স্বাধীনতার পরে – সৌম্য চক্রবর্তী

রিবর্তন বিবর্তনের হাত ধরে তো অনেকগুলো বছরই পেরিয়ে এলাম | কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তনটা কোথায় আর কীসের হওয়া উচিত ছিল সেটার অনুধাবন করতে গিয়ে কিছুটা হতাশা আর ভয়ের অভিজ্ঞতা হলো | স্বাধীনতার পূর্বের সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ কিছু বিবৃত করার প্রয়োজন নেই | কারণ ইতিহাস আমাদের সেই ঘটনার বিবরণ ও সামাজিক অবস্থার অবস্থান দর্শায় | তবে সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যে মূলভাব আমরা পাই অর্থাৎ স্বাধীনতার যে লক্ষ্য আর বর্তমান সমাজে তার প্রতিফলন কতটুকু, সেটা অতীব সংকীর্ণতা মধ্য দিয়ে কীভাবে নিঃশেষের দিকে এগিয়ে চলেছে সেটাকে এই মানবসভ্যতার কাছে তুলে ধরা উচিত |

স্বাধীনতার আসল উদ্দেশ্য কী ছিল ? মনে হয় মানবিকতা,প্রেম,ভালবাসা,মনুষত্ব | কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কতটা আমরা মানবিক,কতটা ভালবাসা দিই আর কতই বা সঠিক পথ অনুসরণ করছি ? বৃদ্ধ বাবা, মা অসহায় মুখগুলো দিন দিন বেড়ে চলেছে অসহায়,অনাথ মানুষগুলো চিরকাল অসহায় ভাবেই বেড়ে চলেছে | কুকর্ম আর কুধর্মের প্রভাবে মানুষকে স্বাধীনতার চেয়েও এক গভীর আঁধারে ঢেকে যাচ্ছে |

          আমরা শিক্ষিত বলে বড়াই করি কিন্তু যে শিক্ষা সুসমাজ তৈরী করতে পারে না সেই শিক্ষা মূল্যহীন | যারা একটা সুন্দর আগামী সমাজ গঠন করতে গিয়ে হাসিমুখে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে গেলো | শুধু প্রস্তরমূর্তি আর নিয়নের আলোর আবরণ কী তার যথার্থ কৃতজ্ঞতা স্বীকার ? অনুকরণের রাক্ষস আমাদের গ্রাস করে চলেছে অবিরত, আমরা এ কোন তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে আছি ? আর যারা এই সমাজের পালকের পদে উপবিষ্ট হয়ে আছে তারা হলেন খেঁজুর গাছের মতন অর্থাৎ আঁটিসার | আর ছায়া তো পাওয়া যায় না এবং আলিঙ্গন করলে তো কথাই নেই | তবে ধারালো হেঁসো দিয়ে কাটলে গলগল করে মিষ্টিরস আসে | এই প্রজন্মের এবং আগামী প্রজন্মের কাছে এই হেঁসো হলো শিক্ষা, প্রকৃত শিক্ষা অর্জনই হয়তো আমাদের আগামী সুসমাজের জন্যে অগ্রণী ভূমিকা নেবে | আর হয়তো সেই দিনই আমরা স্বাধীনতার উপলব্ধি করবো সেই ভাবে যেই ভাবে হাসিমুখে দিয়ে যাওয়া প্রানগুলো চেয়েছিল |

____


ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment