সারমেয় বৌদি

– অর্পিতা সরকার 

দ্য বিবাহিত এমন রূপসী বৌকে ফেলে যে কেউ বাইরে কাজে যেতে পারে, এই হেন গুরুতর চিন্তা ছোট্ট মফস্বলটার তস্য ছোটো পাড়ার অনেক ছেলেবুড়োর রাতের ঘুম নষ্ট করছে প্রায় মাস দুই যাবৎ।যেদিন অনুপম হঠাৎ বিয়ে করে পাড়ায় ঢুকলো, নতুন বৌয়ের মুখ দেখে সক্কলের চোখ টেরিয়ে গেছিলো__ সত্যি, মোহিনীই বটে।শুধু রূপে নয় গুণেও মন জয় করল মোহিনী ।অনুপমের ছোট্ট সংসারটার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিল কয়েকদিনের মধ্যে।বুড়ি ঝিটাকে মাইনে পত্তর দিয়ে দেশের বাড়ি পাঠিয়ে দিল।আহারে বুড়ি মানুষ, এই বয়সে কি আর এতো কষ্ট সয় ? একটু আরাম করুক।একটি অল্পবয়সী ছেলে ছিল ফাইফরমাশের জন্য, অনুপম বাইরে যাবার আগে তাকেও ছাড়িয়ে দিয়ে গেছে।বলা যায় না,  উঠতি বয়সের ছেলে, কখন কী করে বসে।

সূর্য ঢলে পড়লেই মোহিনী রোজ পশ্চিমের ঝুল বারান্দাটায় এসে দাঁড়ায়।কণে দেখা আলোয় আলগা চোখে চারপাশটা দেখে।বাতাসে খোলা চুল ওড়ে, আঁচলটা ওড়ার জন্য ছটফট করে। এমনিতে মোহিনী খুব একটা বাড়ি থেকে বেরোয় না, কিন্তু পাড়ার অনেক কিশোর-যুবক-বৃদ্ধের স্বপ্নে তার অবাধ যাতায়াত।চিলতে হাসি খেলে যায় মোহিনীর ঠোঁটে।ছেলে ছোকরারা তার নতুন নামকরণ করেছে __ সারমেয় বৌদি।করবে নাই বা কেন, যদি পাঁচ পাঁচটা কুকুর কারো আগে পিছে ঘোরে তো এমন নামকরণ স্বাভাবিক।রটে গেছে অনুপম বৌকে পাহারায় রাখার জন্য এইরূপ ব্যবস্থা করে গেছে।হা হা হা।অনুপম , খুব বাধ্য ছিল তার।অবশ্য এখনও খুবই বাধ্য।

এলাকার আবহাওয়া কদিন ধরে একটু সরগরম।একজোড়া কপোত- কপোতী বেপাত্তা।হয়তো পালিয়ে বিয়ে করেছে।এখন মধুচন্দ্রিমায় ভাসছে।তাদের নিয়ে রসালো আলোচনায় চায়ের দোকান, অন্দরমহল সব চটচট করছে।মোহিনী এসবের মধ্যে নেই, সে তার কুকুরদের সঙ্গে ব্যস্ত। তাদের খাওয়ানো- ধোয়ানো__ বেশ কাটছে দিনগুলি।সারমেয়দের চেহারাতেও সুখের চমক, হবে নাই বা কেন ? নিজের পরিত্যক্ত নরদেহ ভক্ষণের সৌভাগ্য আর কতোজনের হয় । মোহিনী রান্নাঘরটা সবসময় তালাবন্ধ রাখে।তাছাড়া তার এইসব বাসী খাবারে কোনো আগ্রহ নেই। তার ক্ষিদে ভীষণ কম। কিছুটা টাটকা উষ্ণ পানীয় তার অনেকদিনের বেঁচে থাকার ইন্ধন জোগায়। আবার একটা হাসির বিদ্যুৎ খেলে যায় মোহিনীর ঠোঁটের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে।

অনবরত ঘন্টি বাজিয়ে একটা নীল সাইকেল এই নিয়ে অষ্টম বার তার গেটের সামনে দিয়ে চলে গেল। এ পাড়ারই ছেলে না ? বেশ দেখতে তো ছেলেটি। তার সারমেয়কুলের নতুন সদস্যটির জন্য একটা ধারালো কটাক্ষের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করে মোহিনী__

——-


FavoriteLoading Add to library

Up next

সেই পাগলটা – বর্ষা বেরা... সেই পাগলটা তাকে প্রথম দেখেছিলাম গড়িয়ার মোড়ে | অদ্ভুত পোশাক তার,অদ্ভুত সব কার্যকলাপ কখনও নিজের চুল ছিঁড়ছে,কখনও বা ছুটছে লোকের পিছনে, তবু নেই তার আত...
পাতা ঝরার দিনগুলি – গার্গী লাহিড়ী... কোনো এক তুমুল ঝড়ের রাতে পাখির বাসার মতো ভেঙে যাচ্ছ তুমি ঝমঝম একলা রাজপথে আঁচল পেতে দিয়েছিলাম অতি ক্ষিপ্রতায়  , ধুলোয় মেশার আগেই সন্তর্পনে কোঁচড়ে ...
মৃত্যুদিনের দূত - শুভদীপ পাপলু (সেন)    রূপম; রূপম, আমি কথা দিলাম, একসাথে হাঁটবো রূপম, তোর লাশের দোহাই; সবকটা কে মারবো। রূপম, তুই, সবচেয়ে কম মার্কস পেতিস,...
নষ্টা সূর্য যেদিন আমায় ছুঁয়েছিল নষ্টা ছিলাম না আমি,নষ্ট তো হলাম সেদিন,যেদিন বাধা দিয়েছিলাম তাকে আমি ।ভালোবাসা ছিল আমাদের, গভীর ভালোবাসা ।এই ভালোবাসাটা কখন য...
একটি বিয়ের গপ্প – অভিনব বসু... নায়িকার গল্প দিয়ে শুরু করি। কোলকাতারই মেয়ে, এলাহাবাদের এক ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে, ছেলে না বলে লোক বলাই ভালো; বছর ৩৭-৩৮ বয়স, তায় দোজবর। যদিও মেয়ের স...
অন্য ভালোবাসা -   তুষার চক্রবর্তী     চিন্ময় প্রায় কুড়ি বছর পর রাত্রে খেয়ে দেয়ে মামাবাড়ির ছাদে বসেছে। গরমকালে রাত্রে খেয়ে দেয়ে এই ছাদে বসার অভ্যাসটা তার...
এক মৃত গাছ – বৈশাখী চক্কোত্তি... না, আমি যাব না। দেব না সাড়া ---- আজ তোমার আহ্বানে আর। নদীতেও নয়, ভরা জলের সরোবরেও নয়, আজ থেকে এক নতুন অঙ্গীকার । তোমার কাছে যা বাঁচার লড়াই, প্রে...
জ্ঞান ও কর্ম – সমর্পণ মজুমদার... জ্ঞান আর কর্ম --এই দুই হলো মানবশক্তির রূপ। মানুষের শক্তির যাবতীয় বিকাশ ও প্রকাশ এই দুভাবেই হয়। আসলে কিন্তু শক্তির এই দুই রূপ অভিন্ন ! জ্ঞানের উদ্দ...
অনুপ কুমার-আমার দৃষ্টিকোণে – অস্থির কবি(কল্... আজ একজন দিকপাল অভিনেতাকে নিয়ে আলোচনা করব তাঁর  নাম হল অনুপ কুমার দাস,যিনি সকলের কাছে অনুপ কুমার নামেই বেশী পরিচিত । অল্প বয়সে তিনি কিন্তু সিনেমা জগত...
পাখি পাঁচালী – সৌম্য ভৌমিক... পাতি কাকটা তক্কে আছে কখন বেরোবে চড়াই, দোয়েল রানী শিস দিয়ে যায় না করে বড়াই। টেলিগ্রাফের তারে বসে ফিঙেটা লেজ নাড়ে, শুনতে পেলাম ঝগড়া করে তিনটে ছ...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment