

     যাও দূর বহুদূর…”

-” হ্যাঁ এ এ এ এ চো। কে? কে গান করছে?”- চাপ চাপ অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরের এককোণে বসে থাকা মানুষের গান শুনে ঘুম ভাঙে তানিয়ার। মাথাটা খুব যন্ত্রণা করছে। এখনো বেশ জ্বর আছে গায়ে। কি করে ও এই ঘরে এলো বুঝতে পারছে না। বেশ ভয় পেয়ে গেলো তানিয়া। ঠিক কি হয়েছিল ওরসাথে বুঝতে পারছে না।

-” আহা তুমি আবার উঠলে কেন? দাঁড়াও আমি লাইটা জ্বালায়।”- বলেই অনুব্রত লাইটা জ্বালিয়ে দিলো।

-” হ্যাঁ এ এ এ এ চো। আমি এখানে কি ককক রে এ এলাম। আমিতো…”

-” তুমিতো ছাদে বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়েছিলে তাইতো। আর তার ফলাফলও পেলে তো হাতে নাতে। হাই ফিভার। আচ্ছা আমার বারণ শুনলে না কেন বলতো? ক্লাইন্ডের সাথে ভিডিও কলিং এর পর আমার চোখ লেগে গিয়েছিল। উঠে তোমায় ডেকেও কোন সাড়া পেলাম না। তারপর দেখি মেন ডোর ভেজানো আছে। আমার আর বুঝতে বাকি থাকল না তুমি কোথাও গেছো। ছাদে উঠে দেখি তুমি অজ্ঞান হয়ে পরে রয়েছ। কতক্ষণ ধরে ভিজেছ তার ঠিক ছিল না। তোমায় কোলে করে ঘরে এনে ডাক্তারকে কল করলাম। তখন তোমার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। কল্পনার রঙকে সবসময় বাস্তবের রঙ দিতে নেয় ম্যাডাম বুঝলে। দেখলে তো স্বপ্নের পথ আর বাস্তবের পথ কতটা আলাদা।”

-” আআমি বুঝতে পারিনি এমনটা হবে। হ্যাঁ এ এ এ চো।”

অনুব্রত চোয়াল শক্ত করে বলল-” আর তোমার এই অবুঝপনার জন্য আমি কতটা ভয় পেয়েছিলাম তোমার কোনো আইডিয়া আছে তানিয়া? কল্পনার জগতে বাস করা ভাল তবে সেটা বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে। আমাদের ছেলেমানুষিগুলো কি সবসময় কি প্রকাশ করা খুব জরুরি? থাকনা তারা নিজেদের মতো। তোমাকে ওই অবস্থায় দেখে আমার পাগলের মতো কনডিশন হয়ে গিয়েছিল। সেটা কি তুমি জানো?”

তানিয়া অবাক চোখে তাকিয়ে বলল-” আমার জন্য এতো চিন্তা কর তুমি?”

-” কিরকম কথা হলো এটা? তুমি কি মনে কর আমার মধ্যে কোনো অনুভূতি নেয়, ভালবাসা নেয়। হ্যাঁ আমি বাস্তববাদী মানুষ শুধু কল্পনার মোড়কে বাঁচিনা। কিন্তু স্বপ্ন আমিও বুনি আমিও ভালবাসি শুধু প্রকাশের পদ্ধতিটা আলাদা। আমাকে তুমি একজন কঠোর ভাবো আমি জানি তাই বলে কি আমার মধ্যে কল্পনারা ধরা দেয়না। আমার ভেতরেও জন্ম নেয় দুঃসাহসীক ভালবাসার রূপকথারা আমিও প্রেমের বুদবুদ গায়ে মাখতে পারি। আমিও প্রিয়তমার মাথার আশ্রয় হতে পারি। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখ, অনেক অতলে, অচেনা লাগে নিজেকে…যাও দূর বহুদূর…”

-” মা মা নে… এই গানটা তুমি…?” বিস্ময়ে মুখ থেকে ছিটকে বেরিয়ে যায় তানিয়ার…

-” হাহাহা। হ্যাঁ ম্যাডাম আমিই গাইছিলাম। আমার নিজের লেখা গান। তা কেমন লাগল আমার হেঁড়ে গলায় গান?”

কথাটা শুনে তানিয়া বেশ লজ্জা পেলো। কঠোর নিষ্ঠুর বরের গলাটা তার মনে মনে হেঁড়ে লাগল সেটাও অনুব্রত বেশ বুঝে গেছে। এ বর নাকি অন্তর্যামী? সব বুঝে যায়। আবার এতো ভালো গান লেখে, গান গাইও। মুখ নামিয়েই তানিয়া বলল-” গান গাইলে তোমার গলাটা চেনায় যায় না। একদম অন্যরকম লাগে। টু গুড।”

-” ওই মাই গড। আমি ঠিক শুনলাম তো। নাকি আমার বউ জ্বরের ঘোরে ভুল বকছে। হাহাহা। এবার শুয়ে পরো দেখি, মাথায় জলপটিটা দিয়ে দি।”

-” না থাক তার আর দরকার নেয়। আমার জ্বর, মনখারাপ সব ভালো হয়ে গেছে।”

-” আর বৃষ্টিতে ভিজবে?”

-” না না একদম না।”

-” আমি সাথে থাকলেও ভিজবে না?”

-” তুমি ভিজবে?”

-” ভিজব তো। আমিও মনের গহনে কোনো এককালে স্বপ্ন বুনেছিলাম প্রিয়তমার হাত ধরে নিকষ কালো মেঘের ভেলায় ভিজব দুজনে আর অচেনা প্রহরে আকাশের এলোমেলো তারাদের গুনব।”

আজ দেড়বছর পর আবারো শুভদৃষ্টি হয়ে গেলো দুজনের। তানিয়া তার স্বপ্নের পুরুষের মুখটা এবার বেশ দেখতে পারছে, একদম অনুব্রতর মুখ বসানো। নির্ভরে সে তার রোমশ বুকে খুঁজে নিয়েছে আশ্রয়। রূপকথারা প্রতিদিন এইভাবেই নানান গল্প রচনা করে আমাদের সম্পর্কের চিলেকোঠায়…

____


FavoriteLoading Add to library
Up next
আমরা ছিলাম আমরা আছি আমরা থাকবো – দেবাশিস ভট্... "200671 আপ হাওড়া নাগার্জুন এক্সপ্রেস দশ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে রাত নটা পনেরো মিনিটে ছাড়বে"। ঘোষণাটা শুনে সুজন নিজের ট্রলি ব্যাগটা নিয়ে এগিয়ে চললো নির্দ...
।। অন্য বসন্ত ।। ।। যে বসন্ত প্রথম প্রেম আনে ।। সেই বসন্তটা এমনই ছিল ,যে বসন্তে প্রথম প্রেম এসেছিল ।মাধ্যমিকের বাধ্য মেয়ে ,স্কুল ছুটির বিকেলে ,পথ ভুলেছে নদীর পাড়ে ,পলা...
উল্টো ছন্দ - গার্গী লাহিড়ী   (৩) রাজপথ জনশূন্য হয়ে পড়ে ধীরে ধীরে কমে আসে যান চলাচল ঝমঝম বৃষ্টি নামে শহরে নিথর দেহ পড়ে থাকে রাস্তায় মাথায় হাত রাখার...
বিষয় অনিল – অভিনব বসু...   বাংলা ছবির স্বর্ণ যুগে খুব কমই অভিনেতা আছেন যারা তিন মহারথী পরিচালকের ছবিতেই অভিনয় করেছেন, ঋত্বিক, মৃণাল এবং সত্যজিত এবং এঁদের সাথে অবশ্যই জ...
বোকা বউ ও একটা গয়নার বাক্স – পুলিশমানুষ শিবন... এই শেষ দশ দিন কল্যাণী কখনো ভুলবে না। কি থেকে কি হয়। ভাবলেও গা হাতপা ঠান্ডা হয়ে আসে। অরিন্দম আজ নার্সিংহোম থেকে ছাড়া পাবে। গত দশদিন যমে মানুষে টানাটান...
অপরাধী – সৌভিক মল্লিক... একদিন তোমার চোখের দিকে চেয়ে কেঁপে উঠেছিল আমার হতভম্ব কন্ঠস্বর। ওই কাজলের গায়ে জন্মানো বেদনা চিঠিতে বলেছিলে, আমি তোমার রক্তে অমর। কত সন্ধ্যা ভা...
লাল গাড়ির রহস্য – অরুণাভ দত্ত... ফটোগ্রাফি বিট্টুর প্যাশন | সুযোগ পেলেই সে ক্যামেরা নিয়ে এদিক ওদিক বেরিয়ে পরে  | আজ রাতের খাওয়া শেষ হওয়ার পরেই সে তার নতুন কেনা ডিএসএলআর টা নিয়ে ছাতে চ...
মেট্রো ঘটনার কয়েক মিনিট পরে... - অর্পণ দাস(অন্তিম)   উজ্জ্বল বাবু মুখে কীসব বিড় বিড় করতে করতে মেট্রো স্টেশন দিয়ে বেরোলেন। সিঁথিরমোড়গামী অটোর লাইনে দাঁড়িয়েও নিজের বাহাদুরি ন...
স্মৃতি – স্বরূপ রায়...   ছিন্নভিন্ন দেহটা পড়ে ছিল বহুতলটার নিচে। চারিদিকে অসংখ্য মানুষের ভিড়। মাথাটার পাশে একরাশ রক্ত জমে আছে। জমে থাকা মানুষের ভিতর থেকে নানান মন্তব্য কানে ...
পরশপাথর         মৌতমা হাতের গোলাপটার দিকে তাকিয়ে ভাবল গোপাল কি সত্যিই তাকে ভালোবাসে? আজ যেভাবে জয় আর তার বন্ধুদের থেকে মার খেল....আজকের ভ্যালেন্টাইন্স ডের সন্...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment