সম্পর্ক – বিভূতি ভূষন বিশ্বাস

আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি ।  ১৯৮০ সালের এক ঘন বর্ষার দিন প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রিমঝিম করে অনবরত বৃষ্টি পড়েই চলেছে থামার কোন নাম গন্ধ নেই । গ্রামের রাস্তা ঘাট কাদায় কাদায় একা কার হয়ে গেছে । ঘরে শাক সবজি নেই,  জ্বালানি নেই চারি দিকে যেন হাহাকার পড়ে গেছে ।
        মা চিৎকার করে বলছে অল্প কিছু চাল,দুটো আলু যাওবা আছে জ্বালানি একদম নেই । কি করে রান্না বান্না হবে । কথাটা শুনতেই বাবা ছাতা মাথায় দিয়ে কোথায় যেন ছুটে গেলো । কিছুক্ষন বাদে ফিরে এলো কতগুলো পাটকাঠি আর ঘুঁটে নিয়ে । তাই দিয়ে কোন রকমে মা আলু সিদ্ধ ভাত ফুঁটিয়ে দিল ।
বাবা আর আমি এক থালায় খেতে বসেছি । বাবা আমাকে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে ।
আমি বললাম বাবা ভাত গুলো কি শক্ত ।  মা চেঁচিয়ে উঠে বলল —– জ্বালানি নেই এর থেকে বেশি নরম ভাত হবে না ।
     বাবা বলল না না ঠিক আছে,  ভাত তো নরমই হয়েছে । বাবা আর আমি চুপ চাপ খেয়ে উঠলাম । রাত্রে যখন বাবা আমার পড়ার ঘরে বসে আছে আমি চুপি চুপি জিজ্ঞাসা করলাম বাবা ভাত গুলো তো শক্ত ছিলো তুমি মিথ্যা কথা বললে কেন ?
বাবা তখন বলল —- জীবনে আগাছার মতো অনেক ঘটনা আসবে সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোকে উপরে ফেলতে হবে । তাহলে দেখবে জীবন অনেক  সহজ সরল হয়ে গেছে ।  তাছাড়া তোমার মা অনেক কষ্ট করে রান্না করেছে তাকে যদি আমরা আরো কষ্ট দিই  । সেটা কেমন হয় সেই জন্যই  মিথ্যা কথা বলে কঠিন পরিস্থিতিকে সহজ করে দিলাম । এই মিথ্যা কথা বলায় কোন পাপ নেই । সেদিন বুঝতে পারিনি আজ বুঝলাম স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কতটা বোঝাপড়া আর ভালোবাসা থাকলে এমন হয় ।


ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment