Vinci Da Movie Review

ভিঞ্চিদা
পরিচালক – সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়

       সৃজিৎ মুখোপাধ্যায় যে থ্রিলার ছবি তৈরী করতে সিদ্ধহস্ত তা তিনি আবার প্রমাণ করলেন `ভিঞ্চিদা’ বানিয়ে। এর আগে তাঁর `বাইশে শ্রাবণ’ এবং `চতুষ্কোণ’ সমালোচক ও সাধারণ মানুষ উভয়েরই প্রশংসা পেয়েছিল। `ভিঞ্চিদা’ ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে মূলত দু’টি চরিত্রকে কেন্দ্র করে – আদি বোস ও ভিঞ্চিদা।
         আদি বোস (ঋত্বিক চক্রবর্তী) চরিত্রটি বেশ জটিল। ছোট বয়স থেকেই তার আইনের দিকে ঝোঁক, ইচ্ছা ক্রিমিনাল লইয়ার হবার। কিন্তু পারিবারিক অশান্তির জেরে সে নিজের বাবাকে খুন করে জেলে যায়। জেল থেকে বেরিয়ে সে হয়ে ওঠে সিরিয়াল কিলার ( তার নিজের মতে সিরিয়াল লইয়ার)। একসময় সে তিন জন মানুষকে নিজের শিকার হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং তার খুনের জন্য প্ল্যানমাফিক দরকার হয় এক মেক-আপ আর্টিস্টের। আর এই আর্টিস্ট হিসেবে সে ব্যবহার করে ভিঞ্চিদাকে(রুদ্রনীল ঘোষ)।
        ভিঞ্চিদা একজন মেক-আপ আর্টিস্ট, যার আর্টের মূল্য টলিউড ইন্ডাস্ট্রি দেয়না। তাই তাকে বিয়ের কনে সাজানো কিংবা পাড়ার নাটকে মেক আপ করতে হয়, তাও সে খুশি কারণ  জয়া (সোহিনী সরকার) তার মোনালিসা তার জীবনে আছে। যখন সে তার শিল্পীসত্তাকে প্রকাশ করতে মরিয়া কিন্তু সুযোগ নেই তখন তার জীবনে আবির্ভাব ঘটে আদি বোসের। আদি ভিঞ্চিদাকে তার জালে ফাঁসিয়ে  ভিঞ্চিদার মাধ্যমে প্রস্থেটিক মেক আপ করে খুন করতে থাকে। এরপর সিনেমায় কী হল তা জানতে হলে প্রেক্ষাগৃহে যেতে হবে।
       এই ছবির অভিনয় ছবির অন্যতম শক্তিশালী অংশ। রুদ্রনীল ঘোষ, ঋত্বিক চক্রবর্তী, সোহিনী  সরকার, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেন প্রত্যেকের বলশালী অভিনয় মুগ্ধ করে। ছবির গানগুলির মধ্যে ‘শান্ত হও’  গানের কথাগুলো হলের বাইরে বেরিয়ে আসার পরও মনে থাকে।
        এই ছবির কিছু দৃশ্য মনে গেঁথে যায়। যেমন ইন্টারভ্যালের আগের দৃশ্যটি। যেখানে আদি ও ভিঞ্চিদার মুখের একটা দিক দেখা যাচ্ছে আর আদির যুক্তির কাছে হার মানছে ভিঞ্চিদার বিবেক, এই দৃশ্যটি আসলে ভিঞ্চিদার মনের দন্দ্বের প্রতীক। এইরকম আরও ভালো দৃশ্য রয়েছে সিনেমায়।
       যাইহোক, এই সিনেমার একটা দূর্বলতা আছে বলে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়। সেটা হল আদি বোসের চরিত্রটিকে আরও ভালোভাবে ফোটাতে ভিঞ্চিদার সাথে দেখা হওয়ার আগের কিছু ক্রাইম দেখানো উচিত ছিল। যাইহোক অন্যান্য দিক থেকে সিনেমাটি লেটার মার্কস পেয়েছে। আর সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়ের আরও থ্রিলার সিনেমার জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

রেটিং – ৮/১০


FavoriteLoading Add to library

    Up next

    কোথা পাই পাইকে – দিব্যেন্দু গাঙ্গুলী... প্রথম পর্ব   'পাই' সংখ্যাটির সঙ্গে কমবেশি সকলেরই পরিচয় রয়েছে। কেননা ছোটবেলায় সবাইকেই বৃত্ত সম্বন্ধীয় অঙ্ক কষতে হয়েছে (ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়)...
    স্মৃতি – স্বরূপ রায়...   ছিন্নভিন্ন দেহটা পড়ে ছিল বহুতলটার নিচে। চারিদিকে অসংখ্য মানুষের ভিড়। মাথাটার পাশে একরাশ রক্ত জমে আছে। জমে থাকা মানুষের ভিতর থেকে নানান মন্তব্য কানে ...
    দত্তক - গার্গী লাহিড়ী মধ্যরাতে বারান্দার কোনটিতে একলা বসে লেখিকা অনুসূয়া আজ সে বড় ক্লান্ত পোষমানা স্মৃতির পাতাগুলো বিতর্কের ঝড়ে এলোমেলো অবাধ্য এত ক্ষো...
    একটি বিয়ের গপ্প – অভিনব বসু... নায়িকার গল্প দিয়ে শুরু করি। কোলকাতারই মেয়ে, এলাহাবাদের এক ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে, ছেলে না বলে লোক বলাই ভালো; বছর ৩৭-৩৮ বয়স, তায় দোজবর। যদিও মেয়ের স...
    মাছওয়ালী – পলাশ মজুমদার... ' ওই মাছটা কত করে দিচ্ছিস? ' - কোনটা, দেশী না বিলাসপুর? ' দেশী ' - দেশী একশো আশি, বিলাসপুর কুড়ি, পোনা দেড়শো। ' আর কাতলাটা? ' - ওটা তুই নিতে পারবি...
    সিঁদুর কৌটো-  তুষার চক্রবর্তী...     দাদু আমার নাম রেখেছিল হিরন্ময়। স্কুলের স্যাররা এই নামেই আমাকে ডাকতো। এখন আর এই নামে আমাকে কেউ ডাকে না। মা, আমাকে হিরু বলে ডাকে। বাকি সবার কা...
    অন্য ভালোবাসা -   তুষার চক্রবর্তী     চিন্ময় প্রায় কুড়ি বছর পর রাত্রে খেয়ে দেয়ে মামাবাড়ির ছাদে বসেছে। গরমকালে রাত্রে খেয়ে দেয়ে এই ছাদে বসার অভ্যাসটা তার...
    সুদূরের পিয়াসী – বৈশাখী চক্রবর্তী... কথা হচ্ছিলো সেদিন বিকেলে তোমার সাথে, মুঠো ফোন ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে, শত সহস্র মাইলের ব্যবধান,  তোমার ওই মাটি আর আমার এই প্রাঙ্গনে।।    দেশ ভ...
    উপত্যকা – প্রজ্জ্বল পোড়েল... দুই মেরু জুড়ে একাকিত্বের অবস্থান, পথ হারিয়েছে বহু নাবিক তীব্র চুম্বকীয় শক্তিতে কম্পাস স্তব্ধ। ধূসর, সাদা মৃত্যুর উপত্যকা - এখানে সারা বছর বরফ ...
    ফিরে পাওয়া - গার্গী লাহিড়ী    মা তুমি এসেছ ? আর কখনো আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না তো ? আমি তোমাকে আর ছাড়বই না। ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করে কানাই। চোখের কোন বেয়ে জল...
    Ankur Krishna Chowdhury

    Author: Ankur Krishna Chowdhury

    জীবনের ছাত্র

    Comments

    Please Login to comment