স্বাধীনতা

– কৌশিক চক্রবর্ত্তী

  মাদের দৈনন্দিন জীবনে অসংখ্য কাঙ্খিত নৈমিত্তিক চাহিদার মধ্যে স্বাধীনতা অগ্রগণ্য বলেই আমার ধারণা। কিন্তু স্বাধীনতার সংজ্ঞাটি মনে হয় ব্যক্তিভিত্তিক; অর্থাৎ আমরা প্রত্যেকেই স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নিজস্ব ভিন্ন মত পোষণ করে থাকি। আমার ব্যক্তিগত ধারণা হল স্বাধীনতা মূলত দুই প্রকারের যথাক্রমে ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সামাজিক-স্বাধীনতা। আমার বর্তমান লেখার বিষয় ব্যক্তি-স্বাধীনতা হলেও সামাজিক-স্বাধীনতার আলোচনা ছাড়া তা অসম্ভব।

আজ থেকে প্রায় ৭২ বৎসর আগে অসংখ্য জটিলতার সঙ্গে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম ভারতমাতার অসংখ্য দৃঢ়চেতা, অসীম  সাহসী ও স্বাধীন মনস্ক দামাল সন্তানদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে এবং এর প্রধান উদ্দেশ্যই যে “সামাজিক ভাবে ব্যাক্তি ভিত্তিক”  স্বাধীন ভারতীয় হওয়ার প্রচেষ্টা তা অনস্বীকার্য। কিন্তু আজ উক্ত বিষয় নিয়ে পুনরায় চিন্তা-ভাবনা করার মূল কারণ হ’ল স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও আমরা বর্তমানে সামাজিক ও ব্যক্তিগত ভাবে কতটা স্বাধীনতার একটি পরিমাপ করার প্রচেষ্টা মাত্র !

সমাজ ও ব্যক্তি একে অপরের পরিপূরক হলেও “ব্যক্তিগোষ্ঠী ও একান্ত ব্যক্তিগত” দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ।

আমরা সামাজিক ভাবে যে এখনও যথেষ্ট পরাধীন তার জন্য “গনধর্ষণ থেকে পণপ্রথা” পর্যালোচনা করলেই  যথেষ্ঠ ;

আর ব্যক্তি-স্বাধীনতার কঙ্কালসার চেহারার পরিচয় “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে বধূনির্যাতন”-এর পর্যালোচনায় পাওয়া যায়।

অর্থাৎ আমরা সত্যই ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভাবে স্বাধীনতাকে উপভোগ করতে পারছি না। শিক্ষা ও সাংস্কৃতির ব্যাপক  প্রসারই একমাত্র স্বাধীনতার সঠিক মূল্যায়ণ করতে সক্ষম। তাই সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার ভেদাভেদকে দূরে রেখে সকল রাজনৈতিক পরিচালক মণ্ডলির উচিত স্বাধীনতার মূলমন্ত্র হিসাবে শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া, যাতে প্রত্যেক ব্যাক্তি নূন্যতম  রুচিবোধের পরিচয় সামাজিক গঠনমূলক কর্মক্ষেত্রে রাখতে পারে এবং সামাজিকভাবে প্রত্যেক ব্যক্তির খাদ্য, পোশাক ও বাক -স্বাধীনতা থাকে।

সময় কিন্তু বলছে যে সমাজের সকল স্তর থেকে আমাদের  সকলকে কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে হবে:-

স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,

কে বাঁচিতে চায় ?

দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,

কে পরিবে পায়।

কোটি কল্প দাস থাকা নরকের প্রায় হে,

নরকের প্রায়।

দিনেকের স্বাধীনতা, স্বর্গ-সুখ তায় হে,

স্বর্গ-সুখ তায়।….

——-


FavoriteLoading Add to library

Up next

বর্ষা সুন্দরী - সরোজ কুমার চক্রবর্তী   ঝুম ঝুম ঝুম বর্ষা নুপুর ক্লান্ত অলস দুপুর | আনমনা মন আজ ভুলে গেছে সব কাজ | ও প্রিয়া চঞ্চলা, গোপন কথা যায় না বলা...
মনে আছে – সুস্মিতা দত্তরায়... বয়স এগিয়ে গেছে- ঝাপসা স্মৃতির অন্তরালে প্রেমটা রয়ে গেছে । সেই যে তখন ছুটির দিনে কাপড় মেলা ছাদে লজ্জা খুশির লুকোচুরি সোহাগ মাখানো রোদে । ...
শুধু তুমি চাও যদি – পদ্মাবতী মন্ডল... ফোনটা সাইলেন্ট মোডে ছিল। অনেক কটা মিসড্ কল হয়েছে।বাড়ীতে থাকলে ফোনটা সাইলেন্টই থাকে। মা বা বাপি কেউ জানতে পারলে আর রক্ষে নেই । আসলে বৃন্দার কাছে যে ফোন...
ভালো থেকো বাবা - মুক্তধারা মুখার্জী   “কি ব্যাপার? হঠাৎ এখানে? এতদিন পর ?” “কেন বাবা আমি কি আসতে পারিনা ? তোমার কথা খুব মনে পড়ছিলো,তাই....” “থাক,থাক।মিথ্য...
প্রসঙ্গ সত্যজিৎ প্রসঙ্গ সত্যজিৎ পর্ব - ১সত্যজিৎ রায় যে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারি ছিলেন তা সর্বজনবিদিত । তাঁর ছিল অসামান্য আঁকার হাত। যার জন্য এগুলো বলা তার কারণ হল আজ ...
অপদেবতা – শাশ্বতী সেনগুপ্ত... ঘটনাটা কয়েক বছর আগে ঘটেছিল এক মফস্বলে। সেখানে আমার পিসির বাড়ি। পরীক্ষার পর ছুটিতে আমরা যেতাম। অন্যান্য পিসিদের ছেলেমেয়েরাও আসত। দেদার জমে যেত মজা। জায়...
।।ঠোঁটের ভালোবাসা।।... ফেসবুক থেকে বেডরুমের জার্নিটা তোর মনে আছে?কি যে বলিস? ভোলার জো আছে?তোর এক ডাকেতেই কিভাবে ছুটে গেছিলাম নর্থ টু সাউথ?দরজায় তোর ফার্স্ট অ্যাপিয়ারেন্সেই...
আষাঢ়ে ভূত – শাশ্বতী সেনগুপ্ত...  আকাশ এখন অনেক বদলে গেছে। বেশি সময়-টময় নেয় না আর। প্রথমেই দুহাতে এক রাশ কালো মেঘ টেনে আনে। তারপর নিজের বুকটাকে ঘন কালো মেঘে ছেয়ে দেয়। ঝটাঝট কয়েকটা ব...
রাতের ট্রেন ভয়ঙ্কর - অভিজ্ঞান গাঙ্গুলি     ঘটনাটা বেশ কয়েক বছর আগের। তখন ফার্স্ট ইয়ার এ পড়ি। ওই মে মাস এর সেমিস্টার ব্রেক এ আমরা ঠিক করি কাশ্মীর ঘুরতে যাব। আমরা বলতে...
কল্পবৃক্ষ – সুস্মিতা দত্ত রায়... নদীর পাড়ে ঝাঁকড়া অশ্বত্থ গাছটায় হেলান দিয়ে বসেছিল কালু। এই অশ্বত্থ গাছটা থেকে পশ্চিমে কিছুটা গেলেই জঙ্গলের সীমানা শুরু। জঙ্গল আস্তে আস্তে গভীর থেকে গভ...
ADMIN

Author: ADMIN

Comments

Please Login to comment