স্বপ্ন হলেও সত্যি! – a science fiction

                                                                                

                                                                              

      ঘড়িতে তখন ৭টা বেজে ৪৫ মিনিট। ঘুমের মধ্যে কী যেন একটা স্বপ্ন দেখে আর্য হাসছিল,হঠাৎ মা এসে ডাক দিল,-কি্রে আর্য উঠে পড়, আর কতক্ষণ ঘুমাবি?, জন্মদিনের দিন একটু তাড়াতাড়ি ওঠে অন্তত। এই শুনেই বিছানায় উঠে বসল আর্য। সত্যি তো! আজ তো ওর জন্মদিন। অথচ গতকাল রাতে তার কাছের বন্ধুদের কেউই তাকে অন্যবারের মতো wish করেনি। তার কারণ কিছু দিন আগে ওর সাথে ওর বন্ধু প্রাকৃতের একটা সামান্য বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয় আর আর্য মাথা গরম করে বাড়ি চলে আসে। অবশ্য পরে ও নিজের ভুলটা ঠিকই বুঝতে পারে। কিন্তু প্রাকৃত আর বাকিরা যেন ওর ওপর ক্ষেপে আছে। এই কদিনে what’s app একটা কথা পর্যন্ত কেউ বলেনি ওর সাথে।এছাড়া কদিন আগে ওর college friend রশ্মিকে আর্য propose করেছে কিন্তু রশ্মি কিছু না বলেই ওর ওপর রেগে গিয়ে চলে যায়।সবমিলিয়ে কদিন ধরে একটু চাপেই আছে আর্য।

    ঘুম থেকে উঠে চা খেয়ে স্নান করতে চলে গেল আর্য।এইভাবেই তার নিত্যনৈমিত্তিক জীবন চলে। আর্যর বাবা কয়েক বছর আগে মারা গেছে। এখন আর্যর মা একটা private firm e চাকরি করে সংসার চালায়।বাড়িতে শুধু ওরা দুজনেই।সকালে উঠে রান্না সেরে আর্যর মা অফিস চলে যায়। তারপর তার একটু পর আর্যও তৈরি হয়ে চাকরির খোঁজে বেরিয়ে পড়ে Interview দিতে। আজ যেহেতু ওর জন্মদিন তাই ওর মা ছুটি নিয়েছে। স্নান সেরে এসে আর্য খেতে বসবে ঠিক তখনই টেবিলে charge দেওয়া আর্যর ফোনটা বেজে উঠল। ফোনটা রিসিভ করে কথা বলতেই আনন্দে আর আশ্চর্যে সে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারল না।কারণ যে চাকরিটা পাওয়ার আশায় আর্য গতরাতে স্বপ্ন দেখেছে আজ সেই চাকরি আর্যর মনের কথা জানতে পেরেই যেন তার হাতে ধরা দিয়েছে। আর্যর মা জিজ্ঞাসা করল,- কিরে কে ফোন করেছিল? সেই প্রশ্ন যেন তার কানেই গেল না, তারপর আনন্দে বিস্ময়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে চিৎকার করে আর্য বলতে লাগল,- মা, চাকরিটা পেয়ে গেছি আমি, চাকরিটা পেয়ে গেছি আমি।…….

     এরপর অনেকটা সময় কেটে গেল।দুপুরবেলা মায়ের হাতে রান্না খেয়ে ফুরফুরে মেজাজে আর্য একটু ভাতঘুম দেবার জন্য প্রস্তুত হল। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আর্য আধঘুম চোখে দেখল,যে কতগুলো মানবমূর্তি ওর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।ভালো করে চোখ খুলে যখন দেখল দেখা গেল,আর্যর বাকি বন্ধুরা আর ওদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রাকৃত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে, তারপর বলল,- কিরে,কেমন দিলাম? খুব তো কদিন ঘাপটি মেরে আছিস ঘরে, তাই ভাবলাম আমরাই চলে আসি। আর্য শুধু হা্ঁ করে তাকিয়ে রইল, কথা বলার ভাষা নেই তার।মনে মনে ভাবতে লাগল এটা কি করে সম্ভব? যে ঘটনাগুলো আর্য গতকাল রাতে স্বপ্নে দেখেছে ঠিক সেই ঘটনাগুলো বাস্তবে হুবহু কি করে ঘটছে,? তার মানে কি এর পর যেটা সে দেখছিল সেটাও ঘটবে? ইতিমধ্যে আর্যদের আসর জমে উঠেছে.. তারই সাথে এইসব নিয়ে আর্য যখন ভাবছিল ঠিক সেই সময় আর্যর ফোনটা বেজে উঠল,…তাকিয়ে দেখে সে চমকে গেল। গুবলি ফোন করেছে..আর্য রশ্মির নম্বরটা ওই নামেই সেভ করা আছে।ফোনটা তুলতেই রশ্মি বলে উঠল,- কিরে, কোথায় আছিস রে তুই?..আর্য বলল,- এই তো বাড়িতে, কেন কী হয়েছে?…রশ্মি বলল,- দশ মিনিটে আমার সাথে খেলার মাঠের সামনে দেখা কর,এক সেকেন্ড দেরি করলে কিন্তু তোর খবর আছে। এই বলে ফোনটা রেখে দিলে রশ্মি। অগত্যা আর্য গিয়ে হাজির হল মাঠের সামনে। গিয়ে দেখে ওর আগেই রশ্মি ওখানে হাজির হয়েছে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে।বিরাট সূর্যটা ডুবে যেতে যেতে গেরুয়া আদায় অপরূপ সুন্দর লাগছে। ফুটবল কোচিং সেন্টারের ছেলেরা প্র্যাকটিস করে মাঠ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আর্য বলে উঠল,- কিরে এত জরূরী তলব? বল কী বলবি?….রশ্মি লাজুক স্বরে বলল,- তোকে আর আমার কি বলার থাকতে পারে বল? তোর জন্মদিনের গিফটটা কিনে দেব বলে তোকে ডাকলাম,এবার দয়া করে আয় আমার সাথে। এই বলে আর্য আর রশ্মি দুজনে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা শুরু করল।হাঁটতে হাঁটতে রশ্মি কখন যে আর্যর হাতটা জড়িয়ে ধরেছে আর্য বুঝতেই পারেনি। এইবার আর খুশির সীমানা রইল না। সেও সাহস করে রশ্মির হাতটা জড়িয়ে ধরতে গেল,ঠিক এমন সময় আর্যর ফোনের alarm টা বেজে উঠল, আর তক্ষুনি আর্য বিছানায় ধড়মড়িয়ে উঠে বসল।আর্য ঘরের দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল,ঘড়িতে বাজে ৭টা বেজে ৪৫ মিনিট।পাশের ঘরে থেকে মা বলে উঠল,- কি্রে আর্য উঠে পড়, আর কতক্ষণ ঘুমাবি?, জন্মদিনের দিন একটু তাড়াতাড়ি ওঠে অন্তত।আর্য কিছুক্ষণ স্তম্ভিত হয়ে বসে গোটা ঘটনাটা বোঝার চেষ্টা করল।তারপর মৃদু হেসে আর্য উঠে পড়ল।

         এরপর স্নান সেরে এসে আর্য তৈরি হয়ে সবার প্রথমে মাকে জন্মদিনের প্রণামটা সেরে নিল আর্য। আর্যর মা আশীর্বাদ করে বলল,- খুব ভালো থাক, জীবনে অনেক বড় হবি। আর আজকের দিনটা খুব ভালো কাটুক তোর। এইবার আর্য তার মায়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,- চিন্তা করো না মা। আজকের দিনটা আশা করি আমার ভালোই কাটবে।আর্যর এই কথা বলার সাথে সাথেই টেবিলে পড়ে থাকা আর্যর ফোনটা বেজে উঠল।…..

                                             –  সৌরভ

বি: দ্র:- If you keep chasing your dreams, You will definitely get it… 

 


    Sourav Kumar Ghosh

    Author: Sourav Kumar Ghosh

    Comments

    Please Login to comment